এই সংখ্যার লেখক সূচি - সপ্তাশ্ব ভৌমিক, নাজনীন খলিল, সৌমিত্র চক্রবর্তী, শর্মিষ্ঠা ঘোষ, মমতা দাশ, অদিতি চক্রবর্তী, ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়, অমিত বিশ্বাস, সতীশ বিশ্বাস, মৌ দাশগুপ্তা, অরিন্দম চন্দ্র, সৌরেন চট্টোপাধ্যায়, অনুপম দাশশর্মা, ব্রতীন বসু, অরূপম মাইতি, কোয়েলী ঘোষ, দেবাশীষ সরকার, রেবা সরকার, শশাঙ্কশেখর পাল, পল্লব সেনগুপ্ত, শাশ্বতী সরকার, সহুল আহমেদ, জিনাত ইসলাম, নীলরতন চক্রবর্তী ও ইন্দ্রাণী সরকার ।

      সব কবিতা পড়ুন । পড়ুন সূচিপত্রে ক্লিক করে

স্মৃতি

জানি ওরা ভুলে গেছে সব
তবু তুমি ছুঁয়ে আছো শব

প্রাণ

নিয়তির উঠোনের নীরবতা ভাঙে
অথচ আজীবন নিয়তির অধীন।

দীক্ষা

অন্ধ পথ দেখায় অন্ধকে
দুজনেই খুব পরিতৃপ্ত

যজ্ঞ

যত সমারোহ তত অপচয়
যত অপচয় তত সমারোহ

সময়

সব বিন্দু রেখাতে মিশে যায়
রেখা ক্রমশ বৃত্ত হয়ে ওঠে

প্রভেদ

ভেতরে একটা  দানব সকলেই পোষে
কেউ ছেড়ে রাখে - কেউ বেঁধে রাখে



স্বপ্নলেখার খাতা

মেঘাচ্ছন্নআঁধার থেকে একটা ঝলমলে দিনের স্বপ্নই তবে উঠে আসুক

স্বপ্নলেখার জন্য আমার চাই গোলাপীসুগন্ধী মাখা খাতা যেখানে সেখানে স্বপ্ন লিখতে নেই
সোনার পালঙ্ক চাই
সোনারূপার জিয়নমরণকাঠি
ময়ুরপুচ্ছের কলম
এইসব প্রাসংগিক আয়োজন শেষ হলে ---একটা স্বপ্নপুরান লিখবো
প্যাপিরাসে পাওয়া হাজার বছরের কেচ্ছাউপাখ্যান

দৈত্যগুলো সব পাথর-খোদাই
মাঝরাতে জীবন্ত হয়---হাতীশালে হাতী আর অশ্বশালার ঘোড়া ধরে ধরে খায়
ডাইনীরা থাকে রূপবতী রানীর ছদ্মপোশাকে।আসল রানীরা ঊড়ে যায় পাখি হয়ে ;
বনেজঙ্গলে
রাজাগুলো সব যুগে খুব অর্থগৃধ্নু । কবরেও নিয়ে যায় হীরেজহরৎ ;
এসব লেখা আছে শিলালিপি ও তাম্রফলকে

স্বপ্নখাতায় থাকবেনা কোন চেঙ্গিস--তৈমুর

বরং বিজনগহন অরণ্য থেকে  রানীকেই উদ্ধার করে আনি
আলো ঝলমল সিংহাসনে  রানীর অভিষেক

চাইনা বৃষ্টি---আগুন চাই 

দিওনা বৃষ্টি ।
নিভতে চাইনা
গাইছি আগুনের স্তব । সাগ্নিক ।

শুধু শুধু জড়ো করি আসর-ভাঙ্গা জলসাঘরের দীর্ঘশ্বাসগুলো
যাবার নিয়মে চলে যায় রূপকথা বলা সবুজ টিয়াটি । তার
অনিচ্ছার একটি পালক শুধু পড়ে থাকে । পুড়াই ।
মুছে ফেলি পেলব ঘাসের সবুজ-মমতা ।

মুঠোতে মেখেছি জ্যোৎস্না আর
চাঁদের গরলটুকু নিঃশেষে করেছি পান;
দেখেছি হৃৎপিন্ডের নীল রং । তীব্র ।

ভাল আছি ।
ঝিনুকের খোলের ভেতরে গুটানোর ভব্যতাটুকু রপ্ত হয়ে গেলে
সবাই ভালই থাকে । এভাবেই । 





মন ভালো  নেই

মন ভালো নেই
সন্ধে থেকেই,
ঝাঁ চকচক
দুনিয়াদারি
ছিঁড়ছি বসে
কুচি করে
ছিঁড়ছি কেন ?
বেশ করেছি,
মাথায় এখন
ফিনল্যান্ডের
দেড়শো কিমির
টাইফুনে জল,
মাথার মধ্যে
বারবিকিউ এ
মত্ত পাগল
ছয়লাপ রাত
একই রকম
মেশিন আওয়াজ
ঘর ঘর্ঘর
দিন ও রাতে,
একইরকম
ভুতবিলাসে
একইভাবে
একইসাথে
বাজছে ঘন্টি
পাগলখানায়
মন ভালো নেই
তোর তাতে কি ?
আমি কি তোর
ছিঁড়ছি জামা ?
তারচেয়ে এই
চুপটি করে
নিজেই খুঁড়ি
নিজের কবর,
শান্ত মনে
নিজেই দেখি
নিজেরই শব
ভেংচি কাটে



টেক টু  

ফি সিজন পুজোবার্ষিকীর পাতা ভরে মঙ্গলকাব্য লেখেন তিনি মানে

শরত নীলাকাশ বাবু , ঝরঝর সব মেদুর মোহন ধ্বনিবিদ্যা প্রিয়

মুখের আদলে মাটির তালে আঙ্গুল বোলাচ্ছে আর সেই ফাঁকে পেড়ে

ফেলছি ভাদুরে রোদ্দুরে শুকোনো বৎসর পরিক্রমা , লং ড্রাইভে

খেয়ালী ছক্কা পাঞ্জা , কষ্টের হাসিতে সিরিয়াস মনে পড়া অনেক

গানের এস এম এসের পেছনে চমকে দেওয়া ছাড়া সত্যিকারের

কাছে আসা ছিল না , ফাঁকতালে জাহির করি অঘটনের বদলে ফ্যালা

ট্র্যাক , জনসমক্ষে না পারলেও মনে মনে নিত্য স্বীকার করি তোমার

তাতে ব্যাপক হাতযশ ... ফেলে ছড়িয়ে বেড়ে যাচ্ছে বয়সোচিত

গাছপাথর , পাল্লা দিয়ে তোমার আমার বিউটি স্পট...যতসব

নিরাসক্তি কথা বর্ণনে মুখ খুল্লেই গলগল প্রবলেম , যেন আসক্তির

ভুত আমার বর্তমানকে তাড়িয়ে বেরাচ্ছে ... তুমি ভেবে পাচ্ছ না কোন

অসামান্য মুহূর্ত দুঃখ হয়ে বিঁধে যাচ্ছে ঠুনকো সোহমে ... বুনো হাঁসের

পালক কুড়িয়ে ফেরা বেলার জন্য আফসোসের মত কিছু টুকি মারতে

চায় রেয়ারলি ... ফেয়ারলি এইসব থাকা না থাকার হাওয়া বাতাস

গায়ে লাগলেই , ইশসসসসসসসসসসসসসস...



আষাঢ়ে কবিতা

        ১

বুট আর মোজার মাঝে 
প্রেম
গুটি গুটি পায়ে চলে

তরমুজ
দুপুরে
স্বাদহীন

হিউয়েন সাঙের ঝোলায়
বেজে ওঠে সাপুড়িয়ার রিংটোন

        ২

ইনিয়ে বিনিয়ে ব্রন গেলে মেয়েটি
ছুটে গেল পার্লারে
নীল ছবি থেকে টুপ্ করে ঝরে পড়ে
ঘুমন্ত সেতুর স্বপ্ন
ঘূর্ণি কেদারার ডানায় উড়ছে ভাবুক সকাল

কাঁচামাটির বেদনায়
মেয়েটিও মা হয়ে গেল!

        ৩

একটি আদর্শ সারমেয়র লেজ থাকা উচিত কিনা
বিষয়টি  ভাববার সময় এসেছে
নিয়ে সরকার পক্ষ
বিরোধী পক্ষ
এমনকি মিডিয়া কেন যে চুপ
লেজ হবে না ল্যাজ হবে
কেমন ভাবে সেটি থাকবে
কোন দিকে হেলে থাকবে
ইত্যাদি সব জটিল প্রশ্ন!

আর সারমেয়টি  সটান লাফিয়ে যদি সোজা হয়ে বলে
'ব্যাকরণ ঠিক করুন !'
তাহলে আমরাই
ল্যাজ নাড়বো
কেমন !

        ৪

মাইক্রো চিপসের  হৃদয়
ব্লুটুথের শরীর  বেয়ে বেয়ে
সটান বসল শ্রীলার বৃন্তে
এক্সপায়ারড্  ডেট দেখা মাত্রই
ফিরে এল মৌমাছি
মাঝপথে টুস্ করে খসে গেল
আদরের হুলখানি
ব্যাস্!









About