যাদের লেখা এই সংখ্যায় -  প্রয়াত দিনেশ দাশ, প্রেমেন্দ্র মিত্র, বনফুল , সপ্তাশ্ব ভৌমিক, অনুপ দত্ত, রেজা রহমান , শর্মিষ্ঠা ঘোষ, সৌমিত্র চক্রবর্তী, পার্থ বসু, গৌতম সেন, সুজন ভট্টাচার্য, ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়,  লাবণ্যকান্তা, শিবলী শাহেদ, জেনিস আখতার, অনুপম দাশশর্মা, সৌনক  দত্ত তনু , বিনু মাহবুবা ।


 “ভুল হয়ে গেছে বিলকুল
আর সবই ভাগ হয়ে গেছে শুধু
ভাগ হয়নিকো নজরুল”
এই ভুলটুকু বেঁচে থাক
বাঙালি বলতে একজনই আছে
দুর্গতি তার ঘুচে যাক”

আজ এগারোই জ্যৈষ্ঠ, তাঁর ১১৫তম জন্মদিন । তিনি জ্যৈষ্ঠের ঝড় কাজী নজরুল ইসলাম । প্রথাগত সম্পাদকীয় নিবন্ধ না লিখে প্রয়াত কবি দিনেশ দাস’এর একটি কবিতা উদ্ধার করে সেই দায় সারলাম

নজরুল ইসলাম
দিনেশ দাস

পঁচিশে বৈশাখে রবি
বাজাল আলোর শঙ্খ,
এঁকেছিল আকাশেতে উজ্বল সোনালি রেখা
বহ্ণির বলয় ।

এগারোই জ্যৈষ্ঠে সেই আগুন-হলুদ রঙ
হঠাত তাম্রাভ হ’ল
প্রচন্ড উত্তাপ তার সাক্ষাৎ প্রলয়
অনির্বাণ শিখা লেলিহান
এর যদি নাম কিছু থাকে
এরই নাম নজরুল ইসলাম ।।

তাঁর জন্মদিন পালনে একটা বিভ্রান্তি পীড়িত করে । অনেকেই ইংরাজি ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ২৫শে মে এই দিনটি পালন করেন, বাংলা ক্যালেন্ডার অনুযায়ী করেননা । রবীন্দ্রনাথের জন্মদিন যেমন ২৫শে বৈশাখ পালিত হয় ইংরাজি ক্যালেন্ডারের যে তারিখই আসুকনা কেন নজরুলের ক্ষেত্রে তাই হওয়া উচিত । ১১ই জ্যৈষ্ঠ তার জন্ম দিন , ২৫শে মে বা ১০ই জ্যৈষ্ঠ নয় । 

বিধাতার সুর
প্রেমেন্দ্র মিত্র
সৃষ্টিমত্ত বিধাতার
কন্ঠ হতে দিব্য এক সুর
করেছিল বুঝি পথভুল,
তারই নাম জানি নজরুল।
মলিন মাটির মর্ত্য
সুধাসিক্ত করেছে যে সুর,
তারই সঙ্গে দিকে দিকে
জ্বেলেছে সে অনির্বাণ শিখা
তাহারে বরিতে তাই আপনার হাতে
শতাব্দীর ভালো আঁকে মহাকাল দীপ্ত জয়টিকা।


কবিবর নজরুল ইসলাম
বনফুল

তোমাকে প্রনাম।
আমাদের কবি তুমি,গাহিয়াছ আমাদের গান
স্বদেশকে দিয়াছ সন্মান।
মানুষকে বাসিয়াছ ভালো
তাই তব চারিদিকে জ্বলে এত আলো।
সকলের শ্রদ্ধা-দীপে তোমার সাহিত্যকীর্তি নাম
মৃত্যু তাই আজ দীপ্ত অভিরাম।
সমুজ্জ্বল নজরুল ইসলাম
পুনরায় জানাই প্রনাম।
আয় চ'লে আয় রে ধূমকেতু
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
কাজী নজরুল ইসলাম কল্যাণীয়েষু
আয় চলে আয় রে,ধুমকেতু
আঁধারে বাঁধ অগ্নিসেতু,
দুর্দ্দিনের এই দুর্গশিরে
উড়িয়ে দে তোর বিজয়কেতন।
অলক্ষণের তিলক রেখা
রাতের ভালে হোক না লেখা
জাগিয়ে দেরে চমক মেরে'
আছে যারা অর্দ্ধচেতন!
২৪শ্রাবণ
১৩২৯


কাজী নজরুল ইসলামের ধর্ম বিশ্বাস....


কাজী নজরুল অসংখ্য হামদ, নাত লিখেছেন; সাথে সাথে হিন্দু ধর্ম নিয়ে অসংখ্য কবিতা, গান লিখেছেন তাই অনেকে সন্দেহ পোষণ করেন, উনি প্রকৃতই হিন্দু ধর্ম বিশ্বাস করতেন কিনা ? নিজেরা ব্যাখ্যা দেবার       আগে সবচেয়ে ভালো হয় নজরুল এ বিষয়ে কী বলেছেন সেটা পর্যালোচনা করা কেউ কোনো সাহিত্য রচনা করে থাকলে সে বিষয়ে তিনি কি বলেছেন সেই ব্যাখ্যাই সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য। সেই ব্যাখ্যার দ্বারা যদি প্রমাণিত হয় সেটা ইসলাম- বিরোধী তাহলে অবশ্যই সেটা ইসলাম-বিরোধী
নজরুল কালি পূজা করেছেন এই অভিযোগটা আসে মুসলিমদের থেকে অতীত দিনের স্মৃতিবই এর ৪২ পৃষ্ঠায় লেখক নিতাই ঘটক উল্লেখ করেছেন, “সীতানাথ রোডে থাকাকালীন কবিকে হিন্দুশাস্ত্র বিশেষভাবে চর্চা করতে দেখেছি। অনেকে বলেন কালীমূর্তি নিয়ে কবি মত্ত হয়েছিলেন- একথা ঠিক নয়। আমি কখনো তাঁকে এভাবে দেখিনি। হিন্দুরাই বলছেন নজরুল পূজা করেননি, যদিও সেটা হয়ে থাকলে হিন্দুদেরই খুশী হবার কথা ছিল বেশী এখানে একটি বিষয় প্রণিধানযোগ্য; তা হোলো, হিন্দুধর্ম নিয়ে পড়াশোনা করা আর কালীপূজা করা এক জিনিস নয়
এখন আমরা দেখব নজরুল হিন্দু ধর্ম বিষয়ক কবিতা, গান কেন লিখেছিলেন নজরুল বলেছেন, “আমি হিন্দু-মুসলমানের মিলনে পরিপূর্ণ বিশ্বাসী। তাই তাদের কুসংস্কারে আঘাত হানার জন্যই মুসলমানী শব্দ ব্যবহার করি, বা হিন্দু দেব-দেবীর নাম নিই অবশ্য এর জন্য অনেক জায়গায় আমার সৌন্দর্যের হানি হয়েছে তবু আমি জেনে শুনেই তা করেছি।” [ শব্দ ধানুকী নজরুল ইসলাম, শাহাবুদ্দিন আহমদ, পৃষ্ঠা ২৩৬,২৩৭] এখানে নজরুল স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন হিন্দু মুসলমানের মিলনের জন্যতিনি এ কাজ করেছেন। তখনকার রাজনৈতিক আবহাওয়া সম্বন্ধে যাদের ধারণা আছে তারা জানেন কি প্রচণ্ড হিন্দু মুসলিম বিরোধ তখন বিরাজমান ছিল। ১৯২৯ খ্রিস্টাব্দের ১৫ ই ডিসেম্বর রবিবার কলিকাতা এলবার্ট হলে বাংলার হিন্দু-মুসলমানের পক্ষ থেকে কবি কাজী নজরুল ইসলামকে বিপুল সমারোহ ও আন্তরিকতা সহকারে সংবর্ধনা জ্ঞাপন করা হয়। সেখানে তিনি বলেন, “কেউ বলেন, আমার বাণী যবন, কেউ বলেন, কাফের আমি বলি ও দুটোর কিছুই নয়। আমি শুধুমাত্র হিন্দু- মুসলমানকে এক জায়গায় ধরে এনে হ্যান্ডশেক করাবার চেষ্টা করেছি, গালাগালিকে গলাগলিতে পরিণত করার চেষ্টা করেছি [নজরুল রচনাবলী - , পৃষ্ঠা ৩, ]
ধর্মবিশ্বাসী কেউ হয়ত বলবেন, হিন্দু মুসলিম এর মিলনের জন্য উনি না হয় এমন লিখেছেন, কিন্তু এতে প্রমাণিত হয়না যে তিনি ইসলাম ধর্ম বিশ্বাস করতেন। হ্যাঁ কথা ঠিক। এর উত্তর নজরুল দিয়েছেন তাঁর আমার লীগ কংগ্রেসপ্রবন্ধের ৬১ পৃষ্ঠায় আমার আল্লাহ নিত্য-পূর্ণ -পরম-  অভেদ, নিত্য পরম-প্রেমময়, নিত্য সর্বদ্বন্দ্বাতীত। ইসলামধর্ম এসেছে পৃথিবীতে পূর্ণ শান্তি সাম্য প্রতিষ্ঠা করতে কোরান মজিদে এই মাহাবাণীই উত্থিত হয়েছে। ···এক আল্লাহ ছাড়া আমার কেউ প্রভূ নাই। তাঁর আদেশ পালন করাই আমার একমাত্র মানবধর্ম। আল্লাহ লা-শরিক, একমেবাদ্বিতীয়ম। আল্লাহ আমার প্রভু, রসূলের আমি উম্মত, আল-কোরআন আমার পথ- প্রদর্শক। আমার কবিতা যাঁরা পড়ছেন, তাঁরাই সাক্ষী: আমি মুসলিমকে সঙ্ঘবদ্ধ করার জন্য তাদের জড়ত্ব, আলস্য, কর্মবিমূখতা, ক্লৈব্য, অবিশ্বাস দূর করার জন্য আজীবন চেষ্টা করেছি। ১৯৪০ সালে কলিকাতায় বঙ্গীয় মুসলমান সাহিত্য সমিতিরি ঈদ- সম্মেলনে প্রদত্ত সভাপতির অভিভাষণ নজরুল বলেছিলেন, “ইসলাম জগতের সর্বশ্রেষ্ঠ ধর্ম বলে সকলের শ্রদ্ধা অর্জন করতে পেরেছে।" [ নজরুল রচনাবলী - () পৃষ্ঠা ৩৩]
এই লেখার মাধ্যমে নজরুল নিজেকে মুসলমান হিসেবে প্রকাশ করেছেন। ইসলামের পক্ষে কলম পরিচালনা করা মৌলভী তরিকুল আলম কাগজে এক প্রবন্ধ লিখে বললেন কোরবানীতে অকারণে পশু
হত্যা করা হয়; এমন ভয়াবহ রক্তপাতের কোনো মানে নাই। নজরুল তার জবাবে লিখলেন কোরবানী
কবিতা তাতে তিনি বললেন- ওরে, হত্যা নয়, এ সত্যগ্রহ শক্তির উদ্বোধন, দুর্বল ভীরু চুপ রহো, ওহো খামখা ক্ষুদ্ধমন। ….. এই দিনই মীনা ময়দানে …..পুত্র স্নেহের গর্দানে ……ছুরি হেনে খুন ক্ষরিয়ে নে
রেখেছে আব্বা ইবরাহীম সে আপনা রুদ্র পণ, ছি,ছি, কেঁপো না ক্ষুদ্র মন। [ নজরুল স্মৃতিচারণ, নজরুল
একাডেমী পৃষ্ঠা ৪৩৯ ] ইসলামের বিপক্ষে আক্রমণ হলে সেটার প্রতিবাদস্বরূপ নজরুল কবিতা লিখেছিলেন ব্যাপারটা বিস্ময়ের বৈকি যে কবিকে কাফের ফতোয়া দেওয়া হয়েছে তিনি- কিনা ইসলামের পক্ষে কলম ধরেছেন!!!
মুসলমানের সমালোচনা করে কবিতা লেখা আরো একটি অভিযোগ করা হয়, সেটা হোলো নজরুল আলেমদের সমালোচনা করেছেন, যেমন: মৌ-লোভী যত মোলভী আর মোল্লারা কন
হাত নেড়ে দেব-দেবী নাম মুখে আনে সবে তাও পাজীটার যাত মেড়ে। এখানে মৌলভীদের নজরুল মৌ লোভী বলেছেন। যারা এতে অসন্তুষ্ট তাদের এই কবিতাটা হয়ত নজরে পড়েনি: শিক্ষা দিয়ে দীক্ষা দিয়ে
….
ঢাকেন মোদের সকল আয়েব পাক কদমে সালাম জানাই ….নবীর নায়েব, মৌলভী সাহেব।
এখানে মৌলভী সাহেবদের নজরুল সালাম জানিয়েছেন। দুটোর মধ্যে আসলে কোনো বিরোধ নেই।
বর্তমান সমাজে এটাই বাস্তব। আলেমদের মধ্যেও ভালো-খারাপ দু- ধরণের পরিস্হিতি বিদ্যমান। দুটোই
নজরুল ফুটিয়ে তুলেছেন আর মুসলমানদের দোষ- ত্রুটি থাকলে সেটা বলার মধ্যে দোষের কিছু নেই। ইব্রাহিম খাঁ-র চিঠির জবাবে নজরুল সেটাই বলেছেন, “যাঁরা মনে করেন- আমি ইসলামের বিরুদ্ধবাদী বা তার সত্যের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করছি, তাঁরা অনর্থক এ ভুল করেন। ইসলামের নামে যে সব কুসংস্কার
মিথ্যা আবর্জনা স্তুপীকৃত হয়ে উঠেছে তাকে ইসলাম বলে না মানা কি ইসলামের বিরুদ্ধে অভিযান? এ ভুল
যাঁরা করেন, তাঁরা যেন আমার লেখাগুলো মন দিয়ে পড়েন দয়া করে- ছাড়া আমার আর কি বলবার
থাকতে পারে ?” [ইসলাম ও নজরুল ইসলাম, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, পৃষ্ঠা ৯৫]

         ১৯৪১ সালের ২৩ অক্টোবর মুসলমানদের জন্য সেদিন ছিল পবিত্র ঈদুল ফিতর ঈদের খুশীর সাথে যোগ হয়েছিল আরও একটি আনন্দ। তৎকালীন অল ইন্ডিয়া রেডিও থেকে প্রথমবারের মতো আজান ধ্বনিত হলো ইথারে বেতারে কে ছিল এর প্রথম মুআজ্জিন ? কাজী নজরুল ইসলাম হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গার সে প্রবল বৈরী সময়েও অল ইন্ডিয়া রেডিও থেকে শোনা যেত কুরআন তেলাওয়াত কে ছিল এর ক্বারী ? কাজী নজরুল ইসলাম চারিদিকে নতুন নতুন উর্দু কাওয়ালীর মধ্যে নতুন সুরে মাতোয়ারা হল
বাঙ্গালী মুসলমানরা। ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে..গানটির আবেগ ও আনন্দ আজও ডিঙ্গাতে পারেনি কোন কবি মহাকবির গান। শত দাঙ্গা আর কাঁদা ছোঁড়াছোড়ির মধ্যেও কী এক অসামান্য সাধনা আর প্রতিভা নিয়ে তিনি লিখে চলেছিলেন এ ঘুমন্ত মুসলিম জাতির জন্য কত গান, কবিতা এ সংক্ষেপ লেখায় এর সামান্য বিবরণও সম্ভব নয়। তার এক অমর সৃষ্টি কাব্যে আমপারা অনুবাদ। এর উৎসর্গপত্রে তিনি লিখেছেন, বাংলার নায়েবে নবী মৌলবী সাহেবানদের দস্ত মোবারকে..আর ভূমিকার শেষে তিনি লিখেছেন, খাদেমুল ইসলাম- নজরুল ইসলাম দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশের মৃত্যুর পর আবেগ তাড়িত হয়ে তিনি একটি শব্দ ব্যবহার করে ফেলেছিলেন, যদি পরিণতি ও হুকুম না জেনে এসব শব্দ ব্যবহারে স্থান কাল পাত্র ভেদে ফতওয়ার তারতম্য ঘটে, কিন্তু তৎকালের আলেম সমাজ ফতওয়া নিয়ে বিন্দুমাত্র দেরী করলেন না শুরু হল ফতওয়ার তির্যক তীরের আঘাত, এমন সংবেদনশীল কবি সত্যিই ব্যথিত হয়েছিলেন এসব বাড়াবাড়ি দেখে উল্লেখ্য, কবি পরে তার এ শব্দ প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন
কিন্তু আলেম সমাজ ফতওয়া প্রত্যাহার করেছিলেন কি না জানা যায়নি তারা একবারও ভাবলেন না, কবি নজরুল আল্লাহ পাকের তরফ থেকে এ জাতির জন্য এক অমূল্য দান এর সম্মান ও রক্ষণাবেক্ষণ আমাদেরই করতে হবে। মানুষ হিসেবে কেউই তো ভুলের উর্ধ্বে নয় কিন্তু সেসব আমাদেরই সামাল দিতে হবে, মায়া ও ভালোবাসা এবং সম্মানের সাথে বুঝাতে হবে। অপ্রিয় হলেও দুঃখজনক, কবি নজরুল ইসলামের কাছে কেউ এসব সংশোধনের পয়গাম নিয়ে গিয়েছিলেন কিনা, ইতিহাস এ বিষয়ে নীরব পাকিস্তানের মহাকবি আল্লাম ইকবাল। তার কবিতা আজও আরব ও অনারবে পঠিত হয়। এমন গুণী কবিও অজ্ঞতা বশত একটি কবিতা লিখে বসলেন যা মুসলমানদেরকে ব্যথিত করল পাক ভারত উপ মহাদেশের প্রখ্যাত আলেম যাকে বলা হত ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরী তিনি ছুটে গেলেন কবির কাছে, তাকে বোঝালেন, তারপর কবি সেসব সংশোধন করলেন আর আমাদের বাঙ্গালী আলেম সমাজ ! নিছক ফতওয়া দিয়ে কবিকে মুসলমানদের কাছে ঘৃণিত করা আর নিজেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করা ছাড়া আর কোন উদ্যোগ আমরা দেখিনি
এরকম অসংখ্য হৃদয়জাগানিয়া গান গজল আর হামদ ও নাত, বাংলার তরুণ মুসলমানদের চেতনায় আত্মোপলদ্ধির আগুন ধরালেন যে বিদ্রোহী কবি, সেই তিনিই কি নির্মম আঘাত সয়েছেন বাংলার আলেম ও সাহিত্যিক সমাজ থেকে নিজেদের গুণীকে নিয়ে আমরা টানা হেঁচড়া করে ছেলেখেলা খেলি, এ যেন আমাদের কপালের লিখন কবি নজরুলের বিরুদ্ধে তৎকালের মুসলিম পত্রিকাগুলো যেমন মোহাম্মদী, ইসলাম দর্শন, ছোলতান, বঙ্গনূর, নওবাহার- এরা যেন সর্বাত্মকভাবে কবিকে হেয় ও অপদস্থ করতে জোটবদ্ধ হয়েছিলেন। এ কথা কবি নিজেই বলেছেন, ‘প্রথম গালাগালির ঝড়টা আমার ঘরের দিক অর্থাৎ মুসলমানদের দিক থেকেই এসেছিল এটা অস্বীকার করিনে। এক ভাষণে তিনি এও বলেছেন, আপনারা জেনে রাখুন, আল্লাহ ছাড়া আর কিছুর কামনা আমার নেই। লীডারহওয়ার লোভ ও দুর্মতি থেকে আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়েছেন। আজ মোল্লা মৌলভী সাহেবদের মুসলমানীর ফখরের কাছে টেকা দায় কিন্ত তাদের আজ যদি বলি, যে ইসলামের অর্থ আত্মসমর্পণ, আল্লাহ তালার সেই পরম আত্মসমর্পণ কার হয়েছে ? আল্লাহে পূর্ণ আত্মসমর্পণ যার হয়েছে, তিনি এই মুহুর্তে এই দুনিয়াকে ফেরদৌসে পরিণত করতে পারেন।
কাজী নজরুল ইসলাম আমাদের প্রাণের কবি, আমাদের মনন ও চেতনায় তিনিই তো প্রথম ডাক দিয়েছিলেন বিদ্রোহী হতে, কোন শাসকের অন্যায়ের কাছে নয়, মানবতার জন্য জীবনের সব অর্জন- এমনই ছিল কবির জীবনদর্শন।

About