বিষ গাছ
গৌতম চৌধুরী


[অসমে ১৯৯৮৩র , ১৮ ফেব্রুয়ারী সংঘটিত হয়েছিল স্বাধীনতা উত্তর কালের সবচেয়ে ভয়াবহ অথচ অধুনা বিস্মৃত 'নেলি' হত্যাকাণ্ড। প্রায় তিনহাজারের বেশি লোক নিহত হয়েছিলেন। লাখো লোক হয়েছিলেন গৃহহারা    গোটা দেশের বিবেক তখন কেঁপে উঠেছিল বাংলা-অসমীয়া সহ ভারতের বিভিন্ন ভাষাতে কবিরা ব্যক্ত করেছিলেন তাঁদের ব্যথা তেমনি এই কবিতা লিখেছিলেন আজকের বাংলা সাহিত্যের এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কবি গৌতম চৌধুরী। পরে সেটি তাঁর কবিতার বই, 'অমর সার্কাসেসংকলিত হয় । সৌজন্য - ঈশাণের পুঞ্জমেঘ’]
                                                                                  
কোথায় বুনেছ বীজ, এতদূরে জেগে ওঠে চারা-ঘন নীল মুখর উদ্দাম
কোথায় বুনেছ বীজ,এতোদূরে বেড়ে উঠে পাতা
আঠালো জিভের মতো বেগুনি জিভের মতো রাশি রাশি লক্ষ লক্ষ পাতা
ইঁদুরের চেয়ে আরও দ্রুত ছোটে শেকড়ের দাঁর , বোনে জল শুষে নেয় রস
ফুটে ওঠে ফুলআদিম জন্মান্ধ রঙ ছোঁড়ে হল্কা
ফেটে পড়ে ফলমাদক নিষ্ঠুর তীব্র অখণ্ডমণ্ডল
বিষগাছ

পালাও আগুন লাগল, ঘিরে ফেলল টাঙি ও বল্লম
ওগো মধ্যরাত তুমি কতদূরে বিছিয়েছ ঘুম
সেতু ভাঙা, কিলবিলিয়ে বয়ে যাচ্ছে নদী
শুনতে পাচ্ছ চিৎকার, শুনতে পাচ্ছ?সেতু ভাঙা
কে ভেঙেছে সেতু? তুমি তুমি তুমি তুমি তুমি তুমি তুমি
নদীর দুর্বোধ্য জলে ফণা তোলে হাওয়ার বিদ্রূপ
আর শিশু ভেসে যায় ভাষাহীণতার রাত্রি জুড়ে
সুতোর মসৃণ টান বাঁধা আছে দূরে, হিমঘরে
প্রতি টানে গড়ে ওঠে ছন্দোহীন নাচের কঙ্কাল
হাড়ের সোপান বড় পিচ্ছিল হয়ে আছে রক্তিম শ্যাওলা 
তবু শীর্ষে ওঠা চাই
আশি কোটি সুড়ঙ্গের গর্ভ থেকে টেনে আন তেল
টেনে আন শঙ্খ চক্র গদা পদ্ম বোধি সংবহ্ন
আশি কোটি সুড়ঙ্গের বুকের নিঃশ্বাসে দাও নিশাদল-ধোঁয়া
তারা ভেঙে টুকরো হোক, তারা ভুলে যাক পরিচয়
জাগো বিষগাছ জাগো

ষোড়শ শতক থেকে বিভক্তি স্বতন্ত্র হয়ে গেছে
আজ বোন, তোকে আর চিনতেই পারি না
আজ বোন, তুই এসে গিলে নিতে চাস
আমার পাহাড় নদি চর ডাঙা বন বনান্তর
তুই আর বোন নস, তুই ডাইনিমর তুই মর
জাগো জাগো বিষগাছ জাগো

কোথায় বুনেছ বীজ, এতদূর বেজে ওঠে চারা
হাওয়ার সর্বাঙ্গ উঠল নীল হয়ে ফুসফুসে ঢুকেছে হলাহল
বনশুয়োরের দাঁত ছুটে আসছে কলিজা মাড়িয়ে
ভুট্টার ক্ষেতের ঘাড়ে উঠে এল রক্তমাখা চাঁদ
হেই বিষ আরও আয় ঢেকে ফেল মুখ চোখ গভীর জড়ুল
যেন ওরা কেউ কাউকে চিনতে না পারে কোনোদিন
যেন ওরা ছিঁড়ে ফ্যালে মুখশ্রীর অফুরন্ত ডানা
যেন ওরা নিজেদের অভিশাপে প্রতি-অভিশাপে ঝলসে মরে নিজেরাই
হেই বিষ আরও দ্রুত ছড়িয়ে যা ধর্মাধর্মে ভাষা-বিভাষায়

ছিল দেশ
তাকে তুমি দেশান্তর বানিয়েছ প্রগাঢ় খেয়ালে
আজ প্রতি টুকরো থেকে শরীরের ছিন্ন রেখা উঠে আসে
যেন প্রেতযোনি
মাথার ওপরে ঘোরে গোল হয়ে প্রশান্ত শকুন নশ্বর নখের ধৈর্য দিগন্ত ছাড়িয়ে চলে গেছে
চড়ুই ভাতির চিতা জ্বলে ওঠে সারি সারি
সারি সারি কালো গর্ত মেলে ধরে বিপুল হামুখ
কত মাটি চাপা দেবে, কত ছাই করবে পুড়িয়ে
কাদামাখা ধানক্ষেতে হুমড়ি খেয়ে পড়ে আছে আরও
 ঝোপের ছায়ায় আছে, আছে মুগ্ধ নদীর খাড়িতে
সংখ্যা নেই, সেই ভালো
প্রখর শান্তির নখ বুঝে নেবে স্বাদের সমাস
কী ছিল মাংসের নিচেসাদা হাড়?
তাতে কি প্রমাণ হয় দেশ?
তাতে কি গজায় আজও ক্লান্তিহীন স্বপ্নদূর্বাদাম?

জাগো জাগো জাগো বিষগাছ।
স্বাধীনতা 
শ র্মি লা রা য়

কে বলে হে স্বাধীনতা সোনার পাথর বাটি ?
হে হে বাবা , এসব বুঝতে একটুখানি মগজ লাগে !
বেলপাহাড়ির কন্দরের ফুটন্ত প্রশ্নগুলো কিংবা ধর
কোলে মার্কেটের ফড়েবাজারের ঘুঘুর বাসা
কিম্বা কার্জন ওয়ার্ডের চন্দ্রবোড়া গর্ত থেকে মুখ তুললে
বলতেই তো হয় বেশি বাড় বেড় নাহে , ঝড়ে উড়ে যাবে...
সুতরাং মান্যতা পাওয়া বৈধ অবৈধ প্রশ্নগুলো কিংবা
সুঁচ হয়ে ঢুকে ফাল হয়ে বেরনোর চেষ্টা করা ম্যাঁও
একদা বন্ধু স্বজন ভুয়ো সংঘর্ষে মরে পড়ে থাকলে কিংবা
এয়ারহস্টেস গলার ব্লাউসে নতুন রুমাল হাতে একদা আগুনে বনবালার
পয়মন্ত বাড়বাড়ন্ত প্রেমিক কাম স্বামী নিয়ে প্রশ্নগুলো
আস্তিনে গুটিয়ে বলি , ফচকেমি ছাড়ুন প্রফেসর ,
দস্যুদলের তুতভাইয়ের তিলক কেটে দেব ... 
এদিকে ফ্ল্যাশবাল্বের আলো নিভে গেলে কোন এক অতিকায় সিদ্দিকা পারভিন
চুপচাপ ফিরে যায় নিজভূমে ...
ছিদ্রসন্ধানিরা হঠাৎ নারকীয় উল্লাসে মেতে ওঠে নারী আর শিশু নির্যাতনে
যেন মোড়ে মোড়ে রবীন্দ্রসঙ্গীত শ্রবণের সঙ্গে ওটা জমে ভালো !

এসো সুধিজন, তোমরা আমাকে করতালি দাও
আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব প্রশ্ন না তোলবার,
হ্যাঁ হ্যাঁ বলা সং সেজে থাকবার , পদলেহন করবার ,
তেলা মাথায় তেল দেবার , চাইলে সত্তর হাজারি , এক লাখি মনসবদারি দেব ;
হুমহুনা , ব্যান্ড বাজা , রাজা যায় , রণ পায় ,
ম্যায় হু না !
বোবা কালা অন্ধ বাঁদর সকল অনুগমন কর ।
স্বাধীনতার শহীদ বেদীতে মাল্যদান করি
চিয়ার্স !
রবীন্দর সঙ্গীত হোক , নজরুল হোক , দ্বিজেন্দ্রগীতি হোক ...
বাজা তোরা , রাজা যায় , রনপায়...

বিষন্নতা শেষ হলে...
ক চি রে জা

বিষন্নতা শেষ হলে ফিরে আসি ইতিহাসের ধারায়
দুহাত রগড়ে স্বপ্ন মুছে সরে যাই কলতান থেকে
গোপন চৈতন্য জুড়ে দাহ

যেসব পাখিরা চলে গিয়েছিল বিষন্ন বিকেলে,তারা ফিরবে তো?
মৌনরাত ভেঙে বয়ে যায় নদী তোমাকে অথবা আমাকে যেখানে
প্রশ্নবিদ্ধ করে আমাদের
এই জন্ম কার অবিশ্বাসী কৃপার কুহক
আমি তুমি কোন জীবনের খন্ডাংশ
ক্ষমা চাই তোমার গর্ভের কাছে, তোর আঁচলের কাছে ক্ষমা চাই,মা
বক্ষের নিভৃতে শুভ্র দুগ্ধের ধারায় যে জীবন সেই চিরগন্ধের শপথ
কোনো দুর্বৃত্তকে আমি দেইনি স্বপ্নের দখল,
পাখির পালক,খোড়ো ঘর,ছোটো নদী তোমাদের বলছি আমার
সত্তাময় বাউল-কীর্তন-ভাটিয়ালি আর ঘুম-পাড়ানিয়া প্রার্থনা সংগীত
কোটি কোটি বহমান বোধ আমার শব্দের পেছনে
নবজাতকের চুমু ফেরি করে আমার কবিতা
তবু কেঁপে উঠি অরাজক মাটিতে দাঁড়িয়ে
আজো বর্গীর তর্জন,বর্ণমালা মুছে যায় বিজাতীয় থাবায়
চড়ুইয়ের বাসার লাবন্য ধুয়ে যায় বন্যায়,ঝড়ে
পুঁজিবাদ দেখছে তাকিয়ে
আমার থালার শুভ্র ভাত
আমাকে আহুতি চেয়ে কান্নার আড়ালে তাই জ্বলে যায়
এক অন্ধ যজ্ঞ


মহাকালের উঠোনে আঁচলে তাবিজ বেঁধে বসে থাকে

প্রলম্বিত দুঃসময়

মে ঘ অ দি তি

যতটা পথ পেরিয়ে গেলে ক্লান্তি নামে জীবন বোধে
সেটুকু আজ পার হয়েছি ঝড়বৃষ্টি প্রবল রোদে।

চোখের পাতা কপালভাঁজে এখন বড় কষ্ট জমে
নীল বিষাদে বৃষ্টি নামে উঠোন জুড়ে হতোদ্যমে।

অধর ছুঁয়ে সময়গুলো পালিয়ে গেছে কখন কবে
অন্তরালে হাসছে বসে কে যেন তাই খুব নীরবে।

উপচে পড়া হৃদয় ছুঁয়ে দুঃখ যেন নীলচে বিষ
 
বুকের মাঝে বুনোহাওয়া দুলছে না তো তুলছে শিস!

অতটা নয় অতটা নয় অতটা পেলে কষ্ট হয়
ভেতরবাটি নষ্ট হয় পালক ওড়ে আকাশময়।

কষ্ট হয় ভীষণ জানি অন্যরকম কষ্ট হয়
চাইছি না তো অতটা তাই প্রলম্বিত দুঃসময়।


ইচ্ছেকথা
ক বি শ্বা

মিতার সাথে বলা একান্তে কথাগুলি নদী হয়ে গেছে
বর্ষা নেমে এলে সেই আম গাছটার নিচে ভিজে যায় ঘাস, ধুলো-মাটি 
সেলফোনটাও বেজে চলে কণ্ঠস্বরে 
শুনশান গলিরাস্তা, চারপাশে কেউ নেই কেউ নেই...

এই বর্ষায় ভিজবে বলে কতবার ফোনে ফোনে বলেছিলো ইচ্ছেকথা
আলমারিতে তুলে রাখা কালো রঙের চুড়িদার, প্রিয় ওড়নার নিচে
ভিজে যাবে ঘুমহীন রাত আর আহ্লাদে আমি
বাক্সবন্দী হয়ে কথারাও নদীতে...

কিছু কিছু দিনে মিতাকে মনে পড়ে
প্রায় ভুলে যাওয়া নম্বরে কল করি, কত কণ্ঠস্বরে উঠি বেজে
প্রতিদিন মেঘ সরে যায়, প্রতিদিন বাতাসেরা সুগন্ধ নিয়ে আসে
নদী হয়ে গেলো শুধুই মিতা !.।

এমনটি হোক.........
অ নু প ম দা শ শ র্মা

মনের গোড়ায় গিঁট পড়েছে
হালকা টানে খুলছে কই
পলকা ঘ্রানে ভাবনা নিয়ে

জীবন ঝুঁকে রাখছো সই?
মানুষ সোজাসুজি থাকে
আকার নেহাত মরীচিকা
মনের উঠান সাফ করলেই

লিঙ্গভেদে সবই ফাঁকা
সোনার সে দিন সুদিন ছিলো
ভক্তি ভাবেই ফেরাও তা
সৃষ্টিমূলক কাজ না পারো
দূর করো বিষন্নতা..!!



 পাশাপাশি 

বি প্ল ব গ ঙ্গো  পা ধ্যা য়

ঐ ঘরে আমি থাকি
এখানে তাহলে কে?
একই চোখ মুখের ভূগোল....
কোলাহল,কন্ঠস্বর,ছায়ামাখা লাজুক ভঙ্গিমা। 

মাঝের বিভ্রমটুকু সময়সরণী

নিজেই নিজের সাথে কথা বলি
অপরিচয়ের চিহ্ন জেগে থাকে সঙ্কোচবশত
ছুঁয়ে বলি- কীভীষণ স্মার্ট লাগছে,আগে তো লাজুক ছিলে।

পাশাপাশি দুটি ঘর
মাঝখানে উঠে গেছে সিড়ি ।

বিজয় !

লা ব ণ্য কা ন্তা
  

বিজয় তুমি কার ? এ বলে বিজয়, সে বলে বিজয়,

ওরা বলে বিজয় ...

আমি বলি আশ্রয়; তুমি আমার আশ্রয়।

বিজয় তুমি কোথায় !

তোমাকে পাবো বলে স্বামী দিলাম বলিদান,

পুত্র দিলাম নৌজোয়ান ; আমারও মান নিয়েছে

ওরা লুটে ______ রেখেছে কিছু বিক্ষত স্মৃ্তি

আগুন জ্বালে দেহে ।  

না, বীরাঙ্গনা আমি নইতো  আমায় কেউ চেনেনা যে ...

আমি এখনো যুদ্ধ করি নিজের সাথেই নিজে

জীবন-যাপনের যুদ্ধ,

বেঁচে থাকার যুদ্ধ,

একমুঠো ভাতের জন্য যুদ্ধ

বিজয় তুমি কোথায় !

তুমি আমার স্বামীর প্রাণ, তোমার মাঝেই আমার সন্তান।

বয়সের ভারে নুয়েছি আজ,

চোখে আঁধারটুকুও ঝাপসা হয়ে এলো।

দশকের পর দশক পেরিয়ে এলাম,

শুধুই তোমার নাম শুনলাম... বিজয় তুমি কার?

তোমাকে ছুঁয়ে দেখিনিতো আজও, শুনেছি

তুমি হেঁটে এসেছো এই বাংলার মাটিতে।

আমি আছি পড়ে দুর-পাড়া গাঁয়ে

আলোকবিহীন শুন্য কুটীরে।

তোমার গায়ে লাল-সবুজের জামা,

আমার বৈধব্যবেশ ।

বিজয় ! তুমি কি আমার ?

আমি কার?

আমি তো আছি আমার________ তোমাকে

দিলাম সবার করে ।

জীর্ন কুটীরে ক্ষুধার জ্বালায়, রোদ-বৃষ্টি- বাদলমেঘে

ভিজি আর শুকোই; শীতের কাঁপন লাগে গায়ে

কেইবা রাখে খবর !

মেঠোপথে আজো হাঁটি, সম্বল বাঁশের লাঠি,

বিজয় ! এখনো খুঁজি তোমায়।

তুমি আমার, তুমি সবার, শ্যামলী মায়ের ছায়ায়- মায়ায় ।


অ্যাক্সিডেন্ট
সু মি ত র ঞ্জ ন দা শ

ছিঁড়ে গেল জীবনের জাল -
ফুটফুটে জোৎস্নায় বিস্ফারিত 
একা
মধ্যবয়স্কা
পিষে যাওয়া পাথুরে শরীর ...

আকাশে হিমে শিশিরের কান্না
রাস্তার ক্যানভাসে রক্তের প্রলেপ
নিস্তব্ধ নিথর চোখের ভাষায়
স্তম্ভিত স্থাপত্যের 
বৃথা অঙ্গীকার;

এ পৃথিবী সব ভুলে যাবে
ধুয়ে যাবে 
রাস্তার হাহাকার
মুছে যাবে টায়ারে লাগা আঁচড়ানো ক্ষত,

হিজল কাঠের চিতায় জ্বলবে সন্দেহ
বাঁকা চোখে লিখে যাবে কাগজের রিপোর্টার,
শুধু শিষ্টতার প্রশ্ন ঢাকতে 
সামনের চাকাদুটো 
একবার ধুয়ে নিতে হবে।


 ক্ষয়
কা ক লী মু খো পা ধ্যা য়

বিকিয়েছে সময়ের কাছে
সাধ সাধ্য সাধনার সকল লালন।
কাঁটাতারে ছুড়েফেলা ফালানির লাশ
আমার মনন।

লিকলিকে লাউডগা সবুজ অধরে
ঢেলেছে গন্ধম বিষ
লিখন কলার।
কেবলই নড়ে যায় দাঁত
শেষ রাতের খোয়াবে যেন---------
ঘুম ভাঙে দৈনিকের ছাপার আঁচড়ে,
সাধারণ অতি সাধারণ
মৃত্যুর সংবাদে।

এ অনিচ্ছাকৃত প্রাপ্তির সুখ!


বি এম সো হে শি

এক হুঙ্কারেই কেঁপে উঠে সমস্ত শরীর 
মেঘ সিক্ত বুকের উপর ব্যাঘ্র নি:শ্বাস
অস্তিত্ব টের পাই ধ্বংস স্তূপের ভিতর
প্রশান্তির বাতাস! রাত ভর থেমে থেমে বৃষ্টি 
শরীরের সব নির্জীব স্নায়ু সতেজ হয়ে উঠে।
গোপন জানালায় শুকনো জলের ফোঁটা 
জানান দেয় উষ্ণ স্রোতের আগমনী বার্তা 
নিরুদ্দেশ বাতাসের ঘূর্ণিতে সব লণ্ডভণ্ড
বিছানায় সুখের ক্লান্তিতে বিধ্বস্ত দেহ 
মেঘবতীর অবিন্যস্ত কেশ তার নীরব সাক্ষী 
আবার বোধয় জেগেছে রিপু! শোন হুঙ্কার!
জলের কল কল শব্দ! ঝড় আসন্ন!
বুকের ভিতর সন্ত্রস্ত নৃত্যরত পাখী 
অনিদ্রার ঘুঙুরের শব্দে ভুলে যায় গোপন মুদ্রা
বৈরিতাকে ডিঙ্গাতে জ্বেলে দেয় মঙ্গল বাতি 
ছায়ার মত লেপটে থাকা অশরীরী মানুষ 
কেড়ে নেয় সর্বস্ব! এ অনিচ্ছাকৃত প্রাপ্তির সুখ! 
নিবৃত্ত হই! আগামীর আশংকায় গুটিয়ে যাই।
সুখের উজ্জ্বল মোড়কে একটি পক্ষপাতহীন দুপুর 
বদলে দয়েবে দাহের জীবন! এ অলিক ভাবনা
ভুলের খোঁজে বেতাল সব তবু হয় সন্ধ্যা উৎসব 
অনিদ্রার ঘুঙুরে ঘুম পাড়ানি শব্দে! সুখের অসুখ!
তবু জখম রাতের তৃপ্তিতে ছন্দ পতন ঘটে!
মনের ভিতরে সুখের দংশন ছড়ায় নীল বিষ ।

মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো আকাশ নেই
শু বা

মানুষের ভালোবাসার চেয়ে বড় কোনো আকাশ নেই
আমার তাপমাত্রার চেয়ে বড় কোনো সড়ক নেই
অবাধ্য মনকে বাধ্য করতেই আজ আর্দ্রতা সঞ্চয়
তোমার অদ্ভূত রকমের মুগ্ধতা আমাকে পাগল করে
পকেটে মেঘের কাগজ, আর হাতে হাওয়ার পাখা
তোমার খালি পাঁয়ের ধূলো বন্ধি পায়েল বাজে মৃদুকম্পনে
আমি পথ কুড়িয়ে নিয়েছি সুখ ,মুঠোই ভরি লুটানো সপ্ন
মনের একতারা বাজে ঘাসফুলেদের বাসর সাজাই নিশ্চিতে
কিছু শব্দ চিনে ফেলেছি কাব্যবিহীন এই জীবনের মানে হয়না
মেনে নেয়েছি শহর গদ্যময় অবহেলা মেরু রূপকথা ছোঁয়া
আমার পৃথিবী অর্ধেক তোমার কেনা আমি ছায়া সঙ্গীহীন পথ
এত জেনেও কাউকে তুমি ভালবাসা ধার দিতে চাইলে না ৷
রাগরাগিনীর প্রচলিত নিয়ম ভেঙ্গে অন্য সূক্ষ্মতা স্বভাব প্রানে
কলিকালে কৃষ্ণ অবতার ভক্তিপ্রদায়ক সদা রাস রসরঙ্গে 
বঞ্চিত হউক বাঁশের বাঁশিতে অজ্ঞাতসারে বাউল সুরের মিল ৷
আজ আর কাঁদিবনা প্রতিজ্ঞা করেছি আর ভিজবোনা নতুন গল্পে
আমার যেজন গিয়াছে একে একে একরাশ ভালবাসা ছাড়ি
তাঁরি সুর নাও তুমি ঘুম পাড়ানির গানে আজ এক ব্যাগ লাগবে
উনিশ কি বিশের রক্ত কচি আত্মার সহজ গানে আমি আর তুমি ।

অসম প্রতিযোগিতা

ব্দু ল্লা হ্ জা মি

উজ্জ্বল গৌর বর্ণ যে তার, নামও রেখেছে গৌরী।
মকর ক্রান্তির সন্নিকটে বসবাস
জ্বলজ্বলে সূর্যে চোখ ঝলসায়।

এখানে নিখাদ গাঢ় কালো অন্ধকার
কতটুকু অন্ধকার সরাবে চাঁদ পূর্ণিমা জ্বেলে?
আমি এঅসম প্রতিযোগিতার মানে বুঝি না যে।
তুমি বোঝো গৌরী?

কাল রাতে আকাশটা মেঘে ঢাকা ছিলো
ছিলো মেঘেদের গুড় গুড় শব্দ।
শরীরটা ক্ষণে ক্ষণে ঘেমে উঠছিলো
ঘুম যে হয়নি একটুও
ঋতু পরিবর্তনের কারণেই এমনটি হয়।
নাকি তাতে অন্য কোনো মানে আছে গৌরী?

এতটা বছর পার হয়ে গেছে তবু
আলো-আঁধারের অসম প্রতিযোগিতা চলে
সত্যিকারের বিজয়ী কে বলতো গৌরী?

·        বোধহয় ভালো আছি !
সা ব রি না সি রা জী তি তি র
·       
তুই অবাক হয়ে বললি , আজও তোমার মন খারাপ ?
হ্যাঁ বোধক মাথা নাড়তেই
তোর বিস্ময় আকাশ ছুঁলো ,
কালও বলেছিলে ভালো আছো ! আজ কি হলো !

শোন , আমি কখনোই ভালো থাকি না রে
ভালো থাকার অভিনয়গুলো এতো বেশি ভালো হয়ে যায়
সবার মতো আমিও প্রায় বিশ্বাস করে ফেলি
বোধহয় ভালোই আছি !

তখন খুব হেসে কথা কই ,সাদাকালো মুখে মাখি রং মুখোশ
আড্ডায় মধ্যমণি বরাবরের মতো
কফির কাপে তুমুল ঝড় !
শুধু বোকা লাউড স্পিকার ঝমঝম বেজে ওঠে
'কেউ নেই তোর ,কেউ নেই '!
একমাত্র গানেরা ঠিক পাকড়াও করে আমায়
অভিনয়ের বাকি কোর্সগুলো শেষ করতেই হবে দেখছি !

ক্রমান্বয়ে ভিড় বাড়ছে অভিনেতাদের
আজকাল অভিনয় দেখাতে হলেও লাইনে দাঁড়াতে হয়
কি আর করা ?
আমি ভালো আছি ,
এই বাক্যের যথাযথ সত্যতা প্রমাণ সহ তোদের চাই !

অগত্যা আমি লাইনে দাঁড়াই !


         শুধু ধূসরতা
হ    
      হে ন রী ই ক বা ল
ব   
      বরফঢাকা আবেগ তীব্র কঠিন
  
পথ-প্রান্তরে হিমেল বাতাসে অমলিন
      স্থির ধীর
      হিম বিকেল সন্ধ্যা রাত শেষে
  সেই উষ্ণতা পুনরায় জাগে পাশে ।

  সমস্ত আহবান আবেদন বিফল অশুভ্র ব্যর্থ
  অপরাজিতা অপরাজিত।

  আজ-
 হিমাঙ্কের নিচে আটকা পড়ে গেছে চোখের দৃষ্টি
 দেখার কেউ নেই
 দেখাবার কেউ নেই ।

 শুধু ধূসরতা নামে
 চোখের কোণে
 ক্ষণে বিহনে ।

বিমুগ্ধ পূর্ণতা ভরে সমুদ্র গেয়ে যাবে গান দিনমান
আকাশে জ্বলে রবে নক্ষত্র অসংখ্য বহুকাল
আলো জ্বেলে সূর্য ঢেকে দেবে আধাঁর
এনে দেবে স্নিগ্ধ সকাল ।

আমি চলে যাব
ধীরে
অতৃপ্ত বুকে
সবছেড়ে ।

             
          
            সিদ্ধান্ত

     
      শি লী শা হে

কার্তিক বাতাস গিয়েছে উত্তরের দিকে 
হিলহিলে সাপের মতো শরীর বাঁকিয়ে ; 
তারপর বদলেছে খোলস 
ভাঙা ভাঙা অংশ লেগে গেছে বিস্তারিত জালে ।

প্রাদেশিক মেঘ-রাজার মন খারাপ হয়েছে 
উত্তরের বতাসটাকে এবার বের করে আনতে হবে 
নইলে দিক বদলানোর অভিযোগে 
কার্তিক বাতাসের যাবজ্জীবন হয়ে যেতে পারে ... 


                                       আগের সংখ্যা (৯৪তম) দেখুন, 
                                                                    এখানে ক্লিক করুন
                                                                   http://anyanishad.blogspot.in/2012/08/blog-post.html 


                 

শু



 












·        








About