এই সংখ্যায় ২১টি কবিতা , লিখেছেন সপ্তাশ্ব ভৌমিক,সুমিত রঞ্জন দাশ, শৌনক দত্ত তনু,শ্যামাল দাষ, সৌমিত্র চক্রবর্তী, হাসান মেহেদী,শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়,সতীনাথ মাইতি, অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়, গোলাম মোর্শেদ চন্দন, সুমী সিকানদার, এবিএম সোহেল রশিদ,সুব্রত রায়,রাহুল রায়চৌধুরী , সিদ্ধার্থ শর্মা, সমর সরকার, তুষার প্রসূন,রূপময় ভট্টাচার্য ও পার্থসারথি ভৌমিক।
ঈশ্বর চোখের আড়ালে
  
মৃত্যুর সম্মোহনে রক্তপায়ী যখন মানুষ
ঈশ্বর চোখের আড়ালে
অগ্নির সম্মোহনে আত্মঘাতী যখন মানুষ
ঈশ্বর চোখের আড়ালে
অস্ত্রের সম্মোহনে বশীভূত যখন মানুষ
ঈশ্বর চোখের আড়ালে
সময়-বৃক্ষ আজ তোমাকে প্রণাম
অর্পণে- সমর্পণে এসো পরিত্রাণ
মাটির গর্ভ থেকে শুদ্ধ প্রজ্ঞা জ্ঞান
জেগে ওঠো শিকড়ের টানে
অন্ধকার সুড়ঙ্গের তৃষ্ণা শেষ হলে
পৃথিবী পবিত্র হবে পাখিদের গানে

শেষের সে দিন

ছুঁয়ে যাই শরীর ধূসর মায়াবতী ঘুম
পাথরহিম ভবিষ্যবাণী
উড়ে যায় রৌদ্রের ঘ্রাণ আনন্দপাখি স্মৃতিতটে
বিনাশবৃক্ষে অলীকতৃষ্ণা লুকোচুরি
পথেঘাটে নিধুবনে ফুলসজ্জা মেঘ বৃষ্টির
আসমুদ্রহিমাচল দ্বিধাবিভক্ত হা-হুতাশ
ঘুমের পালঙ্কে শুয়ে চাঁদ
গহীনের রুপরসে টইটম্বুর রাতের ফরাসবুনন
শব্দছন্দ যত সাদা ক্যানভাসে সুচীআঁকা
তামাম নিসর্গের কারুকাজ ভাবের কপালে
জোৎস্না গলে পরে মহুয়ার প্রথম উড়ানে
কালের নিসিন্দা সমীরে
অনাগত সোমেশ্বরী-সুগন্ধের ঘ্রাণে
হে ঈশ্বর
বাসবজমোদগ্লিতে আমিও কি নিঃশেষিত
পুষ্পহীন ব্রহ্মান্ড গরলে ...

কথা রাখেনি রূপশ্রী...

কেবল তোর জন্য
এত নির্জনতা আমার
সুগন্ধী তেলের রাস্তা হাঁটা
বুকের মধ্যে নিঃশব্দ আকাশ
কি লাভ হলো রূপশ্রী
দিনের প্রবল অন্ধকারে
বৃষ্টির বিজন বুকে নির্বাচিত এই
অভিসার
কি লাভ হলো বল
আমি আজও শীতের কাছে প্রার্থনারত
সর্বত্র দুচোখ মেলে দেখ রূপশ্রী
আমার বেঁচে থাকা
কেমন আছি আমি
খুব হাসি পায় জানিস,তবুও
তোর জন্য কেবল তোর জন্য
কুয়াশা পায়ে অরণ্যের কাছে
তোর প্রিয় সমুদ্রের কাছে
এই অবেলায়
কেমন আছিস রূপশ্রী
তোর পায়ের শব্দে ঘর ভিজে যায়
চোখের পাতায় জমে শব্দ
একবার এসে দেখে যা
দেখে যা
মগ্ন বালিয়াড়ি গায়ে মেখে বেঁচে থাকা
রূপশ্রী তুই আমাকে তামাবিল
দেখাবি বলেছিলি
বলেছিলি জোছনার বনে চাঁদ
বিলের জলে ছায়া ফেলে
ভাঙা মাস্ত্তলের মতো জল ভেঙে
ভাসা আর ডোবা,নৌকা ভ্রমণ
তুইও কথা রাখলি না
আমার ভেতর আজ প্রচ্ছন্ন অসুখ
তোর যে মুখ সে মুখের
ক্লান্তি আর বিষন্নতায় ভরে আছে মন
আমার দুঃখ থেকে জন্ম নিস তুই
আমিও আজ বাড়ি ফিরব না
আসছে কালের ঘুম নিয়ে
এবার আমি ঘুমাবো
আমি আড়ি করি নিজের সাথেই
অথচ তুই
হ্যাঁ তুই রূপশ্রী
কুয়াশার মতো
না,না বিধবা বৃষ্টির মতন
না
আমার মুখের কাছে
ভালোবাসার ঠোঁট হয়ে নেমে আয়
তুই তো জানিস
তুই এলে আজো নিঃশব্দ বিপ্লব ঘটে যায়
কিংবা মৃত্যু...


দাগ
যদি চলে যাই ! যদি আর ফিরে নাই আসি
তোমাদের এই কাঁটা বিছানোর পথে
উপরন্তু মনে আর কিছু নিও না ব্যাথা হে
নিজেকেও পারিনি যে কোনদিন শোধরাতে !
দাগ মাড়িয়ে যাওয়ারও, বহু বহু আগে
তোমাদের শেখানো পড়ানো ভালোবেসে
আমি কী জল্লা হয়ে একটুও ভাবিনি শেষে
এপথেও বিস্তর গোল্লাছুট, গোলক ধাঁধাঁ আছে !

কয়লাঞ্চলের কিসসা

মাটিতে শানানো আলো
চিরে যায়
কালো মনির খাঁজে জমা
গলে আসে জুরাসিক জল
ঝরঝর পাতালহ্রদের বিবশ শরীরে
বাইসন রঙা অন্ধকার,
যুগসন্ধিক্ষণ হাওয়া বদলের।
সার সার তেল কালো গুঁড়ো মাখা
চলমান শবদেহ
এসেছিলো পায়ের তলায় মাটি খুঁজতে।
তুষ্টি ও কৃষ্টি তে ফারাক শত যোজন।
লুসম্যান, ড্রেসম্যান, ট্রামার, লোডার
এক দুই তিন চার
সংখ্যায় গুণিত শব
নড়ে ওঠে, রুটি এত কম কেন?
কেঁপে ওঠে পুলি চাকা তিরতির
ঘুম ভাঙা নিঃশ্বাসে।
আলো চেরে কয়লার কঠিনাই।
সীল ডাইক তাপ্পিতে
আয়তনে ফুলে ফেঁপে
শবদেহ গ্যাস হয়ে যায়।
বিস্ফোরণের সময় হলো...!


একটি দু‌‌‍:স্বপ্ন

অন্তত বাতাসের তান্ডব এখন নেই
নিপাট ছায়াঘর; পাশে ক্রুর বৃষ্টিতে ডোবানো শহর
প্রহরীরা বীজঘুমে
কাঙিক্ষত বস্তু এই শীত
অপরূপ ধোঁয়ার চতুষ্কোন ঘর
যার মালিকানায় রাত্রির সব যাচনা।
অরণি, আরও অবিরল ছায়া হয়ে নামে
নাগরিক পাখি হয়ে উড়ে যায়
অলস ঢেউ হয়ে আবার ফিরে আসে
খুট খুট শব্দে চারপাশে হাঁটে
মধু, দ্রাক্ষা রাজসিক নদী হয়ে শুয়ে পড়ে
পাল তুলে দেয়
অরণি, আরও গভীরে গোপন হ্যাঁচকা টানে
প্রেম হয়ে যায়
আলৌকিক কুয়াশায় সারা ঘর ভরে যায়
আমি অরণি আঁড়াল হয়ে যাই
লাজুক কাঁথায় চোখ বিঁধে গেলেই
ইছামতি চক্কর; এক ইন্দ্রিয় লাভা স্রোত
মুহুর্মুহু পতনের প্রতিচ্ছবি।

শীত

 মেলা আর উৎসবের হাত ধরে
এ শহরে শীত আসে কুয়াশা জড়িয়ে
শীত মানে ভালো লাগা, ভালো থাকা
শীত মানে প্রেমিকার উষ্ণ আলিঙ্গনে
নিজের সমস্ত তাপ মুছে বাঁধা থাকা
শীত মানে ব্যাস্ত হওয়া আগুন সন্ধানে
শীত মানে উত্তপ্ত সময়
শরীর পশম রোদে সেঁকে নিতে শেখা
শীত মানে যাই হোক, শীতলতা নয় !
এ শহরে পরিযায়ী পাখীর ডানায়
দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শীত নেমে আসে
শীত নয়, যেন কোন দুরান্তের ঘরছাড়া ডাক
সোনালী শিশির হোয়ে ঝরে ঘাসে ঘাসে
মানুষ সোনালী হয়
রঙ লাগে চোখে আর গালে
এ শহর হেসে ওঠে
হিম সাঁঝে, শীতল সকালে ।
শুধু সেই মেয়েটার উতল শরীরে
শীত মাখা হয়নি এখনও
সে মেয়েটা কেউ নয়, অথবা যে কোন
বসন্ত সাজিয়ে গেছে মাতৃত্বের সাজে
এখন বুভুক্ষু শিশু শুষ্ক স্তন আঁকড়ে ধরে থাকে
মেয়েটা অপেক্ষা করে
যদি কোন কামাতুর ফের তাকে ডাকে !
এভাবেই এ শহরে শীত নেমে আসে
বাধ্যতার যৌনাচারে, স্নিগ্ধতম হিমেল বাতাসে ।

About