রদ বদল
কোন কোন মাঝ রাতে চাঁদ নামে
নীল গাঙে পাড়ি দেয় দূর তারারা
কলাবতীর নিভাঁজ শরীর
ঢেকে যায় কুয়াশায়,
জোছনা বিলোয় আলো
মৃত কাব্যের উঠোন জুড়ে ।
 কোন কোন চাঁদহীন রাতে
নক্ষত্রদেরও মরে যেতে হয়,হয়নাকি?
একা কাঁদে আকাশ দীর্ঘশ্বাস বুকে,
বনলক্ষীর ডালায় শূণ্যতা ঝিমোয় ।
কোন কোন দিনেও আলো হ্রাস পায়,
সূর্য কে গ্রাস করে চাঁদ -
রাত ঘিরে চাঁদ, চাঁদ হীন রাত
মধ্যস্থতায় থাকে দিনের সমীকরণ,
সব রদবদল নিয়ে মেঘেরা ঘুমোয়
চুপ থাকে সাগরের জল ।

 (২) ইচ্ছে হলে
ইচ্ছে হলে মধ্যরাতে মেঘের গান গেও
স্বপ্ন গুলো মুঠোয় ভরে নদীর কাছে যেও ।
নদীর বুকে চাঁদের আলোয় দৃষ্টি রেখ ধরে,
ইচ্ছে হলে ভোরের আলোয় ফুলের মালা গেঁথো,
শিশির ভেজা সবুজ ঘাসে সোনার আঁচল পেত ।
ফুলের ভেতর ঘুমিয়ে থাকা ছোট্ট ভ্রমরটাকে ,
ইচ্ছে হলে যত্ন করে রেখো পাতার ফাঁকে ।
ইচ্ছে হলে ছেঁড়া পালে লাগিয়ে সুখের হাওয়া,
মন গাঙেতে যখন তখন একলা উজান বাওয়া ।
ইচ্ছে হলে খসে পড়া তারার পানে চেয়ে ,
গোপন কোন নীরব ব্যথা আপনি যেও গেয়ে ।
ইচ্ছে হলে মধ্যরাতে মেঘের গান গেও
ইচ্ছে হলে 'ইচ্ছে গুলো' উড়িয়ে দিও হাওয়ায় ,
ইচ্ছে পূরণ মিশিয়ে দিয়ে অন্য কারো পাওয়ায় ।

(১) ফিরে যাব'না

ফিরে যাব'না , যাব'না ফিরে আর
পুড়ে গেছে ঘর বসত এ বুকের ।
রাহাজানি হয়ে গেছে হৃদয়ের পিছুটান
আগাছায় ভরে আছে শিশুচরা উঠোন ।
বেনোজলে ভেসে গেছে চই চই হাঁস
চবুতরা ফেলে উড়ে গেছে শ্বেত কবুতর,
গোলাঘরে দাপাদাপি করে যায় 
পড়ে থাকা একা লাগা খুঁটে খায় ইঁদুর বাদুর  
ফিরে যাবনা ঘরে  , কি হবে ফিরে
ধোঁয়া ওঠা চুলা ফেলে কবে তুমি চলে গেছ
ভিজে ছিল বুঝি কাঠ আমাদেরই কলহ জলে । 
আধ সেদ্ধ রান্নার ঘ্রাণ আজও  ভেসে আছে
কিছু অভুক্ত স্মৃতিকথা
অতৃপ্ত আত্মার মত পোড় বাড়ি ঘিরে ।
আর তুমি, কোন ভিনদেশী যুবার মদমত্ত বুকে
 ছবি হয়ে সেঁটে গেছ
জানিনা , নিয়মিত মোছে কিনা সেই ফ্রেমখানি আজও -
কি হবে জেনে তুমি ফিরবেনা জানি ।
তোমার সে ফেলে যাওয়া গোঁসাঘরে
 খিল এঁটে এখন ঘুমায় বিষাদ ,
লক্ষ্মী পা আঁকা উঠোনে পড়েনিতো পা
আর কোন লক্ষ্মী প্রতিমার
তোমার সে ফেলে যাওয়া খেলা ঘরে
ঘুঘু চরে বুক জুড়ে আমার
লাউ মাচা ঝাপড়ায় তাও কোন সুখে
নির্লজ্জ বেহায়া শোক বোঝেনা  কিছুই
তুলসীমঞ্চে প্রদীপ জ্বলে না বলে
একা সন্ধ্যামালতী বিষণ্ণ রাত জাগে-
 আর উজবুক লক্ষ্মীপেঁচা এক 
উড়ে এসে আজও খোঁজে কাকে
 আমার হৃদয় আজ হেমন্তের ফাঁকা মাঠ

 (২) আমি ঘুমাব' না 


আমি ঘুমাব'না , ঘুমাব'না আজ আর
যত পারি জেগে রব,সযতনে ভুলে রব
সচেতন অভিনয় করে যাব
না চাওয়ার  ।
ঘুম এলেই চোখে ভাসে প্রিয়মুখ, প্রিয়সুখ
ঘুমঘোরে ডেকেউঠি ভুল করে বার বার
ঘুমালেই কেঁদে উঠি,তোকে চেয়ে হাহাকার
তাই ঘুমাব'না ,
ঘুমাবনা আজ আর

স্বপ্নেও ফিরব'না, যেই বাঁকে ছেড়ে গেলি
পিছুটান রেখে গেলি, ভাললাগা ছারখার
সেই থেকে একা বসে, ভুলে যাওয়া শিখে নিতে
হাত ধরে একালাগা, কুশ্রী বিষণ্ণতা
একা বাঁচা করি পান, চুমুকে চুমুকে আজ
ছেড়ে যাই প্রিয়ছায়া, ক্লিষ্টতা অভিমান
আমি ঘুমাব'না,
ঘুমাব'না আজ আর


উত্তর বঙ্গে রায়গঞ্জের বাসিন্দা, স্কুল শিক্ষিকা শর্মিষ্ঠা ঘোষ নিজেকে কবি বলেননা , বলেন কবিতার শিক্ষানবিশ, যদিও শর্মিষ্ঠার হৃদয় জুড়ে কবিতা । শর্মিষ্ঠা লেখেন যত –পড়েন তার চেয়ে অনেক বেশি – যে কোন শৃজনশীল লেখা । ৩৭ বর্ষীয়া শর্মিষ্ঠা ‘অন্যনিষাদ’ ই-পত্রিকার সম্মানীয় অতিথি সদস্য এবং শুভাকাঙ্খীও বটে ।]



 স্বাতী

সময়সূর্য জ্বলে মহাস্মরণী তীরে
বন বেড়ালীদের ভিড়ে হারিয়ে
সুচারু থাবায় আমার মাংস
হাওয়াসমুদ্র ওড়ায়
মুগ্ধ বিমোহিত মধুমিতা আনন্দিত হলে
সূর্য নির্মিত রথে গোধূলীর পরে
অশৌচ মুছে সন্ধ্যাস্নানে নামে ব্রহ্মপুত্রে
তারপর তারাসমষ্টির ধূলিপথে
একাকী আমার মৃত্যুতে চিতাভস্ম  মিশিয়ে দেয় নীল বেদনা পারে
এইবার আত্মাকালে মৌনসমাধির
চাবিগুলো নিয়ে এসেছিলো কেউ -
সেই রিনিক-ঝিনিক শব্দে
দূর সমুদ্রের জলে স্বাতী-তারা খসে পড়লে
আমি পাথর ঘুম ভেঙে ভাসি মগ্ন ঝিনুক হয়ে;
স্বপ্তডিঙা পাখা মেলে আসবে চাঁদরাতে
আমারই অনন্তে মুক্তো হবে রূপান্ধ অন্ধকার! 

 বিনয় মজুমদার

বিনয় মজুমদার হাওয়া ঠেকিয়ে রেখেছেন 
চাঁদকে ঠিক করে দিয়েছেন কোন দিকে যাবে 
সন্তর্পণে আলোর পথ টিপে চলেন  
ফুলকে পাখি গাছকে ভাই আর 
সবাইকে ডেকে বলেন : ওই যে জীবননদীর উপর দাঁড়িয়ে শান্তবোন  
প্রায় সন্ধ্যার দিকে ঢাউস আলখেল্লা থেকে 
রুমাল নাড়িয়ে নাড়িয়ে দেখান 
কি করে সমতলে ছড়িয়ে পড়ছে বিষণ্নতা ও রিক্ত অন্ধকার  
কোনদিন ভোর হলে শিশুদের জানিয়ে দেন 
সূর্যরথ নিয়ে আসছে ভিনগ্রহের ছেলেমেয়েরা 
ওদের সঙ্গে খেলবে, তার ঘরে সব কটি জানালায় কাকেদের ধ্যানাশ্রম ।

বাড়ির গাছগুলো বাতাসে দুলে মাথা নিচু করে দেখে 
আলভোলা বিনয় মজুমদার কি করছেন সারারাত জেগে 
অভিমানী কথাবার্তা বলে সাতসকালে ক্লান্তবুড়ো হয়ে 
ঘুমিয়ে পড়েছেন? তিনি অনেকদিন ধরেই 
অপেক্ষায় আছেন শীত নয় গ্রীষ্ম নয় বর্ষা নয় 
এমন কোনো ঋতুর যা আমরা জানি না। 
মূলতঃ বিনয় মজুমদার খুব ভালো লোক, একটু খ্যাপাটে, কবিতা বোঝেন। 

[ তুহিন দাস ওপার বাংলার নবীন প্রজন্মের কবি । সবে আঠাশ পেরোন বরিশালের ব্রজমোহন বিশ্ব বিদ্যালয়ের ছাত্র তুহিন নিজেকে কবি ব'লতে অনীহা প্রকাশ করেন না কারন তিনি হৃদয় দিয়ে কবিতা লেখেন । ২০০৯ এবং ২০১১ তে তার দুটি কাব্য গ্রন্থ 'বনসাই প্রকল্পের মানুষ' এবং 'অসুখময় দিন রাত্রি' প্রকাশিত হয়েছে । ]



Top of Form

Bottom of Form


শুনেছি, কোথায় যেন এক ...

ডাঃ জ ল ধি রা য়


শুনেছি, কোথায় যেন এক নদী আছে—অন্ধজনে করে স্নান, সেই নদী কত দূর...
আর এই সমূহ লাঞ্ছনা যদি আকার না পায়, তাহলে কেবলই জল, সেই জল কত দূর...


একদিন দিগন্তের ধারে নিচু হয়ে বসেছিলো অমৃতের মুখ—
সেইদিন মনু কিংবা মানবের কথা ভেবে নয়,
কেবল বিশ্বাসযোগ্য শোক থেকে আমি দক্ষিণের দরজা খুলেছি ।

একদিন রণক্ষেত্র থেকে দূরে অধোমুখে বসেছিলো ভাগ্যহত দূত—
আমি তাকে শত্রু কিংবা মিত্র নয়,
শুধু এক অলৌকিক তীরন্দাজ ভেবে নিশ্চুপ থেকেছি ।


শুনেছি, কোথাও না-কি রক্ত আছে, যে-রক্তের টান ডেকে নিয়ে যায় বহু দূর...
আর এই পরম আশ্বাস যদি নীরবে শাসায়, তাহলে কেবল সেই রক্তলাল—রক্তলাল কত দূর...


কল্পনায় আমি কাঁদি হাসি হাততালি দিই
নিঃসঙ্গ হয়েও বেশ আছি,
নিত্য আলিঙ্গন হয় অবুঝ প্রেরণায়,
নিঃশব্দে বাস্তবের দুকুল ভাসে ,
শৈশব কৈশোর যৌবন মুছে শেষ দশায় এলে
প্রেম হয় নির্জনতার সাথে ।
স্মৃতির খন্ডচিত্র নিয়ে মনে
গড়ি উৎসব, এতেই আনন্দ আমার ।
কুন্ডলিনীকে আঘাত করে ভীস্মের মত
প্রতিজ্ঞা করি আর কখনো বশ হবোনা কারও ।




নদীর কাছে আর যাবে না মেঘ
নদী নাকি একঘেয়ে গান গায়
মেঘকে দেখ বদলে গেছে রোজ
দাঁড়িয়ে নেই কোত্থাও এক ঠায়

জীবন মানে অনেক টানা-পোড়েন
জল থইথই কিংবা আগুন-পোড়া
মন তো শুধু পাঁজর দিয়ে ঢাকা
হৃৎপিন্ডের অল্প নড়াচড়া

আবেগবিহীন আকাশ প্রেক্ষাপটে
ভাসতে থাকে জলকণাময় বুক
সে কোনকালে নদীই লিখেছিল
অঙ্গীকারের এক ফালি তমসুক

সে সব কথা অনেক দিনের হল
প্রতিবিম্ব ভাসিয়েছিল ভেলা
দীর্ঘ... আরো দীর্ঘ হলে ছায়া
নিত্য নতুন নদীর সাথে খেলা

খেলার শেষে শ্রান্ত... অবসন্ন 
পাহাড়-উপত্যকায় জিরোয় রাতে
শীত করে খুব - শীতের মধ্যে কেউ
এক মুঠো ওম দেয়নি তুলে হাতে

এমনি করেই একদিন মেঘ ফুরায়
বৃষ্টি-ধারায় বুক ভরে নেয় নদী
সব নদীতেই প্লাবন আসে ঠিক
সময় মত বৃষ্টি আসে যদি..


ঐ আলোর সূর্য এসো,
এসো জোছনা মাখানো রাত
এসো স্বপ্ন, এসো কল্পনা,
এসো বাস্তবতা আর সুখের ছোঁয়া
এসো হাতে রাখি এই হাত

দেখ দিন এসেছে
মেঘের আঁধার কেটে ভাসে নীলাকাশ
দেখো শিউলি তলায়, ভোরের মেলায়

মানুষের অবকাশ  

এসো নদী, এসো ঢেউ,
এসো সবুজে জড়ানো কেউ 
এনে দেবো সোনালী প্রভাত, 
এসো নতুন স্বপ্ন বুনি
হাতে রাখি এই হাত ।



দু’হাতে ধরেছি মেঘ এইখানে মেঘেদের দেশে
মানচিত্রে ভারতবর্ষ যেখানে হ’য়ে গেছে শেষ
পৃথিবীরও সীমান্ত যেন এই পথ স্বর্গের বড় কাছাকাছি ।
একদিন এই পথে দীপঙ্কর অতীশ হয়তো হেটেছিল অহিংশা প্রচারে
হয়তো বা তারও আগে কপিলাবস্তু থেকে কিশোরী যশোধরা
গৌতমের হাত ধরে করেছিল অভিসার এখানে কোথাও
স্বচ্ছ হ্রদের জল হাওয়ায় খেলেছিল আজকের মত
বাতাসেরা রোদ মেখে হেসেছিল নরম স্নিগ্ধতায়
অথবা সাহসী কিছু মেঘ হানা দিয়েছিল
যেমন দিয়েছে আজ – দু’হাতে ধরেছি ।
দু’হাতে ধরেছি মেঘ, ভালোবেসে মেখেছি সর্বাঙ্গে
ভালোবেসে যেদিকে চেয়েছি আজ
ইচ্ছেগুলো ঠিক ঠিক হ’য়েছে ফলবতী
নাথুলার উচ্চপথ ছাঙ্গুর হ্রদ আমাকে টেনেছে
ধ্যান্মগ্ন হিমালয় আমাকেও ধ্যানস্থ করেছে সবার অগোচরে
আমার হৃদয়ে হিমালয় এইভাবে অহিংশার বুদ্ধ গড়েছে ।

সমীরণ ঘন হয়, ইতস্তত আনাগোনা আর পদচারনার ভিড়,
জলপাই পোশাক
মিশে যাওয়া হাহাকার ঢাকে ভারী বুটের শব্দ,
শুকনো রক্তের গন্ধে মাতাল দেশ।
এভাবেই রোজ রোদ ওঠে


জনৈক বক্তা সভা করেছিলেন অপরাহ্ণে
মুদ্রাস্ফীতি নাকি খাবারের উদ্বৃত্তের ইঙ্গিত
আরও ছিল ...
ওবামার আশীর্বাদ এবং আভ্যন্তরীণ শান্তি " এই জাতীয়

দৈনন্দিন আলোচনার সূত্র ধরেই শচীনের শততম শতরান
আর তার আনন্ন্দবাজারীয় প্রতীক্ষার প্রথম পাতা
নির্বোধ মস্তিষ্কের রক্তশূন্যতা
চোখের পাতায় স্থির হয়
বর্ধমান এর আলুচাষী তখন অতীত ,
একটি অক্ষর ও খরচ হয়নি তার জন্য
গণক এবং গণিকাদের বিজ্ঞাপনে অব্যাহত ধারায় স্নাত
সে তার কর্তব্যে স্বাধীন।

এই মুহূর্তের বলা আর বলতে চাওয়া  বিস্তীর্ণ কথার ঢেউয়ে
হারানো পথ ধরে আবার ফিরে আসি রক্তশূন্য শিশুটির পাশে,
যেখান থেকে শুরু হয়েছিল আজকের কথা
রজনীর নীলিমা তাকে দিয়েছিলো 
অস্তিত্ব হারানোর স্বাধীন অধিকার ,
আর তা সে প্রত্যক্ষ করেছিল 
আমার দেশের বীরপুংগবেরা
তার মাকে যেদিন স্পর্শ করল 
তার বাবার জন্য বরাদ্দ ছিল কয়েকটা বুলেট
যেগুলোর মূল্য ছিল অনেক বেশী,
তার জানা দামের বাইরে।।
Top of Form


About