এই সংখ্যায় ২০টি কবিতা । লিখেছেন - অরিন্দম চন্দ্র,সপ্তাশ্ব ভৌমিক, জয়ব্রত বিশ্বাস, সুজাতা ঘোষ,সতীশ বিশ্বাস, হরপ্রসাদ রায়, দেবাশিস লাহা, ফারহানা খানম, জয় চক্রবর্তী, শেখর কর, সৌরেন চট্টোপাধ্যায়, বচন নকরেক, অরবিন্দ দত্ত, শশাঙ্ক শেখর পাল, অরুণ সেনগুপ্ত, হরিশঙ্কর রায়, ইলা সরকার, নির্মলেন্দু কুন্ডু, নীলরতন চক্রবর্তী

মার্কেজ ২০১৪

পরকীয়া যে শাণিত মৃত্যু আনে
সশব্দে ওড়ে শয়ে শয়ে পায়রা
বিগতযৌবন যে সঙ্গম বয়ে আনে
এমন সময় কই ?
ডানা মেলা সেই স্থবির নুব্জতা
মুরগীর খাঁচা ঘিরে ধরে
হাজার হাজার চোখ-
এমন সময় কই ?
নগরপাল যে মায়ের শয্যা
মথিত করে, চোখ গেলে দেয়-
যে চিঠি আজও আসে না
এমন সময় কই ?
স্মৃতি শুধু স্মৃতি অজস্র বেশ্যার
স্মৃতিময়তাই হয়তো বা বহতা-
জীবন যতই সুপুষ্ট হোক আজ
হায় সে সময় আজ আর সে কই ?

বৃষ্টি চেয়ে

এ শহরে শুধু মেঘের আনাগোনা,
বন্ধ্যা মাটির সতৃষ্ণ আকুতি,
নিষিক্ত করা বৃষ্টির দিকে চেয়ে
পরাগ রেণুরা সারাদিন কেঁদে যায়।
মাটির নীচের বিষ ও শুকিয়ে মরে,
উষ্ণ বাতাস উল্লাসে ছুটে যায়,
তিলোত্তমা এ শহর জুড়ে আজ
বিজ্ঞাপনই বর্ষার ছবি আঁকে।




লাশ

অকারণে কথা দিয়ে
বিপদের ঝুঁকি নিয়ে
বলা
সব কথা ভুলে গিয়ে
দাসখত হাতে নিয়ে
চলা
মন হোক যত কালো
সব থেকে এই ভালো
চুপ
গুন গুন গান গাও
ঘরে বসে শুধু খাও
সুপ
বুকে যদি ব্যথা ধূধূ
আয়নায় দেখো শুধু
মুখ
আর কোনো পথ নেই
পেতে হবে এভাবেই
সুখ

সম্মোহন

কে কাকে এড়িয়ে চলে
কে কাকে জড়িয়ে ধরে
পথে
কে কাকে মাড়িয়ে চলে
কে কাকে আঁকড়ে ধরে
রথে
এ যেন গোলক ধাঁধা
কে দেবে গোপনে বাধা
রাতে
কার হবে পরাজয়
ছিনিয়ে কে নেব জয়
দাঁতে
সব যেন ভোজবাজি
কে কত কাজের কাজি
দেখা
জানি খুব কম পুঁজি
তবুও তোমাকে খুঁজি
একা



তেজ চল

ঈশ্বরের চেয়ে বাড়িয়ে নিতে চাই সহনের বাঁধ
মাথার ভিতর নিয়ত লাভা ছিটায় আগ্নেয়গিরি
নিষ্ক্রান্ত বলকণারা ফোটাতে থাকে তরলিত চেতনা
উপপাতনে পড়ে থাকে দোহারা বালিচর
বালিচরের নিথর হ'য়ে যাওয়া ঢেউয়ে ঢেউয়ে
জেগে ওঠে অনুভাবনার অধিশীর্ষেরা উদ্যমী হাওয়ায়
প্রশমিত হয় চলিষ্ণু শক্তিশেল উৎপাদনের সোপানে --
তোমার নিস্ফলা জমিতে ব'সে ব'সে
বাড়িয়ে নিতে চাই সহনের বাঁধ প্রলম্বিত লক-আউটে
তীব্রতর উত্তাপ ক্রমশ ঝিমিয়ে দিতে থাকে পত্রফলক
ঈশ্বরের চেয়ে বাড়িয়ে নিতে চাই সহনের বাঁধ --
সমান্তরাল রেখায় ছোটে প্রতিরোধ
উদ্বৃত্ত মননে জাল বুনি নন্দন-কাননে ।



সুভশ্রী

 এ যাত্রায় বেঁচে গেল সুভশ্রী
আর ছেড়ে যেতে হবে না ভালোবাসার মানুষটিকে।
সখ করে ঘর বাঁধা ..................
অন্য জাত, অন্য প্রার্থনার প্রধান, অন্য রুচি .........
তা সত্ত্বেও সকলকে হারিয়ে ঘর বেঁধেছিল।
ভেবেছিল জিতে গেছে।

না, এত সহজে জিত আসে না কারো জীবনে।
ভালোবাসার মানুষটিকে সামলে সাবধানে রাখতে
হয়েছিল অনেক কসরত করে।
তখনও ভেবেছিল বেঁচে গেছে  সুভশ্রী।

আজ আর একবার
বিয়ের ঠিক দশ বছর পরে ...............
যখন প্রায় ভাঙব ভাঙব সুর উঠেছে
হঠাৎ হাতে এলো সকালের চায়ের কাপের পাশে
ছুঁড়ে দেওয়া ইংরাজী খবরের কাগজ
আজ হাসপাতালের বিছানায় শোওয়া
ওর ছেলের জন্ম দেওয়া মানবীকে প্রনাম করতে
ইচ্ছা করছে সুভশ্রীর।

আর দরকার নেই তিনটি ভিন্ন মাপের
কৃত্রিম ধারক এর।
আজ থেকে শুধুমাত্র নিজের শরীর নিয়েই
হেঁটে চলে বেড়াতে পারবে সে।

মনে আছে তার, কত চোখের জল ফেলে
রাজি করিয়েছিল মানুষটিকে,
অবশেষে দিয়েছিল সে তার ঐরস............
আজ সে সম্পূর্ন নারী .....................
এবার সত্যিই বেঁচে গেল সুভশ্রী ।।



অভাব

কেন সত্যি কথাটা বলতে পারি না    
কেন মিথ্যাকে সত্যি আর সত্যিকে
মিথ্যা বলে ঘোষণা করি!
সে কি নিজের বৈদগ্ধ্য দেখাতে? হয়কে নয় প্রমাণ
করার আনন্দে?
কাউকে তোষণ করতে?
কারও ভয়ে?  
কিছু পাওয়ার লোভে?
 না কি- পরোক্ষে আত্মরক্ষা করতে?
 আসলে এ সবই অজুহাত
দায়ী আমি নিজে  
এ আমারই দৃঢ়তার অভাব  
এ আমারই সত্যকে আশ্রয় করে থাকার অক্ষমতা
 সত্যকে নোঙর করতে শখিনি বলেই
 ছোট ছোট স্বার্থের ঢেউয়ে এত সহজে ভেসে যাই



পরিধির বাঁকে

খালি হাতে কে আসেনি একা এখানে বলতো ?   
খালি হাত হওয়া দোষ বা গুনেরথাক  
ভুল-- সত্যি, অধিকারে ভাগ বসাতে চাওয়াটা, বেশ 
কিন্তু কে বলে, অধিকার কতটুকু !

পৃথিবী বেচারি  ঘুরপাক খায় একা
ব্যস্ত সবাই নিজেরটা সামলাতে 
ভাগবাটোয়ারা রুটিগুলো নাকি খাদকের নামে লেখা
অনেক খুঁজেছি, কিন্তু পেয়েছি নামহীন রুটিটুকু।

ক্ষমতাবানের দৃঢ়তার ঘুণ রহস্যময়  
প্রাচীর আড়ালে আদলের খোঁজ প্রতি নিয়ত  
না বলা ইচ্ছে,কথার আঁধার ধার ধারে না
তোষণ প্রবণ ক্ষমতার পথ শেষ হয় এসে  
ব্যাপ্ত উঠোনে 
ঘোরা পৃথিবীটা সাজেগোজে বেশ কাগজ ফুলে   


প্রয়োজনহীন অনেক রুটি বাসি পচে যায় একটা পাশে

একটু দূরেই,  
বাঁকা পৃথিবীর অন্য পাশে
অনেক মুখেরা রুটি খুঁজে যায়
পরিধির বাঁকে, হয়ত ভুলে, নিজস্ব ভুলে।   

*** *  ***



স্বাতী এক নক্ষত্রের নাম

" মানুষের সাথে তারাদের বন্ধুত্ব হয় না কখনও "---
এই বলে মেঘের আড়ালে ফের ডুব দিল স্বাতী !
ঠিক তখনই নিচে আশ্বিনের মাঠে ডুকরে কাঁদল এক সবুজ বালক,
কলমির বন ঘেঁষে থেমে গেল নদী !
সঙ্ঘারামে ফিরে গেল জোনাকির ঝাঁক,
মানুষের সাথে তারাদের বন্ধুত্ব হয় না কখনও ---এই জেনেই তো ফড়িঙেরা দ্রুত মরে যায় !
কাঁঠাল গাছে আটকে থাকে ভোকাট্টা ঘুড়ি !
রঙিন মার্বেল ছুঁয়ে কান্না ফিরে আসে !
তবু কি আশ্চর্য দেখো !
তারাদের নাম সব মানুষই তো রাখে !
স্বাতী, পৌলমী, অরুন্ধতী, আরো কত কি !
এভাবেই তারারা সব নারী হয়ে যায় !
মহাকাশে পাড়ি দেয় শিশুদের চোখ !
কোনো মুখ ধ্রুবতারা হয়ে গেলে তবেই তো বেঁচে থাকা সহনীয় হয় !
তবু মানুষের সাথে নক্ষত্রের সখ্যতা হয় না কখনও !
পাথুরে হৃদয় স্বাতী বহু দূর থেকে শুধু মানুষের মরে যাওয়া দেখে


About