নিরন্তর যাযাবর
 নন্দিতা ভট্টাচার্য



কবে কোথায় হিন্দুকুশ পর্বত পেরিয়ে
ইরানি ছন্দে কান্যকুব্জে বাসা বাধে
একদল যাযাবর ;আবার পথচলা ,
রাজারাজড়ার আহ্বানে পুর্বপ্রান্তের
মনোরম আলাপে পাহাড়ের সংগে
সখ্যতা তৈরি হয় একদল যাযাবরের ;
স্বাধীনতার তিক্ত আস্বাদে এক পাহাড়
ছেড়ে আর এক পাহাড়ে ; সুরমা উপত্যকা
পেছনে ফেলে ব্রহ্মপুত্র উপত্যকায়
তাবু খাটান পরিযায়ী যাযাবর ;আবার
আবার পথচলা কোন এক প্রত্যয়ী ডাকে
গঙ্গাতীরে ভদ্রাসন পাতে যাযাবর জীবন


মানুষের জীবনের ইতিহাসে চরৈবেতি,
একটি নদীর মত, শুধু নদী চলে স্বাধীন
স্বেচ্ছায় ,আর যাযাবর কখনও যজ্ঞের
শিখায় ,কখনও উদ্বাস্তুর অভিমানে ,
কখনও জীবনের বিড়ম্বনায়

একদল যাযাবর
একঝাক যাযাবর
পরিযায়ী যাযাবর
বিড়ম্বিত যাযাবর
চরৈবেতি যাযাবর

   বিবর্তন 
              
অ য় ন দা শ গু প্ত



নে হয় স্মৃতিও বদলে যায়,
হয়তো থাকেনা আর নিজের বিস্তারে
সে পারে;
নিজেকে অতিক্রম করে
বার বার ফিরে আসে
নতুন প্রশ্ন নিয়ে -
এতদিন
কোন্‌ সে অভ্যাসে তুমি আছো ?

আমার রাত্রি দিন নতুন অপেক্ষা নিয়ে আসে
আমার অনিদ্রা শব্দ, নতুন করে তাকে শুনি
সে সমস্ত ধ্বনি,
বহুদিনের অনুচ্চারনে দ্বিধাজড়িত শব্দ আমার -
সেই কবেকার!
গতিহীন – বার্তাহীন ,
একযুগ উপেক্ষিত
এই চরম নৈঃশব্দ তবে ছিলো ?

আমার মধ্যরাতে নতুন শব্দ আসে
আমার নিজস্ব শব্দ,
আমার অনুচ্চারিত শব্দ সব
গল্প বলার অছিলায় বাইরে টেনে আনে
রাতের অন্ধকার নির্মম বড়
এই নির্মমতায় আজ পাবো ?

তবু বাইরে বাতাস যখন ওঠে নামে,
তরঙ্গের মধ্যে আমি একা
মূহুর্তের সাথে মূহুর্ত জুড়ে নেওয়ার
ভ্রান্ত অভ্যাসে বিদীর্ণ হই
নিছক প্রবৃত্তিগত
এবং লজ্জাহীন
অধিকার বুঝে নেওয়ার প্রত্যাশিত কিছু ইঙ্গীত
স্পষ্ট হয়ে ওঠে;
হাকুচ্‌ অন্ধকারে প্রতিরোধ, আগ্রাসন
এই আশ্লেষে তুমি কোথায় এখন ?


স্বাধীনতা আমার ধানক্ষেতের ইতিহাস

রহমান হেনরী


[কবিতাটি 'স্বাধীনতা তুমি' সংখ্যায় প্রকাশ করার কথা ছিল
  কিন্তু করা যায়নি । দুঃখিত]
আউশ ধানের ক্ষেতে এতো এতো ফিঙ্গে মরে পড়ে আছে  !
আমার আর ইশকুলে যাওয়া হবে না, কুসুম!
ধারাপাত আর মুখস্থ হবে না আমার
শুধু এই ক'টা বর্ণ-পরিচয়
আর সংখ্যার ধারণা নিয়ে,
আমাকে ধানক্ষেত পাহারায় থাকতে দে !
মৃতপাখিদের দেহগুলো জড়ো করে,
একটা পাহাড় বানাতে দে !

দেখে নিস, একদিন, এই ধানক্ষেতের ইতিহাস
আমি অন্য কালিতে লিখে রেখে যাবো...

উত্তর বসন্ত : কিছু আত্মঘাতী বসন্তের কথা
                                  

রা জ র্ষি ঘো ষ


চৌরাস্তায় দেবশিশু রোদ...
হাঁটছিলাম; হঠাৎই মুখোমুখি বিবর্ণ বিরল দখিনা বাতাস ।
চেয়ে দেখি, রাইটার্সের মাথায় ধূধূ করছে উজ্জ্বল কাঞ্চনজঙ্ঘা ।
ক্লান্ত নদীটাও একঝাঁক তিস্তা বুকে নিয়ে পলকে মাছরাঙা ;
ডানা মেলল কংক্রীটের নিবিড় অরণ্যে।

অতঃপর, আমি শ্বাস নিলাম ।

হে ঋতুরাজ, আমার নিঃশ্বাসে ধুতরোর বিষ...
আমার পালকে ভর করে মৃত্যু আসে সন্ধ্যার আকাশে,
এ শহরের দিনান্ত জানলায় কড়া নেড়ে দেখ; আমাকেই পাবে ।
পাঁজরে পাঁজরে অবিরাম বুনো শালিকের টইটই; পায়চারি...
ডেকে দেখো ঋতুরাজ, আমাকেই খুঁজে পাবে; এখানে, বিষাদে ।

অতঃপর, চোখ বুজলাম আমি ।

চোখ বুজল তারা। যেন নিমেষে অতীত হাজার বছর...
ইউফ্রেটিসের তীরে আরব্যরজনী; তখন গভীর রাত ।
স্বর্ণত্বকা তরুণী এসে ভরে দিল কবির পেয়ালা, লাল শরাব ।
টোল খেলে গেল গালে। অমনি, নীলাম্বরী চাঁদ শরমে আধখানা,
পর্দাসীনা মেঘের আড়ালে...

অতঃপর, রাত আমায় পোড়াল ।

হে ঋতুরাজ, আগুন একটি তরল পদার্থ ।
বিশ্বাস না হয় কোনোদিন নিজেও পুড়ে দেখ, অবকাশে।
এ শহরে প্রেম তো মেলে, কিন্তু তবু কিছু কবজির রক্তে মিশে থাকে
অব্যক্ত বিরহ। ব্রহ্মপুত্র, এখানে ভালবাসা বয়ে যায় গাঢ় লাল রঙে ।
হে ঋতুরাজ, প্রেম একটি জটিল পদার্থ ।

অতঃপর, কিছু ধোঁয়া কুণ্ডলী পাকিয়ে উঠল আকাশে ।  

মেঘ এল, বৃষ্টি এল, ঝড় এল একে একে ।
কিছু টোটকা, কিছু সুযোগসন্ধানী হাতুড়ে কাঠঠোকরার মত
খুঁটে খেল অনন্ত যৌবন। নোনা ধরা, জরাগ্রস্ত অশ্বত্থ জড়িয়ে নিল,
শিকড়ে শিকড়ে। ওরে, কম্বল চাপা দিয়ে কদিন আর নেভাবি আগুন ?
পুড়িয়ে দেব তোদেরকেও । জানিস না মৃত্যু আমি ?

অতঃপর,

বিদায় হে ঋতুরাজ...
বিদায় শনশনে উত্তুরে হাওয়া, কোকিল ও বেনিয়াসহকলা,
বিদায় শরীরী  প্রেম, কবিতা ও কবি, আদিম ভালবাসা ।
বিদায় ভণিতা ও ভন্ডামি, রাজনীতি ও বুকচাপা দীর্ঘশ্বাস ।
বিদায়। অতএব, আজ আত্মঘাতী কিছু উত্তর বসন্ত । 

তবুও তা
শু ভ্র ভ ট্টা চা র্য

মৃত্যু মুখে তোমার
চোখের তারায়
স্থিরবিন্দু আকঁবে আমার ভূমি !
জোনাক জ্বলা
তোমার প্রেমের ফাগে
বসন্তকে যতোই মাতাও 
তুমি !

এক্কাদোক্কা জীবন জুড়ে
খেলা
ঈশ্বরেরও ফুরিয়ে আসে
বেলা!

মৃত্যুনদী
তটরেখা ধুয়ে
তাকিয়ে দেখো
তুমিই আছো শুয়ে !

আমার চুমোয় অধর
ছুঁয়ে রেখে
দিনরাত্রি প্রেমের 
ভাষা শেখে !

     দিদি                          

তন্ময় কর্মকার




দিদি, বল না আমায় 
রোজ সন্ধ্যায় তুলসী থানে 
কেন প্রদীপ জ্বালাস!
দিনের বিদায় জানালে পাখি
বাঁশের বনে গানে গানে, 
গোধুলি যায় ধাঁধিয়ে মনে 
দেখি সাঁঝ সাজলো আকাশ জুড়ে, 
তখন সলতে দিয়ে দীপ সাজাস।

দীপ সাজানো হলে সারা, 
আকাশে দেখাস সন্ধ্যাপ্রদীপ 
তোর আলোকের দিশা পেয়ে 
চন্দ্র-তারা ঝলমলিয়ে আসে 
শুকতারা ও আকাশে হাসে, 
শুধু আমায় কেবল কাঁদাস, 

নিত্যদিনই দেখে তোরে 
তুলসী তলায় বিড়বিড়িয়ে 
কি সব বলিস আপন মনে 
কারে বলিস, কি যে বলিস, 
পাই নে বুঝে, আঁধার ঠেকে 
অন্ধ মনে, দেখি কালো আকাশ, 

সবাই বলে দেশের আইন 
সে ও নাকি অন্ধ, সত্যই কি তাই ! 
মিথ্যা তো নয় দেখি যখন 
বুক ফুলিয়ে, দাপিয়ে বেড়ায় 

করছে যারা ভঙ্গ আইন, 
আইন টা কেও আকাশের ভেবে 
দিস দেখিয়ে আলো, অন্ধ যে সে, 
ও কে ও একটু আলো দেখাস | 

নৌকা জুড়ে বৃষ্টি
প্র সে জি ৎ দ ত্ত

'আর কত শেখাবে বৃষ্টি ? আর কত বলবে ?
এ অংশ হয়নিকো শেষ : তাই উপসর্গ পাঠালাম ' 

নারী না হয়েই এ কথা বলেছিল বৃষ্টি
ওকে পথ্য দিয়েছিল কোনো রূপপুত্র
শাশ্বত ফিসফিস তাই মহাকাশে --
কানে কান --
গাঙ হয়ে আসে গাঙ্গেয় ঝড়
ঘোড়া মেঘের উড়ছুট --

দৃশ্যত কোনো গল্প নেই --
মাঝি নেই --
বেতনভূক ইঞ্জিন গ্রাস করে নেয় খেয়া

তবে কী মেঘ না ধোঁয়া ?
নদী হয়ে ভেসে গেছে হাত খেয়া 
বহুকাল --

'
আর কত শেখাবে বৃষ্টি ?
বরাবর স্তর পেরিয়েছে প্রেম !
তবু কেন বলতে শিখিনি বৃষ্টি ?'

নারী হয়ে একথা বুঝেছিল বৃষ্টি
বলেছিল,
আমার আকর্ষণ কখনও স্তর পেরতে পারেনি !

রূপকে দাঁড়িয়ে থাকে সহস্র রূপ -- 'পছন্দ করো'








About