বর্ষা-বরণ ১৪১৯






বৃষ্টির ছড়া





অভিলাষা দাশগুপ্তা আদক



তপনের দহনে,ঝলসায় ধরণী।
শুখামাটি,গেল ফাটি,গ্রীষ্মের কাহিনী।

ঝোপঝাড়,বালুচর,চায় মেঘ,জল চায়,
গাছপালা, ঝালাপালা,টুটি ফাটা পিপাসায়।

যত জীব, নির্জীব,দিন কাটে হুতাশে।
অবশেষে, আষাঢ়ে সে,উঁকি মারে আকাশে,

জলকণা,হীরে দানা,অমূল্য উপহার,
পৃথিবীর সবাকার,দেন হল বিধাতার।

কালোমেঘ, ঝোড়োবেগ,ঢাকে আকাশের নীল।
টুপটাপ, জলছাপ,ভরা নদী খাল বিল।

ঝুপঝাপ,মেটে তাপ,শান্তির বৃষ্টি,
ঝমাঝম,বেশী কম,আবছা যে দৃষ্টি।

ঝিমঝিম রিমঝিম, বৃষ্টি আয় ঝেঁপে।
বানভাসি, সর্বনাশী,জল ঢালিস মেপে।









একফোঁটা বৃষ্টি





নন্দিতা ভট্টাচার্য






রোদের কাঠফাটা চেহারা টুঁটিচেপা গরম ছিন্ন ভিন্ন আকাশের নীল রং
রাস্তার ঢলানি পিচে হাঁটে না সারি সারি পা ,


দুপুরের ভি আই পি রোড গুমঘরের মত চুপচাপ সটান হাত মেলে উদলা ,


এ সি কাল কাচ গাড়িগুলো মধ্যদুপুরের একমাত্র খদ্দের ,


উড়ালপুল তৈরির তরিজুতে কামিনদের শরীরে রোদের করাত জিরোচ্ছে ,


দু'হাত তুলে জলে ডোবা মানুষের মত
ডাকছে বৃষ্টিকে মানুষ

বৃষ্টির মন আর সব ভুলেছে রোদের সখ্যতায়
বৃষ্টি আড়ি করেছে গাছপালা খাল বিল নদি নালা
প্রতিটি জলের ফোটার সাথে
বৃষ্টির জন্যে আনচান আকুল মানুষ আকাশের উঠোনে
জলচৌকিতে অপেক্ষা --এক ফোঁটা বৃষ্টির ।






বৃষ্টির জন্যে পনেরো লাইন





রত্নদীপা দে ঘোষ

প্রত্যেকের নিজস্ব কিছু বৃষ্টি থাকে

বৃষ্টির অসুখী জ্যোৎস্না ক্রমশ ভেঙে পড়ে মানুষের শিরদাঁড়ায়

বৃষ্টিকে দেখে ব্যারিকেড গড়ে অশ্বমেধের ঘোড়া

কবিদের জন্য বৃষ্টি একটি কীটনাশক যা পাহারা দ্যায় অজস্র আকাশ

বৃষ্টি একটা ড্রাগ আচ্ছন্ন করে রাখছে ইশ্বরকে

যুবকের বুকের বৃষ্টিতে ঝনঝন বুলেট

আজ রাতে যে মানুষ আত্মহত্যা করবে তার জন্যে বৃষ্টি ব্যাক্তিগত দেরাজ

শীতের বৃষ্টি বনভোজনে যায় পিউ কাঁহা কার্ডিগান

আমাদের দরকার এমন বৃষ্টির যে দেবে ওড়ার প্রবণতা

গানের মধ্যে লক্ষ্য করো বৃষ্টির স্লিভলেস সিম্ফোনী

মাঠময় উজ্জ্বল শাড়ির বৃষ্টি তার পোশাকি নাম মাধবীলতা

বৃষ্টি এক নিঃশব্দ দিগন্ত যার শেষ দেখতে পায়নি কেউ

খয়েরবাড়ীর বৃষ্টি আসলে একটি কান্না যা যে কোনো পাত্রে রাখা যায়

বৃষ্টি এক প্রকার প্রাণায়াম তোমায় পৌঁছে দেবে শৈশবে

একটা বৃদ্ধ বৃষ্টি মৃত্যুর আগে চুমু খেয়েছিল নাবালিকা পৃথিবীকে






বর্ষাপূর্তি / অনুপম দাশ শর্মা







অবশেষে তুমি সেই সাজে
উগ্র গর্জনে, জ্বলন্ত অঙ্গারে
চমকিয়ে ধরা
ছড়ালে স্তরে স্তরে গগনে ।
নিভৃত একাকী উদাসী মননে
ভাবনায় মৃদু ছন্দে
ঝরঝর বারি ধবল পাহাড়ি
থইথই শিশু আনন্দে ।
কাগজে নৌকো ভেরায় না তরী
হারিয়েছে ভরা পুকুর
আহা! মনে পড়ে টিনের চালে
একটানা জল নুপুর ।
তবু বর্ষায় আছি ভরসায়
কাব্যের মহা পরব
শুধু কি কবিতা, রাগ আলাপে
সঙ্গীত তাও সরব ।









শ্রাবণের আধবোজা চোখ






অমিতাভ দাশ




শ্রাবণের আধবোজা চোখ
ওপরে মেঘের ভুরু
ঘাসেতে ফোঁটার নোলক
এ আমার একলা দুপুর…

কাজেতে মন বসে না
দু-টো-তেই ছুটির শুরু !
ও দিকে বৃষ্টি এলো
কবিতার পরলো নূপুর..

শ্রাবণের আধবোজা চোখ
সে দেখি মুচকি হাসে..
আমি যাই -- বৃষ্টি ভিজি
যদি কোন কবিতা আসে!

অশরীর ধরবো শরীর
যতনে রাখবো পাশে,
সে মায়ায় ভরবে এ-লোক।
শ্রাবণের আধবোজা চোখ…









বৃষ্টি কুড়িয়ে দিন যাবে






সৌনক দত্ত তনু






আষাঢ়ের বৃষ্টি শুরু হলো রুদ্রাক্ষের বনে
তোমারও তো-গতি পেলো মুঠো
মনে পড়লো,তোমায় পড়লো মনে
অনেক কথা বলবো বলে বারংবার প্রতিক্ষায়
প্রতি স্বপ্নে,প্রতি জাগরণে,লক্ষ বাসনা
আশায় থাক,সে সব তুচ্ছ কথকথা।
বন্দীর বন্দনায় আমি বন্দী চিরন্তন
যত বর্ষা নেমেছে রাতের উতলা প্রহরে
ভিতরে কেউ কেঁদেছিল,
তাই কইতে কথা বাঁধে!

২.



বৃষ্টি নেই,মনে হয় বৃষ্টি ঝরেছিলো
অন্তহীন আকাশে আবার,মেঘলা অন্ধকার
কে তুমি আমাকে ছুঁয়ে গেলে আজ বরষায়
কে তুমি আমার বৃষ্টিভেজা বাতাস
প্রথম কদমফুল
এভাবে নয়,এভাবে ঠিক হয় না ভালোবাসা
তোমাকে কেউ পালাতে দেখেছে দিগন্তের ঐপারে
তোমাকে জানতে আমার যত ছল
সারাদিন ধরে ঝরিয়েছে নীল জল
কবেকার প্রথম একে অপরে ভেজা
জীবন যাপনে নিজেকে ভাবা রাজা
আমি ছাড়া কেউ-
কেউ কি কখনো মনে ভাবে
বৃষ্টি কুড়িয়ে দিন যাবে?
বৃষ্টি নেই,তবু মনে হয় বৃষ্টি ছুঁয়েছিলো...









বর্ষা দিনের প্রণয়


আনোয়ার হুশেন






রিমঝিম বৃষ্টির এই দিনে
মন ছুটে যায় তোমার টানে
মন চায় আজ হাতে হাত ধরি
বর্ষায় ভিজি শুধু দু’জনে

গাছের পাতায় বৃষ্টি পড়ে
বন-বনানীর সবুজে ঘিরে
খুলে গেছে আজ স্মৃতির পাতা
বেঁজে ওঠে সুর গানে গানে

পাখিরা এখন ফিরেছে নীড়ে
বর্ষার ছটা আকাশ জুড়ে
কল্ দেবো কি মুঠোফোনে
ভীজবে কি তুমি ঐকতানে ।









কাব্য-গ্রন্থ আলোচনা










‘একমনা রোদ’ / অমিতাভ দাশ আলোচক - ফাল্গুনি মুখোপাধ্যায়












আটচল্লিশটি কবিতা নিয়ে অমিতাভ দাশের প্রথম কাব্য সংকলন ‘একমনা রোদ’ , প্রকাশ করেছেন পরশ পাথর প্রকাশনা – ২০১২ বইমেলায় ।




খুব বেশিদিন কবিতা লিখছেননা অমিতাভ । তাঁর কবিতা লেখার সূচনা ২০১১’র মাঝামাঝি সময় থেকে এবং পরের বছরের শুরুতেই গ্রন্থবদ্ধ করে প্রকাশ । কাব্যজগতে অমিতাভর পরিক্রমা অতয়েব নিতান্তই স্বল্প – আলোচ্য সঙ্গকলনটির প্রকাশ পর্যন্ত । কবিতার সাম্রাজ্যে তার এই নাতিদীর্ঘ পরিক্রমায় কবি নিজের ভাবনাবৃত্তের যে নির্মাণ করেছেন আমি সেটাই বুঝতে চাইবো । সংকলনটির প্রচ্ছদ লিপিতে তাঁর ভাবনাবৃত্তের স্বরূপ বা নিজ অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন । আমরা জানতে পারি যে, কবিতা তাঁর কাছে নিজেকে খোঁজা আর প্রকাশের তাগিদ, সঙ্গে কিছু চেতনার আলোদ্বীপের উন্মোচন ও নির্মাণের অভিপ্রায়”। এই আলোচক যদিও মনে করে ‘কবিতা’ নিজেকে খোঁজা ছাড়াও অনেক কিছু । সে অন্য প্রসঙ্গ ।




একদা কৃতি ছাত্র অমিতাভ বৈদ্যুতিন বিষয়ে বি.টেক করে উচ্চশিক্ষার্থে বিদেশ গমন ও বৈদ্যুতিন প্রযুক্তি বিষয়ে পিএইডি করেন । তারপর আমেরিকা সহ নানান দেশে কর্ম ও গবেষণা সূত্রে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন । ১৯৯৯এ দেশে ফিরে বাসা বাধেন ব্যাঙ্গালোরে । ১৯১০ থেকে চাকুরি ছেড়ে দেন কবির ভাষায় ‘ইচ্ছেঘোড়াদের তদারকি’ করার জন্য । তাহলে বাংলার জল-হাওয়ার সঙ্গে তাঁর স্থায়ী সম্পর্ক ১৯৬৩ থেকে ১৯৮৪ পর্যন্ত । সংগত ভাবেই তাই আমি তাঁর প্রথম কাব্য নংকলনে দেশ-কাল ও তার মানুষের কাব্যকথার খোঁজ করিনি । ‘একমনা রোদ’ কবির নিজেকে চেনার কাব্য-কথা । এবং নিজেকে চেনার – কবির ভাষায় নিজের ‘চেতনার আলোদ্বীপ’ নির্মানের উত্তাপ আহরণ করেছেন বাঙালি জীবনের ‘সাংস্কৃতিক বাতিস্তম্ভ’ গুলি থেকে – স্বীকার করেছেন ‘উত্তরাধিকার’ কবিতায় , কবির কথায় “মজে যে আছি, বাঙালি মাছি – বাঙালিয়ানার উত্তরাধিকারে...” ।







বৈদ্যুতিন দুনিয়ায় প্রযুক্তির জটিল অঙ্ক মেলাতে মেলাতে ‘দূর ছাই’ বলে চলে এসে কবিতাতেই আশ্রয় নিলেন কেন কবি ? তার হদিস পেয়ে যাই সংকলনের শেষ কবিতায় আর এই কবিতার নামেই সংকলনটিত নামকরণ । এ যেন বিহঙ্গের নভচর হবার আহ্বানে সাড়া দেওয়া ‘এবার উড়বো নীল ওই নীল আয়নায়’ । তো কবির সেই প্রার্থিত ‘নীল আয়না’টি কি ? কবি জানিয়ে দেন “কবিতা । /আমার সুখী পায়রার ঝাঁক /তোরা খা না দানা /আর গোলাঘরের চারপাশে/ওড়!” (অপেক্ষাচারণ) । কবিতার কাছে সমর্পিত হওয়ার অভিপ্রায় যেমন জানিয়ে দেন তেমনই কবিতার সমুদ্রে ভেসে যাওয়া কিংবা কবিতার ঝর্ণায় অনিঃশেষ স্নাত হয়ার স্নিগ্ধতাও ছড়িয়ে দেন পাঠকের অন্তরে










‘নীল নীল ওই নদীর বাঁকে




নীল জোনাকি আঁকল ছবি


নীল তারারা ঘিরল দেখো


নীল আসছে,তোমার কবি’(নীলে নীলে নীল)


কিংবা জীবনটাই যেন কবিতা তার কাছে – অথবা কবিতার মধ্যেই জীবনকে খুঁজতে চেয়েছেন । কিরকম ?


‘আমি উড়ি


আমি হাটি, আমি চরি


দানাগুলি খুঁটে খাই, কবিতার’...






... আমি ডুবি,


দিই কবিতার পুকুরে ডুব


শ্যাওলায় হারানো – কবিতার’ (কবিতা জীবন) ।


কবির ভাবনার একাকীত্বে তাঁর চারপাশের এবং তাঁর কাছে আসার প্রকৃতির গোপনীয়তার সৌন্দর্যময় প্রকাশ ঘটিয়েছেন কবি । আকাশ-সমুদ্র-নদীর সঙ্গে কিংবা ‘শঙ্খনীলে’র সঙ্গে কথোপকথনে । এই পর্যায়ে আটটি কবিতা আছে সংকলনে যেখানে প্রকৃতির গোপনীয়তাই প্রকাশিত কবির ভাবনার বিশ্বস্ততায়, স্নিগ্ধ সৌন্দর্যে । ‘কথোপকথন’ পর্যায়ের এই আটটি কবিতাকে আমি অন্য কবিতাগুলির চেয়ে কিছু ওপরে রাখবো ।






অমিতাভ এখন প্রচুর লিখছেন এবং বেশ ভালো লিখছেন । আমরা যারা ‘ফেসবুক’এর নানান কবি গোষ্ঠীর পৃষ্ঠাগুলিতে ঘোরাঘুরি করি তারা একথা জানি । আমি একথাও বিশ্বাস করি যে ‘একমনা রোদ’এর ২য় সংস্করণের সময় কবি নিজে হয়তো কয়েকটি কবিতা বাতিল করে দেবেন । ‘একমনা রোদ’এর পাশে কবির সাম্প্রতিক কবিতাগুলি পাঠ করলে তাঁর ভাবনা ও কাব্য নির্মিতির একটা পূর্বাপর বা ক্রম পরিণতি বুঝতে পারবো বলেই আমার বিশ্বাস । ‘একমনা রোদ’ কবি অমিতাভ দাশের কাব্য পরিক্রমার ‘নান্দীমুখ’, কিংবা তাঁর ভাবনাবৃত্তের তথা আপন উন্মোচন ।






সৌরিশ মিত্র কৃত প্রচ্ছদটি বেশ আকর্ষণীয় , মুদ্রনে প্রকাশক যথেষ্ঠ যত্নশীল ছিলেন বুঝতে অসুবিধা হয়না। কবি অমিতাভ দাশের প্রথম কাব্য সংকলন 'একমনা রোদ' কবিতা পাঠকদের কাছে আদৃত হবে বলেই এই আলোচকের বিশ্বাস ।









সারাদিন আজ আঁধার আষাঢ় মাস


কচি রেজা




সারাদিন আজ আঁধার আষাঢ় মাস
সারাদিন আজ অভিসার মনে মনে
সারাদিন আজ সারাদিন রাধা একা
আঁধার ভাঙ্গে না অভিমানী কারো ধ্যানে

আজ উপেক্ষা,নুনহীনদিন একা
আজ অবসর দুটিহাত পাশাপাশি
রাধা যেন আজ লবন-গন্ধী ফুল
সারাদিন আজ বাজেনি মোহনবাঁশি

সারাদিন আজ অবহেলা খুব একা
সারাদিন আজ যেন যুদ্ধের দিন



ভালোবাসাহীন দীর্ঘ বিরহবেলা
বিরহী যক্ষ উদাস কাটায় দিন
আজ কোনো বাঁশি বাজে না যমুনা তীরে
কালিন্দী-জলে কাঁপে বিদ্যুতরেখা

বিরহী যক্ষ উদাস কাটায় দিন
ভালোবাসাহীন অবহেলা খুব একা

সারাদিন আজ আঁধার আষাঢ় মাস
সারাদিন আজ সারাদিন রাধা একা









সোঁদাগন্ধি আশ্লেষে বুক ভরে যায়,
থরথর কাঁপতে থাকে জলজ বৃক্ষের
পাতায় পাতায় যৌবন জ্বর;
চূড়ায় চূড়ায় হিম পরশ-
বুলায়




ঝুলবারান্দা-চালঘর সবকিছুতে আজ
কোরাসে অনুপ্রাস অনাবিল।
আর্দ্রকন্ঠে ক্রমাগত অভিশাপ মাখে এক বিপন্ন কোকিল।
ঘাসপাতায় লেগে থাকে অসংখ্য বিভ্রম,পারাবার স্বপ্নিল।।




তবুও…..আমি নাগরিক
পরিযায়ী মেঘের অন্যকিছু নই;শুধু এক বিধৌত প্রেমিক।







আয় বৃষ্টি ঝেঁপে
মৌ দাশগুপ্তা

অনেকদিন আকাশে বৃষ্টি ছিলো না,
তৃষ্ণার্ত মাটি ফুটিফাটা,একটু বৃষ্টির আশায়,
মেঘবালার দল জ্বলন্ত সুর্যকে আড়াল করে
চুপিসাড়ে বৃষ্টিকে ফেরত আনছিল তার আপন বাসায়,
ধরণীতে পাপড়ি মেলেছিল পিপাসিত প্রাণ,
বৃষ্টির ফোঁটাকে আশ্লেষে শুষে নেবার আবেগে,
অশান্ত হয়ে উঠেছিল সবুজের দল,
শিকড়বদ্ধ হয়েও ডালপালা ঝাঁকিয়ে -
বুঝি বা আকাশ থেকে বৃষ্টিদানা ছিনিয়ে আনার-
মন্ত্রনা করছিল কালবৈশাখীর সাথে,
আগামী অঙ্কুরোদ্গমের স্বপ্ন চোখে মেখে
অপেক্ষায় ছিল তন্দ্রামগ্ন বীজের দল।




অথচ কবির ভাষায় বৃষ্টি তো আকাশের কান্না বই কিছু নয়,
ও যে বেদনাহত সৃষ্টির যতিচ্ছেদ,
তার চেয়ে ভালো আমাদের সূর্যের আলোখানি,
মুছে দিতে পারে ভয়,বিভ্রান্তি, খেদ।




জীবন যেন মাটির মত, সাফল্য তবে বৃষ্টি,
আর মেঘবালার দল যেন মধুর স্বপ্ন,
কত মিল এদের, তবে কিনা অমিল ও কম নয়,তাই কি তুমি আজও বৃষ্টিকে চাও?


ভুলে যেতে চাও আগুনে ঝলসে যাওয়া?
নাকি পেতে চাও সবুজের এক কণা,
নতুন করে সৃষ্টিকে যদি পাও?




তবে বৃষ্টি পড়ুক ঝরে,
ও যাক না যতদূর পায় সাড়া,
সাড়া কে দেবে অসীম অচেনা আকাশে,
ওখানে তো শুধু জ্বলে মরে যত তারা।।









বৃষ্টি




পলাশ মিতা

আমি যাকে চাই
প্রার্থনা করি কায়মনোবাক্যে;
যাকে আমি ভালবাসি,
নিগাবানি করি হামেশাই,
সে আজ আসবে।
তাই…
দুপুরের দাবদাহ ক্রমশই লীন হচ্ছে।
নিয়ে আসক্তি পুনর্জন্মের
সারিসারি যুবতী মেঘেরা মুখ করেছে আদিভূমে,
ঘন গাম্ভীর্যে ডুম্রু হানে জলপতি আকাশ;
বনের ধারে বাতাস বরকন্দাজ।
উচ্ছল এলোচুলো রাজকন্যা- পরিপাটি সাজে
পায়ে পড়ে নেয় ঘুঙরু; হাতে চুড়ি
কপালে দ্রোহের কাজল,খোঁপায় চামেলি
যেন একটু পড়েই নাচতে যাবে জলসাঘরে।
চম্‌কিত হাসিতে বিজলি হেসে গেলে
খুলে যায় রুদ্ধদ্বার,
জলসিঁড়ি,
অবারিত...
অতঃপর আমার বৃক্ষজ শরীর করে স্নাত
কন্ঠমনি থেকে খুলে খুলে পরে আশির্বাদ শিলা;
ভেঁজা আঁচলের ভাঁজ খুলে মুক্তো মেলে ধরে,
আলতামাখা পায়ের ঢেউয়ে নিটোল বশ করে
অপ্রকৃতিস্থ মাতাল সময়; আর
পোড়া প্রেমিকের মদিরায় ঢালে
অজস্র চুম্বনধারা -দর্পণ।













সোঁদাগন্ধি আশ্লেষে বুক ভরে যায়,

থরথর কাঁপতে থাকে জলজ বৃক্ষের
পাতায় পাতায় যৌবন জ্বর;
চূড়ায় চূড়ায় হিম পরশ-
বুলায়
ঝুলবারান্দা-চালঘর সবকিছুতে আজ
কোরাসে অনুপ্রাস অনাবিল।
আর্দ্রকন্ঠে ক্রমাগত অভিশাপ মাখে এক বিপন্ন কোকিল।


ঘাসপাতায় লেগে থাকে অসংখ্য বিভ্রম,পারাবার স্বপ্নিল।।
তবুও…..আমি নাগরিক
পরিযায়ী মেঘের অন্যকিছু নই;শুধু এক বিধৌত প্রেমিক।









ছোঁয়া
শিবলী শাহেদ

বর্ষা আমার জানালায়
আওয়াজ তোলে অকৃপণ ।
বৃষ্টির ফোঁটায় নির্লিপ্ত প্রেমের তরজমা
শুনে আমি যেন প্রসারিত হই
আটপৌরে সলিউশনে ইতস্তত ভ্রমণ ।

"এসো এবার একটি কবিতা পড়া যাক "
লোরকা অথবা নেরুদা
রবীন্দ্র কিংবা রুদ্র
থেকে থেকে সব পড়ে নেব আজ
এই বর্ষায় আমি প্রসারিত হতে হতে
একসময় ছুঁয়ে ফেলবো
আনন্দ আর অচ্ছুতের মাঝে
যা আছে সব ।







সহ্যাসহ্য


মানস বিশ্বাস


কাল অসহ্য গরমে ঘেমেছিলাম অনেক,


আজ গরমে আকাশও কাবু,


আজ আকাশ তৃষায় কাঁপে,


মেদিনী কাঁদে তৃষ্ণায়,


শান্তির বারি ধারাপ্লাবনে বিধ্বস্ত,


বৃষ্টি তুমি আর কেঁদো না।।















































মোজেজার দিন সরদার ফারুক
      
বৃন্দগান শুনি 
বিনাশের প্রান্তে ফোটা আখেরী মোজেজা

আতশে ধোঁয়ায়
আসমানে মিলিত বিলাপ
দিন আর থাকবেনা দিন?
তরল সীসায় ঢাকা পথ
কান্তিমান দেবদূত নেমে আসে জলে
পোড়া ডানা
সারাদেহে ক্ষত
         
 
মুদ্দাফরাসের চোখে ভয়
কারা গোর ফুঁড়ে উঠে আসে
আজাবের কথা ভুলে ?
কবেকার সেনাদল 
খসে খসে পড়েছে কাফন
গলায় ঝোলানো তারা , ধাতুর মেডেল
হাতে বিউগল
             

দরিয়ার এতো ক্রোধ দেখিনি কখনো
ঘোলা জলে তীব্র ঘুর্ণি
বাতাসে শিঙ্গার শব্দ , ছেঁড়া শাখা
সাঁই সাঁই ওড়ে
অভাবিত কারামত , ধ্বংসের বিস্ময়
কালো বোরকার তাঁবু
জুড়ে আছে সকল আকাশ 

              
তসবীর দানা হাতে কারা হাঁটে
সফেদ পোশাকে ?
সহসা খুরের শব্দ , মৃত অশ্বারোহী
চোখ মুখ কুয়াশায় লীন
মোঙ্গল সেনারা ফের অভিযানে যাবে ?
বালু থেকে উঠে আসে
সরাইখানার ছায়া, পিপাসার মদ


অস্পষ্ট পদচারণা / অমিতাভ দাশ

আমি আজ দিশেহারা....তোমার নেশায় মাতাল...আমি আজ এলোমেলো

ধূসর পথিক -- প্রেমে টলমল টলমল পায়ে আমি হেঁটে যাই আসিরিয়া

ব্যাবিলন রোম দিল্লী গৌড় বাংলার পথে পথে !! তুমি কেন নাওনা ডেকে...

থামিয়ে আমায়..এই অস্পষ্ট পদচারণায়ক্লান্ত করা ক্লান্ত করা একটানা

অশ্রু ছিটকানো করুণ শঙ্খর মতো ডোবা ভাসা ঝুরঝুর স্মৃতির বালুতে....

তুমি কেন নীরবে নিভৃতে বিছালে না বিছালে না মমতা কুয়াশা ভরা সুফলা আঁচল !!

গাঢ় নীল অমাবস্যা আঁধারের মতো ইচ্ছে ছিল ঘুমাবার!! তাহলে তাহলে, চাঁদ গেলে.....

কালো চাদরে ঢাকা উদাসীন প্রান্তরের মতনই নির্বাক....একাকী একাকী

শিশির সম্পৃক্ত অভিমানে....যদি নাই ডাকো আর...আমি চলে যাব দীর্ঘশ্বাস

অস্ফুট নীরবেই ঢেকে....খড়ের চালের ওপর হিম পড়ে যেমনি নীরবে তেমনি মিলিয়ে

যাব! আলোতে মিলিয়ে যাব শান্তিময় ভোরে...আবছা আবছা হওয়া অন্ধকারের মতন

হৃদয়ে জলের গন্ধ নিয়ে ভাল না-হওয়া অসুখেরই মতোচলে যাবফিরব না আর!!


আমি বাঁচতে চাই / সুমিত রঞ্জন দাশ

আমার জানালার কাছ ঘেঁষে অপেক্ষমান
পরিযায়ি সময় আর আমার মরণ
তারা উঁকি মারে, দেখে আমার অস্থির দহন
সময়ে অসময়ে তারা উত্তেজিত হয়
রোগ-ভোগ-দুঃখ-শোকে
বিরহ তাদের স্পর্শ করে না
বিরহ তো শুধু মনে
তুমি ছাড়া সেই জ্বলন্ত আগুনে ...

আমার চার দেওয়ালের দু'কামরা ঘরে
আমার ভালোলাগারা বাস করে
স্বপ্ন-স্মৃতি-আশা-ভালোবাসা সবাই
শুধু মাঝে মাঝে আলগা হয়ে যায়
তলাকার মাটি
কষ্টেরা কখন যে ঘুনপোকার মত
কুরে কুরে খেয়ে যায় ভেতরটা
টের পাই যখন সময় ঘনায় অন্তরালে ...

মুখোশধারি নাটুকে মানুষগুলো
হাত-পা ছোঁড়ে চেঁচিয়ে ওঠে
মাপমতো মুখভঙ্গীতে সঙ সেজে বসে থাকে
তাদের আতিশয্য মানেই পালিশ করা ফাঁদ
এক পা বাড়ালেই ওই
জানালা থেকে ছুটে আসবে
সময়ের কন্ঠে শেষ রাগিনী
দারিদ্র, দারিদ্র তোমার আড়ালে আবডালে ...

তোমাদের অভিনয় মনে ভোরের নেশা জাগায়
নতুন করে গড়তে চায় ভেঙেচুরে
আমিও তখন ভুলে যাই পেন্ডুলামের দোলন
কালের চক্রে আবার মেতে উঠি নতুন করে
সুখের স্বপ্ন দেখি
মরণকে অবহেলা করি
অবশেষে কেঁপে উঠি
জীবন সায়েরে শেষ শ্বাসের আর্তনাদে ...

আমি মুখোশধারী হতে চাই না এ পৃথিবীতে
মনমাতানো অভিনয়ও প্রয়োজন নেই
হে পরমপিতা, আমার সমস্ত পরিচয় ভুলে
আমি নবজাত শিশুর মত বাঁচতে চাই
চিরস্বপ্নের দেশে
তোমার সাথে
তোমার ভালোবাসায়
চির আনন্দে।


 বট বৃক্ষ /শ্যামল দাষ

অহেতুক ভাবনায় ডুবে আছে মন
তবু এই মন জানে স্বর্ণ শিহরণ !

পাশের যে বট বৃক্ষ এতো কাল
ছড়িয়ে ছিলো তার ডালা পালা

আনন্দ গৌরবে । তাকে আজ
ঘিরে ধরেছে সহস্র পরজীবি

স্বর্ণ লতিকার দল ।
প্রতিদিন পাতা ঝরার শব্দে

পাখিরাও উড়ে আসতো যে -
পাড়ি দিয়ে বিস্তর আকাশের পথ

বটের ফলেরে ভালোবেসে
সে আর আসে না কতো দিন !

ফুল নেই ফল নেই । পরিযায়ি
পাখিরাও আসে না তো আর ।

অন্ধকার ঘনিয়ে আসা নিচে
অলস সময় ঘুমিয়ে কাটায়

যতো সব চোরের চামার -
অকাজের দল । কেউ আর

ভুলেও আসে না এই পথে বহুদিন
পথে পথে আলো নেই ঘন অন্ধকার

এই সব বিবিধ জঞ্জাল দূর করে দিয়ে শেষে
এইখানে বুনে দেবো আমি অসংখ্য বৃক্ষ আবার ।

রক্তরাগ  / নির্মাল্য চ্যাটার্জী

প্রতিটি হাওয়ার কণায় ভাসে সুগন্ধ,
বিনিদ্র থাকি হয়তো দূরে কোথাও ফুল ফুটবে বলে।
একটু হেঁটে, ঐ দুরে মহুয়ার গন্ধে মাতাল হতে
যাবে তুমি আমার সাথে গোধূলি মাখা অজবীথিতে।
তুমি ভয় পেলে আমি, 
জ্বেলে দেবো অরণি ঝরা পাতার বুকে, 
অপার ভালোবাসায় তোমাকে আমার অধরোষ্ঠে লুকিয়ে রাখব
মিশে যাবো নিঃশ্বাস ছুঁয়ে, শরীরে লেগে থাকবে রক্তরাগ। 

পোড়ালে দুঃসাহস /সৌমিত্র চক্রবর্ত্তী
কেউ কেউ শুধু পুড়তেও নয়,পোড়াতেও জানে
ভালবাসে দীঘি হয়ে ডোবাতে সবুজ সাহস
মাতৃগর্ভের মতো ভরাট বনানী-তাও তো সবুজ!
চষা ক্ষেতে ফোটে তার রঙের বাহার
বুঝি বা পাথরে খোদাই মন অজন্তা ইলোরার
আজো কি তারারা কাঁদে,মহাগর্ভে লীন?
অথবা আকাশে মন্দিরা,তম্বুরা সঘন ঝঙ্কারে?
কাঁদে তবু হেসে ওঠে বন্ধ ঘরর হাওয়া
হাট করে খুলে দিলে বেদনা ক্ষীন,নচিকেতা প্রানের প্রতিমা
ঘন হয় শব্দবোধ,তীক্ষ্ণ আরক দহনে,
জেগে ওঠে বেবোধ পাথরে স্থিতিঅন্ধ সময়
জাগে,জেগে ওঠে সময়,দেবদত্ত প্রত্যয়ে নীলিম
নিশিত বিদ্যুৎচমকে আগুন-আগুন,পাথর-পাথর হলে;শব্দ মাত্রা পায়
জন্ম নেয় ভালবাসায়পোড়া দুঃসাহস!

দোটানা / শেখর কর

সুখদুঃখের মাঝখানে থাকে
এক নিভৃত ছায়াতল ।
ডিঙিয়ে যায় অনেকেই
না দেখেই না জেনেই ।
কেউ কেউ ৺খুজে ফেরে
এই পরম আশ্রয় 
পিছুটান ভুলে -

একথা বলেই ক্ষ্যাপা
উধাও তেপান্তরে-
তখনও তার একতারা শুনি
ষড়জের মূর্ছনায়
ভর সন্ধ্যায় আমি থাকি
অপার দোটানায় ।

মুকুট / সুজন ভট্টাচার্য ·
আমার মুকুটে নেই কোন পারিজাত শাখা,
আশ্চর্য পালক-কোন এক নীলকন্ঠ পাখির:
অথবা অনাহারি সুগন্ধ কোন পশ্চিমা মেঘের।
দৈবাৎ কোনদিন
 
কোন ঘরছাড়া রাখাল দিয়েছিল ডাক
নৈঋত বনান্তের আবছায়া থেকে,
কোন এক শ্রান্ত হিজল চুপিসারে দিয়েছিল বাসা।
মুকুট আরক্ত মিশে থাকে যাবতীয় সুস্পন্দ নিঃশ্বাসে।
জানু পেতে দিই আমি
প্রগলভ শিখর-মায়ার কাছে।

অঞ্চলগাথা /সুবীর সরকার

রক্ত বন্ধ করার সেরা ওষুধ পেঁয়াজের রস
সখ্যতা ভুলেছে জলাশয়
আমাকে ভাষিয়ে দেউ এমনিতর শ্রাবণ
নামতা কেটে লিখেছি গ্রামনাম
ইতিহাস শূণ্যতা পছন্দ করে না
তাই পবিত্র জলে নামি
নির্বাসন নিয়ে হেঁটে যাওয়া মানুষ
অঞ্চলগাথা ফিরিয়ে আনতে থাকে ...

মুক্তি / অরূপ রায় 

ভেবে ভেবে মন হোল ভার 
দূর দেশে তে মৃত্যু যে কার 
হাতছানি দেয় বারে বার ।
আপন বৃত্তে ঘূর্ণিপাকে
চরকি বাতাস অশান্ত ডাক ।

সত্যি যেদিন পারব আমার
গণ্ডি থেকে বেরিয়ে যেতে
নীল আকাশে ।
ওদের কথা ভাববো সেদিন 
আপন মনে , 
তোকেও নেবো সঙ্গী ক’রে 

মনের মানুষ জানবে সেদিন
শেকল ছেঁড়া রক্ত মাখা
আমাদের ঐ স্বাধীনতা ।।

রুদ্ধ দ্বার /পলাশ দে
মনু সংহিতার যে সব বিধি আছে পরিত্যাজ্য ব্যতিক্রম
এখন ধর্মে বাণী স্বর্গের দরজা বন্ধ করে দেয়
ডিভাইন কমেডি নিয়ে দান্তে দাঁড়িয়ে আছেন,
আমাদের বিশ্বাস রবীন্দ্রনাথও

এমনি করে কোটি-কোটি মানুষের স্বর্গ গমণ অসম্ভব,
আমাদের সহস্র মত এবং সহস্র পথ এভাবেই অবান্তর হয়ে পড়ে
বহুদিন স্মরণে-মননে থাকা মানুষের অন্তরের বেদান্ত
আজ ইণ্টারনেটে প্রচারিত হয়,
কটি সুন্দর পরিভাষা দিয়ে আমি বলি
ওদের ভালো রেখো ঈশ্বর
বৃষ্টি / অপর্ণা গাঙ্গুলী

           (১)
ও মেয়ে তুই আসবি কবে আমার বাড়ি?
কবে থেকেই ডেকে ডেকে হচ্ছি সারা l
নীলাঞ্জনা তন্বী শ্যামা নীলাম্বরী
ও মেয়ে তুই আসবি কবে আমার বাড়ি?
             (২)
ও মেয়ে তোর ডাগর চোখে শের শায়েরী
তোর আশাতে চাতক এ মন দিশাহারা 
ও মেয়ে তুই আসবি কবে আমার বাড়ি?
কবে থেকেই ডেকে ডেকে হচ্ছি সারা l ( দুই)
ও মেয়ে তুই ঝরিস না হয় এক সমুদ্দুর l
ভিজব অঝর তোর সাথেতে সহবাসে 
তোর চোখেতে থির বিজুরী যাক রোদ্দুর...
ও মেয়ে তুই ঝরিস না হয় এক সমুদ্দুর l

একটা দুটো আলতো চুমো? দূর দূর দূর!
চুপ্পুস ভিজে মরতে যে চাই তোর পরশে
ও মেয়ে তুই ঝরিস না হয় এক সমুদ্দুর l
ভিজব অঝর তোর সাথেতে সহবাসে ...

                (৩)

শেষ বিকেলে হঠাত করে এলে তুমি 
বাঁধন হারা সাধন সাথী রুদ্রবেশী1
ভরলে আমার রুখু সুখু মনের জমি...
শেষ বিকেলে হঠাত করে এলে তুমি l

রক্তধারায় মত্ত মাদল, এ পাগলামি 
এ সহবাস সহজিয়া সর্ববনাশী!
শেষ বিকেলে হঠাত করে এলে তুমি 
বাঁধন হারা সাধন সাথী রুদ্রবেশী l

আয়না তালি / মিলন চ্যাটার্জী

উদাসী হাওয়া মেখে

মেঘ সাঁতারে চাঁদ

পাড়ি দেয় মন কুহকের দেশ ।

থাকার মেয়াদ কম বলে

ফিরে আসে ফের

আবর্জনার রাজ্যে ।

ষড়রিপু ক্রমাগত

খেয়ে নেয় জীবন।

হাজার ছিদ্রপথে ঢুকে পড়ে

অশান্ত সময় ।

হে মহাজীবন...


জীবনের সব ফুটো ফাটা


ঢেকে দাও আয়নাতালিতে ।।























About