দেবব্রত বিশ্বাস
                     
জন্ম – ২২ আগষ্ট (৬ই ভাদ্র)১৯১১ বরিশাল, মাতুলালয়ে
পৈত্রিক নিবাস – কিশোর গঞ্জ, ময়মন সিংহ
    
শিক্ষা – মেট্রিকুলেশন কিশোর গঞ্জ স্কুল(১৯২৭) ,আনন্দ
মোহন কলেজ, কিশোর গঞ্জ
কলকাতায় সিটি কলেজ ও বিদ্যাসাগর কলেজে । অর্থনীতিতে স্নাকোতর (১৯৩৩)


প্রথম গ্রামোফোন রেকর্ড প্রকাশ – ১৯
চাকুরী জীবন – হিন্দুস্থান ইন্সিওরেন্স ১৯৩৪ , অবসর গ্রহণ  - ৩০ আগষ্ট, ১৯৭

গ্রন্থ রচনা – ‘অন্তরঙ্গ চিন’ এবং আত্মকথন , 
ব্রাত্যজনের রুদ্ধ সঙ্গীত।

মৃত্যু – ১৮ই আগষ্ট ১৯৮০



তিনি আসেন...ভিক্ষা নিতে

অ মি তা ভ দা শ






সে এক বিশাল মানুষ তিনি !!

সব গাছ ছাড়িয়ে...সব বোধ বাড়িয়ে…
বিশাল !!

উঁচু উঁচু উপলব্ধির পা ফেলে পাহাড় ডিঙিয়ে যান
তিনি একেবারে...সুনীল সাগরের শ্যামল কিনারে...
অথবা জল ছপছপিয়ে...
মন্দ্র ভারী বাতাস এনে...শ্রাবণ ঘন গহন মোহে
গোপন কিন্তু কাঁদিয়ে-যাওয়া চরণ ফেলে...আর
কি অনায়াস রোমান্সে, গায়ে কাঁটা দেওয়া রোমাঞ্চে...
অবিশাস্য অবলীলায় আকাশ-ভরা সূর্য তারা টেনে নাবান...
তাঁরই পদক্ষেপ-ধন্য ঘাসে ঘাসে...

আমি পা ফেলি...বিশাল সে পদচিহ্ন...মন-বুদ্ধের পা...সে চরণ
সে পদচিহ্নে...আমার গানের চরণ মেলাই...
আমি বিহ্বলতায় বিহ্বলতায় ডুবে যাই !! ছুটে যাই পিছন পিছন...
চার বছরের ছোট্ট আমি...ষোল বছরের প্রথম প্রেমিক...মাঝবয়সের তরুণ …
সব আমি’রা -- দৌড়াতে থাকে তাঁর পিছন পিছন !!
ধরবে বলে !! তাঁকে !! ভগবানকে !!

এক্কেবারে নিজস্ব ভাললাগার স্পর্ধায় উনার চাদরের খুঁট ধরে টান দিই...
উনি সহাস্যে ফিরে তাকান –
আমি বলি..."গান শেখাবেন?
কি করে যে অমন মন্ত্র বলেন?? দেখান!!
এই নিভৃতে....যেখানে আপনি দেবতা...একা!!"

তিনি হাসেন...তিনি বলেন "আসবো..
আসবো তোমার দ্বারে ভিক্ষা নিতে !!"

আমার চোখ দিয়ে দরদর দরদর করে জল পড়তে থাকে –
আমি দীক্ষিত হই !!

সেই থেকে রোজ পরপর দরজা খুলি.. দরজা খুলে যাই --
চার দিকে ! ভিতর বাহির ! গানের পাখি ওড়াই –
যদি তিনি আসেন !
কতো দরজাই তো -- এখনও খোলা বাকী !
আমি ওড়াই..ওড়াই গানের পাখি !! প্রাণের একটাই যে নিশানা!
আসবেন তিনি চাবি নিয়ে? ঝড় হয়ে? একটিবারও কি আসবেন না??

গভীর থেকে গভীরতর হয় শ্বাস…ঘন মধু হয় প্রেম; মনের খেজুর রসে
টুপ টুপ টুপ করে জমে জমে মিশে... উপচানো যেদিন হয় প্রাণ !!
বেঁচে আছি কি দারুণ কি দারুণ কি দারুণ !! সে অনুভবে ভরে ওঠে গান
সে বিশ্বাসে -- যে দিন ছাপায়..........আকাশ !!

সেই দিন..এসে দাঁড়ান....আমার দরজাটিতে
একলব্যর গুরুদক্ষিণা... সেই 'ভিক্ষা' নিতে...

স্বয়ং তিনি.......দেবব্রত বিশ্বাস !!


দেবব্রত বিশ্বাস : শতবর্ষের শ্রদ্ধাঞ্জলী / ফাল্গুনি মুখোপাধ্যায়


দেবব্রত বিশ্বাস কি শুধুমাত্র একজন প্রথিতযশা রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী ছিলেন ? আমার কাছে এ প্রশ্নের উত্তর নিশ্চিত ভাবেই ‘না’ । তিনি ছিলেন আরো কিছু ।

দেবব্রত বিশ্বাসের জীবনটাই সংগ্রাম । তাঁর দূরারোগ্য ব্যাধি হাপানির বিরুদ্ধে সংগ্রামের কথা তিনি নিজেই বলে গেছেন , কিন্তু সেটা গৌণ । মুখ্য হল প্রাতিষ্ঠানিক অচলায়তনের বিরুদ্ধে তাঁর জীবনভর সংগ্রাম । শৈশবে ব্রাহ্ম পরিবারে জন্মগ্রহণের কারণে গোঁড়া হিন্দুদের কাছ থেকে পাওয়া যন্ত্রণার বিরুদ্ধে নীরব সংগ্রাম,যৌবনে গণচেতনা জাগ্রত করার আহবানেসমাজ পরিবর্তনের সংগ্রাম, আর জীবনের উপান্তে পৌছে তার গাঙ গাওয়া বন্ধ করে দেবার বিরুদ্ধে সংগ্রাম । হয়তো থেমে গেছে। কিন্তু আপোষ করেননি । সেই আপোষহীন মানুষটিকে নিয়েই এই লেখা ।

দেবব্রত বিশ্বাস প্রথাগত ভাবে সংগীত শিক্ষা গ্রহণ করেননি বা শান্তিনিকেতন থেকেও রবীন্দ্রগানের পাঠ গ্রহণ করেননি । অথচ রবীন্দ্রগানে ছিল তার অনায়াস অধিকার । তিনি যত রবীন্দ্রগান গেয়েছেন প্রায় সমপরিমান অন্যগানও গেয়েছেন । কিন্তু রবীন্দ্রগানে তাঁর গায়কীর গুনে আমাদের অন্তরে এক নবতর উপলব্ধির সন্ধান দিয়েছিলেন । কবে থেকে তিনি গান গাওয়া শুরু করেছিলেন তা তিনি নিজেও মনে করতে পারেননি । তাঁর নিজের কথায় “ গান গাইছি তো গাইছি । ছোটবেলার দিনগুলি থেকে শুরু করে শুধু গান শুনেছি আর গেয়েছি”

পূর্ব্বঙ্গের এক গোঁড়া ব্রাহ্ম পরিবারে দেবব্রত’র জন্ম । তিনি বলতেন “রবীন্দ্রগানের জন্ম ব্রাহ্মসমাজে, আমার জন্মও ব্রাহ্ম পরিবারে, সুতরাং রবীন্দ্রগান আমার ভাই”। ব্রাহ্ম পরিবারে উপাসনার জন্য গান গাওয়া ছিল আবশ্যিক , তাই মায়ের কোলে চড়েই তাঁর গান গাওয়ার প্রথম পাঠ । এই ব্রাহ্ম সমাজের এক প্রার্থনা সভায় রবীন্দ্রনাথকে গান শোনানোর দুর্লভ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছিলেন দেবব্রত বিশ্বাসএবং কি আশ্চর্য ! রবীন্দ্রগানের জগতে তিনি যখন অগণন মানুষের শ্রদ্ধা ভালোবাসায় লোকপ্রিয়তার তুঙ্গে তখনই রবীন্দ্রগানের জগতে তিনি ব্রাত্য হয়ে গেলেন । তাঁর নিজের কথায় “আমি জন্মেছিলাম ম্লেচ্ছ হয়ে – শেষ জীবনে রবীন্দ্র সঙ্গীত জগতে হয়ে গেলাম হরিজন” ।

দেবব্রতর পিতামহ কালীকিশোর বিশ্বাস ময়মন সিন্ধ জেলার কিশোরগঞ্জ মহকুমার ইটনা গ্রামে ব্রাহ্ম ধর্মে দীক্ষা নিয়েছিলেন । গোঁড়া হিন্দুরা তাঁকে একঘরে করে গ্রাম থেকে বিতাড়িত করেছিল । বিরিশালে মাতুলালয়ে তাঁর জন্ম । শইশবে বিদ্যালয়ে ভর্তি হবার পর হিন্দু সহপাঠিরা তাঁকে ম্লেচ্ছ বলতো । ১৯২৭ এ কিশোরগঞ্জে মেত্রিকুলেশন পরীক্ষায় পাশকরে কলকাতায় সিটি কলেজে ভর্তি হলেন এবং সেখান থেকে ইন্টার মিডিয়েট পাশ করে ভর্তি হলেন বিদ্যাসাগর কলেজে । এই সময় সেকালের বিখ্যাত সঙ্গীতজ্ঞ – সুরকার হিমাংশু দত্ত, ভীষ্মদেব চট্টোপাধ্যায়, সন্তোষ সেনগুপ্ত প্রমুখের সঙ্গে পরিচয় হয় কলকাতায় ব্রাহ্মসমাজের প্রার্থনা সভা ও অন্যান্য অনুষ্ঠানে তিনি নিয়মিত গান করতেন । ১৯৩৪এ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে এম এ পাশ করে হিন্দুস্থান ইনসিওরেন্স কোম্পানীতে চাকুরী জীবন শুরু করলেন । প্রথম একবছ বিনা বেতনে চাকরী, পরের বছর থেকে পঞ্চাশ টাকা মাসিক বেতনের স্থায়ী চাকুরী । হিন্দুস্থান ইনসিওরেন্স পরে ‘ভারতীয় জীবিন বীমা নিগম’ এ রূপান্তরিত হয়, সেখান থেকেই ১৯৭১ সালে ষাট বছর বয়সে অবসর গ্রহণ করেন ।

দেবব্রত তাঁর আত্মকথন ‘ব্রাত্যজনের রুদ্ধ সঙ্গীত’ গ্রন্থে জানিয়েছেন “আমার সারা জীবন কেটে গিয়েছে কেরাণীগিতি করে, এরই মধ্যে কয়েকটি বৎসর গণচেতনা উদবুদ্ধ করার আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নানা ধরনের দেশাত্মবোধক গা্ন করে আর বাকি সময় আমার ব্যাধির সঙ্গে সংগ্রাম করে” । আজীবন অকৃতদার দেবব্রত ১৯৩৯ সালে ভারতের কম্যুনিষ্ট পার্টির সঙ্গে যুক্ত হয়েছিলেন । পার্টি তখ বে-আইনী । শুধু যুক্ত হওয়া নয়, সক্রীয় সদস্য । সেকালের প্রখ্যাত মার্ক্সবাদী তাত্বিক ফ্যাসিবিরোধী লেখক সঙ্ঘ ও ভারতীয় গণনাট্য সঙ্ঘের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা চিন্মোহন স্নেহানবিশ ছিলেন তাঁর সহকর্মী , সেই সূত্রেই তারকম্যুনিষ্ট আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে ওঠা । গণনাট্য সঙ্ঘে তখন উদয় শঙ্কর, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, সলিল চৌধুরী, শম্ভূ মিত্র, তৃপ্তী ভাদুড়ী(মিত্র), বিজন ভট্টাচার্য, সুচিত্রা মিত্র প্রমুখ – বাংলা সংস্কৃতির সে এক জোয়ারের কাল । মাঠে ময়দানে, সভা সমিতিতে দেবব্রত সুকান্ত, সলিল চৌধুরীর গানের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের গানও গাইছেন । ১৯৪৯এ পার্টি যখন বে-আইনী , নেতৃত্ব আত্মগোপনে – দেবব্রতর ওপর দায়িত্ব বর্তালো সঙ্গীতানুষ্ঠান করে অর্থ সংগ্রহের । হেমন্ত ও সুচিত্রার শযোগিতায় ‘চিত্রাঙ্গদা’ নৃত্যনাট্য প্রদঈশনীর মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছিলেন । ১৯৫৩তে ভারতের সাংস্কৃতিক দলের প্রতিনিধি চিনে গেলেন গা্ন গাইতে , চিন ভ্রমণের অভিজ্ঞতার কথা লিখে গেছেন ‘অন্তরঙ্গ চিন’ গ্রন্থে ।

আবার সেই দেবব্রতই ১৯৬২’র পর নিজেকে বাঁয়ের রাস্তা থেকে গুটিয়ে নিলেন । তার মানে তিনি ‘দক্ষিণ পন্থী’ হয়ে গেলেন তা কিন্তু নয় , বলা ভালো নিজেকে গুটিয়ে নিলেন – তাঁর নিজের কথায় “থেমে যেতে হ’লো” । কেন তিনি সরে গেলেন সে অন্য প্রসংগ । ষাটের দশক থেকেই কম্যিনিষ্ট পার্টির মধ্যে মতাদর্শের দ্বন্ড্ব প্রবল হয়ে ওঠে এবং অবশেষে কম্যুনিষ্ট পার্টি দু টুকরো হয়ে যায় , যার অনিবার্য প্রভাব পড়ে সামাজিক সংগঠনগুলিতেও কর্মক্ষেত্রে যে ইউনিয়নের সক্রীয় কর্মী ছিলেন সেটিও বিভেদের শিকার হ’ল , সেখান থেকেও নিজেকে গুটিয়ে নিলেন দেবব্রত । পার্টি ও ইউনিয়ন্রের বিভাজনে এতোটাই আহত হয়েছিলেন যে অবসরের পর ইউনিয়নের সকর্মীরা তাঁকে বিদায় সম্বর্ধনা দেবার প্রস্তাব করলে তিনি তা গ্রহণ করতে অসম্মত হন । তাঁর আত্মকথন ‘ব্রাত্যজনের রুদ্ধ সঙ্গীত’ গ্রন্থে তিনি লিখেছেন ...... প্রায় উনিশ- কুড়ি বৎসর বেশ বাঁদিকে হেলে কেটে যাচ্ছিল । পঞ্চাশের দশকের মাঝামাঝি থেকেই আমার মনে রাজনীতির ব্যাপারে  কি রকম জানি একটু সংশয়ের উদয় হয়েছিল । হঠাৎ ১৯৬২তে দেখলাম বাঁদিকে নিদারুণ অগ্নিকান্ড – পরস্পর বিরোধ ও বিদ্বেষের আগুন । ভীষণ দমে গেলাম । ...... বহু বৎসর অভ্যাসের ফলে আমার মনতাও বাঁয়ে হেলে চলতে অভ্যস্ত হয়ে গিয়েছিল, তাই মনটাকে অন্য কোন ধরণের নতুন পথে চলতে বা নতুন পথ ধরতে রাজী করাতে পারলামনা”। দেবব্রত থেমে গেলেন । এ একরকম থাম, নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া । কিন্তু অন্য দিকে তাঁকে থামানোর প্রক্রিয়াও শুরু হয়ে গিয়েছিল ।

রবীন্দ্রগানের ভুবনে তাঁর অনায়াস গতিকে থামিয়ে দেবার প্রক্রিয়া সুরু হয়ে গেছে ইতিমধ্যে । মায়ের কোলে চড়ে তাঁর গান গাওয়ার সুরু । বাবা, মা দুজনেই ব্রহ্ম সংগীত গাইতেন । রবীন্দ্রনাথের ব্রহ্ম সঙ্গীত ছাড়াও ছাত্র জীবনে হিমাংশু দত্ত, শচীন দেব বর্মণ, সায়গল প্রমুখের অনেক গানও ছাত্রজীবনে গাইতেন । রবীন্দ্রনাথের গা্ন রেকর্ডে গাওয়ার আগে নজরুল ইসলামের কথায় ও সুরে দুটি গান তিনি  রেকর্ডে গেয়েছিলেন সেই সময় (১৯৩৫-৩৬) কয়েকটি ছায়াছবিতেও গান গেয়েছিলেন । গ্রামোফোন রেকর্ডে তিনি প্রথম রবীন্দ্রগান গাইলেন ১৯৩৯ এ কনক দাশের সঙ্গে দ্বৈত কন্ঠে ‘হিংশায় উন্মত্ত পৃথ্বি’ ও সঙ্কোচের বিহবলতা’। বলা যেতে পারে শুরু থেকেই তাঁর গানকে থামিয়ে দেবার অবাক করা প্রয়াস শুরু হয়েছিল । সেই সময়ে বিদেশী গ্রামোফোন কোম্পানীই ছিল রেকর্ড প্রকাশের বনেদি প্রতিষ্ঠান ও একচেটিয়া অধিকারী , তারা ‘হিজ মাশটার্স ভয়েস’ এবং ‘কলম্বিয়া’ এই দুটি লেবেলে গান রেকর্ড ও প্রচার করতো । পরে ‘হিন্দুস্থা্ন, ‘সেনোলা’ এই রকম দু একটি দেশীয় রেকর্ড কোম্পানী হয় । ১৯৩৯ এ প্রথম রেকর্ড বেরোবার পর   হিস মাস্টার্স ভয়েস থেকে তাঁর আরর১০/১২টি গাঙ প্রকাশিত হয় । এর পর ‘হিজ মাস্টার্স ভয়েস’ কোম্পানী তাঁকে আধুনিক গান গাইবার আবদার করে, কারণ রবীন্দ্রনাথের গান নাকি তেমন চলছেনা বাজারে । প্রখর আত্মমর্যাদা সম্পন্ন দেবব্রত বিশ্বাস । হিজ মাস্টার্স ভয়েস’ থেকে গান করাই বন্ধ করে দিলেন । অর্থের জন্য তিনি গান গাইতেন না, গান গাইতেন প্রাণের আনন্দে । রেকর্ড করা বন্ধ হলেও গান গাওয়াকেতো থামানো যায়না ! গনাট্য সঙ্ঘের হয়ে রবীন্দ্রগান, সলিল চৌধুরী, সুকান্ত, হেমাঙ্গ বিশ্বাসের গান নিয়ে দাপিয়ে বেড়ালেন গ্রামে গঞ্জে, মাঠে ময়দানে । ইতিমধ্যে দেশীয় দু একটি রেকর্ড কোম্পানীর পত্তন হয়েছে । ‘হিজ মাস্টার্স ভয়েস’ থেকে গান রেকর্ড করা বন্ধ হবার দশ বছর পর হিন্দুস্থান রেকর্ড কোম্পানীর মালিক চন্ডীচরণ সাহা তাঁকে রবীন্দ্র সঙ্গীত রেকর্ড করার অনুরোধ করেন ১৯৬০এ । পরের বিছর রবীন্দ্রনাথের জন্ম শতবর্ষ । দশ বছর রেকর্ড করা বন্ধ থাকার পর ১৯৬১তে হিন্দুস্থান রেকর্ডস থেকে তাঁর প্রথম গাঙ ‘আকাশ ভরা সূর্য তারা’ এবং যেতে যেতে একলা পথে’ প্রকাশিত হল – প্রবল জনপ্রিয় হয়ে উঠলো গান দুটি । বাঙালি যেন রবীন্দ্রগানকে নতুন করে আবিস্কার করলো ১৯৬১তে রবীন্দ্র জন্ম শতবর্ষে রবীন্দ্রগানের মহাপ্লাবনে দেবব্রত বিশ্বাস উঠে গেলেন জনপ্রিয়তার উত্তুঙ্গ শিখরে । এবং কি আশ্চর্য ঠিক তখনই হয়তো তাঁর জনপ্রিয়তার কারণেই দেবব্রতকে থামিয়ে দেবার প্রয়াস আবারও গতি পেয়ে গেলো ।

মার্চ ১৯৬৪তে বিশ্বভারতী সঙ্গীত সমিতি তাঁর চারটি গান রেকর্ড করার অনুমতি দিলনা, অভিযোগ, তাঁর গানে যিন্ত্রসঙ্গীত ব্যবহারের আধিক্য । এরপর মাঝেমধ্যে দুএকটি গান অনুমোদন পেয়েছিল, কিন্তু আবার ১৯৬৯এ দুটি গানের অনুমোদন দিলনা । বিশ্বভারতী সঙ্গীত সমিতির সঙ্গে তাঁর দীর্ঘ পত্র বিনিময় হয়েছিল এই বিষয়েতিতি বিরক্ত দেবব্রত রবীন্দ্রগান রেকর্ড করাই বন্ধ করে দিলেন । দুই বাংলার আগণিত সঙ্গীতপ্রেমী তীব্র প্রতিবাদ করলেন, তাঁকে রবীন্দ্রগান থেকে সরে না আসার জন্য কাতর প্রার্থনা জানালেন, কিন্তু রবীন্দ্রগানের প্রাতিষ্ঠানিক অচলায়তনের সঙ্গে কোন আপোষ করতে সম্মত হলেন না দেবব্রততাঁর আত্মকথন ‘ব্রাত্যজনের রুদ্ধসঙ্গীত’ গ্রন্থে লিখে গেছেন “আমি আত্মমর্যাদা বিসর্জন দিতে পারিনি” ।

মায়ের কোলে চড়ে যার রবীন্দ্রগান গাওয়া শুরু তিনি জীবনের শেষ দশটা বছর রবীন্দ্রনাথের গা্ন – গাইলেননা - গাইতে দেওয়া হ’লনা । এই যন্ত্রণা তো আমাদের পক্ষে উপলব্ধি করা সম্ভব নয় , কিন্তু আমরা এই উপলব্ধিতে পৌছে যাই যে দেবব্রত বিশ্বাস শুধুমাত্র রবীন্দ্রগানের অতুল ঐশ্বর্যের অধিকারী ছিলেননা , ছিলেন এক ঋজু মেরুদন্ডের প্রখর আত্মমর্যাদা সম্পন্ন ঋষিতুল্য মানুষ ।

বিশ্বভারতী সঙ্গীত সমিতি নামক প্রাতিষ্ঠানিক অচলায়তনের কাছে তিনি যতই ‘হরিজন’ হয়ে থাকুন না কেন, সঙ্গীতপ্রেমী বাঙালির হৃদয়ে, মননে দেবব্রত বিশ্বাস রবীন্দ্রগানের ‘মহাজন’ হয়েই থাকবেন চিরকাল – যতদিন বাঙালি তার সখে-দুঃখে রবীন্দ্রনাথের গান শুনবে গাইবে ।


গান ভাসিয়ে দিতে পারে আকাশ 



ত্ন দী পা দে ঘো



গানের আরকে যারা ভিজেছে তারা জানে ভিজতে কেমন লাগে


শোনা গেছে যে একবার একটা ময়ুর গানে ভিজে একগোছা বৃষ্টি হয়ে
ঝরেছিল আর এই সেদিন একটা নীলকণ্ঠ পাখি গাইতে গাইতে
হঠাৎ গোধূলির মেঘ বরন নদী হয়ে গেলো

নদীটার হুল্লোড় আগলে রাখে রোদের দানাদার
বিষণ্ণ হাতের তালুতে ফোটে বকুলের বিরহ
ঝর্নার নীলগুল্ম ছুটোছুটি করে চিবুকে
গানের ভেতর নদীটা শুনতে পায় ইশ্বরের কান্না , সেই
জখমের কুয়াশায় সে ছড়িয়ে দ্যায় চাঁদের সরগম ......
নদী , কেমন করে এতো সুন্দর গান গাও ?

জমিতে পেতে দিই নক্সাদার কোজাগরী
কল্কাপাড়ের জ্যোৎস্না ছড়িয়ে দিই বাতাসে
তারপর
লক্ষ প্রার্থনা নিশ্বাস থেকে গান হয়ে ঝরে
কোন ধরনের গান তোমার বেশী পছন্দ ?

মানুষরঙের গান


কার কাছে তোমার গানের হাতেখড়ি ?
সে এক তরুণী কেয়াফুল ... তার কবরীতে দোলে নয়নতারা , তার গান সাজে মেঘের গয়নায়
আর এইযে তোমরা এতো রাগ বেহাগ শুনছো আমার কণ্ঠে
এ সব তারি চোখের গভীর থেকে উঠে আসা সরোদ

এই তরুণী কেয়াফুল এখন কোথায় নদী ?
আমার ত্বকের শাখা প্রশাখায়
নদী , আগামীকে কি বার্তা দিতে চাও ?

মানুষ , তোমরা গান হও




রবীন্দ্র সংগীত


শ্যা ল দা

সত্যি সত্যিই এবার আমি
উঠে যাচ্ছি ঊর্ধ্ব লোকে -
যাচ্ছি নাকি ?

পা মাথা টলমল করে
দুলে উঠে সমস্ত পৃথিবী
বোধের জগৎ

আকণ্ঠ ডুবে যেতে যেতে
মনে পড়ে, ভেতরে
কেউ একজন গান ধরে

আলোর রহস্যময় জগতে
বসে, একা একা
সংগত করে সুরে

সে সুর মূর্ছনার মতো
ছড়িয়ে পড়ে, লোকে
লোকান্তরে !

তাঁর গান থামে
সেও থেমে যায়
আমি থামিনা মোটে

যেতে যেতে, যেতে যেতে
এতো এতো উপরে
উঠে যাচ্ছি যে -

কিছুতেই আপনাকে
বোঝানো যাবেনা -
কি সেই সংগীতময়তা !

ফিরে এসো
সু মি ত র ঞ্জ ন দা শ




আজকাল প্রতিরাতে ঘুমে স্বপ্ন দেখি

অজানা সরীসৃপ চোখের তীব্র দৃষ্টি
স্মৃতির ধ্বংসাবশেষ খুঁড়ে তুলে আনি
ফসিল হয়ে যাওয়া কবিতার করোটি
পাঠ করি প্রতিটি লাইন স্তবক অনুচ্ছেদ
অসীম নীল শূণ্যতায় বিমোহিত সৃষ্টি

তারপর কেটে যায় কত শত রাত
পিছু হেঁটে চলা স্মৃতির যোজন দূর
কালচিহ্ণের ক্যানভাসে মিলিয়ে যায়
উচ্চারিত শব্দের ধ্বনি গানের সুর

এরকমই এক নীল হয়ে যাওয়া রাতে
নিভৃতি-নিরবতা-আর্তনাদের পাখায়
নিজের অস্তিত্ত্ব মিলিয়ে যাবার আগে
ভেসে আসে সেই গানটা তোমার গলায়
"আকাশ ভরা সূর্য্য তারা ..."
জর্জ, গানটা আর একবার গাওনা
কর্পূর হয়ে যাক সময়ে
বুঝে নিই আমার পাওনা।

দেবব্রত বিশ্বাস
নু ম দা র্মা





নিয়মের সৃষ্টি অনিয়মের জারনে
কিন্তু স্বাভাবিক সৌন্দর্য্য
তোয়াক্কা করে না শাসনের বাঁধ,
সঙ্গীত-স্বর ধ্বনিত বাতাসের গর্ভে
পাখির ঠোঁটেই রাগের আলাপন।

এমনও আত্মা থাকে জীবনভর যাঁর
নিবেদিত প্রাণ সুর বিস্তারিতে।
যাঁকে বিঁধতে পারে না কাচের স্বর্গের
কোন আহাম্মক।

উদাত্ত কন্ঠের রবীন্দ্রতান প্রানন্মত্ত
নিজস্ব আঙ্গিকের সেই আপনজন।
বিতর্ক যাঁকে করেছে আরো প্রিয়,

সুর মূর্ছনায় ওতপ্রোত সাধক
দেবব্রত বিশ্বাস।
চির রবীন্দ্রপ্রাণ অবলীলায় ভেসে যায়-
"আকাশভরা সূর্য তারায়...." ।

জর্জদা, এখনও তোমাকে ...
র্ণা চ ট্টো পা ধ্যা য়




ব্রাত্য তুমি ছিলে না কোনদিনই

শ্রোতাদের হৃদয়ে ছিল ঠাঁই
এখনো দেখতে পাই
রেকর্ডের দোকানে উপচে পড়া ভিড়
তাদের মুখে ‘সোনার হরিণ চাই’

সূর্য যখন নিজেকে দেয় ঢেলে
খর রোদে লাগে ভীষণ টান
তখনও তো তোমায় মনে পড়ে
‘বিস্ময়ে জাগে আমার প্রাণ’

সজল মেঘে আকাশ হলে কালো
‘যেতে যেতে একলা পথে’ শুনে
ওই যে একা নিজের মনে চলা
উদাসীরও মনটা লাগে ভালো

তোমায় শুনে বড়ো হওয়া আমি
যখন দেখি এদেরও মুখে তুমি
বুকে বাজে কান্না-মেশা হাসি
জর্জদা, তখন বুঝতে পারি
তোমায় আমরা এখনও, এখনও
ক তো টা ভালোবাসি...

শ্রদ্ধার্ঘ্য


মৌ দা গু প্তা

কথার পরে কথা সাজিয়ে উজাড় করা শব্দ,
দরাজ গলার উদার গানে তাই কোলাহল স্তব্ধ।।
“আকাশ ভরা সূর্য তারা’ স্মরনীয় সে প্রাপ্তি,
সপ্তসুরের বিত্ত বয়ে মোহময়ী শক্তি।
কিম্বা যখন মনের ভেতর মেঘের আঁধার বুনি,
ক্লান্তি আমার ক্ষমা করো প্রভু' মন দিয়ে শুনি
গান গেয়ে কথা বলা, নিঃসারে গাওয়া গান ,
সাবলীল সেই ভঙ্গিমাতে ঢেলে দেওয়া মন প্রাণ,
ব্রাত্যজনের গীতিসুধায় অনায়াসে মিশে যাই,
সশব্দ ভাবনায় তবু চুপকথার নেই ঠাঁই।
নিজেই বলি,“সুরের গুরু দাও দাও দাওগো সুরের দীক্ষা'
তাঁর গানেতেই দুখ ভুলেছি,পেয়েছি সুরের শিক্ষা।
তাঁর জন্যে সাজিয়ে রাখি ভুলে যাওয়া সুর, অবুঝ গান,
খোলা দরজা,উদাস হাওয়া,স্বরলিপি আর গীতবিতান।।
নেই তিনি আশেপাশে, গান বাজে বারোমাস,
নিঃশ্বাসে মিশে আছেন দেবব্রত বিশ্বাস।।


দেবব্রত বিশ্বাস


র্পি তা দা গু প্ত

‘ আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে তই হেরি তায় সকল খানে ’
ছোট্ট বেলা থেকেই রবিঠাকুরের গানের ভক্ত
দেবব্রত বিশ্বাস আমার একজন প্রিয় শিল্পী ।
যে কোন ঋতু তাঁর গলায় দানা বাঁধে
বিশেষ করে বর্ষা –
ব্জ্র নিনাদ কণ্ঠে গাইলেন শিল্পী
‘ ব্জ্র মানিক দিয়ে গাঁথা, আষাঢ় তোমার মালা –’
তোমার মালা গাঁথা জর্জ বিশ্বাস
এ নামেই সবিশেষ পরিচিত ।
রবিঠাকুরের গান তাঁর অনায়াসলব্ধ
সে গানে প্রাণ প্রতিষ্ঠা করতেন তিনি।
রসের আধার ছিলেন ,
তাই মনে হয় তাঁর গানে এতো প্রাণ ।
‘আমার হিয়ার মাঝে লুকিয়েছিলে ---’
সত্যি আজও যেন হিয়ার মাঝেই লুকিয়ে আছেন
তিনি আর রবিঠাকুর পাশাপাশি
বড় ব্যথা পেয়ে গেয়েছিলেন—
‘কেন তোমরা আমায় ডাক আমার মন না মানে –’
যে ব্যথা নিয়ে চলে গেলেন তা আজ বুকে বাজে । ----


বিশ্বভারতী সঙ্গীত বিভাগের অধিকর্তা নৃপেন্দ্র চন্দ্র মিত্রকে ১২ফেব্রুয়ারী ১৯৭৪এ লেখা তাঁর দীর্ঘ পত্রের অংশ বিশেষ
      একদা রবীন্দ্রনাথ বলেছিলেন তাঁর গানই নাকি টিকে থাকবে । কিন্তু ‘আমাদের মাতামহীর আমলের জীর্ণ কাঁথা দেয়ে ঘিরে রাখলে এবং পলতে করে ফোঁটা ফোঁটা নিয়মের বিধান’ খাইয়ে রবীন্দ্রসঙ্গীতকে টিকিয়ে রাখা যাবে এমন কথা রবীন্দ্রনাথ ভাবতে এবং বলতে পারেননি । তিনি বরঞ্চ বলেছিলেন ‘সুরকারের সুর বজায় রেখেও এক্সপ্রেশনের কমবেশি স্বাধীনতা চাইবার এক্তিয়ার গায়কের আছে’ ......
... যে রবীন্দ্রনাথকে আমার পিতামাতা গুরুর মত শ্রদ্ধা করতেন, যে রবীন্দ্রনাথের সঙ্গীতচিন্তা আমার চিন্তাধারার ওপর যথেষ্ট প্রভাব বিস্তার করেছিল,সেই রবীন্দ্রনাথের চিন্তাধারাকে কোন মূল্য না দিয়ে এবং তাঁর নির্দেশ অমান্য করে, নিজের ক্ষুদ্র সার্থ সিদ্ধির উদ্দেশ্যে মাঝারি কর্তাদের নির্দেশ এবং বিধি নিষেধ মেনে আর রবীন্দ্রসঙ্গীত রেকর্ড করার ধৃষ্টতা আমার নেই – প্রবৃত্তিও নেই । এই ব্যাপারে যুক্তিহীন কতকগুলি নিয়ম যতদিন  বলবত থাকবে ততদিন নিজেকে সরিয়েই রাখব । আমি দেখেছি হালে কয়েকজন তরূণ রবীন্দ্রসঙ্গীত গায়ক গায়িকা অতি সুন্দর গাইছেন – মনে হয় তাদের মধ্যে প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে – লক্ষ্য করি তাঁরাও এ ব্যাপারে বেশ ভাবনা চিন্তা করেন । কিন্তু আমার মনে হয় এই নিয়মের শাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাবার মত সাহস ও ক্ষমতা তাঁদের নেই । ... তাই আপনার কাছে আমার বিনীত নিবেদন এই যে আপনি অনুগ্রহ করে যথার্থ সঙ্গীতজ্ঞ এবং সঙ্গীত রসিকদের আহ্বান করে, আলাপ আলোচনার আলোকে এমন একটি ব্যবস্থা করুন যাতে আমাদের অতি প্রিয় সবুজ ও সজীব রবীন্দ্র সঙ্গীত শুকনো কাঠ না হইয়া যায় । ... শেষ করার আগে রবীন্দ্রনাথের একটি বাণীর উল্লেখ না করে পারলামনা – তিনি লিখেছিলেন “......যারা বড়, যারা ভূমাকে মানে, তারা সৃষ্টি করিতেই চায়, দমন করিতে চায়না ...। মানুষের পক্ষে সবচেয়ে ভয়ঙ্কর মাঝারির শাসন । এই শাসনে যা কিছু সবুজ তা হলদে হইয়া যায়, যা কিছু সজীব তা কাঠ হইয়া যায় ...” ।











Top of Form



Bottom of Form






7 মন্তব্য(গুলি):

Dipankar বলেছেন...

ফাল্গুনী দা ,
মন ভরলোনা | আশা করেছিলাম বেশ কিচু নতুন তথ্য পাব, জর্জ বিশ্বাস সম্বন্ধে | সেই সময় বিশ্বভারতী সঙ্গীত বোর্ডের অধ্যক্ষ ও অন্য সদস্যদের নাম জানাতে পারলে আরো আকর্ষনীয় হতে পারত | তার সাথে যাঁরা দেবব্রত বিশ্বাসের গান বাতিল করেছিলেন, তাদেরকেও মানুষের চেনা উচিত | অবশ্যই তাদের যুক্তি তা পাশপাশি রাখাও যেতে পারে | একটু নিরাশ হলাম | কিন্তু শ্রদ্ধা জানানোর এই প্রচেষ্টা অবশ্যই ধন্যবাদর্হ্য | বেশ কিছু ভুল আছে , এডিটিং আর একটু করলে ভালো হত | আমি দেবব্রত বিশ্বাস কে নিয়ে বিতর্কের উত্তাল দিনগুলিতে "অমৃত" পত্রিকা তে অনেকের লেখা পরেছিলাম | তার সন্ধান ও অনুলিপি যদি কেউ দিতে পারেন, তা হলে খুব ভালো হয় | ..........

phalguni Mukherjee বলেছেন...

ধন্যবাদ দীপঙ্কর, আপনার সুচিন্তিত মতামতের জন্য । আপনি অন্যনিশাদের খুব আন্তরিক পাঠক। আপনার মনে থাকতে পারে দেবব্রত বিশ্বাস স্বয়ং তাদের নামগুলি উচ্চারণ করেননি - কন সংবাদ পত্রও উল্লেখ করেনি । কারণ প্রতিবাদটা ছিল সিসটেমের বিরুদ্ধে । 'অমৃত' পত্রিকায় সন্ধ্যা সেনের লেখাগুলো আমিও পড়তাম । সেখানে যে সব তথ্য লেখা হয়েছিল তা সবই দেবব্রত বিশ্বাস তাঁর আত্মকথন 'ব্রাত্যজনের রুদ্ধ সঙ্গীত' গ্রন্থে উল্লেখ করে গেছেন । আমি প্রবন্ধটিতে দেবব্রত বিশ্বাসের প্রতিবাদী মওন ও সগ্রামী মানসিকতা ও প্রখর আত্ম মর্যাদা তুকু বুঝতে চেয়েছি । স্বল্প পরিসরের ব্লগ ম্যাগাজিনে সাধ থাকলেও বড় লেখা দেওয়া যায়না । এডিটিং ত্রুটিপূর্ণ আছে এটা আমিই সবচেয়ে আগে বুঝতে পেরেছি আপনার মত আমার সঙ্গে মিলে গেলো । আরো কয়েকটা ভাল কবিতা আশা করেছিলাম - কিন্তু পেলামনা । তারা অন্যনিষাদের বিশেষ সঙ্খ্যাগুলিতে লেখা দেন - কিন্তু এবার দিতে পারলেন না । দু একজনতো আমার অনুরোধের প্রাপ্তি স্বীকারও করেননি । ব্লগ পত্রিকার সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও মনে রাখতে হবে ।

Dipankar বলেছেন...

অমৃত পত্রিকা তে অনকেই তো এই বিষয়ে লিখেছিলেন বা মতামত দিয়েছিলেন | এই পত্রিকার কোনো কপি কথাও পাওয়া গেলে জানাবেন| আর একটা কথা, সুচিত্রা মিত্র বোধ হয় তখন মিউজিক বোর্ডের শীর্ষে ছিলেন |

Rathindradeb Thakur বলেছেন...

পত্রিকাটা ভালো লাগছে। লিখতে পারি কি ? নিয়মকানুন ? শুভেচ্ছা রইল আপনাদের জন্য ।
-rathindradebthakur@gmail.com

subir roy বলেছেন...

খুব ভালো লাগলো। আমি রবীন্দ্র সদনে একটি রবীন্দ্র সংগীতের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলাম। ঐ অনুষ্ঠানে ছ'জন দিকপাল রবীন্দ্র সংগীত শিল্পী উপস্থিত ছিলেন। পাঁচজন শিল্পীর নাম উল্লেখ করা হলেও, জর্জ বিশ্বাসকে "আরও একজন শিল্পী" হিসাবে পরিচিত করা হয়েছিল। গেরুয়া পোশাকে জর্জ বিশ্বাস উপস্থিত হয়ে পরপর বেশ কয়কটি রবীন্দ্র সংগীত পরিবেষণ করে নীরবে উঠে যাওয়ার পরে, এক দিকপাল শিল্পী মঞ্চে আসেন রবীন্দ্র সংগীত পরিবেষণ করতে। সকলের প্রিয় এই শিল্পীর অনুষ্ঠাণ আগে বহুবার দেখেছি, কিন্তু ঐ দিন দেখলাম রবীন্দ্র সদনের মতো একটি হলে, যেখানে প্রধান অতিথি স্বয়ং মুখ্যমন্তী, ঐ শিল্পী মঞ্চে আসার পরেই অধিকাংশ দর্শক আসন ত্যাগ করে হলের বাইরে চলে যান। দর্শক বিহীন প্রায় ফাঁকা হলে বসে সংগীত পরিবেষণ করে উঠে যাওয়ার পর, দর্শকরা আবার হলে ফিরে আসেন। আমি নাম উল্লেখ করলাম না, কিন্তু ঐ শিল্পী বোধহয় তাঁর জীবদ্দশায় এরকম অপমান ভোগ করেন নি। দেবব্রত বিশ্বাসকে নিয়ে লেখা ও আলোচনার জন্য ধন্যবাদ, ভবি্যতে আরও তথ্যের আশায় থাকলাম।

P Sen বলেছেন...

ফেসবুকের একটা গ্রুপ(group) "DEBABRATA BISWAS"-এ জর্জদার বিরুদ্ধে বিশ্বভারতীর এবং কোলকাতার একটা প্রকাশক সংস্থার কা'রা ছিলেন, তা'র বেশ ভালো ইঙ্গিত পাওয়া যায়...কোলকাতার একটা সঙ্গীতানুষ্ঠানে সেই প্রকাশক সংস্থার এক ভদ্রলোক(?) স.কু.ঘো. ঘোষক ছিলেন। উনি জর্জদার অজান্তে ঘোষণা করে দিয়েছিলেন যে উদ্বোধনী সঙ্গীত জর্জদা গাইবেন।ওঁর অনুমতি না নিয়ে বা ওঁর আগে কোনো কথা না বলে ওই ঘোষণা করার জন্য জর্জদা ভীষণ ক্ষেপে গিয়ে স.কু.ঘো.-কে খুব বকেছিলেন। তা'র প্রতিশোধ নেবার জন্য উনি বিশ্বভারতী সজ্ঞীত সমিতিতে থাকা ওর সম্পর্কে বড় ভাইকে জানান এবং জর্জদার রবীন্দ্রসঙ্গীত রেকর্ড করায় ও কোনো অনুষ্ঠানে পরিবেশন করায় বাধা আরোপ করতে বলেন....ত'র পরের খবর আমি বিভিন্ন সূত্র থেকে যা' পেয়েছি, তা'র সাথে ফেসবুকের "DEBABRATA BISWAS" গ্রুপে যা' লেখা হয়েছে, সেটা মিলে যাচ্ছে...

aniruddha rakshit বলেছেন...

সব বিতর্কের হোক অবসান ৷ স্বয়ং যিনি কারো নাম উল্লেখ করেন নি ,তাঁর মতবাদকে শ্রদ্ধা জানাই ৷
স কু ঘোর লেখার বিরুদ্ধে আমার প্রতিবাদ সেই সময়েই পত্রিকায় বেরিয়েছিল ৷

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About