এই সংখ্যার লেখকসূচি - সৌমিত্র চক্রবর্তী, পার্থ কর, অঞ্জন বর্মণ, সপ্তাশ্ব ভৌমিক, মধুছন্দা মিত্র ঘোষ, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়, অর্কপ্রভ মিত্র, কাজরী তিথি জামান, বচন নকরেক, চন্দন ভট্টাচার্য, সতীশ বিশ্বাস, কামরুননাহার কুহেলী, আহমেদ ছহুল, মণিকাঞ্চন ঘোষ, ইমেল নঈম, বিলকিস আরা ক্ষমা, মাধবী ঘোষ ।

       সব কবিতা পড়ুন। পড়তে হবে সূচিপত্রে ক্লিক করে

দূরত্বের ছ্বটা

রোম পুড়ছে...
ইঁদুরের দাঙ্গাফোর্স লাইন দিয়ে মার্চ করছে লেফট রাইট লেফট ...

ছুরি কাঁচি রেঞ্চ হাতুড়ি
হাতের কাছে যা পারে জুটিয়ে
মেঝে আকাশ দেওয়ালের প্লাস্টিক পেন্ট খুঁড়ছে ...

বাবা মা ভাই বোন
ব্বা ...

সেফটিপিন দিয়ে দাঁত খুঁটলেই
ক্যা ন্সা ...

টেকটনিক প্লেট ভাসতে ভাসতেই
বিজ্ঞান কে কাচকলা দেখিয়ে গো ল্লা ছু ...

একসময় মেঝে দেওয়াল সবই দূরে অনেক দূরে সরে যায়...

এখন অ্যান্টার্কটিকাতেও মাঝরাতে দপদপ করে অরোরা বেরিয়ালিস...

দূর থেকে দূরে ছড়ায় বরফের স্তুপ, মাঝরাতেরও আলোর আভা ...
মরুভূমি হাঁটাচলা করে... রে...

তিনমাথা প্রথম প্রজন্ম কুতকুতে চোখ তুলে বলে ওঠে,
 "বড্ড ঠান্ডা, বড় খিদে...

খুঁড়তে খুঁড়তেই উড়ে বেরোতে থাকে বিশটুকরো সম্পর্ক...
ওড়ে রঙ রঙ ফিতের ফাইবার অবয়বে...
কত টুকরো হলে দূরত্ব বাড়ে? ...!


দূর্গপতন

বাস্তিল ভাঙছে যোদ্ধাদের পায়ের চাপে
রাজনীতি অসম্পৃক্ত নরম মেয়েরা কাঁটা হয়ে আছে,
অবোধ বাচ্চাগুলো যুদ্ধ যুদ্ধ খেলছে
ওদের মাথারা কোতলের অপেক্ষায়

মধুমক্ষীরানীর কয়েক বছরের চাকচিক্য
উধাও হয়ে বেরিয়ে পড়েছে
ত্যাবড়ানো গাল, কোচকানো ত্বক

সম্রাটের খাস বাহিনী তাড়া করলে
ঘনঘন সিগারেট খেতে হয়,
পশুচিকিৎসালয়ে মাথা খুঁড়ে
প্রার্থনা করতে হয় অন্তত একখানা দূরূহ ব্যাধি

বাস্তিল পতন এখন সময়ের ঘড়িতে
টিকটক টিকটক ...

মাধ্বী যে এত তেঁতো
কে জানতো ?




ছেলেটা লোকটা আর আমি

এই যে ছেলেটা আমি আমি হয়ে উঠতে চেয়েছে
এই যে তার সমাগতা বাসন্তী পেরিয়েও
ঋতুচক্র ঘটেছে -
মাটিজন্ম ছুঁয়ে রেখে আমায় বলে উঠেছে
মহত্তর আলোর পথের কথা

তার নৈমিত্তিক আমায় জড়িয়ে ওঠা দেখতে দেখতে
মেয়েটা আনুগত্যের নাম মেনে পাড়ি দিয়েছিল

পাপড়ি পাপড়ি পালক পালক মেঘ মেঘ কথা

ভুল হয়

আরো কিছু অনাঘ্রাতা দিনও 

এখন লোকটা আমি হয়ে উঠতে চাইছে-
প্রত্যেক ফেরোমোনবতী সন্ধ্যা মুছে
লিখে রাখে উচ্চাশার রাতকথা



আমরা

আমরা তবু
বুকের মধ্যে ঘুঙ্গুর বাজাই;
রক্তে মাদল,
আহার নিদ্রা সপ্তসুরে
পাখির মত উড়িয়ে খেলাই |
আমরা তবু ঘুমের মধ্যে
রক্ত নদী পেরিয়ে চলি,
ঝুলবারান্দা, শ্যাওলা ধরা পুকুরঘাট
ঘুঘুর গর্ত;
বৃষ্টি শেষে গাছের পাতায়
টুপ টুপ টুপ
ছড়িয়ে পড়া,
কচুপাতার টুসকি জলে
ফড়িং হয়ে নড়াচড়া |

আমরা তবু
হঠাৎ কোনো গ্রীষ্ম রাতে
মাতাল হাওয়ায়,
খেজুর পাতায়,
ফুলের গন্ধে হাঁপিয়ে মরি |
বুকের মধ্যে রক্তে তখন
ছলাত ছলাত;
ডিঙ্গি নৌকো তল পায়না, মাথার মধ্যে
দ্রিদিম দ্রিদিম
বাদ্যি বাজে, বাদ্যি বাজে |

আমরা তবু
নরম ভোরে
আবছা আলোয় শিউলি তুলি,
কুঁড়ির বুকে মুখ ডুবিয়ে
ফুলের শরীর খুঁজতে থাকি;
খুঁজতে থাকি শরীরময়
বিষ পিঁপড়ে ছড়িয়ে পড়ে|
সেই আমরাই
বিকেলবেলার শেষ আলোতে
থমকে দাঁড়াই;
বুকের মধ্যে রক্ত খুঁড়ে
অশ্রু ঝরাই|
একটু ভিজে ঘাসের বুকে
মুখ লুকিয়ে
কোথায় হারাই!
কেউ আমাদের খোঁজ পায়না
তখন শুধু -
হাত মিলিয়ে খেলতে থাকি
আমরা এবং
আমরা সবাই |



শারীরিক

নিয়মের ইট নড়ে গেলে
নিমেষেই অদৃশ্য দেয়াল
যত কথা সব বাতুলতা
বিধাতাও আদতে বেহাল!

ঋণ শোধ

কুটি কুটি করে চিরকুট
লহমায় কমে যায় ক্রোধ
অবহেলা যেন ছেলেখেলা
নিমেষেই সব ঋণ শোধ!

অপচয়

তুমি দিলে কাটা চিহ্ন
আমি দেবো টিক।
যদি খেলা চলে ঠিক ঠিক
নেই কোনও জয়-পরাজয়
তবু কেন এই অপচয়?

ফাঁদ

তুই এলে কষ্ট অশেষ
তুই এলে মগ্ন বিষাদ
না এলেও সব আলো শেষ
কোন ফাঁদে ফেলেছও নিষাদ।

প্রজ্ঞা

শাখা আছে প্রশাখাও আছে
ফুল ফোটে মাস ঋতু মেনে
কথা আছে কলঙ্কও আছে
লাভ নেই বেশি কিছু জেনে।


About