এই সংখ্যায় ২৭টি কবিতা । লিখেছেন - অমিত বিশ্বাস, অমিত সরকার, সৌমিত্র চক্রবর্তী, সুবীর সরকার, অরিন্দম চন্দ্র, সপ্তাশ্ব ভৌমিক, শৌনক দত্ত, অনুপম দাশশর্মা, নাজনীন খলিল,দেবাশিস মুখোপাধ্যায় সাঈদা মিমি, সুব্রত পাল, সতীশ বিশ্বাস, তপন মন্ডল, অমিতাভ দাশ, বিপ্লবপ্রিয় গিরি, দীপঙ্কর বেরা, সাহুল আহমেদ, তন্ময় গুপ্ত, শ্রাবণী বসু, দেবাশীষ সরকার, মৌসুমী রায়, নীলরতন চক্রবর্তী, পঙ্কজ ভট্টাচার্য, আবীর খান ও সুব্রত মুখোপাধ্যায় ।

সব কবিতা পড়ুন, পৃষ্ঠা পালটে কিংবা সূচিপত্রে ক্লিক করে

৩য়বর্ষের ৩৬তম সংখ্যা প্রকাশিত হ’ল । পাঠক নিশ্চই লক্ষ্য করেছেন গত কয়েকটি সংখ্যা থেকে পত্রিকার প্রতি সংখ্যায় ২৫ থেকে ৩০টি কবিতা প্রকাশিত হচ্ছে । এই সংখ্যাতেও ২৭টি কবিতা দেওয়া হয়েছে । এবং জানিয়ে রাখি এতগুলি কবিতা প্রকাশের পরেও বেশ কিছু কবিতা হাতে থেকে যায় পরের সংখ্যার জন্য । মাত্র সাত দিনের ব্যবধানে এতো সংখ্যক কবিতা হাতে এসে যাওয়ার অর্থ নিশ্চিত ভাবেই অন্যনিষাদের জনপ্রিয়তা – লেখক ও পাঠকদের কাছে, তাদের ভালোবাসা । একটি কথা আরো একবার জানিয়ে দিই অন্যনিষাদের কাছে সকলের লেখাই সমান গুরুত্বপূর্ণ । আর, অন্যনিষাদ কোন গোষ্ঠীতন্ত্রে বিশ্বাস করে না ।


প্রসঙ্গত একটা দরকারি কথা জানিয়ে রাখি । এবারও ‘অন্যনিষাদ’এর ‘কবি-প্রনাম’ সংখ্যা প্রকাশিত হবে ২২শে শ্রাবণ । অনুরোধ করি, রবীন্দ্রনাথকে ছোঁয়া কবিতা পাঠিয়ে দেবেন জুলাই মাসের মধ্যেই । শুভেচ্ছা নেবেন, ভালো থাকবেন এবং অন্যনিষাদের সঙ্গে থাকবেন ।
অ্যাসাইলাম- একপ্রকার বহুজাতিক ভোগ্যপণ্য
  
          ১

বিকিনিতে তুমি
গোয়ায়
রোদ্দুর হাতড়াচ্ছে  এলেবেলে পালোয়ান
খুলে পড়ছে  প্লেটোর মাধ্যাকর্ষণ তত্ত্ব
সাগরে মুকুট আর ভাসমান তেল

          ২

আমাদের আগুনমাখা শরীরে হেঁটে বেড়ায়
সারি সারি শুঁয়োপোকার আত্মহত্যানামা
পুড়ে যায় বেরসিক সকাল ঠিক সন্ধ্যে হবার আগেই
যেভাবে নেশা ফুরিয়ে আসলে রাতদুপুর 
সন্তানের মুখ দেখে হাউ হাউ করে কেঁদে ওঠে
পোয়াতি নদীর মতো!

          ৩

মায়াবী শহর থেকে ফেরা হয়নি আর 
ভেবেছিলাম শিমুলের ভালোবাসা হয়ে উড়ে আসবে একদিন
বাতাসে বাতাসে কাঁচামাটির ঘ্রাণের মতো ভালোবাসা আজও অমলীন 
ফড়িং উড়ে গেলেও পাখনার গান লেগে থাকে চিরকাল জানলার ঠোঁটে।  
কেবলই অন্ধবাসে চলি। অলিগলি আজও শূন্য। ধু-ধু।
কিছু শুকনো ফুলের 'পরে নীলছবি-লালছবি। বহুজাতিক চকোলেটে
পুড়ে গেছে বাঁশের বাঁশি। তবু রাধাকে খুঁজে বেরায় রাখালেরা। নদীর জলে
মুখ রেখে কেঁদে ফেলে বেসুরো সন্ধ্যের মতো। আমিও...। 

          ৪

আবার সে বনে এলাম 
এখানে আজান আর শাঁখের মায়ার মতো ভেসে বেড়ায় একঝাঁক ভালোবাসা

রোদে পুড়ে গেছে আমার কাশবন আর হিড়িম্বাদের সেতুপথ
এখন ছোটে মাহাতোর বালি-সিমেন্ট মাখা দুটো হাত 
এখন রহমত আলি নৌকোয় বেচছে মেমদের রুমাল
সকালের অ্যাসাইলাম মাটির নিচে উধাও  
আর চুল্লিতে সমবেত গান
মাটি পুড়ে খাক
পাটক্ষেতে ছুটছে উসাইন বোল্ট 
তবু একজিমা লুকোনো নামি অন্তর্বাসে
জাইলেম-ফ্লোয়েম সুরে সুর ধরে এ-জীবন 
এইদেখো, মাইটোকন্ড্রিয়ায় বসে চুরুট টানছে সময়  
আর হাসছে শ্রীকৃষ্ণের মতো,পিছনে অর্জুন
এক কাপ চা দিলেও ফিরিয়ে দেয় অবহেলায়
এদিকে চুলকে যায় আমাদের দিনযাপন 
নখাগ্রে উঠে আসে আরাম
এইতো এইতো আহ্ আহ্
এইতো মৈথুনানন্দমুখর আবহ
এইতো ইউরেকা ইউরেকা
এইতো ঘুরছে ঘুরছে পুড়ছে 
সব আবর্জনা মৃতকোশ আমিও...
তবু সে এক অলৌকিক পলায়ন
যার পিঠে তুমি ছেটালে থুতু আর আমি সুদীর্ঘ চুম্বন


 



দীপাবলি ২০১৩


এ রাত্রি কেমন করে কাটাবে সুন্দরী,
তোমার জলার্ত চোখে ডুবে যাচ্ছে ঋতুমতী চাঁদ
যোগ্য সমাধি নেই, অগ্নিগুঁড়ো ঝরে পড়ছে নাগরিক আকাশে

ভুলে গেছ সতেরশ সাতান্ন সন, সেই মুর্শিদাবাদ,
নাক্ষত্রিক আঁধারেডুবে ছিল দীপাবলি রাত,
আমরা পালাচ্ছি দূরে, ফেনা উঠছে ঘোড়াটির মুখে।
ধানুকীর তির থেকে তোমার পেটের বাচ্চা আড়াল করেছি,
গ্রাম লুঠে ফিরে গেল কোম্পানির সেনা।
ব্যকুল পায়রার মত জন্নত খুঁজেছি পরস্পর বুকের ভেতর
বাঁশবন,কলাবন ভেঙে এরকম গূঢ় রাতে পেরিয়েছি দীর্ঘ দীর্ঘ পথ

আবার গ্রামের রাস্তা, হরিমন্দিরের বুকে জ্বলছে একলা পিদিম
তুমি এই দীপাবলি রাতে জাল বুনছ ধোঁয়াটে দাওয়ায়
ক্রুদ্ধ দেবতার মত ঝড় উঠেছে আর তোমার মাছমারা
দুহাতে লড়াই করছে খান খান নৌকার গলুইয়ে

বৃষ্টি নেই সম্বচ্ছর, একমাঠ ভারতবর্ষ যন্ত্রণায় ফেটে চৌচির
প্রতি রাত্রে ঝিনুকের খোলা হাতে ধানচুরি করে আনছ তুমি
আমাকে উঠিয়ে নিয়ে গেল নীলকুঠি, সামন্ত লেঠেল

অথবা রিলিফ ক্যাম্প, অন্ধকার বিলাসিত দীপাবলি,
আতসবাজির ছায়া কেঁপে যাচ্ছে উদাসীন ডিভিসির জলে।
দুদিন খাবার নেই, তুমিও নিহতমুখবসে আছো পাশে
হটাৎ পুঁটলি খুলে হাতে তুলে দিলে আড়বাঁশি ।

আমি তো তোমার সঙ্গী সেই বীরাচারী মুগ্ধ কাপালিক
মাথুর পর্ব থেকে আজ অবধি বার বার জাগিয়েছি শব,
কখনো হিরন্যজলে,শ্মশানসন্ধ্যায়, ধ্বংসের অতীত অভ্যুথানে
সোনালি মাছের মত ঢেউ কেটে পেরিয়েছি প্রতিটি মৃত্যুকে
আমাদের আজন্ম অমারাত্রি, তবু আজও তোমার ত্রিনয়নে
তাকালেই কেঁপে উঠছে আলোর অন্ধতা নিয়ে দীপাবলি ।

                                                                        
কূট চর মুসাফিরি

          ১

অনেকদিনই তো হলো
শীত গ্রীষ্ম চক্রাকারে কেটে গেল ঘড়ি ধরে ।
কৌসুম্ভ খুঁজতে থাকা
নিস্ফলা বিবর্ণ সন্ধেগুলো এডিটেড ফিল্ম হয়ে বাতিল ঝুড়িতে ।
মাথার সাত পাতাল গভীরে
হঠাৎই জেগে ওঠা ভিসুভিয়াস মাথা কুটে মরে কূট হাসিতে ।

          ২

একবার যেতে হবে স্টিফেন হকিং এর কাছে,
একবার বলতে হবে অচল হাঁটুতে হাত রেখে -
বেশ তো করেছেন গভীর মহাকাশ ছানবিন
পদার্থ বিজ্ঞানের বস্তু বাদ ও বিবাদ ফেলেছেন
আঁশটে গন্ধ ওঠা মৃত শবের নাড়িভুড়ি লেগে থাকা
পোস্টমর্টেমের রুক্ষ অনুভূতিহীন টেবিলে,
বলুন তো বস্তুকবি চোখের পলক ইশারায়
প্রেমের মৃত্যুর ঠিকঠাক তারিখ টা কত ?

          ৩

নিজের মনকে নিজের দখলে নিয়েছে যারা
ওদের নোবেল দাও!
ওই গুটিকয় হাতেগোনা মহাপুরুষ ও মানবীকে ছেড়ে
বাকিসব যাক গিলোটিনে,
চাঁদ বৃষ্টি মরুঝড় দেখে সময় কাটানো হাইপাওয়ার চশমা-
পাঠাও ফায়ারিং স্কোয়াডে,
আমাদের সঙ্গী থাক সেকেন্ডে টাকা তোলা মিডিয়া রোচক ...
এসো ঝুলি ফাঁসির দড়িতে ।

          ৪

নদী নিয়ে অনেক কবিতা লিখেছি ফ্লার্টপাঁকে এযাবৎ,
প্রত্যেক নদীচারণেও বুঝিনি কখনো নদীরাও বিশ্বাসহন্ত্রী হয় ।
অভিমন্ত্রন রক্ষার অব্যবহিত পরে জামা ও কাপড় খুলে
নগ্ন বিবেক অলিম্পিক সাঁতারু হয় দীঘল অতীতে,
প্রত্যেক মন্ত্রোচ্চারনের আগে বিশ্বাস রাখি কোশা ও কুশিতে
প্রত্যেক আহুতির পরে দপ করে জ্বলে ওঠে সন্দেহআগুন ...
শতক গড়ায়, আধুনিক থেকে ফিরি ফের মধ্যযুগে-
প্রত্যেক নদীগমনের পরে বদ্ধ উন্মাদ হই দীর্ঘ তমসকাল ।

          ৫

তুই থাক - আমি থাকি
ক্ষমায় থাক উদ্ধত প্রতিবল ।
তুই থাক - আমি থাকি
বিজ্ঞাপনে বেড়ে যাক কংসের ছানাপোনা ।
তুই থাক - আমি থাকি
আর থাক সান্ত্বনা, এখনো অবিক্রীত আছি ।


বাজনা 
          ১

যেভাবে মোহন বাঁশি

বিষাদ ও বিজাণু

বাজনা শুনবো বলে বসে

                      আছি

কীরকম হাওয়া বাতাস

সারাজীবন টিলা

             

পাহাড়।

          ২

ঠিক জেগে থাকে পিপাসা

দীর্ঘ বৃষ্টির দিন

হেঁটে শেষ হবে না লম্বা

                    রাস্তা

বাঁকের মুখে শালিক

না টানা সিগারেটের

                 ছাই



জন্মদিনে তার...

প্রার্থনা ভঙ্গের মত

কেউ নেই-স্তব্ধতায়

অসংখ্য প্রতিশ্রুতির শ্যাওলা জমে

হাত তুলে বলি-

দাঁড়াও আমি আসছি

আর তোমার জন্মতিথি ছুঁয়ে

নদী বয়ে চলে যায়

বিস্মরণে...


About