এই সংখ্যার লেখক সূচি – রত্নদীপা দে ঘোষ, সপ্তাশ্ব ভৌমিক, অদিতি সেন চট্টোপাধ্যায়, বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায় , সৌমিত্র চক্রবর্তী, অদিতি চক্রবর্তী, অনুপম দাশশর্মা, আকাশ দত্ত, সুজাতা ঘোষ, অনুপ দত্ত, শশাঙ্কশেখর পাল, বৈশালী মল্লিক, ইন্দ্রজিত মাজি, অরুণ সেনগুপ্ত, মতিন বৈরাগী, নির্মলেন্দু কুন্ডু, মনিকাঞ্চন ঘোষ, বাপ্পা গাঙ্গুলী, লোপামুদ্রা মুখার্র্জি .


মধ্যে আর একটি সাধারণ সংখ্যা । তারপরেই ‘কবিপ্রণাম’ বিশেষ সংখ্যা । কবিপ্রণাম বিশেষ সংখ্যার জন্য লেখা চাইছি । লেখা ৫ইমে'র মধ্যে চাই, এই ঠিকানায় anyonishadgalpo@gmail.com
সহবাস

নিশ্চিন্ত থাকো
তোমার ঘামের কোন নাম দেবো না আমি
হারানো তারাদের নিয়ে তোলপাড় হবো না কখনো
তুমিও যে হারিয়ে ফেললে নিজেকে
তোমারও যে ভেতরে এতগুলি বর্ষার চারা গজিয়ে উঠলো
চারদিকে কেবল গাছ গাছ ধ্বনি
নিঃশ্বাসের পাতা বেছানো সবুজ
সরল জটিল বহুরূপী সব সাজ
কী আশ্চর্য আষাঢ় অঙ্ক
পঞ্চপ্রদীপের তাপ
এই যে হারিয়ে যাওয়া আমাদের মাঝখানে
সোনার জপবৃক্ষ
তুমিও কি অপরিচিত রইলে আর
অতঃপর শালিখের সুরদীক্ষা হল আমাদের
এই যে আমরা বুঝতে পারলুম
গান কোন রাগ নয় , আঙুলের দানা
জিভের চিরুনি
রোগবিহীন আকাশ , আবছা রঙেরঅসুখ মাত্র
এই যে মৌ নামক ঋতুতে মউ সই করে
প্রবল প্রেমিকস্বর তোমার
উড়ে এসে জুড়ে বস্লে
কুয়াশার পাখির মত
এখনো জেগে আছি সেই নামঘরে
আশ্চর্য গির্জার বস্ত্রহীনা দরবারে
লেখায় লেখায় লিখিত আছি এখনো

ভালবাসার এফ আই আর
বিবাগী বাউল

একতারা হাতে কবি
আলপথে একা হেঁটে যায়
কেউ কেউ হাত পেতে
বসে থাকে ভিক্ষার আশায়
এই পথে আলো নেই
অকারণে কে ঝরাবে ঘাম
অন্ধ কানাই তাকে চিনে
নিচু হয়ে করেছে প্রণাম।

অভিযোজন

এর মধ্যে কোনও লজ্জা নেই
এও এক শৈল্পিক অভিযোজন
যে সূক্ষ্মতায় গিরগিটি মিশে যায়
প্রকৃতির রঙে, শুধু সেই ঢঙে
নেচে কুঁদে এত আয়োজন

যুক্তির তর্কের নেই প্রয়োজন
এভাবেই দীর্ঘায়িত হও

গঙ্গার ঘাটে ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে এলো
বৈদিক সাম গান আর গঙ্গারতি ।
তখনও চলন্ত স্টীমারে ভালোবাসা বসে আছে আমাকে ছুঁয়ে...
কারা যে ভাসিয়ে দিয়েছে প্রদীপ
কাদের সে মঙ্গল কামনায়
আমি সে প্রদীপের শিখায় শিখায় ভালোবাসার আনন্দকম্পন দেখি...
জলের গন্ধমাখা বাতাস
চোখে মুখে আদর মাখিয়ে দিয়ে যায়
নক্ষত্রখচিত আকাশে দেখি লেখা আছে... ভালবাসা...
কেউ ছুঁয়ে থাকে, কেউ দেখা দেয়, কেউ বা ধরা দেয় না...
তবুও প্রত্যহ বিকেলে দেখি
দরজার ফাঁকে একফালি মরা রোদে

দীর্ঘায়িত এক ভালবাসা পড়ে থাকে...
বিরক্ত করবী

ছুঁটে যাচ্ছে ছায়াচর দূরারোগ্য দিনে
আসলে নিকৃষ্ট্পনা আধাঁর প্রপাত
চোখের স্পর্শটুকু ক্রমিক বিলীন।
তারাশূন্য স্মৃতিগল্প এ ব্লাইন্ড লেনে
ফুটে উঠে অগভীর আজ অকস্মাৎ
তবু এই কন্ঠশব্দ স্বরাজ স্বাধীন।

পথ চলে যায় দূরে আর ও পথ দাবি
বিরক্ত আভাস ছবি মলিন নিমেষে
সময়ের বারান্দায় সকলেই ঋনী
স্তব্ধচক্র ভেঙে দেয় প্রচলিত চাবি?
প্রবাহিত রক্ত কান্না ঘামবিন্দু শেষে

তোমাকেই দেখা আজ পেয়েছি নন্দিনী।
সিঁদুরখেলা

ফুটপাত টপকে ওপাশের সাদাকালো
জেব্রাক্রশিং পড়ে আছে নমাসের ঢিলেঢালা
গর্ভবতী অজগর সাপ হয়ে,
এপাশে ওপাশে ছিটমহল গড়ে তোলা
গতরাতের স্মৃতিদাগ খচরামি করে
দু পায়ের চলন্ত ফাঁকফোকর দিয়ে।
দুপাশের বাসি জানলার তিহার গরাদের ফাঁকে
আরাত্রিক পাউডার উগ্র পারফিউম
একের পর এক গর্ভশ্রাব আনন্দের
মাতাল ইচ্ছেয় খাটের ক্যাচালের মধ্যেই
হাত দিয়ে সামলে নেয় গতজন্মের
ফেড হয়ে আসা মেটে সিঁদুর।
খদ্দেরের অচেনা পায়ের চাপে
অসহায় জেব্রাক্রশিং শুধুই বছর বছর
জনগণনার পঙ্গু মাথা বাড়িয়ে চলে,
আবগারী দপ্তর জানতেও পারেনা
সিঁথির মধ্যেই লাইসেন্সবিহীন
তীব্র মাদকের কারবার।

ভালো না ভালো

মন ভালো নেই
বললেই 
সন্ধ্যে নামে অকাল।
এখন ইচ্ছে করে
নিষাদ অন্ধকার
এখন ইচ্ছে করে
চুপচাপ বসে
আত্মহত্যার অমোঘ
অজুহাতে ডোবার।
সান্ত্বনা পুরস্কার
এবং বাক্যের অসহ্য
উপহার এখন ব্রাত্য,
এখনই টেকটনিক প্লেট
দিকপরিবর্তণ করে
ফিরে যাওয়ার
প্রস্তুতি নেয়।
ঝুলির গর্তে বোঝাপড়া
কম হয়ে গেলে
একদিন বলতেই হয়
আই কুইট,
গুডবাই তখন কাকেদের
অতিরিক্ত চিৎকার।
টাইটানিকেরও অভিনয়
শেষ হয়
নির্দিষ্ট অংকে এসে,
তখন বরফগলা
জলে ডুবতেই হয়।


মদেশিয়া নরম

জলতল ছিন্ন করে ব্রাহ্মণী হাঁস
উড়ে গেল রেশম ডানায়
পরিত্যাগী জলবিম্ব যত
বৈরাগ্যের বিস্ফোরক ক্ষত
রয়েগেল মেঘে মেঘে মায়ারোদ মেখে
মরশুমি বৃষ্টি সম্ভাবনায় ।
গুমখুন করে যাওয়া জীবনের ডাকে
লোভী সময়ের মিঠে ক্ষণ
ওৎ পেতে বসে
অনীহায় পোষে
নীল ছায়া নীল ছবি উদোম হামায়
বিপণির আলো সুশোভন ।
নিমেষেই হয়ে যাই পাখি বিশারদ
ভুলেযাই জলের সরম
আলোর আকাশ দেখি
বালুতটে পড়ে একী
সিকি জোৎস্নায় গোঁজা মৃত ঝিনুকেরা
বাঁকফেরা নদীখাতে মদেশিয়া নরম ।


দেয়াল.....

শহরের দেয়ালের অভাব হয়না আদরের
ওদের ঋতুর বায়নাক্কা নেই
শূণ্য পদে ভর্তির সময় এলে ওদের
গাল টিপে দেয় ক্ষমতার বড়শিরা

নোনা ধরা পিঠে সুন্দর পালিশ হরেক রংয়ের
বেকার আঁকিয়েদের পকেটে
সচল ফর্দ দারিদ্রের
দেয়াল ঘামেনা কড়া রোদেও
ধর্ষিত স্বপ্নের নির্বোধ মানুষগুলোকে
দেয়াল সহোদর ভেবে নেয়
'
মানুষ নিজের সত্ত্বাকে ভেঙ্গেচুরে
কাগজের
কোলাজ করে তোলে
পাওয়া, না-পাওয়ার নিষিক্ত মিলনে
জন্ম নেয় প্রত্যেকের একক দেয়াল
'
মরা জোনাকির পিঠে চেপে রোজ
আসে চেনা সকাল
নির্বিকার চোখে শহুরে দেয়াল দেখে

উন্নততরো সভ্যতার ক্ষয়িষ্ণু খেয়াল
ডিফ্লোরেশন

আমাদের উরু ভেঙে
একে একে পেরিয়ে যায় ঘর, গৃহপালিত ময়ূর
সেকেলের মাছধরা

আমি বিগত অসুখের দিকে চেয়ে থাকি
ভেজানো বারান্দার দিকে চেয়ে থাকি

যে মেয়েটা আলাপ জমাতে চেয়ে
আঁকিবুঁকি রেখে গ্যাছে স্লেটে,
আমি তার জলন্যাকড়ার দিকে...


আমি তার মুছে যাওয়ার দিকে চেয়ে থাকি
কোথায় দাড়িয়ে

বাহ, বেশ লাগছে তো দেখতে
কাজের বোঝা থেকে চোখ তুলতেই
সবকিছু অন্যরকম।
ভিতরের সব হিংসা, রাগ, কান্না মুছে যায়।
জানলার লোহার গরাদের ওপারে
ছোট্ট মালভূমি, এপাশে ওপাশে ঝোপ জঙ্গল।
দূরে বহুদূরে ঘন, গাঢ় হাল্কা সবুজ
পেরিয়ে হাল্কা হয়ে যাওয়া আবছা দূরত্ব।

আমি হাঁটছি পাথর ডিঙিয়ে
ধোঁয়াশা নেচে বেড়ায় হাওয়ার পাখনায়
ছুঁয়ে যায় বিস্ময় আর ভালোবাসা
মাখামাখি করে আমার খোলা চোখের পাতায়।
এখানে কেউ নেই, কোথাও নেই
নেই কোন সিমানা,
লোহার দরজায় দাঁড়ানো চৌকিদার অথবা
প্রতিদিনের একঘেয়ে জীবনের তেলচিটে গন্ধ।

অনেক উঁচুতে একটা বাজ উড়ে যায় শান্তিতে।
ওকি কাউকে খুঁজছে?
আমি? আমি কি কাউকে খুঁজছি?
ওফ, দমকা হাওয়ায় পা বাড়ানো দায়,
ধুলোগুলো আনন্দে মাখামাখি খাচ্ছে ধরায়।
আমি উড়ে যাই দূর বহুদূর
ওই যে লাল আগুন আকাশ হাতছানি দেয়
আমিও খুব কাছাকাছি ওই যে বাজপাখির।

আঃ, বড় চেনা এই সুর, কে ডাকে আমায়?
সমস্ত ধুলো, শুধু ধুলোময়।
হাতড়াচ্ছি সবুজ আর আবছা নেশার মাটি
কিছু নেই, কোথায়ও নেই, শুধু আমি আর আমি।
সামনে লোহার গরাদ আর নিয়মের মোটা বই
চোখ ফেরাতেই অন্ধকারের শক্ত চোয়াল।
রোজের বড় ঘড়িটা জানে না শ্বাস ছাড়তে

আমি আছি দাড়িয়ে বর্তমানের হাত ধরে।।
চলো আমরা আবার অরন্য হই

কি করে বোঝাই কি কলা কৌশলে ডুবে আছি এই অধঃপাতে ৷
এর চেয়ে ঢের ভাল ছিল অরন্য দিন রাত্রি ৷
অরন্য নদীতে উজান৷পাশে গ্রাম তারুন্য ভাটিয়ালী ৷
সকালে শুন্য পৃষ্ঠার মতো খালি চোখে ফ্যাল ফ্যাল কুয়াশা ৷
চোখ মটকি ঘুমের বিলাপ ৷

দুপুরে নেংটি পরা গুটিকয় ঝাপানো বালক
ছেলে ঘুড়ি পাবন একাডেমী ভো-কাট্টা পরীক্ষা ৷

বিকেলে করোতোয়া নদী জলে ছপছপ পা ফেলে
চলোপাড়া গ্রামে নাম সংকীর্তন লুটের বাতাসা ৷
টাকার মালা গলায় পড়া বাবার সঙ্গে গাইতে গাইতে
অষ্টপ্রহর দুহাত তুলে সুর ধরা,আহা
হরে কৃষ্ণ হরে কৃষ্ণ, কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে
হরে রাম হরে রাম, রাম রাম হরে হরে

সন্ধ্যা শ্মশান ধুলা গায়ে মেখে বাড়ী ফেরা
রাতে মার কাছে সেই শ্মশানের ভয় করা গল্পে
চুপচাপ ঘুমিয়ে পড়া ৷

সব চিন্হ নিশ্চিন্হ হয়ে আছে আমাদের মনে
মনের ছায়ায় লেগে আছে গোদরেজ সাতলিভার কুন্ঠিত তালা
নিষেধাজ্ঞা এক গাদা অফিস ল্যাপটপে ৷
উন্মুক্ত ইউ টিউবে উচ্চারিত না বলা কথার উদ্ভাসিত নিমেষ ছবি
গোপন এম এম এসএ রাতের কিছু বন্ধ ছবি
খোলা বাতাসে শ্বাস নিয়ে নিঃশ্বাস হয়ে যায় ৷

হ্যালো স্বাতীদি,
থাক এসব যেমন তেমন ৷

চলো আমরা আবার অরন্য হই ৷ 
সংক্রান্তি

পৌষসংক্রান্তি রাতে
তোমার হাতে বকুলপিঠের রেকাবি

ফ্রেমেবাঁধা মা আমার নেমে এলেন

তখন কেমন ছিল
কয়লার তোলা উনুন ও ঘুঁটে
কাঠের টুকরো বানাতে মায়ের সাথে লেপটে থাকতাম
আমরা কজোড়া ভাইবোন

নারকোল ছোলা
মালই ফাটিয়ে তার জলের স্বত্ব নিয়ে হুল্লোড়বাজি

গনগন লালটুকটুক আঁচে মায়ের মুখ
                     স্বয়ং অন্নপূর্ণা

বিলয়

একান্তে জড়িয়ে রাখা কত কি
হাতবাক্সে লুকিয়ে রাখা  হীরের ফুলদানি
গুলদস্তাহীন
আলো-শূন্য ঘুমোয় একাকি

যাকে জড়িয়ে নাওয়ের বৈঠা
সে ছেলেবেলা কবে কখন ছেড়ে চলে যেতে হয়
ফেরার ফাঁকফোকর কিছুই থাকে না

আমার সন্তানের ভেতর যদি-বা খুঁজেত চাই
সেও তো বিদেশ বিভুঁয়ে সামুদ্রিক পাখি


এখন হাতবাক্সে পোষা ঠোঁটে অধরা ঘ্রাণ
ঈশ্বরকে দেখতে কেমন?

ঈশ্বরকে দেখতে কেমন?
আয়নার সামনে কেউ কেউ ঈশ্বর ,
মৃত্যুকে ছোঁয়ার পর সবাই ঈশ্বর হতে চান
আমি জীবন্ত ঈশ্বর দেখেছি !
রক্ত মাংসের ঈশ্বর ।
বুক থেকে রক্তক্ষরণের পর যখন কেউ
একপশলা ভালবাসা মাখিয়ে দেন
আমি সেই ঈশ্বরকে আজন্ম ভালোবেসেছি ।
পথে পথে ঈশ্বর ঘোরেন
আমরা মানুষ ভেবে ভুল করি,
ভিখারির বেশে , বেশ্যার বেশে , পাগলের বেশে , মাতালের বেশে , প্রেমিকের বেশে ঈশ্বর ।
তবুও কেন আজন্ম প্রশ্ন থাকে ?
ঈশ্বরকে দেখতে কেমন ?


একাকীত্ব এবং

কেমন আছ সাগরিকা ?
আজও কি চৈতালি বিকেলে-
সোহাগি বালিহাঁস হতে চাও ?
তুমি চলে গ্যাছো বসন্তের খোঁজে,
আমি আজও আগলে বসে-
উঠোনে ছড়িয়ে গ্যাছো প্লাবন ।
কালবৈশাখী এলেই বিকেল সব-
দুর্বার ঔদ্ধত্যে যাযাবর হয়ে যায় ।
বুকের ভেতর গ্লানিরা পিপাসায় ছটফট করে,
আমার স্তব্ধতাকে আত্মঘাতী করে তোলে ।
তেপান্তরের বৃদ্ধ রাখাল ডাক পাঠায়,
ডাক পাঠায় ফেরারী আলপথ,
অথচ, অপেক্ষায় আমার দরজা অহল্যা ।
জানালার দূরবীনে একাকীত্ব-
কৃষ্ণচূড়া হয়ে ফুটে উঠছে ।
তোমার না ফেরার খবর অজানিত নয়,
নয় আকস্মিক বজ্রাঘাত,
তবুও একাকীত্ব অভ্যাস করে ফেলেছি,
রপ্ত করে ফেলেছি দীর্ঘশ্বাস গোপন করে ভালোবাসতে ।


পাতা ঝরা দেখি

পাতা ঝরা দেখি 
শিশিরের শব্দ কতটা মুখরিত
 
ঝরে গেলে তার শব্দ নীরবতার
 
হাওয়ারাও জেনেছে বুঝি
হলুদ পাতা সবুজের ঘ্রাণ 
গাছকে মুগ্ধ রাখে
 
রাখতে রাখতে সবুজে মাখিয়ে চোখ
 
মাটির গন্ধে বর্ষা নামালো
 
এখন ভিজে যাওয়ার কী সুখ 
হাওয়ায় হাওয়ায় দোলে
জানালার এইসব ইচ্ছে
ওদের মত ভিজে ' 
ভিজে যায়
পাতা ঝরা দেখি


আর কোনো সত্য নেই

মনে হয় অনন্ত সময় ধরে এই খানে বসে আছি আমি
আমার শরীর ছূঁয়ে বেড়ে ওঠা বিশাল অরণ্য বৃক্ষরাজির অখ-নিরবতা
নুন হয়ে ঝরে গেছে
মুনি ঋষি ধ্যানী দস্যুর তান্ডব আমার শরীরে
মনে হয় আমিই বাল্মিকি বসে বসে  লিখেছি অমর পঙক্তিমালা কিংবা
কৌটিল্যের কূটভাস-

আদিঅন্ত চলমান শক্তির অনন্ত সময় আমি
 দেখেছি এক হরিনী মায়ের চঞ্চল পদক্ষেপণ স্নেহের পাহারা
দেখেছি মানুষ রাক্ষস আবার দেবতাও তারা; পলায়নপর রাজা-মহারাজা-নিশুতি বিলাপ-
মনে হয় এইখানে বসে আছি আমি শরীরে শিকড়বাঁকড় গেঁথে গেছে মৃত্তিকাতল
স্থান-কালের অখন্ড নিয়ম আমি সকল সত্যের সত্য রজঃতমঃ গুণ
আমি মন্ত্র-তন্ত্র-প্রেম-প্রীতি ছলনা ইস্পাত গলানো আগুন 
আমিই অস্তিত্বের সকল স্বরূপ আর কোনো সত্য নেই-

আবারো....


আবারো লাঞ্ছনা,
পুরুষকারের নামে কাপুরুষতার প্রকাশ
আবারো....
আবারো কিছু অজুহাত,
ছেঁদো কিছু কথা,
অথবা সমাজ-রক্ষার পরাকাষ্ঠা ৷
আবারো কিছু প্রতিবাদ,
যুক্তি-প্রতিযুক্তির দড়াদড়ি,
আবারো সব থেমে যাওয়া৷
তারপরে
নতুন কোন স্থানে
পুরনো সেই অপমান,
বিক্ষত 'সুপ্ত' মানবতা
আবারো....
তৃষ্ণার্ত হৃদয়

সিংহল সমূদ্র থেকে হৃদয়ের উত্তাপে
কুণ্ডলি পাকিয়ে পাকিয়ে জল উড়ে যায়
অগাধ শূন্যতায় ধীরে ধীরে বড় হয় মেঘ
হৃদয়ের অশান্ত ব্যাকুলতায়
প্রশান্ত মহাসাগরে ডুবে যায়
ধূসর ধূলিকাময় অধরা সময়..
গোধূলী লগন পেরিয়ে ফিরে আসে সন্ধ্যা
সামাজিক জীবন সন্ধ্যা প্রদীপ জ্বালে
বিধাতার নৈকট্য লাভের আশায়
হাতে শাঁখা আর শঙ্খধ্বনি গালে ।
অধরা পঞ্চমী তিথির রূপালী চাঁদ
দোয়েলের মত শিস দিয়ে যায় বাঁকা ঠোঁটে
স্বপ্নের জানালায়, কান পেতে শুনি
মিলন আর বিরহের নানা গুঞ্জরন।
ওই হিমাদ্রী পর্বতে ধীরে ধীরে জমা হয়
বরফ খণ্ড, হৃদয়ে তার অগ্নিজ্বালা
শঙ্খচূড়ায় হাতছানি দিয়ে ডাকে-আয় আয়!

বরফ গলে যায় পাহাড় বেয়ে ঝরে পড়ে ঝরণাধারা
চাতক মন চেয়ে থাকে সবুজের মাঠের দিকে
একমুঠো বর্জ্রের অপেক্ষায়
কখন নামবে বৃষ্টি?

আর কখনই বা জুড়াবে এ তৃষ্ণার্ত হৃদয়?
মনের আবাদ

আসলে প্রেমকে তুমি
ক্ষুদ্র মনে করো
ভাবো বসে প্রেম শুধু দেহ
ক্ষনিক যৌনতা নিশ্চয়,
মনের আবাদ হলে
মনে ফলে মনের ফসল
যেখানেতে সব চাওয়া
ব্যর্থ হয় -মিথ্যা হয় যত কৌশল!!


ফরমান

একই ছাঁচের দুটি মনের অদ্ভুত মিলন,
সমাজে পাঁচ মেশালি আচারের স্খলন,
লোক লজ্জারা বুমেরাং হয়ে যায়,
আকুতি দু মাথার ছাতা,স্বপ্ন চায়
অদ্ভুতুড়ে নেশা গরল অমৃতে ধায়,
উষ্ণতায় বিকৃত মনেরা সহজতা চায়,
চার চৌকো দরজা খুলে বিশ্বায়নের আলো জালে,
গতানুগতিকরা বলে বিশ্ব রসাতলে,
সমাজের লাল চোখ ফরমান জানা

সরকার দাদা দিদি মিশতে করেনি মানা ।
এই সংখ্যায় ২২টি কবিতা । লেখকসূচি - শৌনক দত্ত, শর্মিষ্ঠা ঘোষ, অঞ্জন খান, প্রণব বসু রায়, নাজনীন খলিল, জয়া চৌধুরী, সাঈদা মিমি, শঙ্কর দেবনাথ, দেবাশীস মুখোপাধ্যায়, তোফায়েল তফাজ্জল, শেখর কর, কাজরী তিথি জামান, তন্ময় গুপ্ত, শিবলী শাহেদ, কৌশিকা চক্রবর্তী, শমিতা চট্টোপাধ্যায়, আহমেদ ছহুল, দীপঙ্কর বেরা, আহমেদ ছহুল, পলাশ কুমার পাল, পল্লব সেনগুপ্ত, মাহমুদ নজির, সৌমেন্দ্র লাহিড়ী ।
                             সূচিপত্রে ক্লিক করে পড়ুন


গুন্টার গ্রাস কে লিখতে পারিনি...

তোমাকে লেখতে পারিনি বিশ্বাসী বুননে
ব্যথা বেদনায় ধোয়া নিবিড় সবুজ
লেখতে পারিনি গ্লানি মুক্তির দিন
বারুদে শহরে কী বিশাল শূন্যতা
পথ ভুলে যাওয়া আমি কি তোমার?
আকাশে বাড়ছে রোদের বয়স
ভঙ্গুর বিশ্বশান্তি অসুখে বেদনায় মাখা
পাখির মতোন সফেন দ্বিধা
পশ্চিমের লন্ঠন একা থাক আগ্রাসনে
তোমায় যা লিখতে পারিনি
আজ মৃত্যুর মন্বন্তরে অমিতাভ অহংকারে
সারা করতলে আঁকি ইরান আর ইজরাইল
একটি মুখ ও মুখোশের শহরে
সাজাই দ্বান্দ্বিক সভ্যতা!

About