এই সংখ্যায় ২৭টি কবিতা লিখেছেন : সুব্রত রয়, অমলেন্দু চন্দঅদিতি সেন চট্টোপাধ্যায়অমিতাভ দাশসুমিত রঞ্জন দাশঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়মিত্রপক্ষ সাইসতীশ বিশ্বাসঅনুপম দাশশর্মারেবা সরকারপার্থ করমৌ দাশগুপ্ত,  সুবীর সরকারমিলন চট্টোপাধ্যায়শৌনক দত্ত তনুগৌতম সেনআসমা চৌধুরীচন্দন কৃষ্ণ পালচৌধুরী মুকিদসূর্যস্নাত বসুআরিফ ইজাজীতাপস কিরণ রায়দুখাই রাজঅভিলাষা দাসগুপ্তা আদক ও অনীক ত্রিবেদী ।


                                 
                                            সূচিপত্রে ক্লিক করুন
কবিতা

বুকের ভেতর মিশে থাকে যত নিবিড় কৃষ্ণচূড়া

খেয়ালী বাতাসে পাপড়ি ছড়ায় কিছু তার কবিতায়।


নিরঞ্জন


সময় থামেনা শুধু বাঁধা ধরা বরাদ্দটুকু ফুরোনর ঢাকে বাজে

বিসর্জনের বাজনায়


আকাঙ্খাই অর্ধেক জীবন

বাকিটুকু বাস্তু খোঁজা অ-সুখ যাপনে

পৃথিবী থামেনা

শুধু অনেক জমিন জুড়ে প্রচুর প্রত্যূষ পুড়ে পুড়ে লাল থেকে কালো হয়ে

নিভে যায়


অহংকারীর সংকট সমাপ্তিহীনতার জলে ভাসে

একান্ত অভ্যাসে

সে খড় মাটি রং জল মুহূর্ত বিষাদ ছুঁতেই শেখেনি


একটা গল্প শোনো

কানের পাশ দিয়ে শণশণ করে কেটে যেতে যেতে,

যেতে যেতে হাওয়ারা বলে গেলো... শোন, শোন,- ঠাট্টা , ঠাট্টা।

বৃষ্টি নামলো তখনই। তীক্ষ্ণ ফোঁটাগুলি চোখে মুখে গায়ে

ঠোনা মারতে মারতে বল্লো- ঠাট্টা রে, ঠাট্টা। বুঝবি কবে আর !

পা বাড়াতে পথ বলে উঠলো- সাবধান ! ঠাট্টা ।

জুঁই রাজনীগন্ধা বেলী গন্ধরাজ বাতাসে টিটকিরি ছড়িয়ে

খুব হাসলে। সে হাসিরা বলে গেলো... ওরে ও, শোন, ঠাট্টা !

আমি এবার স্থির হয়ে দাঁড়ালুম। আমার প্রত্যয়ী মন বলে উঠল-

আমার যে তোমাদের কথা অবিশ্বাস করতে ইচ্ছে করে !

অমনই কমলাডানাওলা ফড়িংটি নেচে নেচে এসে জিজ্ঞেস করলে-

কী তবে বিশ্বাস তোমার, শুনি ?

আমি পঞ্চমের সুরে সুরে গেয়ে উঠলুম- বন্ধুত্বে, বন্ধুত্বে , বন্ধু-তে ...

বন্ধু কি ঠাট্টা করে কখনো !


ঘাসফুল



কোন এক
স্বপ্নমাখান বিকেলে
সূর্য চলে যেতে
জ্বলে উঠলো ঘর-বাতিরা চারপাশে
গর্জন করে নীচে ছুটে যাওয়া বাসে, ট্রামে, গাড়ী, লরিতে


আমিও জ্বালালাম দীপ...এক এক করে অনেক
পুরানো অভ্যেসে...

প্রগাঢ় হয়ে উঠছিল চুলের গন্ধতেল আর
বুনো হাসনুহানার গন্ধ ...থরথর শ্বাসবন্ধ করে ছিল
বাতাস


আমার চোখে তাকিয়ে ঘন দৃষ্টিতে
সবকটি দীপ
এক ফুঁয়ে নেবালে তুমিই...


অমনি টাইলস্ এর মেঝেতে ফুটে উঠলো ঝাঁকঝাঁক
ঘাসফুল!



তোমার দূরের গুঞ্জরনে আমি ভেবে...ভেবেই নি
কেমন তাকিয়ে আছো দিঘি... জল থইথই চাউনি
আমার বুকের বাড়ে গতি
তোমার তৃষ্ণা-ভরা রাতি
এ এক আত্মসমর্পণ ... ভরা বৃষ্টির ছাউনি

আমার অবসরের কোণ...নীল... নীল পালক ওড়ান
আমার পাপড়ি ফোটা মন... এই ভরাট গলার গান
তুমি সব দিগন্ত টানো
হাওয়ায় ফাগুন আমেজ আনো
এ এক আত্মসমর্পণ...মাতাল... টলতে থাকা প্রাণ

তোমার প্রাণপ্রতিষ্ঠা লয়...বকুলফুলের মৃদু ঘ্রাণ
আমার ইতস্তত ভয়...আমার তীব্র চাওয়ার বান
সকল মেঘ উড়িয়ে নীল
তোমার হাসিটি খিলখিল
তুমি নদী হলে আজ...আমি ভাটিয়ালী গান



প্রতিটি দেখায় দাও উপহার, দাও জীবন
ঘাসফুল...বলো
সারাদিন, বলো কতবার
অনির্বাণ বসন্ত আর দীর্ঘায়ত বিস্তার
আমের সে মঞ্জরী দিয়েছে ঘ্রাণ
ছড়িয়ে ছড়িয়ে তোমার শরীরে ঘাসফুল?


সমুদ্র লোনা এলে ভিতরে আসতে দিও...
আমি যে এনেছি অল্প ভায়োলেট ছায়া এক
ছায়া অপসৃত ঈষৎ হলেও ভা'ত উজ্জ্বল উজ্জ্বল!


দেখবে সে ছায়া অগ্রাহ্য যায় না করা মমতা পরম...
আলতো করেই স্বপ্নিল রাখে যে চাদর...কুড়ানো স্বপ্নফুলে!


জানি আমি,
লাইন-ভাঙাচোরা এ কবিতা, কিচ্ছুটি নয়,
কিচ্ছু না-আনছে বয়ে...
শুধু
সূর্য ও পৃথিবীর একা একা কথা বলা থাকে যেই
সেরকম মন্দ্রধ্বনি এক
যার ধরনটাই অমন স্বপ্নময়...


স্বপ্নদেখা শেখানোয় দেওয়া থাকে নতুন জীবন,
দেওয়া থাকে উপহার, -- প্রতিটি দেখায়
কিছুটা পথ

কাগজে তখন স্বপ্নের অক্ষর।

আমি তার ছায়ায়, আবেশে

কতবার হাঁটু গেড়ে মঞ্চে

প্রণাম জানিয়েছি পাঠকের দরবারে

পথ হেঁটেছি কখনো

ছাপাখানার সাজানো সীসের ছন্দে

কখনো বা করজোড়ে বিলিয়েছি

কৃতজ্ঞতার ডালি, সব একা একা।


এসবের মাঝেই কোন একদিন

রোদ-ছাঁটা দুপুরদিনে প্রকাশনদীতে

স্নান করে তুলেছি শব্দের নীলপদ্ম

দু'হাতে জানিয়েছি স্তবস্তুতি,

শব্দহীন অরণ্যের পায়ে।

আজো দেখি সেই অমর কুয়াশা


পায়ে পায়ে এগিয়ে আসে তারা

প্রার্থনার গভীরে ভেসে যায়,

ভেজায় অক্ষর -

হারিয়ে যায় মনের গোপন পথ;


কুহেলী হদিস রাখে না, তার শুধু ভেবেই আনন্দ


শব্দের আরতী জানিয়ে যায় - আগুন একাকী জ্বলে।
প্রতিকূল                                                   
                                      ]
ছেঁড়া পাতার মত বোঁটায় ঝুলে আছে আমার পরাজয়

চোখ তার অবনত ঘাসের দিকে

আবছা অন্ধকারে পোকা আর কীটের আনাগোনা

প্রতিদিন নীল নক্ষত্র থেকে বাড়ছে দূরত্ব

পাখির ডানার শব্দ বিদ্রূপ করছে

চারদিকের বর্ণহীন ধূসরতার মধ্যে

সবুজের দিকে প্রসারিত হয়ে আছে দুটি কাঙাল হাত...    


অন্য সংলাপ

ফুটলাইটের বর্ণালী খানিকটা স্থির

আবছা পর্দায় আপ্লুত মুখগুলি ঠিক যেন

দক্ষিণখোলা জানলা

আর আমি মঞ্চের কেন্দ্রস্থলে দাঁড়িয়ে

সরু সুতোর ভর-এ সংলাপে মত্ত

কে আমি? অভিনেতা? সংলাপের মুখপাত্র ? না কি...

অর্থ-যশলোভী এক ঘেয়ো মানুষ !

কড় গুনে গুনে পাশে আছে, তাঁরা

রিহার্সালে শোনায় অভাবের ইতিকথা,

জানায় কেউ বা, প্রগাঢ় শ্রদ্ধা চরিত্রায়নের

তৃপ্ত মানপত্রে।

নাটক শুরু হয়। ঘড়ির কাঁটা নিয়ন্ত্রিত করে

জীবনের ঘাত-সংঘাতের পর্দা বদলে।

অভ্যাসের চেনা নামতায় হারিয়ে যায়

সামনে বসা সব দর্শকের মুখ।

হারিয়ে যায় আত্মপরিচয়ের দাম্ভিক পোষাকগুলো।

অনায়াসে অদ্ভুত সম্বোধনে আমায় নির্দিষ্ট করে সাজায়

বিক্ষত সমাজের নানান চরিত্রে সেই একম...

কৃষ্ণ সারথী নাটক..!

ঢেঁকি.....

ওরা এখন ধাতস্থ । নির্লিপ্তও ।

বদলে দেওয়ার সোহাগি রাতগুলো ঘুমিয়ে পড়েছে

টানাপোড়েনের টি.আর.পি সুমনের নূতন প্যাকেজে

ওঁনারা ডাকলে তেমন আর আসেন না


শাসনের রোয়াব তফাতে রেখেছে খরগোশদের

কারণের পাল্লায় ছিল ঘন যুক্তির নির্দেশ; এখন

আধাসেনারা বাদাম চিবোয়

জোরকদমে রাস্তার জিন পরিবর্তন অথচ

বদলায় না ক্ষমতার বেলচা মুখ

ঝিমানো কাগজে নীচু হয়ে আসে ভারী চোখ

আস্তে কাশো। ছেলের নাম কি রেখেছ  ?

শিলাদিত্য !




About