এই সংখ্যায় ২৭টি কবিতার লেখকসূচি - অভয় বর্মন রায়, চন্দন ঘোষ, অমিত গোস্বামী, তৈমুর খান, পিনাকীপ্রসাদ চক্রবর্তী, সপ্তাশ্ব ভৌমিক, হরপ্রসাদ রায়, দেবাশিষ মুখোপাধ্যায়, দিশারী মুখোপাধ্যায়, মোহম্মদ আনওয়ারুল কবীর, পৃথা রায়চৌধুরো, প্রণব বসু রায়, অঞ্জন বর্মন, প্রবন পালন চট্টোপাধ্যায়, বিবেকানন্দ দাস, গোপেশ দে, হিরণ্য হারুন, জেনিস আকতার, বৈশালী মল্লিক, শমিতা চট্টোপাধ্যায়, শাঁওলি দে, সাগরিকা ঘোষ, চন্দনকৃষ্ণ পাল, পলাশ পাল ও সুকান্ত পাল ।

       সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করে পড়ুন
আবাহন

একসাথে আয় ,
চল তো দেখি , আকাশ থেকে
মেঘ সরিয়ে ,
ছিনিয়ে আনি
আঁধার ভাঙা , জ্বলন্ত ওই -
লাল টুক টুক
সূর্য্য খানা ।
সমাজ ঢাকা , ঘোর কুয়াশায় ,
আয়  , নিজেরাই হই  দধীচি !
শরীর থেকে  অস্থি খুলে ,
আচমকা দেই
বজ্র হানা ।
আয়তো দেখি , দুরন্ত সব
সজীব প্রাণের
ছেলের দল ,
ভেদাভেদের ভাঙ্গতে পাচিল ,
তোরা ই হবি
জাতির বল ।

আয়তো দেখি , হার না মানা ,
উষ্ণ  খুনের -
তরুণ দল ,
শির উচিয়ে , বক্ষেতে ধর
মত্ত হাতীর
অসীম বল ।

মায়ের দেহ খাচ্ছে ছিড়ে ,
রক্তলিপ্সু
পশুর দল ।
একসাথে আয় , সমাজ গড়ি ।
মোছাই মায়ের
অশ্রুজল ।

তোদের চোখেই জ্বলবে আগুন  ,
জয় করেছিস
মৃত্যুভয় ।
আঁধার মুছে আনবি তোরাই ,
নতুন দিনের

সূর্য্যোদয় ।।
আরশিনগর

আদর্শ সেলুনের আয়না বলে দিচ্ছে
কতটা ক্লান্ত তুমি,
কতখানি বুড়িয়ে গিয়েছ।
চারপাশে আলোর বুদবুদ, চারপাশে শব্দের মেহফিল;
উজ্জ্বল মুখের স্রোত পাক খাচ্ছে রাস্তায় রাস্তায়,
যুবক থাকার এই প্রাণান্ত কসরত
নিতান্তই ধ্বসে যাচ্ছে সেনসেক্সের মতো।

এবার নদীর কাছে চলো।
সে তোমার গুপ্তধন গচ্ছিত রেখেছে,
সে তোমার ক্ষতগুলি গচ্ছিত রেখেছে,
সে ক্ষতে কবিতা হয়ে ভোরের শিশির জমে আছে।

এবার গাছের কাছে চলো।
গহীন মায়ের মতো ছায়াময় কাঁঠালের গাছ,
সে ছায়ায় কতদিন অপেক্ষায় আছে
তোমার লাটাই, চাঁদিয়াল।
রঙীন মার্বেল হাতে তোমার অবাধ্য ছেলেবেলা।

আয়না তো শুধু অভিমানী  বলিরেখা ধরে,
আয়না তো শুধু চোখের কালির বৃত্ত ধরে,
সোনার কৌটোয় রাখা,
সে, তোমার প্রাণ ভোমরাটি,
কোনোদিন ধরতেই পারবে না।
সালাম ৩০ শে অগাস্ট
( ১৯৭১ এ ঢাকায় কিছু মুক্তিযোদ্ধাদের পাক সেনারা তুলে নিয়ে যায়। তাদের লাশ পাওয়া যায় নি। তাদের  স্মরণে কবিতাটি )


বাঁধ না মানা চিতার হাওয়া এমন দামাল
এক লহমায় রাঙা মশাল জ্বালায় দেশে,
হাওয়া থেকে ঘুমিয়ে থাকা প্রচন্ড ঝড়
উড়িয়ে দিল পুড়িয়ে বাধা এক নিমেষে।

রক্তনদী কানায় কানায় উথাল পাথাল
দেখে মানুষ - একটি মানুষ এগিয়ে ছিল,
আঁচল টানে সাজানো ঘর পিছন ফেলে
বারুদ মালায় শত্রু শিবির জ্বালিয়ে দিল।

উপোস থেকে ইচ্ছেসুখের লাল আগুনে
ঝাঁপ দিলে তো পুড়বে পালক বাতাস চিরে,
অগাস্ট মাসে শেষের আগের সায়ংকালে
হারিয়ে গেলেন স্বাধীনতার নিখাদ হীরে।

সূর্য থেকে সন্ধ্যা ঝরে বাঘের চোখে
কষ্ট লুটায় সব চলে যায় মানুষ জনা,
ক্র্যাকপ্লাটুনের বীর সেনানী অগাস্ট শোকে

নিজের চোখে জ্বালাই বাঘের অগ্নিকনা।
আরব্য রজনী

আমাকে সামান্য ভেবে
তুমি অসামান্য হয়ে গেছ
যেখানে কোনোদিন পড়ে নিকো আলো
সেইখানে আমাকে রেখেছ  ।
পেঁচারা উড়ছে চারিদিকে
ক্রতুভুক মহারব তোলে
ছিন্নসত্তার জাগরণ টের পাই
তুমি সমুদ্র পেরিয়ে কোথাও চলে গেছ...

পৃথিবীর বহু অন্যমনস্ক দরোজা দেখি
কোথাও আমার নিমন্ত্রণ নেই
অথচ এক একটি দীর্ঘ গল্পের রাত
যুবতীরা বলে যাচ্ছে এক একটি কাহিনি

আমি তবে কেন জন্মালাম  ?
আমার পুরুষইচ্ছাগুলি খোঁজে তরবারি  !

আশ্চর্য জাদুকর

জাদুকর ডাকছে
আর উড়ে উড়ে আসছে সব মনুষ্যপাখি
তাদের মসৃণ ঠোঁট রঙধনু ডানা
ঠোঁটে ঠোঁটে চুম্বনের মধু ডানায় রঙের আল্পনা

আমাদের বিস্ময়ের পাড়া
আমাদের অলৌকিক দেশ
বেদনায় বিহ্বল হতে হতে
অশ্রুজলে নৌকা ভাসাই

জাদুকর একহাতে আপেল ছুঁড়ে দেয়
একহাতে সোনার আংটি পরিয়ে দেয়
চুম্বনের ঘোর মেঘে ঢেকে দেয় সংসার



আঁশ

দাঁড়িয়ে রইলে কিছুই পাও না
ডোবানোর জল কই--

মৌসুমী বৃষ্টি
জীবনের মতোই--
পূর্বাভাসহীন

ডুবিয়ে দিলে আঁশ ছাড়া হই
আঁশেই যত মূল্য

দাঁড়িয়েই থাকি, এ দেশে মৌসুমী বৃষ্টি --


নীলকমল – লাল কমল

নীলকমল আর লালকমল তেপান্তরের মাঠে

গোলক-ধাঁধার অলীক পথে অলস পায়ে হাঁটে!

ব্যাঙ্গমা নেই ব্যাঙ্গমী নেই

উধাও ঘোড়া অন্ধকারেই

নটে গাছটি তলিয়ে গেছে ইচ্ছে নদীর ঘাটে


যাজক

এ সময়ে হাহুতাশ ছাড়া
দেবার কিচ্ছুটি নেই সত্যি সত্যিকারে;  
সে আমি যতই বলি 
নৈবেদ্যে ভরিয়ে দেব অষ্ট উপাচার ।
তুমি তো যাচক নও
তাই তুমি অনায়াসে বেছে নিতে পারো
ভ্রু কুঞ্চন অথবা উন্নতি,
উচ্ছ্বসিত আশীর্বাদী হাত, 
ইচ্ছে মত লিখে দিতে পারো সব ষোড়শ উপাঙ্গ ।       
এ কথা তুমিও জান   
যাজকের ফর্দমালা
শূন্যহীন শুভ-লাভে শুরু
ক্রমাঙ্কেও শূন্যতা বিহীন  ।   
 
সে সব উদ্বৃত্ত কথা তোলা থাক আজ; 
তার থেকে এই দেখ সাজিয়ে রেখেছি
সমস্ত দিনের প্রাপ্তি ফতুয়ায় দাগে
কপালে ভাগ্যের ভাঙা রৈখিক রহস্য  
সারাটা মেঝের বর্তে    
ছড়ানো ছেটানো কিছু কবিতার পাতা
কুলুঙের অধিকারে মধ্যবিত্ত আলো
মাকড়ীর জালে ঢাকা
সাবেকের জমে থাকা অলীক বিশ্বাস;    

আর সব শেষে নিঃশেষ ভাঁড়ারে কিছু মূষিক বিলাস। 

জানি তুমি পড়ে নেবে এর থেকে বেশী কিছু কথা অনায়াসে
স্পষ্ট করে বলে দেবে কোন দিকে ভাগ্য আর
কোন দিকে ভাগের নিকেশ ।

আচমন শুদ্ধতা ছোঁয়াবে  
সংকল্পে নিশ্চিত হব অস্তিত্বকে উচ্চারণ করে
তারপর অনিবার্য সাঁকোর সন্ধানে
অস্ফুট দুর্বোধ্য কথা অনুকার শেষ হলে  
তর্পণের নিবেদনে
নির্দ্বিধায় মেখে নেব অনন্ত নিঃশেষ ।
 
প্রণামে প্রমাণহীন রয়ে যাবে হয়তবা অনীহার লেশ

তুমিই শুনিয়ে দিও পুনর্ভব উপকথা 
যজ্ঞের বিশেষ। 



অক্ষর লিপি

ঈশ্বর । রঙহীন । নখদাঁতযুক্ত বিড়াল । লয় আর সৃষ্টি নিয়ে হাই তোলে 
আবার ঘুমিয়ে পড়ে

পড়ন্তবেলায় ।  বেলা নামের মেয়েটি ।
মেয়ে থাকে না । ঠেলা চালিয়ে পেট
শান্ত করে আর ফিরিয়ে আনে হাসি

সীমা আকাশ পায়না । নাক মুখ চোখ পুকুর পায় । পায়ের কাদা পা নি
ধুয়ে লিখে রাখে একটা অচেনা দ্বীপের হারিয়ে যাওয়া

আর বৃষ্টি না পড়লে নুইয়ে পড়ে গাছ । ছন্দ ভুল পাতা ছিঁড়ে পড়লে
মাটি তাকে নৌকা হতে দেয় না


নাইতে নাইতে দেখি কখন মেঘ তুলে নেয় জবাকুসুমসঙ্কাশং
আচার্যের আশ্বাস

আমার সব রকমের সংযোগ কেটে দেওয়া হচ্ছে 
কারণ আমি সংযোগগুলোকে আর একটু সংবেদনশীল করতে চেয়েছিলাম
 
আমি চাইনি একটা রাস্তা একজন পথিককে অন্য রাস্তায় পৌঁছে দিয়েই ঘরে ফিরে আসুক
 
আমি চেয়েছিলাম আলো অন্ধকারকে ভক্ষণ না করে তার ফিলামেন্ট গুলোর রিপেয়ার করুক
 
যে মানুষটা কষ্ট পেতে পেতে পচা কুমড়োর মত ফেলা যাচ্ছে তার বীজগুলো সংগ্রহ করা হোক
 
আমি চেয়েছিলাম
 
সমস্ত রস নিংড়ে নেওয়া খেজুর গাছগুলোর সাংবিধানিক মিউজিয়াম হোক
 
তাই কি আমার সব সংযোগ কেটে দেওয়া হচ্ছে
আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু 
আমার নীরব আর্তনাদ শুনতে পেয়েছেন
 
তিনি আবার গবেষণায় মগ্ন হয়েছেন
 
সংযোগ বিহীনতার একটি সংযোগ তিনি আবিষ্কার করবেন
 
এবং তাতে অ্যান্টিকর্পোরেট সিস্টেম অপশন রাখবেন অতি অবশ্যই
 
তিনি আমার মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করেছেন
 
রাস্তা ,আলো এবং সংবিধান -- এ সবই তাদের আপন আপন ওয়্যারকে আপডেট করবে আর মিতালি অক্ষুণ্ণ রাখবে জলের সঙ্গে

About