এই সংখ্যার লেখক সূচি- সুকুমার চৌধুরী, সপ্তাশ্ব ভৌমিক, ঈশানী রায়চৌধুরী, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, সুজন দেবনাথ, রুদ্রাক্ষ রায়হান, সাঈদা মিমি, তপন মন্ডল, বিদিশা সরকার, মতিন বৈরাগী, মমতা দাশ, অনুপ কুমার দত্ত, সাত্যকি দত্ত, মিজান ভুইয়া, রেবা সরকার, চিরদীপ সরকার, শাঁওলি দে, অর্ঘ্য রায়চৌধুরী, বৈশালী মল্লিক, রায়ান নূর, শান্তিময় কর, তন্ময় গুপ্ত, তাপসকিরণ রায়, মনোজিৎ কুমার দাশ, বাপ্পা গাঙ্গুলী ও দেবাশিস কোনার ।

                 সব কবিতা পড়ুন সূচিপত্রে ক্লিক করে

জীবন

জীবন চাঁদিই বোঝে চাঁদ ততো অনিবার্য নয়
তবু আমি আকাশের দিকে বাড়িয়ে দিলাম
                                      আমার শীর্ণ দু হাত


আমার ভাতের থালা কেড়ে নিয়ে গেল মহাজন
আর প্রতিবেশী জীবন এসে দিয়ে গেল
                                      ছোলামুড়ি দীপঙ্কর জ্ঞান

আমি পেটে গামছা বেঁধে চেঁচিয়ে বললাম
হে জীবন তুমি সুন্দর ও শিল্পময় হোয়ে ওঠো
                                      আমাদের সম্মিলিত ভালবাসায়

লটারির টিকিট কিনতে কিনতে বুড়ো হোয়ে গেলেন বাবা
আমি তার অভিমানী প্রত্যাশায় লিখে রাখলাম
                                      সত্য শিব সুন্দরের গান

আমার পোশাক ছিঁড়ে নিয়ে গেল শাইলক
আর কোথার থেকে একদিন জীবন এসে বলল
তুমি কি পাগল দিগম্বরের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছো
                                    চোদ্দোপুরুষের ভিটেয়

আমি বললাম শুদ্ধতার দিকে হেঁটে যাক
                                    আমাদের ছদ্মজীবন

ঢিল হাতে আমায় তাড়া কোরলো জীবন
আর আমি দৌড়তে লাগালাম সুন্দর ও শিল্পময়
                                    জীবনের ওপর দিয়ে

পিঠের ওপর দমাদ্দম পড়তে লাগলো ঢিল
রক্তে ভিজে গেল আমার জন্মভুমি
                                    আমাদের সত্য শিব জীবনের গান

আর এ ভাবেই পিছু হটতে হটতে পিছু হটতে হটতে
আমি এক্ সময় বলে উঠলাম
রক্তের মতো উষ্ণ আর পরিশ্রুত হোয়ে উঠুক
                                    আমাদের বেঁচে থাকা

শরীর চুঁইয়ে পড়তে লাগলো রক্তের ধারা
আর লুটিয়ে পড়ার আগে শেষবারের মতো
আমি এক সময় আকাশের দিকে ছুঁড়ে দিলাম

                                    আমার ক্ষুব্ধ দু হাত

অনুভব

গাছের শিকড় রেখে ছেঁটে ফেল ডাল।
না হলে সে অন্ধকারে অশরীরী মায়া
জলে তার প্রতিবিম্ব  এলোমেলো ছায়া
ছড়িয়ে রেখেছে দেখ ক্রূর মায়াজাল!
চোরা-টানে টেনে নিলে এঁদো পচা খাল,
অবিরাম স্রোতে ভেসে ক্ষীণ হবে কায়া
ত্বকের ভেতরে আছে যতটুকু হায়া
সব কিছু কেড়ে নিয়ে তুলে নেবে ছাল!

শোক ভুলে হোক তবে নিরামিষ দান
ছায়া - মায়া ছুঁয়ে থাক পাললিক প্রাণ
শ্মশানের পাড়ে এসে শুয়ে আছে শব
কিছু তার কথকতা বাকি শ্রম ঘাম
হরিনাম দেবে তাকে কতটুকু দাম
পথেই বিছানো থাক শেষ অনুভব।



দিন-রাত্রি

দিনগুলো সব পদ্মপাতায় জলের মতন

অঝোর বিন্দু রোদ্দুর মেখে শুকিয়ে যাচ্ছে

সুধাবিষে মিশে হারানো- প্রাপ্তি - নিরুদ্দেশের

আজগুবী যত গল্পকথায় ভুলিয়ে রাখছে



রাত্তিরগুলো একলা একলা আলসেতে ঝুঁকে

চাঁদের ফিনিক দুধ - মুড়ি ভেবে পেট ভরাচ্ছে

দুপুর বিকেল হিসেবনিকেশে স্রেফ কারচুপি

আমি বসে ... তবু আমার ছায়াটা



দিব্যি হাঁটছে !

ঝড়ের পরে লেখা

ঝড়ের কাছে আমার বলার নেই
একটা কান্না গাছের গায়ে অবিশ্রান্ত
কিছুক্ষণের এই বৃষ্টি মাখা বদল
ঘরকে আর ঘর থাকতে দিল না
রামপ্রসাদী থেকে পপ সঙগীতের উন্মাদনায়
কেঁপে উঠে এসেছে বিকেল
কাচের ভেতর শুধু ভাঙার প্রবণতা
অনেক পাখির ডানা বেদনায়
মাটি মুচড়ে পড়ে শুকনো পাতায়
আসলে ঝড় না আমাদের চারপাশে
কিছুক্ষণ নটরাজ আর ছিন্ন ছিন্ন সতী ......

মিউজিয়াম

একটা রহস্য হেসে বেড়াচ্ছে
আমাদের মফস্বলে
শীতের হাত ধরে
সন্ধ্যা ভ্রমণের পরিকল্পনায়
পাহাড় বা জঙ্গল
একটি মধু চন্দ্রিমার গন্ধ আসছে
রান্নাঘরের গান থেকে
পরিযায়ী পাখিরা এখনও খুঁজে বেড়াচ্ছে
তাদের জীবনী লিখবার কলম
তাদের প্রচেষ্টায় একচোট হেসে
আবার তাদের ধ্যানে ফিরে যাচ্ছে গাছের আত্মারা
একটা ফাঁকা মাঠের জন্যে অবিশ্রাম অন্তর্জাল খোঁজ
অনেক বিলুপ্ত নদীরও
অলক্ষী তাড়ানোর পুরনো ছড়ার রেওয়াজ
রোগের শরীরে নেই
শুধু কিছু অর্থহীন আলোয়
শীতের কম্বলগুলির ঘুমিয়ে থাকা
প্রকাশিত
ছোট পত্রিকায় আর চিনে পুতুলের মেলায় ......




বায়োস্কোপের আরশি

পৌষ-সন্ধ্যা, আকাশে নিরবে কাঁদছে সপ্তর্ষী
সপ্তর্ষীদের কথা-বন্ধু সাত বছরের অব্যয়
অব্যয়ের শৈশব হাতে হাসছে একফালি মেঘ
মেঘের দাঁতে সন্ধ্যারঙের তৈ তৈ হাঁস
হাঁসের ঠোঁটে হীরামণ পাখি, কাঁচরঙা ঘোড়া
ঘোড়াটা অন্তুর কৈশোর নিয়ে ক্রিকেট মাঠে -
মাঠের কোনে বন্ধুর হাতে ন্যুড ভিউকার্ড


ভিউকার্ডের তরমজা হয়ে অব্যয়কে নিবুর প্রথম চিঠি
চিঠির উত্তর লিখতে পাঁচমুড়া পাহাড়ে রবীন্দ্রনাথ
রবীন্দ্রনাথের বজরা কীর্ত্তনখোলায় বিভাদেবীর ঘাটে -
ঘাটের সিঁড়িতে অব্যয়ের যৌবন হাতে জীবনানন্দ
জীবনানন্দের হাতে ট্রামের চাকায় বনলতার শান্তি


বনলতাকে খুঁজতেই এলান পোর ঘরে ববমার্লোর গলা
মার্লোর হেয়ারস্টাইলে ঝুলে আছে লালন
লালনের চোখ - পৃথিবীর আরশিনগর
আরশিতে অব্যয়ের জীবনের বায়োস্কোপ   


বায়োস্কোপের শেষ দৃশ্য
নিবুর হাত ধরে ছেলেকে দেখছে অব্যয়ের বৃদ্ধ ব্লেজার -

ব্লেজার ঢাকা বৈরাগী মন সময়ের সাথে করছে রেসলিং

যদি তুমি দূরে যাও

রৌদ্রস্নাত পৃথিবীর ডাকে শিশির স্নিগ্ধ ঘাসেরা যুগোপৎ জেগে উঠছে ,
সুখ পাখিদের ঘুম ভাঙ্গার ক্ষণে ঘুমন্ত রাজপথ ও হয়ে যায় কর্মময় বিতৃষ্ণার আঁধার,
এর নাম প্রাত্যহিক সময়...!!
বাঁধ ভাঙ্গা উচ্ছাসের নাম যদি জীবন হয়,
উদ্দাম সাহসের নাম তবে অবিরল যৌবনওলো সখি মৃত্যুর নাম কি?
সখি আঁধার কারে কয় ?

তুমি ছূঁয়ে দিলেই বয়ে যায় মিঠা জলের নদী,
বুকে এলেই বিরামহীন সাঁতরে বেড়ায় প্রেম,
তবে বঁধূ ডুবে কেন মরিকেন বঁধূ স্থবির সময়?
কচি পাতার রোদ সোনালী সবুজ,  মিঠা জলে সুখের সাঁতারসোনা ভোর স্নিগ্ধ সকাল,
সবই মৃত্যুর অন্য নাম যদি তুমি দূরে যাও বঁধূ....
তুমি দূরে গেলে বন্দরের মাঝি পাল তুলে নিয়ে যায় সুখ,
পরিচিত পৃথিবীর সীমা ছেড় অন্য কোনো কথাহীন দ্বীপে....

-

মেঘমুখো ঘুড়ি

এই বেঁচে থাকা এক বিস্ময়! আমি অক্ষম
নুলো নই, কুচ্ছিত? কৃপণ? তবুও
ওই গ্লাডিওলাসের মত পড়ে আছি
বাইপাস সড়কে? কালও সে বৃন্তে ছিলো--
খোলা মাঠ নেই, জলায় আফ্রিকান মাগুর,
কিশোরের নাটাই থেকে
সুতো কেটে উড়ে যায় মেঘমুখো ঘুড়ি...


হাভাতে সন্ধ্যার কেচ্ছা

গেলাসটা বাড়িয়ে দাও...
হাভাতে সন্ধ্যা, তোমাদের
তাড়া নেই! দেখো এই
মজুরের গতর? বিড়বিড়ে
কি সব বলে সাধু - সজ্জনেরা
ফিরে যায়, অবসন্ন এক
বৃষ্টি পানের বরজে
অমঙ্গল হয়ে ঝরছিলো -
পরমেশ্বর বগলদাবা
করলেন শিভাস রিগাল!






About