সুকুমার রায়’এর ১২৫তম জন্ম দিনে ‘অন্য নিষাদ’এর বিশেষ সংখ্যা

‘শ্রদ্ধার্ঘ্য সুকুমার’

এই সংখ্যায় লিখেছেন – সতীশ বিশ্বাস , মৌ দাসগুপ্তা, ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়, মানস বিশ্বাস, অভিলাষা দাশগুপ্তা আদক,অনুপম দাশ শর্মা, সপ্তাশ্ব ভৌমিক, জুলফিকার শাহাদাত, প্রবীর বিকাশ সরকার, মৌ মধুবন্তী,শেখর কর , সুমিত রঞ্জন দাশ ।


সুকুমার একশ’ পঁচিশ

যুগ যুগান্তের ধারাবিকতায় প্রবহমান ছড়া – গান- গল্প কে ভাষাচার্য সুকুমার সেন চিহ্নিত করেছেন ‘শিশু-বেদ’ এই চমকপ্রদ অভিধায় । মুণি ঋষিদের মুখে মুখে সৃষ্ট চার খন্ডের বেদ যেমন কোন এক মানব গোষ্ঠীকে আদি-অনন্ত কাল থেকে নিয়ন্ত্রিত করছে ,  ধ্রুব সত্য বলে মেনেছে সে, তেমনই রচয়িতার নাম না জানা অথচ সময়ের আদীমতম কালখন্ড থেকে মানুষের মুখে মুখে সৃষ্ট প্রবহমান শিশুতোষ ছড়া-গান-গল্প তো আরো এক বেদ – শিশু-বেদ । সমস্ত মানব গোষ্ঠিরই এই ‘শিশুবেদ’ আছে,এমনকি যে মানব-গোষ্ঠীর কোন স্থায়ী সাহিত্য নেই তাদেরও । সর্বদেশে সর্বকালে এই ছেলেমি ছড়া শুনে শুনেই আমরা বড় হয়েছি, জীবনকে জেনেছি,চিনেছি,আমাদের সাহিত্যেরও বীজ হয়ে গেছে এইসব অজস্র লৌকিক ছড়া ।

‘ছড়া’ কথাটির ব্যুৎপত্তি সন্ধান করতে গেলে ভাষাচার্য সুকুমার সেনের কথাই শিরোধার্য করতে হবে । বাংলা আকাদেমি প্রকাশিত ‘বাংলার ছড়া’ সঙ্কলনে ভাষাচার্য ‘শিশু-বেদ’ নিবন্ধে লিখেছেন “... সাধারণ লোকে গদ্য জানত না, ‘পদ্য’ অপরিচিত ছিলমঙ্গল গান, পাঁচালি,যাত্রা,কথকতায় গদ্য কিছু থাকলে তা শুধু গায়ন-কথকদের মন্তব্যে, সুতরাং তা সাধারণ শ্রোতার মনোযোগ টানতোনা । যা টানতো তা হল গান আর কবিতা অথবা কবিতা ছত্রের অংশ আবৃত্তি । এই শেষোক্তই ছড়া – শব্দটির দুই প্রতিষ্ঠিত অর্থে । (১) প্রকীর্ণ বা বিক্ষিপ্ত, ছড়ানো (২) গ্রথিত, গাঁথা – মালা ছড়া । গানের মধ্যে ছড়ানো আর পরপর গ্রথিত – এই ছিল তখন ছড়ার বিশেষত্ব” ।

ভাষাচার্য, রবীন্দ্রনাথকে ‘শিশু-বেদ’এর মন্ত্রদ্রষ্টা বলে অবিহিত করেছেন । রবীন্দ্রনাথ লোক পরম্পরায় প্রচলিত ‘ছেলে ভুলানো ছড়া’র আলোচনায় লিখেছেন “ভালো করিয়া দেখিতে গেলে শিশুর মত পুরাতন আর কিছুই নাই । দেশ কাল শিক্ষা প্রথা অনুসারে বয়স্ক মানবের কত নতুন পরিবর্তন হইয়াছে, কিন্তু শিশু শত সহস্র বৎসর পূর্বে যেমন ছিল আজও তেমনি আছে; সেই অপরবর্তনীয় পুরাতন বারম্বার মানবের ঘরে শিশুমূর্তি ধরিয়া জন্মগ্রহণ করিতেছে – অথচ সর্বপ্রথম দিন সে যেমন নবীন, যেমন সুকুমার, যেমন মূঢ়, যেমন মধুর ছিল আজও ঠিক তেমনই আছে । এই নবীন চিরত্বের কারণ এই যে শিশু প্রকৃতির সৃজন” ।

অথচ ‘ছড়া’কে সাহিত্যের মর্যাদা দিতে আমাদের অনেকেরই প্রবল অনীহা, এমন কি আধুনিক কবিকুল একালের ছড়া এমনকি অন্ত্যমিল কবিতাকেও কবিতার স্বীকৃতি দিতে কুন্ঠা বোধ করেন – বড়জোর বলেন পদ্য । অথচ কে না জানে – আধুনিক কবিকুলের সকলেরই কবিত্বের বীজ উদ্গত হয়েছে ‘ছড়া’ থেকেই ।

‘অন্য নিষাদ’এর এই সংখ্যাটি আমরা ছড়া (বা ছন্দ-বদ্ধ পদ্যাংশ যাই বলি) সংখ্যা রূপে প্রকাশ করলাম । আর এই প্রয়াসের উপলক্ষ্য সুকুমার রায় ছাড়া আর কেই বা হতে পারেন । বিগত একশ’ বছর ধরে শিশু মনের একান্ত আপন জন সুকুমার রায় ১২৫ বছরে পা দিলেন আজকের ৩১শে অক্টোবর দিনটিতে ।

মাত্র ৩৫ বছর আয়ু ছিল তাঁর , তাও শেষ আড়াই বছর কেটেছে কালাজ্বরে আক্রান্ত হয়ে রোগ শয্যায় । এই স্বল্পায়ু জীবনে তাঁর সৃষ্টি প্রাচুর্য ছিল বিস্ময়কর । গল্পে কবিতায় নাটকে শিশুমনে যে উদ্ভট জগতের সৃষ্টি করেছিলেন তেমন আর কেউ কল্পনাও করেননি তাঁর আগে । পিতা উপেন্দ্র কিশোর ১০/১২ বছরের বালকদের কথা মনে রেখে ‘সন্দেশ’ পত্রিকার আদর্শ স্থির করেছিলেন । মাত্র ৫২ বছর বয়সে পিতার মৃত্যুর পর ‘সন্দেশ’ সম্পাদনার দায় বর্তায় সুকুমারের ওপরসন্দেশ’পত্রিকার প্রকাশনা শুরু হয় ১৯১৩ তে , অর্থাৎ এবছর ছোটদের প্রাচীনতম পত্রিকা ‘সন্দেশ’এর একশ’ বছর পূর্তির বছরও । ঐ বছরই সুকুমার লন্ডন থেকে মুদ্রন প্রযুক্তিতে উচ্চতর শিক্ষা ও দক্ষতা অর্জন করে দেশে ফেরেন ও ‘সন্দেশ’এ লেখা, ছবি আঁকা ও অন্যান্য কাজে নিবিড় ভাবে জড়িত হয়ে পড়েন জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত । এই নয় বছরে (শেষ আড়াই বছরের শয্যাশায়ী অবস্থা সহ), সুকুমার লিখেছিলেন ১০৩টি কবিতা, ৮৮টি নানা ধরণের ছোট গল্প, ১২২টি প্রবন্ধ, ৮টি নাটক ও ২টি বড় গল্প আর এঁকেছিলেন পত্রিকার সমস্ত ছবি । সুকুমার রায়ের কনিষ্ঠ খুড়তুতো ভগ্নী শিশু সাহিত্যের দিকপাল, প্রয়াতা লীলা মজুমদার আক্ষেপ করেছিলেন “এখন মনে হয়, ঐ সময়ে সুকুমারের জন্য এ দেশটা প্রস্তুত ছিল না” । তাঁর আক্ষেপের কারণ আছে, এবং আমাদেরও । সুকুমার রায়ের সমকালীন আলোচক বৃন্দ তাঁকে ‘ছোটদের জন্য হাসির কবিতা লেখেন’ এর বেশি মর্যাদা তাঁকে দেননি । লীলা মজুমদারের জিজ্ঞাসা ছিল “ কোন বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শিশু সাহিত্যিকদের উল্লেখযোগ্য বলে মনে করা হতনা, সেটাই কি কারণ”? এই আক্ষেপ আমাদেরও । আজও আমরা তাকে ‘ননসেন্স লিটারেচর’এর আশ্চর্য শ্রষ্টার বেশি জানিনা । জানিনা যে তিনি হাফটোন মুদ্রন পদ্ধতির অন্যতম পুরোধা, একাধিক বিজ্ঞান বিষয়ক প্রবন্ধ রচনা করেছেন

১২৫তম জন্মদিনে সুকুমার রায়ের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে এই প্রত্যাশা রাখছি – এদেশে আধুনিক মুদ্রন প্রযুক্তির অন্যতম পুরোধা , দেশের প্রথম এফ আর পি এস(ফেলো অফ রয়াল ফোটোগ্রাফিক সোসাইটি ), শিশু মনের একান্ত আপন জন সুকুমার রায়ের সঠিক মূল্যায়ন হবে, সে দায় বর্তমান প্রজন্মের

                                                              -- ফাল্গুনি মুখোপাধ্যায়



সু-কুমার সুকুমার : আবোল তাবোল ছড়া

সবুজ মনের কোনে আজো পাগলা দাশুরবাস,
হযবরলহাসির ছলে ওঠায় নাভিশ্বাস ।
রামগড়ুরের ছানাদের প্রায়ই দেখি ট্রামে বাসে,
কুমড়োপটাশডিগবাজি খায় গড়ের মাঠের ঘাসে।
বোম্বাগড়ের রাজার মন্ত্রী কাতুকুতু বুড়ো’,
তাই দেখে রেগে আগুন চন্ডীদাসের খুড়ো
উদোর পিন্ডি বুধোর ঘাড়েচাপিয়ে অক্লেশে,
কাক্কেশ্বর কুচকুচেতে অঙ্ক করে কষে,
রকম দেখে আহ্লাদীরা হাসিতে আটখান,
কাঠবুড়োরেগেমেগে বুড়ীর বাড়ীযান।
ইঁটের পাঁজায় বসে রাজা’’ কাজুবাদাম খায়,
হিসাব রাখে ন্যাড়া কবার বেলতলাতে যায়
ট্যাঁশগরুআজ দিশেহারা বাংরেজীটা শিখে,
নোটবইয়ে নয়া অভিধান রাখছে তাই লিখে।
হাতী লুফে’ ‘ষষ্ঠীচরণের পড়লো হাতে কড়া,
ভালো ছেলে গোপালদেখো নালিশ করে সারা।
বকচ্ছপ’ ‘হাঁসজারুর ভাই, সে কি গন্ডগোল,
তাই দেখে ডানপিটেতে বাজায় ঢাক- ঢোল,
গঙ্গারামের হয়নি বিয়ে,পাত্রী খোঁজাই সার,
গানের গুঁতোয় জগাই ক্ষেপার অবস্থা জেরবার।
হেড অফিসের বড়বাবুগন্ধবিচারভারী,
সেই কারনেই বিনা চোরে গোঁফ গিয়েছে চুরি’,
বাবুরাম সাপুড়েতো আবোলতাবোলবকে,
একুশে আইন আউড়ে বেড়ায় শুধুই নেশার ঝোঁকে।
খেয়াল খোলাভোলা আজো স্বপনদোলায়যায়,
ফসকে গেল’ ‘ছায়াবাজিদুর আকাশের গায়ে।
পান্ত ভুতের জ্যান্ত ছানাআজো চাঁদনী রাতে
মনের সুখে মায়ের সাথে আজব খেলায় মাতে।
গল্প বলায় খুলে গেল মেঘলা- স্মৃতির সরনী,
বলবো কি? ‘তোমরা তো নোটবই পড়োনি!


সতীশ বিশ্বাস


সুকুমার রায়
দু'চামচ মর্মকথা গুলে
এক গ্লাশ কৌতুকরস।

সুকুমার রায়
জেগে ওঠা অনাবিল হাসি
কিছু তার মুখগহবরে-আর
বাকিটা সটান চলে যাওয়া 
মগজের কোষে।

সুকুমার রায়
লক্ষ্য তাঁর পাখির দু'চোখ
এক চোখে শিশু আর
অন্য চোখে শিশুটির পিতা।



 (১)

সত্যি সুকুমার 

সুকুমারের গল্প
সে কি আর অল্প !
আছে বোঝাই হাসি
বস্তা রাশি রাশি ।

যেমন ধর দাশু,
পাগলা বলে লোকে
আসলে সে ভারি সেয়ানা
কাজ করাবার চাই বাহানা
তাই তো অমন বুদ্ধি করে
কথা বললেই বেরিয়ে পড়ে
হাসির সাথে আঁশু...

কিম্বা ধর হিজু,
আরে ওই তোমাদের হিজবিজ,
কি যেন খায়
আর কিই যে মাখে,
কথা শোনা যায় না মোটে
শুধুই হাসির হিসহিস
এক্কেবারে শিশু...

কাগেশ্বরই বা কম কিসে
খাতা পেনসিল নিয়ে সদাই
জোর কদমে হিসেব কষে

তবে হ্যাঁ,
একটা কথা ঠিক বলেছে
ঝোলা গুড় সে কিনেছে বটে
পাঁউরুটি আর ঝোলা গুড়ের
তুলনা সত্যি নাই রে...
        
(২)
হ য ব র ল কথা

তুমি নাকি রুমাল ছিলে
হয়ে গেলে বেড়াল
আরে ভাই, আমিও ত !
তখন থেকে খাচ্ছি খাবি
দেখ আমার কি হাল...

গেছলে কোথায়, আজবপুরে
এই সেরেছে, অনেকদুরে--
ছেলে-মেয়ে,জোয়ান-মদ্দ
সবাই বুঝি বেদম ঘোরে
হচ্ছে বেসামাল
ধীরে ধীরে যত রুমাল
হয়ে উঠছে আস্ত বেড়াল
ঝুলি থেকে বেরোবে এবার
পাবে না তবু নাগাল... 

সুকুমারের আজবপুরে
মজা আছে নানান দরে
যেতে চাইলেই যেতে পারো
ফিরবে কিনা তুমিই জানো

একটা কথা বলে রাখি
গঙ্গারামের ডাকাডাকি
নিও না যেন কানে
মানুষ তো নয় ভাইগুলো সব
সবাই তো তা জানে...

যেতে চাইলেই যেতে হবে?
কি বললে, না গেলে হবে ব্যামো

দুর... আবোলতাবোল গল্পগুলো
বরং সবাই ভাবো...


অভিনব খাই-খাই

খাই খাই কোর নাকো বসে যাও চেয়ারে।
রান্নাটা কিরকম টের পাবে এবারে।
রাঁধুনী সে রন্ধনে অতি পটিয়সী,
হাতার বদলে তার হাতে আছে অসি।
আহার ভোজনে যারা নয় তত দক্ষ,
তাদেরও গেলাতে পারে ভক্ষ্য-অভক্ষ্য।
কলমীর রস দেয়,দেয় চায়ে নুন,
খেয়ে দেখো এ চায়ে আছে কত গুন।
দুধ জ্বাল দিয়ে তাতে রসুন ফোড়ন,
না খেলে যায় না বোঝা এ চীজ কেমন।
পায়েসে আদা বাটা রেসিপি নতুন,
খেলে তবে বুঝবে রাঁধুনীর গুণ,
মুরগীর দুধ আর বাছুরের ডিম,
খেতে বসে মাথাটা যে করে ঝিমঝিম।
পেঁয়াজের রস আর হলুদের বাটা,
বানায় পরোটা দেখি নেই তাতে আটা।
কাঠাঁলের খোসা দিয়ে লঙ্কার বড়ি,
লা-জবাব খাবার রে, আহা মরি মরি।
বালি দিয়ে ডাল আর পাথরের ডালনা,
পাঁচতারা হোটেলে খুঁজলেও পাবে না।
আর কিছু দেব নাকি?শুনে বলি, “বাবারে!
এবার রেহাই দে, দয়া কর আমারে।
গুড়গুড়ি রাঁধুনীটা একেবারে শিশুরে,
খাওয়াটা কেমন হল বোঝা যাবে ঢেঁকুরে।



কোলাজ: কপি-পেস্ট-এ সুকুমার রায়

দিনের হিসাব’, ‘হরিষে বিষাদ
হারিয়ে পাওয়া’ ‘জীবনের হিসাব’,
আজব খেলাআর ছায়াবাজি
খেলে সঙ্গীহারা’ ‘মুর্খমাছি
পড়ার হিসাব’-পাকাপাকি’,
তো তেজিয়ান’, ‘অতীতের ছবি
বিষম কান্ডসে গন্ধবিচার’,
গোঁফচুরি’-আশ্চর্য্য’ ‘বিচার
গানের গুঁতোআর,’হুলোর গান’,
জগাই ক্ষ্যাপা’,’সাবধান
অন্ধমেয়ে’-মনের মতন
লোভী ছেলে’-এর পরিবেষন’,
অবাক কান্ড’,’হাত গননা’,
ফসকে গেলঠিক ঠিকানা’,
কানা খোঁড়া সংবাদ’,
কাজের লোক’-এর বেজায় রাগ’,
নিরুপায়দেখে কুমড়োপটাশ’,
নন্দগুপি’-বড্ড সাহস
মেঘের খেয়াল’ ‘আয় আলো আয়’,

আদুরে পুতুল’ ‘খোকা ঘুমায়
ভয় পেয়োনা’,’নারদ নারদ’,
দাঁড়েদাঁড়েদ্রুম’, চড়ছে পারদ,
কি মুস্কিল’, ‘বুঝিয়ে বলা’,
অথবা কিম্ভুত’-এর গল্প বলা
খাই-খাই’, খাবো সন্দেশ
ভারী মজা’,এল বর্ষশেষ
ভেরী ইজি,শুধু কপি আর পেস্ট,

সুকুমার রায়, অল দ্য বেস্ট।




১৮৮৭ অক্টোবর ৩০, কলকাতা - জন্ম

১৮৯৬ ... প্রথম কবিতা ‘নদী’ প্রকাশ ‘মুকুল’ পত্রিকা জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায়

১৯০২ ... সিটি কলেজিয়েট স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাশ ও প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি

১৯০৫ ... বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন উপলক্ষ্যে নাটক ‘রামধন বধ’ রচনা ও অভিনয়

১৯০৬ ... পদার্থ ও রশায়ন বিদ্যায় অনার্স সহ স্নাতক। প্রথম গদ্যরচনা ‘সূর্যের     
রাজা’ প্রকাশ,‘ননসেন্স ক্লাব’এর সূচনা ।

১৯১০ ... প্রবাসী পত্রিকার প্রবন্ধ ‘ভারতীয় চিত্র শিল্প’ প্রকাশ , নাটক ‘লক্ষণের শক্তিশেল’ও নাটক ‘ঝালাপালা’ রচনা

১৮১১, অক্টোবর ... ‘প্রবাসী’ তে ‘ফোটোগ্রাফি’ প্রবন্ধ প্রকাশগুরুপ্রসন্ন স্কলারশিপ নিয়ে বিলাত যাত্রা ।

১৯১৩ ... সেপ্টেম্বরে মুদ্রন পযুক্তির উচ্চতর শিক্ষান্তে ভারতের প্রথম এফ আর পি এস হয়ে দেশে ফিরে আসা, ‘সন্দেশ’ পত্রিকায় যোগদান । এই বছর ১৩ই ডিসেম্বর সুপ্রভা দাসের সঙ্গে বিবাহ ।

১৯১৫ ... পিতা উপেন্দ্র কিশোরের মৃত্যু,‘সন্দেশ’ পত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ

১৯২১ .২রা মে একমাত্র পুত্র সত্যজিতের জন্ম । এই মাসের শেষের দিকে, তখনকার দিনে দূরারোগ্য কালাজ্বরের সংক্রমণ হয় ,স্বাস্থোদ্ধারের জন্য দার্জিলিং গমন ।

১৯২৩ ... ২৯শে আগষ্ট রবীন্দ্রনাথ অসুস্থ সুকুমারকে দেখতে এলেন, মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে দিলেন এবং নয়টি গান শোনালেন । ১০ই সেপ্টেম্বর সকাল ৮-১৫ মিনিটে ৩৫ বছর ১০ মাস ১০দিন বয়সে মৃত্যু ; ৯দিন পরে তাঁর প্রথম পুস্তক ‘আবোল তাবোল’ প্রকাশিত হয় । ‘আবোল তাবোল’এর শেষ কবিতাই সুকুমারের শেষ রচনা লিখেছিলেন রোগ শয্যায়, মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে –

                        আজকে আমার মনের মাঝে
                        ধাঁই ধপাধপ তবলা বাজে –
                        রাম খটাখট ঘ্যাচাং ঘ্যাঁচ
                        কথায় কাটে কথার প্যাঁচ ।

শেষ দুই পঙক্তি –    ঘনিয়ে এল ঘুমের ঘোর,
                        গানের পালা সাঙ্গ মোর

এই আশ্চর্য কবিতাটি রচনার অল্প দিন পরেই সুকুমার ঘুমিয়ে পড়লেন চিরদিনের জন্য ।

[লীলা মজুমদার রচিত ‘সুকুমার’ গ্রন্থ থেকে সংকলিত]
    



About