এই সংখ্যায় ১৯টি কবিতা , লিখেছেন - সরদার ফারুক, সুবীর সরকার,আকাশ দত্ত, অমিত কুমার বিশ্বাস, কে এন ইপ্সিতা, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, সাগর ভট্টাচার্য, হাসান মাহমুদ, ফকির ইলিয়াস, সানাউল্লাহ সাগর, দেবাশিস লাহা, গৌতম পাল, মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়, সুমন কুমার মল্লিক, দীপঙ্কর বেরা, হরিশঙ্কর রায়, মাসুদ খান, আবীর খান ও রায়ান নূর ।

সরদার ফারুক

অন্তরাল

অন্তরাল-উন্মোচন তুমিও তো জানো

কফিনের ডালা খুলে যেভাবে মানুষ দেখে প্রিয় মুখ

জাহাজের অলস কেবিনে যারা সুখী , তারা কেউ সমুদ্র দেখেনি

এক পাত্র মদ চেয়ে খালাসিরা শোরগোল তোলে

যারা খুব সাবধানী, সঙ্গে রাখে দেশলাই দড়ি পেট্রোম্যাক্স বাতি

সঙ্গমের আকুলতা নিয়ে কতো দরোজায় টোকা দিলে

ফোঁটা ফোঁটা মোম ঝরে অনাবৃত তোমার নাভিতে


লোকলন্ঠণ

কুয়াশার পর্দা উড়লো কোথাও

বিঁধেছ জড়ুল চিহ্ন,নির্ভরতা

ভাঙাচোরা জাতীয় সড়ক

কফিরঙের কফিন

মাঝখানে কিছু নেই

খোলামঞ্চে গান বাজে

প্রতিধ্বনি শুনছে শোকের
            
              ছায়া



মেরুন রঙের দিনলিপি

               

মায়াবী শহর থেকে ফেরা হয়নি
আর । ভেবেছিলাম শিমুলের ডানা
হয়ে উড়ে আসবে একদিন ।
বাতাসে বাতাসে পোয়াতি ঘ্রাণের
মতো ভালোবাসা কেবল আজও
অমলিন । ফড়িং উড়ে গেলেও
পাখনায় লেগে থাকে সবুজ গান
চিরকাল । আজ কেবল অন্ধ- বাসে
চলি একা একা তবু ।অলি গলি
শূন্য । ধু-ধু ।ঝরা পাতার
বিষন্নতায় মৌন শরীর থেকে নিভে
গেছে আতসবাজির ইশারা একে
একে । কিছু শুকনো ফুলের 'পরে
লালছবি-নীলছবি । তোমার
বহুজাতিক ভালোবাসার নীল
চকোলেটে পুড়ে গেছে বাঁশের বাঁশি ।
তবু রাধাকে খুঁজে বেড়ায়
রাখালেরা পাগলের মতো ।হেথা
হোথা । পরিশেষে নদীতে মুখ রেখে
কেঁদে ফেলে বেসুরো সন্ধ্যে ।
আমিও ।

            ২

বসন্ত ঠোঁটে নিয়ে ঝাঁকে ঝাঁকে
পাখি সহসা বসল শরীরের শাখা
প্রশাখায় । সুদীর্ঘ কান্না শুষে নেয়
নরম পালকের উষ্ণতা । এতদিন
কেবল ডুবে থাকা কাঁদামাটির নীচে ।
চুপিচুপি। জোছনাগুলো লুঠ করে
নিয়ে গেছে কবে কারা যেন ।
রূপালি ডানার নীচে কথাগুলো
ফ্যাকাসে প্রাসাদের মতো দাঁড়িয়ে
অদূরে । একটা সাপ সিড়ি বেয়ে
ক্রমশ উপরে উঠে যায় । শিস দেয় ।
সহসা কেঁপে ওঠে শরীর । নগ্ন
আত্মারাও হাহাকার করে ওঠে ।

উড়ে যায় সব সব সব । একে একে ।
পিছুটান

আকাশের চৌকাঠ পেরিয়ে
কে যেন ডাকছে তোমায়
বৃষ্টির মত
নিশ্চিত জানি
কিছু সেকেলে প্রবেশ
জাগিয়ে দিচ্ছে তোমার ঘুম
অবেলায়
তুমি
আলুথালু ঠিকানায়
একের পর এক তুলে নিতে ব্যস্ত
মেলে দেওয়া মন
ভেজার ভয়ে......


পোকা এবং গান

আমি গানের জন্য কাঁদি এক একটা গান আমাকে শেষ করে,
কবিতা গান নয়-
আওয়াজ থেমে গেলেও কবিতা পাক খায় গভীরে।
তোমার জন্য কি করতে পারি বলে যারা
কিছুই পারে না তারা,
ভরসা যারা দেয় তারা ভরসা ছাড়া কিছুই দেয় না,
করিডোরের মাঝখানে লিফট লিফটের সামনে লাইন,
ওপাশে চাকরি মানে লটারি মানে ছাপানো গান্ধিজী।

আমি গানের জন্য কাঁদি এক একটা গান আমাকে শেষ করে,
লিফটের সামনে সন্ধ্যে নামে আলো জ্বলে,
টিউব লাইটে ধাক্কা খায় অজস্র পোকা,
একটু দূরে ক্রমশ আলমারি থেকে খুলে যাচ্ছে স্ক্রু ভেঙ্গে যাচ্ছে কাচ,
বেরিয়ে আসছে কাগজের ছাইপাঁশ এবং কিছু কবিতা।

কলম সেদিকে যায় যেদিকে ভালো লাগে তার,
ব্রিফকেস তুমি কি লেখার টেবিল হতে চাও?
অজস্র পোকা নামে টিউবলাইট থেকে,
অসংখ্য পোকারা লিফটের লাইনে,
তাড়া তাড়া ছাপানো গান্ধীজী ছুটে চলে যায় কবিতা থেকে অনেক দূরে।

আমি একটা গান খুঁজি কাঁদবো বলে।


আবহাওয়া অধিদফতরের অভিভাষণ

দুপুরের পর বৃষ্টি থামতে পারে।
উত্তর আকাশে আবারও উঁকি দিতে পারে সূর্য।এমন
সংবাদ শোনার পর বৃষ্টির প্রতি বেড়ে যায়
আমার দরদ।
আজ সকালে ভিজেছি বেশ।
ছাতাহীন পাতাদের শরীর থেকে চুইয়ে
পড়ছিল যে জল, তার দিকে তাকিয়ে
আঁকছিলাম
জলেশ্বরির ডানাহীন স্কেচ।
বড় ভালোবাসতাম তাকে।
উড়তে পারতো না জেনেও তাকে ডাকতাম
উড়াল পঙ্খি।
সেকথা এখন বিগত ইতিহাস। মাঝে মাঝে
অতীত এভাবেই আমাদের পেছন দরজায় দাঁড়িয়ে
উঁকি দেয় সূর্যের মতোই।
আবহাওয়া অধিদফতরের অভিভাষণ
শোনে আমরা জেনে যাই, বসন্ত
বিদায় নিচ্ছে। আসছে গ্রীষ্ম।
কালবৈশাখির ছোবল উড়িয়ে নিতে পারে
খড়ের বৃদ্ধাঙুলি,মধ্যমা,কনিষ্ঠা। তারপরও তর্জনী
উঁচিয়ে বেঁচে থাকবে বৃক্ষ,থামবে ঝড়-
এই প্রেমপরিধানে আমরা বার বারই
করি ঋতুমালা বদল



About