এই সংখ্যায় ২৬টি কবিতার লেখক সূচি – সরদার ফারুক, নিষাদ নয়ন, তাপস কিরণ রায়, শর্মিষ্ঠা ঘোষ,অঞ্জন খান, অয়ন দাশগুপ্ত, ঊষসী ভট্টাচার্য, অরিন্দম চন্দ্র, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, মামনি দত্ত, সুবীর সরকার, আদেল পারভেজ, সুমী সিকনদার, বেবী সাউ, মাশুদ আল করিম, শুভেন্দু দেবনাথ, জয় সেনগুপ্ত, আহমেদ মুনীর, ওহায়িদা খন্দকার, রায়ান নূর, শিবলী সাহেদ, আরিফুল ইসলামও দীপঙ্কর বেরা ।

             কবিতা পড়তে সূচিপত্রে ক্লিক করুন

উৎসব

কাচের আধারে থাকা মাছের সাঁতার

খেলা নয় , মুক্তির প্রয়াস মনে হয় ।

মুদ্রাসুখী মানুষের চোখের কোটরে

জোড়া সাপ নাচে ।


অসময়ে মেলা ভেঙে যায় , ধূলো ঝড়ে

সার্কাসের তাবু ওড়ে ।

ধুতুরার ফুলে নেশা ধরে ;

ঘর নেই , ঘরে ঘরে কিসের উৎসব ?


উৎসবের রাতে

কেন এই গবেষণা উৎসবের রাতে ?

আলো হও , পাখি হও - খেলা করো বাতাসের সাথে ।

কতো নাচ জমা আছে পায়ের পাতায়

কতো আলোড়ন আছে অবচেতনায় ;

এইবার মেলে ধরো গোপন কোরক

তারার আলোয় জ্বলে পাথরের চোখ ।



যৌথজীবন

আবদ্ধ জলা আর আমি বয়ে চলেছি স্রোতহীন

তবু পুড়তে চাই শ্মশানের চিতাকাঠের বেদনে

চিতাভস্মের সাথে ধুয়ে নামিয়ে দাও আমাকে

আরো একবার। জল দিয়ে, জলের কাছে

মোহনার উৎসমুখের দিকে মুখ রেখে ভাসতে

ভাসতে পেরিয়ে যাবো নিকটবর্তী লোকালয়

আমার প্রথম জন্ম নদীকে ঘিরে, তাই সমুদ্রই

কেবলমাত্র হতে পারে অভিমুখের অধিগম্য

গন্তব্য- তোমার আমার যৌথসংসার-খেলা





বাড়িবদল


ঠিকানা বদলালে জানাকথা আমূল বদলাবে ঘড়িঘণ্টা টানাপোড়েন গ্রাফ

কবেকার কাচা টি-শার্ট মালিকানাহীন শুকোচ্ছে, নোনাবাতাসে হারানো ডিঙার পাল

চটেগ্যাছে অনুরাগরঙ , এখন স্মার্টলি বলেদিচ্ছ , ‘কিছুতেই কিছু যায়-আসে না



গা থেকে নুনজল ঝরিয়ে ইতিমধ্যে মিঠাজলে সাঁতার শিখেগ্যাছ দক্ষ ডুবুরি



ঠিকানা বদলালে কার্টুনবন্দী ভুলস্পর্শ ডাম্পকরে রাখাথাকাই দস্তুর

সেইকবে উড়েযাওয়া চুমুগুলো খোলাবুকে অশরীরীর মত আছড়ায়

এলোমেলো পড়েথাকে অক্ষর ইথারীয়প্রলাপ যেনএক বেহেড মাতালের



সাদা পাঞ্জাবি সহ্য হয়না আজকাল , ইচ্ছেকরে একটানে ছিঁড়ে বলি ,‘কেন’?



ঠিকানা বদলালে অবশ্যম্ভাবী বদলায় চিত্রনাট্য সংলাপ দুদিনের মোহ

বাড়িঘর ছেড়েগ্যালে পুরনো পাড়াতুত প্রেম খুঁজে ন্যায় নতুন প্রেমিকা

অযত্নে ফেটে যায় ঠোঁট , যেন কতজন্মের অধিকার হাতবদল হল



বাড়িবদলে গ্যাছে বোকা বাড়িটাই বোঝেনি এখনো , নভিস খেলুড়ে
অন্তর্ভেদ

যে স্কুল-বাড়ী কখনো আর তোলা হবে না – আজ তারই বিগত অপেক্ষায়,

কিম্বা অনতি গৌরবের অর্থহীন উজ্জাপনে, জমিয়ে চলেছো শুধু রঙিন কাগজ -

আর একের পর এক ধ্বংসের নিমেষগুলো বে-জবান

আজ দফন করছো তবে, মড়কে এভাবে...

অথচ, কে অথবা কারা, এবং কখন, কোথায় ও কীভাবে –

এসমস্ত সব প্রশ্ন সার অন্তঃসার

আমি জানতে পেরেছি; তোমাদের সংহার করা সময়ের অন্ধকারে

গা বাঁচিয়ে - এই আমি; যে কিনা অব্যর্থ পূর্বাপর ও অনাগত উৎসবের মধ্যস্থে

এক গোপন অভিশাপের মত অক্ষয় এক দেয়াল জুড়ে আছি...

অথচ এইমাত্র দ্যাখো, গলার শির ছিঁড়ে শব্দ-বিভোর

চেঁচিয়ে উঠলো অনতি এক পার্বণ -

অকস্মাৎ সহস্র অশ্বের উড়ানের ধুলায় জ্বলে উঠে নিভে গ্যালো

কত কত অনাস্বাদিত স্বর্গের আলো... এইমাত্র - অতীত হতে হতে

কারা যেন একসহস্র জমানো ধিক্কার ছুঁড়ে দিলো বাতাসে -

অথচ, তোমরা... তোমরা কেউ আমায় দেখতেও পেলে না - !





About