এই সংখ্যায় ১৬টি কবিতা লিখেছেন মিত্রপক্ষ সাই, সীমা ব্যানার্জী রায়, সপ্তাশ্ব ভৌমিক, কাজরী তিথি জামান, সৌমিত্র চক্রবর্তী, অনুপ দত্ত, পার্থ কর, ঝর্না চট্টোপাধ্যায়, মোহম্মদ আনওয়ারুল কবীর, বিষাদ আবদুল্লাহ, ইলা সরকার, হিমাদ্রী মুখোপাধ্যায়, ফারহানা খানম, শামিম পারভেজ ও বেবী সাউ এবং কাব্য-গ্রন্থ আলোচনা ‘বংশী’ / শাকিলা তুবা ।

                       সূচীপত্রে ক্লিক করেও পড়তে পারেন

চুপ

চুপ ! কথা নয়, কারণ মসনদে আমি আছি
আমার রঙ পৃথিবীর রঙ হবে আমার আত্মা হবে সক্রেটিসের
আমার সাম্রাজ্যের দেয়ালে পিকাসো ছবি আঁকবেন সাদা কোরা শাড়ীর ক্যানভাসে

যে শাড়ী দিয়ে কামদুনির মেয়েটির ঘায়ে ব্যান্ডেজ বাধা হয়েছিল
সেটি অসংরক্ষিত এবং সবুজ নয়

আগামী তিনদিন রাষ্ট্রপতি ঘুরে বেড়াবেন কোন পাহাড়ি সরকারের বিশ্ববিদ্যালয়ে
দীক্ষান্ত ভাষণ দেয়ার জন্য যে গাউনটা বানানো হয়েছে
তার রঙ নির্ধারণ করবে সেই মেয়েটি
আমি সেই অসংরক্ষিত অসবুজ কাপড়ের টুকরো
দিয়ে ব্যাচ বানাবো এবং পরে যাবো দীক্ষান্ত ভাষণের অনুষ্ঠানে
কারন এই কামদুনীর পথ দিয়ে বহুবার হেটে গেছেন রাষ্ট্রপতি। তিনিও পুরুষ

এই চুপ । কথা নয় !
আমার সাম্রাজ্যে এমনটা হবেই। আর এমনটা
হওয়ার জন্য তোমাদের তৈরি থাকতে হবে। কারণ সেদিন
আমার রাস্তায় একটি সবুজ বা হলুদ পতাকাও ছিলনা
লাল শাড়ী বিছিয়ে দিয়েছিল কিছু মানুষ। তাই তোমায় চুপ থাকতে হবে
জল কর দাও, মাটির জন্য পয়সা গোন
নিরাপত্তার জন্য কোন ট্যাক্সো কিন্তু দাওনা ভায়া !
তাই তোমার শরীরকে যেকোন সময় তৈরি থাকতে হবে
তৈরি রাখতে হবে তোমার ব্যাগে লিপস্টিক ঠোঁট পালিশের রঙটাও হবে সবুজ
লাল ক্ষতর উপর সবুজ লিপস্টিকের টাচ। লালের উপর সবুজের রঙ
যেমন হয়না সিঁদুরে আকাশে কালো মেঘের ইতিউতি
বৃষ্টি আসবে বলেই সেই সিঁদুররঙা আকাশ মিলিয়ে যায় সান্ধ্য আড্ডায়।
সৌর মণ্ডলের রকে বসে আড্ডা দেয় তখন বৃহস্পতি
লাল গ্রহের কাছে বলে যেও তোমার কথা

চুপ !
আমার নিঃশ্বাস, কার্বন ডাই অক্সাইড হয়ে তোমায় সাহায্য করবে বেঁচে থাকতে
গাছেরা যেমন রাতের অন্ধকারে রান্নাবাটি খেলে, ঘর গৃহস্থী করে,
তেমনি তোমার জন্যও বরাদ্দ ঐ রাতটুকু। অজস্র লতাপাতা
আর ঘাস ফুলেদের নিয়ে বাগান বানাও কমরেড
কামদুনির আকাশকে ভুলে থাকাই ভালো
সেখানে শুধু লাল শালুর শামীয়ানা। সীমা মাহাতো কে চিহ্নিত করে রাখো
সালোক সংশ্লেষ প্রক্রিয়ায় তাকে দরকার পরবে কাল অথবা পরশু
তাই চুপ করে থাকো কামদুনী

চুপ!


একটা মেয়ে

আজ আমার হাতে কলম
লিখব একটু অন্য রকম
একটা মেয়ের গল্প বলি-
নামটা যে তার মেঘের কলি।
মেঘের কলি ঝরণাধারায়
ছুটে বেড়ায় আপন হারায়
স্বপ্ন দেখে বৃষ্টি হবে
টাপুর টুপুর পড়বে কবে-

হঠাত করে কড়কড়ে বাজ
বাজলো মেয়ের বুকে এ......
পিছলে গেল মেয়ের জীবন
স্বপ্ন দেখার সুখ-এ

বংশী / শাকিলা তুবা
প্রকাশক - ধানসিড়িটির তীরে প্রকাশনা

আলোচক – ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়

     
শাকিলা তুবার ২য় কাব্য সংকলন ‘বংশী’ প্রকাশিত হয়েছে ‘ধানসিড়িটির তীরে’ প্রকাশনা থেকে । শাকিলা তুবা এই সময়ের এক উল্লেখযোগ্য কবি , অন্তর্জাল মাধ্যম ও দুই বাংলার মুদ্রিত মাধ্যমেও তাঁর কবিতা প্রকাশিত হয়ে থাকে । ছোট গল্প লেখার হাতটিও ভালো । ২০১২তে তাঁর প্রথম কাব্য সংকলন ‘হরিৎ জ্যোৎস্নায় ভেজে রূপকথার গাছ’ প্রকাশিত হয় । এই পত্রিকায় তুবার কবিতা প্রথম প্রকাশিত হয় ডিসেম্বর ২০১১তে ।
     
     আরো ৫টি কাব্য সংকলনের সাথে এই বইটির মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে হাজির থাকার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল ।  সেখানে কবি হাসমত জালাল শাকিলা তুবার কাব্যকৃতির সংক্ষিপ্ত আলোচনা করেছিলেন । বইটির প্রচ্ছদে অতি সংক্ষিপ্ত ভূমিকাও লিখেছেন তিনি যা থেকে হয়তো সংকলিত কবিতাগুলির মূল সুরের সামান্য আভাষ পেয়ে যাবেন পাঠক । আমার দায় অন্যনিষাদ’এর পাঠক মন্ডলীর কাছে সংকলিত কবিতাগুলি সম্পর্কে আমার পাঠ প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা ।
     
      আমি বিশ্বাস করি কবিতাকে বুঝতে গেলে কবিকেও বুঝতে হবে , জানতে হবে তাঁর কবিতার উপকরণ সংগ্রহের উৎসমুখটিকেও । কিংবা বলা চলে পঠিত কবিতা থেকেই কবির অন্তর্লোকের সন্ধান পাওয়া যায় । বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের এক বীর শহিদের সন্তান কবি শাকিলা তুবা । একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধে পিতার নিহত হওয়ার সময় তিনি মাতৃগর্ভে । পিতার স্নেহস্পর্শ বঞ্চিত কবির প্রাণ শক্তির অনেকটাই পিতার আত্মত্যাগের আদর্শ । এই কথা কবি জানিয়ে দেন তার দেশভাবনার অনুষঙ্গে লেখা কবিতায় “যুদ্ধে যাবার আগে বাবা চুমু খেয়েছিলেন কপালে / আর ফিসিফিস করে বলেছিলেন , তোমাকে রেখে গেলাম / আমার বীজ, তুমি দেশটাকে দেখো” ... (‘প্রজন্ম চত্তর’) । কি ভাবে দেখেছেন কবি তাঁর দেশটাকে ? দেখেছেন”কৃষ্ণচূড়ার হাসি”, দেখেছেন “যাবতীয় দুঃখ দিনে হাসিমাখা মুখ’ , দেখেছেন তাঁর প্রার্থিত অনন্ত জীবনের মিছিল – কবির পংক্তিতে শান্তি নামুক মানুষের মনে, মুক্ত হোক মনের চাষাবাদ / মানুষে মুক্তি মানেই একটা সার্বভৌম রাষ্ট্র” (কবির কলম ) । আর এখান থেকেই কবি সংগ্রহ করেন এক আশ্চর্য জীবনের বোধ । কবি বলেন স্বাধীন মন ছাড়া আর কোন আড়ম্বর নেই আমার(‘কোন নাম নেই)। ’সংকলিত কবিতাগুলিতে জীবনের সঙ্গে তাঁর তাবৎ কথপকথন এই মনের স্বাধীনতা বোধ থেকেই । ‘কবির কলম’ কবিতার একটি পংক্তি “শুধু একজন অসুস্থ কবি লিখে চলেছেন”... এ শুধু কবিতার পংক্তি নয় । আমরা জানি শারীরিক সুস্থতার সঙ্গে কবির খুব বেশি সখ্যতা নেই অনেক দিন থেকেই । মাসের অনেকগুলি দিন কাটে তাঁর বিছানার সখ্যতায় । তবুও ব্যক্তিক বিষন্নতা , বিষাদ যন্ত্রনার কোন ছায়াপাত ঘটেনি তাঁর কবিতায় , সেখানে অফুরন্ত জীবনের মিছিলই দেখেছেন কবি । কবি দেখেন “বুকের ভেতর মেলে দেওয়া ময়ূরের পেখম” (‘ভায়োলিন নীরবে’ ) । বংশীর কবিতাগুলিতে তাই শুধু সুষমার আকর্ষণই নয়, আছে জীবনের বোধ আর কবির চারপাশ ও সময়ের ছবি যার মধ্যেই পেয়ে যাই কবির সংবেদনশীল অন্তর্লোকের ঠিকানাও । সংকলিত কবিতাগুলিত্র কবি যেন জীবনের রূপ-রস-বর্ণ-গন্ধ সব চেটেপুটে নিতে ছেয়েছেন আর সেই চাওয়া থেকেই বলতে পারেন “আমি চাইলেই মেঘ ভেনে বিস্কুট খেতে পারি” (‘কোন নাম নেই’) । কেমন জীবন কবির কাঙ্খিত ? কবির নিজের কথায় –

যে কোন পাখির জীবন যার দুই ডানা আকাশকে স্পর্শ করে
যে কোন নদী যা প্রবহমান তোমার আমার তীর ছুঁয়ে
যে কোন বাতাস যা তোমার ঘর থেকে সোজা আমার ঘরে এসে ঢোকে ( সংকলনটির উৎসর্গ পত্র) ।

     এই চাওয়া নিয়েই কবির যাবতীয় আঁকিবুঁকি -  তুলিতে উঠে আসছে নীল রঙ / একটু লাল মেশালেই সাতাশ তারার জেল্লা বাড়বে / এই একলা সন্ধ্যা বেডকভারে এঁকে দেবে যাবতীয় বিষাদ / রাতের শরীর ক্লান্ত ভোরকে দিয়ে যাবে আরেকটি দিনের স্বাদ” (‘এবং যাবতীয় আঁকিবুঁকি’) । জীবনিকে ভালোবাসা শুধু নিজের জন্য নয় , জীবনের তাবৎ বোধ সকলের সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান । তাই কবি বলেতা”স্পর্শ চাও ? দিতে পারি, জীবনের ; জটিলতার / সুখ স্পর্শের আগুনে পোরাতে পারি তাবৎ ব্যাধি / যদি হীরে খুঁজে থাকো। কাঁচকা / এনে দিতে পার রহস্যভারী সিন্দুক/ আর একটা দোনলা বন্দুক”... (স্পর্শ) । নিজের চারপাশটাকে কবি যেমন চেয়েছিলেন , যেমন কাঙ্খিত ছিল, তেমনটা না পাওয়ার বেদনাও ছুঁয়ে গেছে কয়েকটি কবিতায় – “ কত যুগ ধরে দেখছি এই এক দেশ নিয়ে প্রহসন / ঘুম ভাঙ্গেনি কারো, জেগে ওঠেনি ছোট্ট কোন শহর / ক্রমাগত দায়সারা কিছু অনুষ্টান, মঞ্চ ঘিরে বাহান্ন আর একাত্তরের জয়ধ্বনি / এই চলছে আজন্ম দেখা দুই চোখের পাপ” (নিজস্ব সংগীত) । তবু আত্ম সচেতন এই দ্রোহ ও ক্রোধের মধ্যেও পেয়ে যাই এক শান্ত সৌন্দর্যময়তা । “জীবনের পুরো পথ একই সুরের স্লোগানে হেঁটে যাওয়া” কবির প্রত্যয়ী উচ্চারণ “ কণিকা তুমি আলো ঢালো নয় পথ ছাড়ো / রাতের রাস্তা যতই নীরব হোক একা নয় কক্ষনো” (‘কেউ একা নয়’) । পাঠকও তাই সংবেদনশীল কবির সঙ্গে আশাবাদে সংক্রমিত হন - “সময় তৈরী হোক নতুন সব সমরাস্ত্রের সাজে / এই বিষাদের গানেরা আরো শান্ত সুরে বেজে উঠুক” (‘নির্বন পাখি’) ।

     এই আলোচকের নিশ্চিত বিশ্বাস, বাঁশীর সুরের মাধুর্যের মতই ‘বংশী’র কবিতাগুলি পাঠ করে পাঠক কবিতার সৌন্দর্য-সুষমায় জারিত হবেন । অমিতাভ দাশ’এর আঁকা শোভন প্রচ্ছদে বইটির মুদ্রন ও অঙ্গসজ্জায় যত্নের ছাপ স্পষ্ট ।

     বইটির প্রকাশক ‘ধানসিড়িটির তীরে’ পুস্তক প্রকাশনায় নবীনতম প্রতিষ্ঠান । আলোচ্য সংকলন বংশী এবং একই সাথে প্রকাশিত দুই বাংলার আরো পাঁচজন কবির কাব্য সংকলন প্রকাশের মধ্য দিয়ে এদের পথচলা শুরু গত মে মাস থেকে । আমরা জানি এই সময়কালে অন্তর্জাল মাধ্যম ‘ফেসবুক’ বাংলা কবিতার গর্ভগৃহ হয়ে উঠেছে । ‘ধানসিড়িটির তীরে’ বাংলা কবিতার এই পরিসরটিকেই আশ্রয় করেছে তাদের পুসস্তক প্রকাশন কর্মকান্ডে , যা নিশ্চিত ভাবেই দুই বাংলায় নবীন প্রজন্মের কাব্যচর্চা তথা বাংলা কবিতার প্রসারে ইতিবাচক ভুমিকা নিতে পারে ।




বৃত্ত

যত বড় পাথর পুকুরে পড়ুক
একটু পরেই ঢেউ থেমে যাবে
শুধু মুহূর্তের উথালপাতাল
জলজ বৃত্ত কিছু ছুটে যাবে
পাড়ের আশ্রয়ে
তারপর জল আর সময় নিথর
বিবশ পাথর ক্রমশ তলিয়ে যাবে
খুব ধীরে কাদার ভেতরে


পারো ?

দাও?..বলে যতবার পেতেছি হাত,
একবারও মুঠো ভরেনি !
আঙুল গলে গলে পড়েছে
আমারই চোখের মৃত চাহনি ।
অথচ নিতে চাইলে,
তোমার মতো দস্যু কে আছে ?
অনশন ধর্মঘট চলে না তোমার ।
শূণ্যের ঘরে একাদশী শাসন,
হাত পেতেছি আবার ও
দিতে পারো, পরমান্ন মৌলিক?
দিতে পারো, অবশিষ্ট ?
অথবা উচ্ছিষ্ট একমুঠো ??
ঘোমটা পরা জৈষ্ঠ্য দুপুর

মুখকালো দিন রাত চমকায়
নাইটি পড়া তন্দ্রাচেতন,
তপ্ত দুপুর উছলে ওঠে
মেঘকলকল জৈষ্ঠ্য প্রপাত।
ঝাঁ চকচক আগুন হাওয়া
টুক্কি বলেই চোর পুলিশী,
মনসুনবায় আকুল স্বরে
উড়ছে বাঁশির রঙঝালরে।
ঝুমধরা গান খুলছে ঝুলি
অভিযোগের পাহাড় প্রমাণ,
অকাল বারিষ শঙ্খ বাজায়
কেন্দ্রস্থলের লাভাস্রোতে।
আউল বাউল বাউন্ডুলে
স্ফূর্তি বাজে দোতারাতে,
শান্ত সরোবরের গায়ে
সাম্পানে জল মিঠি ছলছল।

আয়রে দুপুর আয়

আসবি দুপুর মেঘলা ছায়ায়
তোর জন্যেই থাকবো বসে,
গাইবি দুপুর বর্ষালী গান
মেঘমল্লার সূক্ষ্ম রোদে?
মেঘ রোদ্দুর জম্পতি জন
সবাই জানে, মাটিও জানে,
সকাল থেকেই আঁকিবুকি
সকাল থেকেই এতোদ্য তান।
আকাশ বুনছে মন দুলিচা
ব্যাঙের এফএম অবিশ্রান্ত ...
গাছের দেহে তারুণ্য বান
পর্ণাশী প্রেম আসবে কখন!
ঝুম বারান্দা একলা চেয়ার
হৃদয়পিন্ড হাতের মুঠোয়,
আয়না দুপুর কথা দিলাম
তোকেই দেব রঙের ঝালর।



পরকিয়া প্রেম

নারীরা আমার ভালো লাগে !
মগ্নতায় ........নারী পরকিয়া প্রেম হয়ে
পুরুষের কাছে নিরবিছিন্নতায় বিশ্বাস ঝরে পড়ে !
পরকিয়া প্রেম কি শ্রীরাধা কথায় এসে পড়ে ?
নাকি ফেস বুকে লেখা স্বীকৃতি করে প্রীতিশের নন্দীর কথা মনে পড়ে
রেখা'র আদলে---তার স্বপ্নের তুলতুলে প্রেম...সেই 'ভানু রেখা গনেশন'

উচারণে শক্ত হলেও.... ট্রাই-নাইট্রো-টুলিন…..
সেই সুগন্ধি স্ফটিক শরীর উষ্ণতায় গলে গলে স্ফুরিত করে চিত্রকুট ফ্যানটাসি
বিস্ফোরক নয়…..নষ্ট নেশার উচ্ছাস নিয়ে পূরুষকে বুঁদ করে রাখে
নিহত করে তার স্ব-অহম অহংকার...
সমাজের কাছে উঁচু করা পুরুষের ধ্বজা নেবে আসে চিরতলে মাটির আধারে..

আহা ট্রাই-নাইট্রো-টুলিন
যে না ছিল সুন্দর সে আরো সুন্দরী হয়ে ওঠে
না….না…...’ফেয়ার এন্ড লাভলিমেখে নয়..এ মহিমা ট্রাই-নাইট্রো-টুলিন
এক ঐশ্বরিক সুন্দরতার মোড়কে ভাসে বুক... ভাঙ্গে বাঁধ
ভাসিয়ে নিয়ে যায় সমস্ত উল্লাসজীবনের নিবিষ্ট গলিতে তুলতুলে নারী মূর্ছনায়
পড়ে থাকে ঘর বার...শ্বাধ্বী স্ত্রী..পুত্র কন্যা ও সংসার ।

আবহমান এই ইতিহাস...
বহমান এই নষ্ট চুম্বক তার নিদারুন ক্ষেত্র ফিরি করে ফেরে
আকাশে বাতাসে গুঞ্জন তোলে... ভালবাসা সেই নৈরাজ্য প্রেমের কাহিনী ফুটে ওঠে
এখন তো ফেস বুকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রংচং ছবির সমাহারে

তুমি ভয় পেও না প্লিজ.....
এ প্রেম ক্ষতির আকাশে বাতাসের শব্দ আনে না
শব্দের মহিমা সঙ্গসুখের প্রচারে বাহবা মানে না
তুমি তো সুন্দর
তবে এ প্রেম সুন্দর থেকে সুন্দরতার সকাশে ট্রাই-নাইট্রো-টুলিন ছুয়ে আশা
পৃথিবীর কোনে সমস্ত নারীর প্রতি এক শ্রদ্ধা জানানো ভালবাসা

দ্যাখোতুমি দ্যাখো
এই তো আমি ফিরে আসি তোমার সুগন্ধ শরীর অবয়বে
তোমার স্থায়ী লহমা ঘিরে স্ফটিক সুসময়ে

তুমি ভয় পেও না প্লিজ ।
শোনো ,আমি বিবাহিত.
আমি এখনো নষ্ট হয়ে যাই নি I. 


About