শ্রদ্ধা-স্মরণে মান্না দে


‘অন্যনিষাদ’এর বিনম্র প্রণাম । ৭টি কবিতায় প্রনাম জানিয়েছেন - সপ্তাশ্ব ভৌমিক, মনীষা মিত্র, দেবব্রত বড়ুয়া,শৌনক দত্ত তনু, দীপক রায়, গৌতম সেন ও বিশ্বজিৎ                             সেন


নানান স্বাদের অন্য ২০টি কবিতা লিখেছেন – অলক বিশ্বাস, শাকিলা তুবা,মুকিদ চৌধুরী, সাঈদা মিমি, মহঃআনওয়ারুল কবীর, মধুমিতা ভট্টাচার্য,অনুপ দত্ত,পীযুষ কান্তি বিশ্বাস,স্বাতি ইন্দু, সুবীর সরকার, কাজরী তিথি জামান,সুশোভন রায়চৌধুরী, রাজর্ষি ঘোষ, মজনু শাহ,টুম্পা মন্ডল, শাশ্বতী সরকার, জয় চক্রবর্তী, জেনিস আখতার, ইন্দ্রাণী সরকার ও শামিম পারভেজ

                          সূচিপত্রে ক্লিক করুন
মান্না দে চলে গেলেন । থেমে গেলো ভারতীয় সঙ্গীত জগতের এক বর্ণময় শিল্পীর কন্ঠ, ৯৪ বছর বয়সে । কাকা সঙ্গীতাচার্য কৃষ্ণ চন্দ্র দে’র হাত ধরে মুম্বাই চিত্র জগতে আবির্ভাব হয়েছিল ১৯৪২এ । তারপর আর পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি । হিন্দি, বাংলা, মারঠি, দক্ষিণ ভারতীয় – নানা ভাষায় প্রায় চার হাজার গান গেয়েছিলেন মান্না দে । মধ্যচল্লিশ থেকে সত্তরের দশক হিন্দি চিত্রগীতির স্বর্ণযুগ হেমন্ত কুমার, মহম্মদ রফি, মুকেশ, তালাত মামুদ, কিশোর কুমার’এর গানে, মান্না দে সেই স্বর্ণযুগের শেষ প্রতিনিধি ।

বাংলা গানের জগতে তাঁর প্রবেশ অবশ্য এক যুগ পরে মধ্য পঞ্চাশে ১৯৫৩তে তাঁর প্রথম গ্রামফোন রেকর্ডে দুটি গান করেন ১৯৫৩তে । পরের বছর ১৯৫৪তে ‘গৃহ প্রবেশ’ ছায়াছবিতে নেপথ্য গায়ক রূপে প্রথম আবির্ভাব ।
‘দেহপট সনে নট সকলই হারায়’ নাট্য শিল্পীর মত সব শিল্পীর ক্ষেত্রেই বোধয় এটা সত্য । কবি জীবনানন্দের মৃতদেহ কলকাতার ট্রাম লাইনে পড়ে থাকে, অভিনেত্রী ললিতা পাওয়ারের শবদেহ তারই ঘরে আবিস্কৃত হয় মৃত্যুর কয়েকদিন পরে, গীতিকার পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের শব দেহ গঙ্গায় ভেসে যায় , নাট্যশিল্পী শম্ভু মিত্রকে শেষ শদ্ধা জানাতে বঞ্চিত হই আমরা ! সদ্য প্রয়াত মান্না দের দেহ তাঁর জন্মস্থান কলকাতায় আনা গেলোনা – শেষ শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পেলোনা তাঁর গুণমুগ্ধরা, আশেপাশে দেখা গেলোনা মুম্বাই- কলকাতার চিত্র জগতের কাউকে । এই অনাদর তো তাঁর প্রাপ্য ছিলো না !

শিল্পীর মৃত্যু হয়না , চিরজীবি হয়ে থাকের তাঁর সৃষ্টির মধ্যে – আমরা জানি । অর্ধ শতক ধরে আমাদের স্বর্ণকন্ঠের গান শোনানো মান্না দে চিরজীবি হয়ে থাকবেন । এই অকিঞ্চিৎকর কাব্য-পত্র ‘অন্যনিষাদ’ বিনম্র প্রণাম নিবেদন করছে প্রয়াত স্বর্ণকন্ঠ শিল্পীর প্রতি ।
মান্না দে  পথ চলা

পিতৃদত্ত নাম - প্রবোধ চন্দ্র দে

জন্ম ১লা মে ১৯২০ , কলকাতায়

১৯৩৭ মঞ্চে প্রথম সঙ্গীত পরিবেশন। স্কটিশ চার্চ কলেজে
           বার্ষিক সাংস্কৃতিক প্রতি যোগিতায় । আধুনিক গান ছাড়া সব বিভাগে
           প্রথ স্থান দখল । হাতে কলমে সঙ্গীত চর্চা শুরু কাকা কৃষ্ণ চন্দ্র দের কাছে ।

১৯৩৯ ওস্তাদ দবীর খাএর কাছে সঙ্গীত শিক্ষা শুরু ।

১৯৪০ সুরকার হিসাবে প্রথম আত্ম প্রকাশ । সুপ্রীতি ঘোষের কন্ঠে
        তাঁর সুরারোপিত প্রথম গানের রেকর্ড ।

১৯৪২ কৃষ্ণ চব্দ্র দের সহকারী সঙ্গীত পরিচালক রূপে হিন্দি চিত্র জগতে প্রবেশ ।

১৯৪৩ সুরাইয়ার সঙ্গে দ্বৈত কন্ঠে প্রথম প্লে ব্যাক তমান্নাছায়াছবিতে ।

১৯৫৩ (১৮ ডিসেম্বর) শ্রীমতী সুলোচনা কুমারনএর সঙ্গে বিবাহ

১৯৫৬ (১৯ অক্টবর) জ্যেষ্ঠ কন্যা সুরমার জন্ম

১৯৫৮ (২০ জুন) কনিষ্ঠ কন্যা সুস্মিতার জন্ম

১৯৭১ পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত

১৯৮৫ মধ্য প্রদেশ সরকার কর্তৃক লতা মঙ্গেশকর পুরস্কারএ সম্মানিত

১৯৮৮ রেনেসাঁ সাংস্কৃতিক পরিষদঢাকা প্রদত্ত মাইকেল সাহিত্য পুরস্কারএ সম্মানিত ।

২০০৩  পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রদত্ত আলাউদ্দীন খানপুরস্কার 

২০০৪  রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত সান্মানিক ডিলিট উপাধি

২০০৫ পদ্মভূষণ সম্মান

২০০৭         দাদাসাহেব ফালকে সম্মান

২০০৮  সান্মানিক ডিলিট উপাধি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রদত্ত

২০১১  পশ্চিমবঙ্গ সরকার প্রদত্ত বঙ্গ বিভূষণ সম্মান

২০১১ ফিলম ফেয়ার প্রদত্ত সারা জীবনের স্বীকৃতিসম্মান ।

২০১২ (১৮ই জানুয়ারি) স্ত্রী সুলোচনার মৃত্যু

আমি যে গান গেয়েছিলেম ...

বাংলা  ১২৬২টি গান - ছায়া ছবিতে ৬১১, গ্রামফোন রেকর্ড ৩৫৬টি
                রবীন্দ্র সঙ্গীত ৪৬, দ্বিজেন্দ্র গীতি ৮৪, শ্যামা সঙ্গীত ২৩
                আকাশবাণীর স্টুদিও রেকর্ড ২৩, অপ্রকাশিত ছায়াহবির গান ১০৩, টিভি 

সিরিয়াল ৩, অন্যান্য গান ৩৩

অন্যন্য ভারতীয় ভাষায় ছায়াছবির গান

ভোজপুরি ৩৫, মগধি , মৈথিলী

পাঞ্জাবী ছায়াছবি ১৩, অন্যান্য

অসমিয়া ছায়াছবি ২, অন্যান্য

ওড়িয়া , কোঙ্কনি , সিন্ধি ১

গুজরাটি ৮৫, মারাঠী ছায়াছবি ৫৫,অন্যান্য ১৫

কানাড়া

নেপালি

এবং হরিবংশ রাই বচ্চনএর কাব্যগীতি সংকলন মধুশালা





        
মন থাকবে না যাবে

এ পারে জীবনপুর
ও পারে অতীতগঞ্জ
তার শব্দহীন সুরেলা যাত্রা
নদী আড়মোড়া ভাঙে
জোয়ারের গানে
অপেক্ষারত ফেরিঘাট
শূন্যতায় ছেড়ে যায়
কে
কে
জলসাঘরের ঝাড়ে
নিভে যাওয়া আলোয়
সিন্ধুর ওপার থেকে
রাত জাগা দুটি চোখে
কবিতা ভাসায়
তবে কি শূন্যতা
ঈশ্বরের ডাকনাম
কিংবা বিরহী গলার গান
দুঃখ আমাকে দুঃখী করেনি
করেছে রাজা সাজা....!


তিনটি অনু কবিতা
গান চিরন্তন
       
         এক

শব্দ অশ্রু হতে পারে
কথা হতে পারে প্রিয় নদী
শুধু সেই কথার কলিতে
তোমার স্পর্শ থাকে যদি
         
          দুই

গান তার ঘিরে রাখে প্রাণ
সুরে স্বরে কত অভিমান
কাঁটাকে পাপড়ি করে তোলে
কেউ কি কখনো তাকে ভোলে

          তিন

শব্দের সামর্থ্য হলে শেষ
জাদু সুর বলে ওঠে কথা
ডুব দিয়ে অতলে গভীরে
খুঁজে নেয় অপরূপ ব্যথা


About