এই সংখ্যায় ২৯টি কবিতা । লেখকসূচি - রত্নদীপা দে ঘোষ, সুমী সিকানদার, সপ্তাশ্ব ভৌমিক, সৌমিত্র চক্রবর্তী, নাজনীন খলিল, শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, সতীশ বিশ্বাস, অদিতি চক্রবর্তী, ইন্দিরা দাশ, নীলদীপ চক্রবর্তী, সৌম্যজিৎ আচার্য, অনিমেষ সিংহ, বৈশালী মল্লিক, হরিশঙ্কর রায়, রেবা সরকার, দীপঙ্কর বেরা,  তানি হক, হাসান মেহেদি, ইমরুল হাসান সুমন, জয় ভাদুড়ী, মনোজিৎ কুমার দাস, আনোয়ার হোসেন, মণিকাঞ্চন ঘোষ, চন্দনকৃষ্ণ পাল এবং সম্পাদকীয় 'অন্তিম কৈফিয়ৎ' ।

           সূচিপত্রের ক্রমিক অনুযায়ী ক্লিক করে পড়ুন


অন্তিম কৈফিয়ৎ

কথাটা বলতে কষ্ট হচ্ছে না তা নয়, হচ্ছেতবে তা একান্তই নিজস্বযন্ত্রণার ছবিতো লেখা যায় নাএই সংখ্যাটিই সম্ভবতঅন্যনিষাদএর শেষ সংখ্যামনে হয়  অন্যনিষাদে প্রয়োজন ফুরিয়েছেচতুর্থ বর্ষের একাদশ সংখ্যায় পৌছে থেমে যাচ্ছিনা, শারীরিক কারণে নয় বয়সের ভার বুদ্ধিবৃত্তি কিংবা বিচারবোধকে এখনও বিন্দুমাত্র আচ্ছন্ন করতে পারে নি, আঁচড় কাটতে পারেনি মেরুদন্ডের ঋজুতাকেওতাহলে ?

শুরু করেছিলাম একটা স্থির লক্ষ্য নিয়েতা , বাংলা কবিতাকে আরো বেশি পাঠকের ঠিকানায় পৌঁছে দেওয়া  আর প্রতিষ্ঠিত কবিদের পাশে নবীনদের কবিতার প্রকাশ করে তাদের উৎসাহ দেওয়া । কিছুটা পেরেছি । এটা করতে পেরে আমি দারুণ তৃপ্ত

এখন মনে হচ্ছে যারা ভালো লেখেন তাদের একটা অংশের কাছে এটা কাম্য নয় । (তারা কিন্তু সংখ্যায় নিতান্ত কম) । কেউকেউ পরামর্শ দিয়েছে অমুকের কবিতা নেবেন নাআমি সেই পরামর্শ অগ্রাহ্য করেছিতারা চাইলেও কবিতা দেন না না দিতেই পারেন, কেননা কারো লেখারই কোন সাম্মানিক অর্থমূল্যতো দেওয়া যায় নাতাঁরা অনুরোধের প্রাপ্তি স্বীকারও করেন না আবার আগে কবিতা দিতেন কিন্তু দেওয়া বন্ধ করেছেন এটা মনে করেন যে তাঁর কবিতার পাশে অনেক অপরিনত কবিও স্থান পাচ্ছে এটা তাঁর কাছে অসম্মানজনক

অন্যনিষাদ প্রতি সপ্তাহে ২৫ থেকে ৩০টি কবিতা প্রকাশিত হয়প্রতি সংখ্যায় প্রতিষ্ঠিত নবীনদের কবিতার একটা ভারসাম্য রাখতে চেষ্টা করি (করতাম বলাই ভালো ) । সব কবিতা সমমানের হয় নাপ্রতি সংখ্যায় দুএকটা অপরিণত কবিতাও থাকে কিন্তু কেউ যদি মনে করেন তিনি প্রবীণ, তাঁর লেখা অমুকের কবিতার চেয়ে ভালো, সুতরাং সূচিপত্রের ক্রমিকে তাঁর আগে অমুকের নাম থাকা তাঁর কাছে অসম্মান জনক এর মিমাংশা করা আমার অসাধ্যকারণ বয়সের কারণে সরকারী দপ্তরে পদোন্নতি হতে পারে কিন্তু কাব্য-বিচারের ক্ষেত্রে সেই সূত্র খাটে না অনেকেই বলেন নাএকজন রাখঢাক না রেখেই বলে দিয়েছেন

দুএকদিন আগে অন্যনিষাদ প্রসঙ্গে জনৈক প্রতিষ্ঠিত কবি বেশ খোলসা করেই কিছু কথা জানিয়েছেনআমি তাঁর বক্তব্যটি হুবহু তুলে দিলামলিখেছেন সমীহ করি আপনাকেতাই, ঘটনাটি বলছিআমার জন্মদাতাকে জিজ্ঞেস করেছিলাম একবার, যদি তার আগে আমার জন্ম হতো, তবে কে কার সন্তান হতো?
সে যাই হোক, একজন সম্পাদকের উচিৎ: কার কবিতা কার আগে পরিবেশন করা হচ্ছে; তা কি জন্ম সাল তারিখের ক্রমানুসারে? নাকি রচনার উৎকৃষ্টতা অনুসারে (রচনার উৎকৃষ্টতা কোন মানদণ্ডে কে নির্ধারণ করছে ? )
বাংলাদেশের অনেক শিশুকে দিয়ে এদেশের অনেক প্রপিতামহকে অপমান করেছেন আপনি; তবু বার বার লেখা দিয়ে গেছি প্রশ্ন করিনি... নিজেকে প্রশ্ন করে দেখবনে: নাতি-কবিতাকে নানা-কবিতার চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হলে, সম্পাদকের যৌক্তিক ব্যাখ্যা থাকা প্রয়োজন কিনা...

         লেখক নিজেকে বাংলাদেশের কবিকুলের প্রপিতামহবলে দাবি করেছেনআমার বিস্ময় অন্য লেখদের সম্পর্কে এতো অসূয়া, এতো বিষ পুষে রেখেও কবিতা লেখা যায় !


      অতয়েব থেমে গেলাম, দুহাজার চোদ্দতেইআর কাউকে অপমানিত হতে হবে নাঅন্যনিষাদএর কাছ থেকেবরং ভালোই , নিজের পড়া সামান্য কলমচর্চার জন্য একটু সময় পেলাম । ‘অন্যনিষাদএর পাঠক পাঠিকা শুভানুধ্যায়ী সকলকে অন্তরের প্রীতি কৃতজ্ঞতা জানাই এতোদিন সঙ্গে থাকার জন্য

About