কাব্য-গ্রন্থ আলোচনা

দূরের নক্ষত্র : নন্দিতা ভট্টাচার্য

বাষট্টিটি কবিতা নিয়ে নন্দিতা ভট্টাচার্যের কাব্য গ্রন্থ ‘দূরের নক্ষত্র’ প্রকাশিত হয়েছে ২০১২র কলকাতা বইমেলায়  বেশ সুখপাঠ্য কবিতার সংকলন । কেন সুখপাঠ্য ? সেটাই বলি – অন্তত আমি যেভাবে বুঝতে চেয়েছি । নিপাট পাঠকের দিক দিয়ে নৈর্ব্যক্তিক হয়ে এইটুকু বলে নেওয়াই বোধ করি সংগত যে, ‘দূরের নক্ষত্রে’র কবিতাগুলি পড়ে পাঠক মন এক অদ্ভুত স্নিগ্ধতায় জারিত হয়ে যায় , আবিষ্ট পাঠক মন চায় আহা,তবে ‘কবিতার আজলায় মুখ দেখে দিন পারাপার’ ।


নিজের কথায় ‘অসমের মেটে সন্তান’ নন্দিতা বেড়ে উঠেছেন নীল পাহাড় আর ব্রহ্মপুত্র ঘেরা মায়াময় প্রাকৃতিক পরিবেশে । সুতরাং তার কবিতায় মাটির গন্ধ, মানুষ আর প্রাকৃতিক অনুষঙ্গ থাকবে এটাই প্রত্যাশিত এবং আছেও । কবিতা গুলি পড়ে পাঠক বুঝতে পারেন কবির অন্বিষ্ট ‘জীবনের এক আশ্চর্য বোধ’, যা অধরা নক্ষত্রকে ছুঁতে চায়, স্নাত হতে চায় তার আলোক দ্যুতিতেবস্তুত গ্রন্থটির নাম করণ থেকেই কবির অন্বিষ্ট স্পষ্ট হয়ে যায় । লেখকের সৃষ্টি সদাই তার জীবন দর্শন বা জীবন সম্পর্কে তাঁর বোধ কে নির্দেশ করে, অন্যভাবে বলা যায় জীবন সম্পর্কে লেখকের আজন্ম লালিত বোধই তাঁর তাবৎ সৃষ্টিকে নির্মাণ করে । আলোচ্য কাব্যগ্রন্থটির ক্ষেত্রেও এই অমোঘ সত্যের কোন ব্যত্যয় যে ঘটেনি তা বোঝা যায় কবি যখন আমাদের জানিয়ে দেন “অন্তহীন নক্ষত্রের ভীড়ে / দিবারাত্রির কাব্যের আবর্তে ধ্রুবতারা অকৃত্রিম / শ্বাশ্বত লক্ষ্য” , এবং গ্রন্থটির তৃতীয় কবিতাতেই কবি তাঁর সৃষ্টিমুখ নির্দেশ করেন “একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা তারা খসা আলোর বিন্দুর দিকে”, তাই কন্টকিত ‘একরাশ ক্যাকটাসের ওপর’ হেটেও ক্লান্ত কবি দেখেন দূরে আলোর বিন্দু । (‘সৃষ্টি মুখ’) । কবির অন্বিষ্ট অতয়েব অস্পষ্ট থাকেনা ।


নন্দিতা তাঁর একটি অনুবাদ গল্প সঙ্কলনে বিশ্ব বিশ্রুত নাট্যকার- কবি বারটল্ড ব্রেখটের কবিতার উধৃতি দিয়েছে ।                  
“অন্ধকার ঢাকা দিনে কি
গাওয়া হবে গান ?
নিশ্চয় গাওয়া হবে
অন্ধকার দূর করার গান”
অন্ধকারের আচ্ছাদনকে অস্বীকার করে নক্ষত্রের আলোকে স্পর্শ করতে কবিতাই হয়ে ওঠে এক বিশ্বস্ত আশ্রয় নন্দিতার কাছে , আমাদের কাছেও ।

গ্রন্থটিতে কবি নন্দিতা ভট্টাচার্যের দীর্ঘ তেইশ বছরের কাব্য-সংস্পর্শের একটা পূর্বাপর গ্রথিত হয়েছে । ৬২টি কবিতাকে রচনা কাল অনুযায়ী, তিনটি পর্বে ভাগ করেছেন ‘একান্ত’(১৯৮৮-৯২) , ‘ছেঁড়া মেঘ’(২০০৪-২০১০) এবং ‘একান্ত আমি’ (২০১১), ফলে এই সময় কালে ‘জীবন’ ‘সময়’ এবং তাঁর ‘চার পাশ’ সম্পর্কে কবির বোধের আভাষ ও ক্রম পরিণতি আমরা জানতে পারি । ১৯৯৩ থেকে ২০০৩ এই সময় কালের কোন কবিতা এই গ্রন্থে সঙ্কলিত হয়নি । কেন হয়নি তা এই আলোচকের অজানা । হয়তোবা সঙ্কলিত কবিতাগুলিকে কবি যেভাবে পর্যা্যভুক্ত করেছেন সেগুলি তার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ হতনা । তা সত্তেও ‘দূরের নক্ষত্রে’ কবির আলোর পথযাত্রি হওয়ার জন্য যে পথ চলা, তা তাঁর ২৩ বছরের কাব্য পরিক্রমার ক্রম পরিণতির একটা লেখাজোখাও বটে । কবির পরিক্রমা শুরু হয় গ্রন্থটির প্রথম কবিতায় এই উচ্চারণে  “ভেবেছিলেম /বুকের সব খাঁচাগুলোকে/খোলা রেখে /নেবো শিশিরের স্বাদ” (কিন্তু এখন) , চেয়েছিলেন “একফোঁটা মুক্তো তুলে নেব আমার অঙ্গে” । দ্বিতীয় কবিতা ‘নেই কথা’য় কবি "বুকের পাঁজর খুলে দেখতে চান হনুমানের মত ... সেখানে রাম-সীতা নেই” আর তৃতীয় কবিতাতেই কবি নির্দেশ করেন তাঁর ‘সৃষ্টিমুখ’ – “ভোরের আকাশের সোনা চুইয়ে পড়া থেকে রাতের তারা খসা পর্যন্ত” কবিতাকে সঙ্গী করে “একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকা তারা খসা আলোর বিন্দুর দিকে” ।

                গ্রন্থে গ্রথিত ‘আমি’ পর্বের কবিতাগুলি - কবির আত্ম-অনুসন্ধান বা নিজেকে চেনা এবং তাঁর সৃষ্টির অভিমুখ নির্মাণ , কেননা এতোদিনের চারপাশটা সম্পর্কে কবির মোহ ভঙ্গও হয়ে গেছে , কবি তাঁর উপলব্ধির বয়ান করেন এইভাবে - “জানতাম নিগঢ় মুক্ত হৃৎপিণ্ড এক সবুজ দ্বীপ” কিন্তু জানলেন “তোমার যাত্রা অমৃত কূম্ভের সন্ধানে নয়” (তোমার বাস কোথা হে) । কবি অতয়েব তাঁর সৃজনের দিশাও স্থির করে ফেলেন এই উপলব্ধিতে জারিত হয়ে যে, “মিথ্যায় আরুঢ় জগৎ” কিংবা সত্য বর্জিত জীবনের অঙ্গীকার কোন মহাপ্রস্থানের পথ হতে পারে না” (কোন দিশা)।

          ‘ছেড়া মেঘপর্বে সাকুল্যে দশটি কবিতায় কবির পরিক্রমা অনেক প্রত্যয়ী , সে পরিক্রমায় কবি উচ্চারণ করেন মৃত্যুর সাথে ঘর বসত করে আমার সৃষ্টি” (‘সৃষ্টি ঘুম’), তাঁরঅগ্নিসিদ্ধ কবিতার জিহবা উচ্চারণ করে তার প্রাথমিক শর্তসত্য’ (‘করাঘাত’) এই সময় কালের পরিক্রমায় কবির স্থির উপলব্ধি বুকের ভেতর স্পষ্ট থাকা চাই জীবনের সব মানে”(‘শব্দমন’) এই পর্বেই কবি জেনেছেনশঠতার ইতিহাসকিংবাইতিহাসের শঠতা’, জেনে গেছেনগনগনে অতীত মাঝে মাঝে উঠে আসে বর্তমানের অবয়বে”, জেনে গেছেনলড়তে লড়তে মানুষ শিখে যায় কি করে হাত সেঁকে নিতে হয় আগুনে” (‘লড়তে লড়তে’) শেষ পর্বএকান্ত আমিতে ২০১১র সময়কালের উনত্রিশটি কবিতা এই সময়কালে তাঁর তাবৎ দেখার মধ্যে আছে এক অমোঘ সত্যঅন্ধকার রাতের নিবিড় যন্ত্রণা”, কখনোবা নিজেকে ফিরে দেখেছেন নিবিড় ভাবেতাঁর চারপাশটাকেও দেখেছেনঅমলকান্তি বাড়িগুলোর মুখ ঢেকেছে কর্পোরেট আশ্লীলতায়” (‘প্রাণের শহর’), দেখেছেন একা একা বাঁচতে চাওয়া সুখী সুখী মানুষেরা “থরে থরে সাজানো মেঘের পরতে পরতে মিথ্যাকে কেমন ভাঁজ করে রাখে” (‘মিথ্যা গাথা’) এবং বোধ করি নিজেকে এই একান্ত দেখার অনুষঙ্গেই কবি তাঁর প্রার্থিত অন্বিষ্ট উচ্চারণ করেন ”দিবারাত্রির বৃত্তের আবর্তে ধ্রুবতারা অকৃত্রিম শ্বাশ্বত লক্ষ্য” । (‘ধ্রুবতারা’) । আর সেই সাধনে কবিতাই তো তাঁর এবং আমাদেরও “দিন যাপনের সামগ্রিক পরিভাষা” , একটির পর একটি দুর্বৃত্ত দিন পার করে দিতে চান “কবিতার ঝুরি আঁকড়ে” কেননা কবিতাই তো “বৃক্ষের মত একমাত্র শিকড়” (‘তুমি বৃক্ষ’) ।

ছিমছাম রুচিসম্মত প্রচ্ছদে , ঝকঝকে মুদ্রনে কাব্যগ্রন্থটির প্রকাশক কলকাতার ‘ভাষা সংসদ” । কবিতা প্রেমীদের কাছে নন্দিতা ভট্টাচার্যের ‘দূরের নক্ষত্র’ সমাদৃত হবে বলেই আমাদের বিশ্বাস ।
        
                                                                       -- ফাল্গুনি মুখোপাধ্যায়
বিষাদ/ র্মি ষ্ঠা ঘো


দুনিয়ার সব বিষাদ ঠোঁটে
উড়েযাক মেঘ বলাকা
হেসে উঠুক, বিলাপ ভুলুক
আম জনতা ।
কিন্তু যদি তুমি বলো
মন ভালো নেই
সুখের পালক খসিয়ে
আমি বিষাদ হব ।
নিষাদ যেমন বেঁধে হৃদয়
সেটাই তাকে বাঁচিয়ে রাখে
তেমনি তোমার বুকের খাঁজে
মরণ হয়ে বিঁধে রব ।

বকুল / অলক বিশ্বাস

যাচ্ছো, যাও। যে ঝিনুকেরা রোদ্দুর খেলায়
দুচোখে মাখাতো কৈশোর, তাকে ভালো রেখো।
ভালো থেকো ঝরা পাতা। দুঃখের গর্ভ ভেঙে
ওড়ানো পাখিকে মনে রেখো করতল।

বসন্তে রাঙানো কথায় বেসেছি ভালো
বিদায়ের বেলা, তোমায় ছুঁয়ে গেলাম প্রিয় রাত
অনেকটা রক্তপাত পেরিয়ে এসেছি তোমার কাছে
মাগো, মোছ জল !

পলাশের বনও কেঁদেছে অনেক, মেঘেরা বৃষ্টিহীন
ঘুমহীন চাষীর ঘরে মাথাকুটে মরে ধান
প্রার্থনা, আর যেন না মরে প্রাণ
তুমি কি শুনেছো সকাল ?

এতো বেদনার পরও গাইছি গান, 
স্বপ্নে দেখি আজও
হৃদয়ের আসনে তুমিও বকুল

স্বাগত, ঝরনার জল...

ধর্মের প্রহর / সরদা ফারুক
১.
প্রেতের গুহায়
মাকড়শা অন্ধকার বোনে -
যাও , নিয়ে এসো 
ধারালো ফলার হিংস্র তরবারি ।
বাইরে ঝড়ের শব্দ 
বাহু থেকে খসে পড়ে
রুপোর মাদুলি ।
অজগর , এত ক্ষুধা কী করে মেটাবে ?

২.
বাক্যই ঈশ্বর ,তবু সত্য বাক্য নেই ।
প্রস্তর চুম্বনে পূন্য -
এ রকম রীতিনীতি আছে ।

৩.
সর্পলোকে ঘৃণ্য সহবাস
রৌরবের প্রহরীর কঠিন আঙুল
ছুঁড়ে দেবে আগুনের কূপে ?

৪.
কোথায় রূপের দেশ ,
লাল মদ - যীশুর রুধির ?
জলকেলী হোক -
লীলাহাস্যে ভরে তোলো
ধর্মের প্রহর ।


কল্পতরু / শ্যামল দাষ



কবিতা কল্পতরু । মাঝে

এক গল্প গরু ঘাস খেয়ে

যায় আপন মনে ।



লেজে তার ফড়িং নাচে

সে কথা হয় না মনে



অলসের জাবর কাটায়

জমালো খাদ্য চিবায় ।


একদিন দিনের প্রাতে ;
কোরাণের কসম কেটে

সে গরুর প্রাণ চলে যায়
ধারালো ছুরির ঘায়ে !

সে খেলায় জব্দ হলে
ফড়িংয়ের পাখা পুড়ে
কবিতা কল্পতরু !



তুমি আমি /মৌ দাশগুপ্তা


তুমি
রাত দুপুরে হৃদয় জুড়ে

থেকেও যেন থাকছ না,
গল্পকথায় কাব্যগাথায়
ভুলেও তুমি ভুলছ না।

আমি
আপন মনে রাত কি দিনে
কবিতাতে মন ভরাই,
আমার চোখে স্বপ্ন মেখে
তোমার জন্যে মন হারাই।

তুমি
অবুঝ প্রেমে সোহাগী গানে
সোনা রোদে ঝিকিমিকি,
শরীরের ভাঁজে বুকের খাঁজে
উষ্ণতারা দেয় উঁকি 


আমি
লাজুক হাসি      দুখবিলাস
তোমায় ঘিরে স্বপ্নজাল,
বারেক তারে চাও না ফিরে
এমন আমার হাড়ির হাল।

তুমি
দুলিয়ে বেণী গজগামিনী
দুই পায়েতে প্রেম মাড়াও,
হৃদয় ভেঙ্গে খুশি মনে
দুই হাতেতে প্রেম বিলাও

আমি
স্বভাব কবি আঁকছি ছবি
তবু তোমায় পাচ্ছি না,
দুহাত বাড়াই নাগাল না পাই
ধরা তুমি দিচ্ছ না




লালন মন /  সুমী সিকানদার

বেদুইন মন,

            লালনের খোঁজে,

             লালনের বোঝে,

             অকারণ ঘোরে।

        

জানে সে যা পায়,

           আর যা না পায়......

            নিমেষে হারায়,



           কখনও চিতায়
           কখনও বা গোরে।

যাযাবর মন,
             লালনের খোঁজে,
              লালনের বোঝে
              অকারণ ঘোরে।।

কল্লোলিনী তিলোত্তমা / সুমিত রঞ্জন দাস

নষ্ট কথাগুলো একাই ঘুরে বেড়াতো 
গাড়ি মানুষ আর বেলফুল রাস্তায়,
আস্ত সাগরের খিদেপেটে 
গজল রাতের স্বপ্ন দেখাতো
অ্যাসবেস্টস্ টানেলে
আগুন তখনো জ্বলে উঠে 
নিভে যেতো মৌনতায়
থাকতো শুধু কলঙ্কের ছাপ জোৎস্নায়,
সকালের সোনারোদ পরদিন
ছিন্ন যোনীর খবর ছাপতো,
তিনের পাতায় ...

নষ্ট কথাগুলো সেদিনও ঘুরে বেড়াতো
দেশ কাল সমাজ লোকাচার জুড়ে,
সকলে মিলে চোখে ফেটি বেঁধে 
হানা দিতো পুরুষ সীমান্তে,
রাজনীতির ফাটলে পা-হড়কে
সাদা টুপিতে পালক গুঁজে
সময়ের হাহাকার খুঁজতো -
অনিকেত সেদিনও ভালবাসতো কবিতাকে;
আসলে সাদা কাপড়ে ঢাকা লাশটাকে
কোনদিনই ছাড়তে চায়নি নষ্ট কথাগুলো।

 দূরে যাওয়া কী এতই সহজ !
আনোয়ার হুশেন
দূরে গিয়ে ভেবেছ পর হয়ে যাবে ?
পর হতে দিলে তো !!
কবিতার ফুল হয়ে তুমি ফুঁটবে আমার বাগানে
হে নীল অপরাজিতা দূরে গেলে কী মানুষ দূরে চলে যায় ?
আচ্ছা বলতো কতটা দূরে চলে গেলে মানুষ দূরে চলে যায় ?
তুমি যতটাই নিরাপদ দূরত্বে আছো মনে করো -আসলে কতটা ?
শৈশবের হিরন্ময় দিনগুলো , অথবা নির্জনতায় কাটানো একান্ত সময়
ভুলে যাওয়া এতোটা সহজ !!
তুমি যখন গভীর আলিঙ্গনে বেঘোরে ঘুমাও
তোমার জীবনে আগত নতুন আগন্তুকের সাথে
তখনতো নিজের অজান্তে শৈশবে চলে যাও স্মৃতির যাবর কেটে
তখন খোলা এলো চুলে চুমু কেটে কে বলে চলোনা দেশ ছেড়ে ভারত পালাই 
চারপাশের বেরসিক মানুষগুলো আমাদের কে নিয়ে বড্ড গোয়েন্দাগিরি করে
তখন তুমি আমার কপোলে আলতো চুমু কেটে বলো
যে কোন একদিন সত্যি সত্যি পালিয়ে যাবো দেখো
আমি জানি তুমি স্বপনে এখনও আমাকে নিয়ে ভারত পালাও
কারণ মানুষ স্বপ্নঘোরে শৈশব ছাড়া অন্য কোথাও ফিরে যেতে
আত্মার তৃপ্তি অনুভব করেনা !
আর সেখানে তো আমিই আছি , একমাত্র আমি !!
দূরে যাওয়া কী এতই সহজ !!!




Top of Form
Bottom of Form






নিরুত্তর তোমাকে 
অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়
কথা দিয়েছি কিংশুকের অন্তরালে ,
কথা দিয়েছি তাকে, তোমাকে ;
বিগতশোকে, এই মরলোকে ।
হিমালয় থেকে ফিরিয়াছে ভগীরথ ;
সংসারেই নাকি সুফল মনোরথ ।
তাই, কথা দিয়েছিলাম তাকে, তোমাকে ;
বিগতশোকে, সেই অমরলোকে ।

তবু বায়সের জন্মদিনে পায়েসের গন্ধ নাই ;
আজ একা হলে ভাবি, তোমাকেই খুঁটে খুঁটে খাই ।
তুমি নেই, ভাগশেষে মুখপোড়া ছাই ;
কুঁড়েঘর ঝড়ে ভেঙ্গে গেলে,
কার কি বা আসে যায় ? 

তোদের ভিটায় চড়বে ঘুঘু
ওয়াসিকুজ্জামান অনি 
আমাদের শক্ত চোয়াল,
কাঁধে জোয়াল,
ঘুরতে থাকা দুর্বিপাকে,
আমাদের ক্লান্ত সকাল
গ্লানিভরা কাল
জীবন নেশার ঘুর্নিপাকে

শিকলের বদ্ধ হাতে,
দিনে রাতে
গড়ছি তোদের সুখের পাহাড়,
মারছিস মোদের ভাতে
ঘায়ের ক্ষতে
আমাদের মন জেরবার

অত্যাচারের চাবুক হাতে
হায়না দাঁতে
খুবলে খাওয়া যেমন পারিস,
সবুজ এ ধানের ক্ষেতে
লুটের হাতে
যখন খুশি ফসল কাটিস

আমরা গড়ি রক্ত ঘামে,
বিনা দামে
তোদের গোলায় ফসল তুলিস,
কোন কিছু বলতে গেলে
হিসেব মেলে,
মুখ চেপে তুই চাবুক মারিস

তাইতো সবাই এক হয়েছি
পন করেছি
তোদের ভিটায় চড়বে ঘুঘু,
আর সবনা যা সয়েছি,
হাত ধরেছি ….
মেটাব আজ হিসাব শুধু
মদ ও মুখোশ    

পলাশ মিতা


অসহ্য দিবালোকে তোমরা যারা হাঁটো...... সুস্থ পায়ে
রহস্যের টেরাকোটায় আঁকো আপন আকাশ ......স্পর্শহীন
আজ বিষে বিষে নীল দ্যাখো আমার সুরার পাত্র ......সুস্থির
উদভ্রান্ত ভ্রমণ শেষে থেমে গেছে পথ এখানে ......অন্তহীন
ক্লান্ত ত্বকে জমে আছে বিষন্ন ধূলোর ঠোঁট ...... চুমুক
শিভাস রিগ্যালের মগ্নতায় ভাঙে প্রাচীন চিত্র ...... টলটলে
মগজের কাতর ঐশ্বর্য বিশ্বস্ত অসুখে কেমন ...... প্রাণবন্ত
একে একে খুলে যাক মঞ্জরা মেঘের পালক ...... সুপর্ণ মুখোশ
আমার আকাশ একলা এখন কার্বোনেটেড সোডায় ...... সিক্ত
তোমাদের দিব্যলোকের মতোই ঝাঁঝালো ......অসহ্য

আমি পুড়তে থাকি...
অসংখ্য নাক্ষত্রিক মহড়ার আঁচ লাগে গা'য়
বিধ্বংসী সুখে নীল কপোতের মত উড়ে যেতে চাই
তোমরা সাবলীল মুখে শেষবার বলো আকাশ ছুঁয়ে ...... বিদায়
ফিরে আসবো বলে যাওয়ার ভনিতা নয়
আমি যাবার জন্যে যাই।

জন্মলগ্ন
সুমনা ভট্টাচার্য



চারিদিকে ছড়ানো ইতস্তত
পলাশ শিমুলের রঙ
কয়েক ফোঁটা শিশির
সোঁদা মাটির গন্ধ
গোধুলির লজ্জা
মেঘের হাল্কা পালক
জ্যোৎস্নার আলো
চাপা ঠোঁটের হাসি
কিছু না বলা কথা
শয্যার ভাঁজে বকুল 
রাত ও দিনের সন্ধিক্ষণ
সুচ সুতো দিয়ে
গাঁথার অপেক্ষায়............


তলানির গল্প

সায়ক চক্রবর্তী




কিছু খাদ নীচে আমন্ত্রণ পত্র, পড়েছে অনেকেই
কিছু রাত সাথে জলীয় বাস্প, ভিজেছে অনেকেই
যদি টেনে ধরা যায় ঘড়ি তুমি পাগল চলতে হয়
রাস্তার সাথেই ঘাম মেখে । অনেক উর্বশী রম্ভা আসেন
তপোভঙ্গের জন্য তাদের খাওয়াতে হয় বিরিয়ানি
শেষে কুলাঙ্গার নামের পেছনে । দিনকাল কাকের
হাসি কয়েন যেমন। এইসব বারমুডা পেরোতে
হয় ইঁদুরের মত নাহলে তুমি গাছে লটকানো ঘুড়ি
কোথাও বুফে ঘেয়ো কুকুরের দল ল্যাজ নেড়ে
নমস্কার করে চলে যায় । মাথায় রোদের ছাতা
ভীষণ জনপ্রিয় বস্তিতে বস্তিতে, শাক দিয়ে রোদ
ঢেকে যান দাদারা অতএব, চোখে চশমা দাও
যা হবে গুরুর কৃপা না হলে গুরুর গুষ্টির পিণ্ডি
দেবো, ওরা স্বর্গের টিকিট বেচবে ব্ল্যাকে




বিসর্জন /এম.আর.ফারজানা


আজকাল দেখি বিক্রি হচ্ছে বিদ্যান গুণী জন



আদর্শ আর নীতি বিবেক দিচ্ছে বিসর্জন

সত্য ন্যায়ের অঙ্গিকারে গড়বে সমাজ যারা

অর্থ লোভে এখন দেখি বদলে গেছে তারা ।

পচন ধরেছে কিছু বিদ্যজনের মাথায়

বিবেকটাকে বেঁধে রেখে মুখোশ পরে তাকায় 

রাজনৈতিক দলে ভিড়ে লেজুড় বৃত্তি করে

ঘোড়াগুলো সব হচ্ছে গাধা আবার নতুন করে

ফিরে ফিরে আসে

শুভজিৎ ব্যানার্জী


চলে গেছে,চলে গেছে
আসবেনা বলে গেছে
দিয়ে গেছে শুকনো গোলাপ
দিয়ে গেছে শুকনো রক্ত
শুনশান শহর
তাই আমি নিয়েছি উপহার ভেবে

বসে ছিলাম মন ছিলো খারাপ
বকছিলাম মাতালের মতো
তখন এসেছিলো চোখের জল মোছাতে
দুটো কাটা হাত
আর ছিলো দুটো রক্তমাখা দাঁত
আমি ভয় পেয়েছিলাম

ভেবেছিলাম হয়তো কোন বিদেহী
কিংবা কোনো বহুরূপী
সন্বিত ফিরে পাই তবু
যায়নি তো চলে
এসেছে আবার ফিরে
এসছে আমার কাছে আরো একবার
তাহলে, সে যায়নি, সে যায়না
ফিরে ফিরে আসে ।

অন্ধ মানুষ

তাহমিদুর রহমান



এক চোখে কালো পট্টি বেঁধে


অর্ধেক রাস্তা অন্ধকারে রেখে


নির্বোধের মত ব্যবহার করে


প্রতিবারের ন্যায় উপেক্ষার চোখ রাঙ্গিয়ে


ধারাবাহিক কোন নাটকের মত


আজো বেকুবের দুনিয়ায় বাস করছ তোমরা;


তাই তোমাদের অন্ধ মানুষ বলে


নিজের ভূগোল আনমনে রচনা করে চলি।







About