এই সংখ্যায় ২৫টি কবিতা । লিখেছেন রণদেব দাশগুপ্ত,সঞ্জয় দাশগুপ্ত,সৌমিত্র চক্রবর্তী,অয়ন দাশগুপ্ত, সুবীর সরকার,শ্বাশ্বতী চক্রবর্তী,ওহায়িদা খন্দকার,উদয় শঙ্কর দুর্জয়,মাসুদার রহমান,ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়,অমিত বিশ্বাস, অপর্ণা গাঙ্গুলী , বচন নকরেক, অরূপম মাইতি, সৌরেন চট্টোপাধ্যায়, মৌ দাশগুপ্তা, পীযূষকান্তি বিশ্বাস,গৌতম সেন,হরিশঙ্কর রায়,রিয়া চক্রবর্তী,দীপঙ্কর বেরা,অরুণ সেনগুপ্ত ও সাগর ভট্টাচার্য ।

               পড়ুন পৃষ্ঠা অনুযায়ী অথবা সূচিপত্রে ক্লিক করে

সাঁকো পেরোনোর গান

দেওয়ালরা ভেঙে যাচ্ছে
তোমাকে কোথায় জানবো
আকাশে জ্বলছে নিদ্রা
ছিঁড়বো জটিল অভ্যাস |

কারা যে পাথর ছুঁড়ছে
প্রাক্ ইতিহাস শিকারে
অজস্র ভুল বাঁধছে
মানচিত্রের সংকেত |

সুড়ঙ্গ ঘন আঁধারে
হাতড়ে আলোর গন্ধ
অমিত্র মানে বুঝেছি 
নদীর ওপারে প্রাঞ্জল |

সাঁকো পেরোলেই সন্ধে
কোন্ তারাটিকে ডাকবো
পথ মানে তবে দু-পায়ে
ক্রমাগত এই মন্দন |

তবু একবার এ হাতে
কুঠার গাইবে শেষ গান
সেতুবন্ধনে যুক্ত
তোর ভুলে যাওয়া উজ্জ্বল |

বাতাসে ঝড়ের উল্লাস
চাপা হুংকারে অন্ধ
সাঁকো পেরোনোর শেষ গান
কোথায় রেখেছো উত্স ?

স্বীকারোক্তি

তোমাকে আর কি বলি ?
জামাটা এক মৃত বন্ধুর
আর পাৎলুনটি এক ব্যর্থ কবির ।
বুকপকেটের কলমে
একরাশ মিথ্যে লেখার তরল মায়া ;
যেগুলোকে অনেকে
কবিতা ভাবে ।

কিন্তু তুমি তো জানো,
ও দিয়ে লক-আউটের কারখানা
বা দক্ষিণের জানলা
কোনোটাই খোলা যায় না ।

এখন তাই একটা
ডিভাইডার আঁকছি বুকের মাঝখানে ।
যাতে সবাই বুঝতে পারে__

আমার দ্বারা কী কী হবে না ॥




নিরুদ্দেশ থেকে থেকে...

নিরুদ্দেশ থেকে থেকে

ক্রমে নেশা ধরে গ্যালো একদিন...

আর অসুখ যেটুকু যা ছিলো অবশেষ - গিয়ে আশ্রয় নিলো

এক চাঁদের ক্ষুধায় -


এখন কালো মাটির তালে রাত্তির থিতনো;

এখন

অব্যাহতি নেওয়ার মত আঁধারও নেই কোনো...



একটা পরিসমাপ্তিও যদি এমনধারা উদযাপন চায়,

তবে কোন্‌ মুখে তাকে

পথ দ্যাখাবে আলো - ?

আমি একটি নদী লিখতে চাইছি...

মুহুর্ত দিয়ে তৈরী করছি জল,
দেখা দিয়ে বানালাম পাড় –
আর, অদেখাকে রাখলাম বাঁকের ওপাশে...
আলো-আঁধারি রাতগুলো দিয়ে
লিখতে চাইছি ঢেউ,
কর্মব্যস্ত দিনগুলো দিয়ে
তার বুকে লিখতে চাইছি
একটা ডিঙি –
আর, আমার সব গানগুলো দিয়ে
লিখে দিচ্ছি তার প্রবাহ...
হাসি আর কান্নাগুলো
দু’ধার থেকে মিশিয়ে দিচ্ছি জলে,
অপেক্ষাগুলোকে গাছের মত
সাজিয়ে দিচ্ছি পাড়ে,
ইচ্ছেগুলো দিয়ে লিখছি গাঙচিল –
আর, স্বপ্ন দিয়ে ভরাচ্ছি ওপরের আকাশ...
আবেগ দিয়ে জোয়ার,
আর ক্লান্তি দিয়ে ভাঁটা লিখলাম –
মুগ্ধতা দিয়ে লিখলাম
তার ছন্দময় এগিয়ে চলা...
বোঝাপড়া দিয়ে লিখে দিলাম
এপাড়-ওপার জোড়া সাঁকো...
আমি একটি নদী লিখতে চাইলাম...



টুটাফুটা গেরস্থালির রংচটা উপকথা

সাঁঝবিহানের আকাশটা গাঙাইলো,
ভরা মাসের সূয্যিঠাকুর লুকাইং গেল
ম্যাঘবিছানায় চাদর উরে,
আর তড়াং কইরে ফুটফুটালির বাপ
চিচাইন দিল বড় মালের লিশা
চাপলেক রে মাগী।
ক চাঁদ দেখলম এ দুনিয়াদারি
কড় গুনে আর বইলতে লারি,
দশট দিনও ফুরফুরায়েঁ চলে না
ইদিক উদিক গুল্লাবাজী
ইঁটাভাটা, লফঙ্গাকাজ,
রাতবিরেতে ফুটফুটালির বাপট মাতাল
লিশার চাপট মাথায় চাপে,
নিয়ম কইরে পিটাইন পদে
গ্যাঁজলা মুখে আইঙ্গনা ধারে উল্টাইন যায় ;
ঠিক তখনই বড় টরচের আলো
মুখের উপর পনদের উপর
টান মেইরে ল্যাংটা করে,
তারপদ্দিন দুমুঠা ভাত ...
আহ উরে সোনমুগুলি ভাতের গন্ধ
বডই মিঠাস, লুনের ছিটায়।
বছর বছর বিয়াইন যেছি
কুনট যে কার বুইঝতে লারি,
আমিই শালু ডবকা মাগী
বুইঝতে লারি মানহুষ বটি
নাকি শুধুই সম্পত্তি!
আকাশ শুধু গাঙাইং গেলে মাথায় ঢুকে
আজকে রাতেও ঘুম চৌপট,
খালি পেটেই পাতার ঘরের জলকে বাঁচি,
বচ্ছরকার পরবপিঠার সুবাসটুক্ও
কাটাইন পালায় এ গায়েরঁ তরসীমানা,
হে ভগমান তুইও বাবুর দারমান হলি!


বৃওান্ত


এও এক বৃওান্ত,চেনা মাঠে
                    
                সিরিজকবিতা

গতিশীল হতে চাইছে যারা

তাদের জন্য  জলরাশি

হাহাকার ফুটিয়ে তোলে
               
                হারমোনিয়াম



স্বপ্ন ছিলো

মেঘ কেমন কুলকুচি করে ফেলে দিচ্ছে জল,
তা দিয়ে ভরে উঠছে পুকুর।
সূর্যের মুখখানা আমসি,
কাঁধে ঝুলি ফেলে
পথ পেরচ্ছে দুপুরবেলা
একলা ছেলে,
ওই যে ওই গাঁ-যেখানে সবুজ দেখা যায় নীল হয়ে এসেছে আকাশ মেখে..ওই, ওইখানে তার কাহার বাড়ি।
এরপর আবশ্যক একটি বন পড়বে পথের মাঝে,
ছেলেটি পুঁটুলি খুলে খাবে
আর ঘুমোলেই
তাকে ঘিরে ধরবে দত্যি-দানো?

না আমার গল্পে বাছা সেটি আমি হতে দিচ্ছিনা,
তার চেয়ে যে গাছের তলায় ও শুয়েছিল
সেই বৃক্ষমাতা ওকে বাতাস দিক, দূর দীঘি থেকে সে বাতাসের মধ্যে শান্ততা..
তারপর নাহয় একজোড়া ব্যাঙ্গমা~ব্যঙ্গমীকেই
বসিয়ে দেবো ডালে,
তার অর্ধেক রাজত্ব আর ঘুমন্ত রাজকন্যার হদিস বলে দেবে,স্বপ্নে জানাবে
কেমন করে  গাছের শেকড় বাম হাতের কনিষ্ঠা দিয়ে ছুঁলেই
ঘুরে নামতে থাকবে গাছ তাকে নিয়ে..
সেখানে এক নতুন দেশ,
প্রত্যেক পাতে সেখানে অঢেল সাদা ফুল।
সেখানে দুপুরবেলা মা কে যেতে হয় না বাবুর বাড়ি,
মাজতে বাসন,
সেখানে চাঁপাকলির মতোন রাজমেয়েকে পেতে নাহয় কঞ্চির ধনুক দিয়ে
করবে সে একটা মস্ত যুদ্ধু..
.
.তারমধ্যেই পাখির ডাকে ঘুম ভেঙ্গে উঠে বসে ছেলেটি, আমার গল্পকেও ভাঙ্গে,
উঠে দাঁড়ায়, আস্তে আস্তে অর্জুনবাকলের মতো খসিয়ে
সুকুমার নরম, একপা কিশোর, একপা যুবক~নক্ষত্র হতে হতে হতে
দিগন্তরেখায় মিলিয়ে যায়।


কাদের জন্য লিখবো কবিতা

আমি কাদের জন্য লিখব কবিতা
কে শুনবে আমার কথা?
তোমারা তো শরীর থেকে খাবলে নিচ্ছ মাংস
ভেঙ্গে দিচ্ছ বুকের পাজর, চোখ উপড়ে ফেলছ।
যে রোদ্দুর বৃষ্টি নীচে মাথা বাঁচাতে চাওয়া
সেখানে এখন ভয়ার্ত রাত খেলা করে,
যেখানে আর্চনার বেদীতে চাওয়া পাওয়ার
মানত ঝুলে থাকতো সেখানে যুদ্ধ বিদ্ধস্ত বিরান ভুমি,
ভয়ানক অন্ধকার নিশ্চুপ নির্লিপ্ত
তবু আর্তচিৎকারে কেউ আসেনা ছুটে।

আমি কাদের জন্য কবিতা লিখব, কাদের জন্য ছড়াব আলো?
তারাতো আজ নেমেছে ভুলের সাথে সন্ধি করে
কিছু ভুল শিক্ষায় অনুধাবিত হয়ে
নেমেছে উলঙ্গ তরবারি হাতে, তারাতো আজ
লিখিয়েছে নাম পৃথিবীর পথে পথে।

কাদের জন্য লিখব কবিতা, কাব্য কুঞ্জ ভরিয়ে দেবো শোভা তলে?
কাদের জন্য তুলে রাখব গুহ্য বর্ণমালা
তারাতো আজ কুশিক্ষা বুকে ধারন করে নেমেছে রাস্তায়
জ্বালিয়ে পুড়িয়ে ছারখার করবে বলে পণ করেছে।
তারাতো সম্বলহীনদের ছুড়ে ফেলে দিয়েছে আস্তা কুড়েয়
ওরা আজ সুরের সাথে তাল মিলিয়েছে
ওরা আজ আমাদেরকে নিঃস্ব করে ফিরিয়ে দিয়েছে।



About