এই সংখ্যায় ২৮টি কবিতা । লেখক সূচি - নাজনীন খলিল, সপ্তাশ্ব ভৌমিক, পার্থ কর, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, সাঈদা মিমি, সুজন দেবনাথ, ফারহানা খানম, মোঃআনওয়ারুল কবীর, সতীশ বিশ্বাস, অনুপম দাসশর্মা, শঙ্কর দেবনাথ, ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, মিতালি মুখোপাধ্যায়, শেখর কর, দেবাশিস কোনার, মুক্তা রহমান, অদিতি চক্রবর্তী, দোলনচাঁপা ধর, চয়ন ভৌমিক, শাশ্বতী সরকার, সাকিয়া রিপা, বাপ্পা গাঙ্গুলী, বৈশালী মল্লিক, মনোজি কুমার দাস, সুরজিৎ চক্রবর্তী ও রেজিনা ইসলাম ।

      


পাথর ভাঙ্গার গান

কালজীর্ণ পুঁথির একটি পৃষ্টা খসে পড়ে । জীবনের ঋণ বাড়ে।বাড়ে পরমায়ু ।

জ্বলে জ্বলে নিঃশেষ আলোটুকু মুছে গেলে
মোমদানে পড়ে থাকে জমাট অশ্রুকণা;
উদাসী পথিক এমন নির্লিপ্ত চলে যায়
যেন---কোনদিনই এই আলোক-স্পন্দন তাকে ব্যাকুল করেনি
কোন হিমশীতল রাতে ---
প্রদীপের করতল থেকে উষ্ণতার একটি কণা ধার করেছিল
একবারও মনে পড়েনা।

জোনাকীর বুকের আগুন সারারাত জ্বলে নেভে
স্বপ্নের নগরীতে যাওয়া হয়না

হৃদয়ের ঘরে যার পাথর-দেয়াল
কে জানে তার বুকের গোলাপ কোথায় থাকে

আজীবন পাথর ভাঙ্গার গান তবু গেয়ে চলে গোলাপ-প্রেমিরা।

না

বলার মতো কিছুই নেই
না চেহারা, না কথাবার্তা
না চালচলন

থাকার মধ্যেও কিছু নেই
না বাড়ি-গাড়ি, না ব্যাঙ্ক-ব্যালেন্স
না বংশ-গৌরব

পারে না, কিছুই পারে না
না খেলাধুলো, না ছবি আঁকা
না আবৃত্তি গান

তবুও নড়তে পারি না
তবুও সরতে পাই না
একটা ছোট্ট না

তাও পারি না

কথামালা

সরস্বতীর প্রসাদের দৈবীপাকে

প্রথম হাত ছোঁয়ার সময়
এমনকি হৃদয়ও শব্দহীন হয়ে পড়েছিল !

তারপর থেকে অনর্থক তার হয়ে ওকালতি করেছে
আমার ছত্ররাজী।

শব্দেরা আমার কথা বলবে না কোনোদিন ।
কোনো কথামালা-ই
আমার মর্গের সেলাই-এ হাত রাখবে না ।
নিয়ত প্রতারণা ভরে দিই তাদের অনিচ্ছুক মাত্রায় ।
এখন তারা পাশাপাশি
মরা রোদের বারান্দা, বেতচেয়ার আর
নিকটতম শ্মশানের দূরত্ব হাতড়িয়ে রাখছে।

সেদিনের নৈঃশব্দের ঝুলি ভরাতে
অনেক কথা বলে ফুরালো আধেক পথ,
বাকিটুকু বলে যাব-

এত কথার কোনো দরকার ছিল না !

দেহ এবং

আমার দেহ দেখালাম এক ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ, একজন কবি ও একজন জনপ্রতিনিধিকে,
প্রথম জন সিগারেট ধরিয়ে দুর্গন্ধ তাড়ালেন,
বললেন লিভার পচে মৃত্যু,
সারা জীবনে এই লোকটা দেয় নি কিছু,
না সাহিত্যকে, না সমাজ কে না নিজেকে।

কবি বললেন, অনেকেই স্বীকৃতি পায় মৃত্যুর পরে-
এর কপালে তাও জুটবে না ছাইপাঁশ লিখে লিখেই চলে গেল,
আমার নতুন কাব্যগ্রন্থটি দুর্দান্ত-এসব নিয়েও লেখা আছে তাতে,
পড়ুন, পড়ান-উপহার দিন।

জনপ্রতিনিধি বললেন,
আমাদের একজন সমর্থক চলে গেল- আন্দোলনের ক্ষতি হলো,
ফুলের তোড়াটাতে পার্টির নাম লেখা আছে-
আসুন সবাই এক মিনিট মৌন থাকি।


হাল্কা বাতাসে মিলিয়ে যেতে যেতে-

আমার বড় হাসি পেল।

এ শহরে

পাপের নধরচিহ্ন ঘরোয়া বাগানে,

মানিপ্ল্যান্টে সুদখোর পোকা--

এখানে রাত্রিঘুম জেগে থাকে জাতেওঠা

বাড়ির নকশায়, ঋজু ছাদে, ঘুলঘুলিপথে কিছু

বেবুশ্যে বাতাস,

প্রাপ্তিস্তুপের নীচে জিপসির ছুঁড়ে দেয়া কার্স

অগ্রহায়ণ বসে ছিলো নির্মাণঘরে, এ শহরে

শীতগুলি ঝিমুতে পারে না


বিস্মৃতি, আড়াল হও

সময়বাতাসে মোছেনি বিবর্ণ রক্তের

কিছু দাগ, চাকা চাকা ক্ষত,

ঘেয়ো কান্নার নুনধরা চিহ্নেরা--

বিস্মৃতি, আড়াল হও, সব দিন তুলে আনা

ভুল, বাবুয়ানা হাসিটার পবিত্র রঙ চোখে ভাসে





এন্টিবায়োটিক
  
 তোমার চোখের
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সুখ
হয়ে উঠতে পারল না উঠান আমার
প্রেমকে কেবল দিয়ে গেছি এক্টিবায়োটিক
     
       প্রেমের ফেইসবুক একাউন্ট নেই স্ট্যাটাস জানি না
        তবে জানি, সময়ের চেয়ে বড় ইরেজার মহাবিশ্বে নেই 

মাঝে মাঝে আকাশে তোমার স্ট্যাটাস দেখি-
চাঁদ ভেঙে নাকি পেয়েছ অনেক তারা
নিয়ন্ত্রিত তাপে এসে গেছে স্বস্তি  
তবু ছায়াপথে শুধুই আলেয়া
আলো নেই
কিছু নেই
নেই



ভালো আছি

কথাটার মানে নেই তবু বলতে হয় ভালো আছি।
ভালো থাকার জন্যই বুঝি
ছুলির দাগে লজ্জা পেয়ে ঘোমটা টানি
অথবা লাবন্যের পাপে নির্বাসন দেই চটি জুতো
সস্তা দামে স্বল্পতা সেলাই করি লালসুতোয়।

দেহতো আমারই দলিল
উইল হবার প্রতাশায় শুন্যবাসী রক্ত আরক্তে চড়াই
শিখতে চেষ্টা করছি কিভাবে নিত্যে চতুর হতে হয়।
জানি ভুল হচ্ছে
মনের শরীর প্রতিফলিত দর্পন!
নিজেকে পাওয়া যায় যুগলে, দুয়ের দৃষ্টি মেলায় বিভোরে।
কে বোঝোবে তোমাকে?

তোমার চোখ শুধু খোঁজে মোহময় খাঁজ কাটা পাথর।


পুঁথি পাঠ করে নেই আগে

 তল্পিতল্পা গুটানো ঢের বাকি
পাতালপুরে ছড়িয়ে গেছে শেকড়ের ডালপালা
লতানো স্বপ্ন বেয়ে বেয়ে হয়ে গেছে রামধনু।

খোলা আকাশে মেঘদূতের দূতিয়ালি
জোছনার গায়ের খুশবুতে এখনো নেশা
চমকবৃষ্টিতে আজো করিনি গাহন -

 তল্পিতল্পা গুটানো ঢের বাকি

কাকাতুয়ার চোখে লেখা পুঁথি পাঠ করে নেই আগে।

আবরণহীন                                                           
                                          
উলের উপর দিয়ে পিঁপড়ের মতো হেঁটে আসে      

মৌমাছির মতো ওড়ে গুচ্ছ শীতকণা

পাঁজরের হাড় কেঁপে ওঠে

বিষাদের ঝাপটা লাগে কপালে ও চোখে

মুখ থেকে শুকনো পাতার মতো ঝরে প্রসন্নতা

জমাট বাঁধার ভয়ে চোখ থেকে বেরোয় না জল

স্থির পদক্ষেপে স্বপ্নেরা মিশে যায় গাঢ় কুয়াশায়

উষ্ণ আবরণহীন কাঙালের ত্বকে ধরে টান

অসহায় রসহীন ঠোঁট ফেটে যায়


ধীরে ধীরে পিঁপড়েরা রক্তের ভিতরে ঢুকে যায়

অদেখা দীপ্তি..

ছাড়ার প্রশ্নই নেই, আবার নতুন করে ধরবার জো নেই
 সবটাই দৃশ্যতঃ হাওয়ার স্তরে
 বয়সের বিকেল গড়ালে মনের সন্ন্যাসী যজ্ঞের
আয়োজন করে।
 আদৌ কি বাড়ে বয়স! জমাট অন্ধকারে কে যেন আড়ে আড়ে
 করে চলে পাওয়ার আচমন
 সময়ের ইশারায় অদম্য সে ত্বকের কালযাপন।

নিজেকে খোঁজার ছলে কতো কলাকৌশলে
 মেপে নেওয়া ভোগেরা ঘুণপোকা
 সামর্থ্যের সীমারেখা সে সব অঙ্কে গড়া
 ভাবনার বাইরে অন্য-শিখা।

কতটা প্রাপ্য ছিল, কতটাই-বা চোদ্দআনা
 এসব স্বপ্নে একা ঘুরুক
 আসছে যা সহমতে, শ্রদ্ধা মমত্ব হাতে

 রোমওঠা ত্বকে ছবি আঁকুক।

About