এই সংখ্যার লেখকসূচি – পুণ্যশ্লোক দাসগুপ্ত, কচি রেজা, নাজনীন খলিল, সপ্তাশ্ব ভৌমিক, শঙ্কর দেবনাথ, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, দময়ন্তী দাশগুপ্ত, কিংশুক ভট্টাচার্য, কাজরী তিথি জামান, পিনাকীপ্রসাদ চক্রবর্তী, জয়দীপ চক্রবর্তী, ইন্দ্রজিৎ মাজি, মতিন বৈরাগী, কামরুন্নাহার কুহেলী, বচন নকরেক, আয়াত হোসেন উজ্বল, সার্থক মজুমদার, আক্তারুজ্জামান লেবু, ভায়লা সালিনা লিজা, ইন্দ্রনীল চক্রবর্তী, জয় ভাদুড়ী ও মাহমুদ নজির ।

                     পড়ুন সূচিপত্রে ক্লিক করে
বৈশালী পর্ব


এই মাত্র তাকে দেখলাম গান ভেসে যাচ্ছে ডানায় ডানায়
উত্তরে ভালোবাসা ডগমগ দক্ষিনে রোমিও গ্রিন ফিস ব্যথায় জর্জর
বৈশালী কলকাতার মে নরকে যাবে না তার ঘর পাহাড়ের উপর
হ্যান্ড-গ্লাইডার চেন তুমি? হ্যাপি ভ্যালি চালসার পাখি
আজ সন্ধ্যায় ইন্দ্র এসেছিল
বললো
গল্পের দুনিয়ায় বৈশালী ঘুমিয়ে পড়েছে


তোমার দিকে তারার পাখি তোমার দিকে তিতলি ধারা
পাশ ফিরে ঘুম নদীর শিশু মাছের ঝাঁকে পাগল পাড়া
ওই মাধুরী মেঘের গায়ে বৈশালী থাক সংগীতে আর
আকাশ থেকে নামবে দেখো তোমার পরীর দশটি তারা
তাদের পায়ে সোনার নূপুর তাদের হাতে লাজুক চিঠি
কে লিখেছে কে লিখেছে মদন নাকি?আসুক নেমে বাদল-ধারা
মদন কে গো দেবতা নাকি বৈশালী তার লাভার বুঝি
ও হারাধন মদন পেলে মদের মতো মদির হবার সুযোগ পেলে
আর কি কি চাই নাগরদোলায় উঠবে এসো ঝুলবে এসো তারার গায়ে
মদন থাকেন সেই পাহাড়ে সেই কুমিরের আসতানায়
তোমার দিকে তারার পাখি তোমার দিকে তিতলি ধারা
ও রজনী তারায় তারায় গলিয়ে নিও কফির পাত্র
বৈশালী তার মেঘের বাড়ি নিলাম করে দেবেন কেন কেউ জানেনা
মদন কে গো দেবতা নাকি? বৈশালী তার লাভার বুঝি

ও হারাধন,নাগরদোলায় উঠবে এসো ঝুলবে এসো তারার গায়ে
তুমি

একদিন সব রাস্তা আমার বাড়ির সামনে দিয়ে যাবে

প্রতিদিন মেঘগুলো  আমার বাড়ির আকাশে ডাকবে

আমার বাড়ির সামনে দিয়ে একদিন সব রাস্তা

আমার বাড়ির আকাশে প্রতিদিন মেঘগুলো

প্রতিদিন বৃষ্টিগুলো

পড়া বৃষ্টিগুলো , ডাকা মেঘগুলো

দেখতে দেখতে , দেখতে দেখতে---

প্রতিটি রাস্তায় তুমি

প্রতিটি রাস্তা , প্রতিটি তুমি দেখতে দেখতে


আমার মন কেমন করবে 
 কাগজের নৌকা


রাতের বোতল উপুড় করে
, দীর্ঘশ্বাসের মদ পান করেছি গোপনে
তার  'ফোঁটা ভাগ আমি নদীকে দিয়েছি ;
গড়াতে গড়াতে ঠিক মিশে গেছে সমুদ্রের নুনে।


 আজ আবার বৃষ্টি
 আজ আবার কাগজের নৌকা ভাসানো দিন ;  
                                                                  
  কতদিন স্বপ্নের স্বাক্ষর এঁকে ভাসিয়েছি  রংগীন কাগজ ।

পায়ে পায়ে নিগড়ের নিষ্ঠুর  ঝনৎকার ছিল । পথ ক্ষমাহীন।
আকাশ-উদ্যানের সিঁড়িতে রেখেছি দ্বিধান্বিত পদক্ষেপ
                       
 কত নক্ষত্রের ফুল জমে আছে আকাশের গোপন পকেটে,
 আজো খুঁজে ফিরি।

পাথরে পাথর ঘষা আগুন থেকেই ছড়িয়ে পড়েছে যে  তারার ফুলগুলো ,
আমি কুড়িয়ে নিয়েছি ,
মায়াবতি স্বপ্নের ভেতর থেকে কুড়িয়ে নিয়েছি এক টুকরো চাঁদ।

গন্তব্য অজানা -----
ঘাসফড়িংয়ের পেছনে ছুটতে ছুটতে

আমিও যে কতবার ঘাস হয়ে গেছি তৃণমূলের জলকণা জানে ।
আজ আবার --
আনমনে ঢুকে পড়ি এক ছবিঘরে
দেয়ালে ঝুলন্ত ক্যানভাসে খুঁজি
মেঠো আলপথ, শিশির ছড়ানো সর্ষের ক্ষেত।

মরফিন-চর্যায় নিঃসাড় পড়ে আছে যে অচেতন দেহ
সে কি সন্নিবদ্ধ হাতের কপাট খুলে হারিয়ে ফেলেছে জাদুর কপোত !
ভাঙন

চোরা-স্রোত অলক্ষ্যে ডাকে
ডালপালা বড় নিরুপায়
শিকড়ের যত প্রতিরোধ
ভাঙনের কাছে অসহায়

ঋণ

সব ঋণ শোধ হলে তোর
প্রয়োজন থাকবে না ওর!
থেকে যাক কিছু ধার দেনা
আজ রাতে বেশি কথা মানা!

সম্পর্ক

নীরবতা থেকে কথা ঝরে
আগাছায় ভরে যায় ঘর
মুখোমুখি শুয়ে বিছানায়
ভেতরের পাথর অনড়!

ঘট

এতো বিষণ্ণ কেন
যদিও বিষণ্ণতা পবিত্র সুন্দর
জানি এই বিষণ্ণতা তোমাকে মানায়
তরল বিষের স্রোতে
 ভরে গেছে ঘট
আজও তাই বিপন্নতা কানায় কানায়


দুঃখ নয়


দুঃখ নয়

দুঃখের ভেতরে কিছু
সুক্ষ্ম সুক্ষ্ম সুখ
চুক্চুক্
করে খায়
স্রাবিত বোধের
মধ্যে রোদের মত
ক্ষত থেকে
রসায়ন

আর
বিক্রিয়া সঞ্জাত তার
সাহসী স্বপ্ন থেকে
মেখে নিয়ে বিন্দু বিন্দু
সিন্ধু-ঘ্রাণ
প্রাণ হাসে বুকে
সুখে
মেলে দিয়ে ডালপালা

নালা হয় নদী
 আর
বোধি তার
অনন্তের জলাশয়

দুঃখ নয়

দুঃখের দহন-

গোপনে গোপনে করে
পাললিক জীবন বহন---
গাছ

বেঁচে আছে যেমনটা বাঁচতে হয়
গল্প করতে করতে হেলান দিয়ে
যে ভাবছিল বউয়ের কথা
সেই একটা ডালে ফাঁস দিয়েছে

ফল

কাঁচা শরীরে রঙ ধরতেই
নজর লেগে যায়
সাধুও ভোগী হয়ে পড়ে
এমনই রসের মহিমা আর নত মুখেরও

ফুল

মাটি বুঝে নেয় কুসুমের শরীর
কতটা তাপ দিয়ে গেছে তাকে
মন মানিকেরাই চাক ভেঙে

সে শুধু  মধুটুক  খাবে
কুন্তী কেঁদোনা আর

তুমি যত কেঁদেছো ,
তার চেয়েও বেশি , চোখ মুছেছে  রবিবারের ভারত ।
কুমাতা কুন্তীর কান্নার মূল্যে ,দূরদর্শনের কোটি টাকার লক্ষ্মীলাভ ।
কুমারী মায়ের অব্যক্ত  ব্যথা , ব্যাভিচারের ফ্রেমে ভরে উপভোগ
করেছে পুরুষেরএকদল ।
কর্ণমুখে রবিবাবুও প্রশ্ন রেখেছিল তোমায় ,
কেন রেখে গেলে তুমি  ,অগৌরবে তাঁকে, মাতৃনেত্রহীন করে ,
মানহীন বংশহীন , অন্ধ অচেনা বিশ্বের কোলে ?
তোমার মাতৃত্বেরপেরেকেহাতুড়ি বুলিয়েছে এই  পিতাসমাজ ।
ঈশ্বরপুত্র কোলে অবিবাহিতা দেবী মা মেরীর সাষ্টাঙ্গে ক্যাথলিক
সমাজ ,
সেখানেও  প্রতিবেশীর লাঞ্ছনার চোখ , জঠরে উঁকি দিয়েছে
কুমারীর ভ্রূণ ঈশ্বরকে ।
ভারীগ্রন্থের ধর্মবাণীর পাতা , সর্বযুগে উড়ে যায় ,
নারী অবিচারের হাওয়ায় ।

কুন্তীরা তাই আজ , সমাজের রেটিনায়  মানবিক অধিকারের দাবি
চায় ।


নাম

তোর নাম কি মৃত্যু?

অথবা ভালোবাসা?

না জীবন?

একবার সত্যি করে বলতো?

তোর নাম আর যাইহোক

অভ্যেস বলিস না।

শেষইচ্ছা বলে ডাকতেই পারি কখনো,

অথবা আত্মহত্যা কিম্বা সর্বনাশ বলেও।

ওসব নামেই তোকে বেশি মানায়।








আমরা ভাত চাই


‌‌‌‘এই পাঁচিল টপকেই আছে খাদ্য গুদাম'
বলেছিলো কোনো এক বলিয়ে
তারপরে ভাত দাও, ভাত চাই
বলতে বলতে কিছু বলাবলিরা মিলে
টপকালো পাঁচিল গুদামের হদিসে।
কোথায় গুদাম? নোনা মরুভূমিতে
র‌্যাটেল স্নেক বিছানো অন্ধাকার পথ
পাড়ি দিতে হবে তাই চলেছিলো
ভাত দাও, ভাত চাই বলাবলিরা।
তেষ্টায়, ক্ষুধায় ক্লান- কিছু
জীবিত পৌঁছায় গুদামের দরজায়।
'নট এলাও'- দেখেও মুর্খ চাষার দল
কিছুই বোঝে না, চিৎকারে গলা ফাটে
দরজা খোলো-
আমাদের ভাত দাও
আমরা ভাত চাই...


গল্পখানি...

কেন বলবো যেওনা ওইখানে..যুবতীর পলাশ বনে !
কেনো বলবো ফিরে এসো?বরং বলবো করো যা খুশী,
যেমন খুশী উড়ে বেড়াও আকাশ গাঁয়ের পথে পথে
যেমন খুশী সাজিয়ে দাও বন পলাশের পদাবলী
আমার কিছু যায় আসে না ।
আমার কিছু যাবেই কেন
আমার কী বা আসবে আবার!
ঐ যুবতী দিক না কিছু
ঐ যুবতী আড়াল পাতায় সাজুক নাহয় !
চোখ যদি সেই বুকেই থাকে যেমন জানি,
যেমন জানি পেছন ফিরে কী সে খোঁজে
কীসের খোঁজে বাঁকের সাঁকো আগলে রাখে
আগলে রেখে আমার সকল জলের আধার
নিঃস্ব করেই নিমেষ ছোঁয়ায় উপচে সোহাগ
যেমন আমার চোখের ভেতর চর জেগেছে
যেমন আমার সুখের ঘরে ভালোবাসার ঘুণ ধরেছে
চোখের ভেতর দক্ষিণ দুয়ার খুলবে যখন
তখন তোমায় কেউ পাবে কী ! কেউ জানেনা
বারুদ মানে তোমার চোখে অন্য কোনো
পরশ পাথর কেউ রাখিনি ।
পলাশ বনে ঐ যুবতী পু'ড়েই যাবে । তুমিও জানো,
আমিও জানি ।

এই আমাদের আধেক চেনা ।এই আমাদের গল্পখানি ।
অন্য বাঁচন

তোমার এই লেপটে থাকা ভাতকাপড়ের গন্ধের মতো 
দিন থেকে সারাদিন রাত্রিযাপনের পরও যত ।
ভেবে দেখেছো তোমার নৃত্য আকুল পদযুগল,
ঘাসের বুক থেকে মেখে নেয় সব পাতনজল।
তুমি ফিরেও দেখ না সেই কৈশিক সমাধির কারুকৃতি।

 আমার এই সব হেলাফেলা বড় ভালো লাগে।
পৃথিবীর রোজকার সব আকঁড়ে থাকা মনে করে
শত সমস্যার অণুসূত্র যে গুটিপোকা হয়ে থাকে।

এমন বোধিবৃক্ষ সব বুকের উপর পুঁতে রাখি,
আলোজলবায়ু শোষণের পরে সন্ধ্যাতপে নামি।
চ্যুত কাঠগোলাপের গন্ধ বা না-গন্ধের মতো,
বায়ুভূত থেকে নেমে আসে পাশে যেখানে মেরুজীবী যত।।


ডাইরির ছেড়া পাতা

এই যে তোমার ঠোঁটের ডান ধারে - ছোট্ট-খানি তিল-
ওটাই আমার বোটানিক্যাল, ওটাই আমার রাজচন্দ্রপুর, নিশ্চিন্দার
ঝিল।
ওই যে তোমার নাকের ওপর -বিন্দু, বিন্দু জমা ঘাম,
ওটাই আমার ঢাকেশ্বরী, ওটাই ধনঞ্জয়-পান্নালালের গান।
ওই যে তোমার খোপার ভেতর - বাধ্য চুলের খামখেয়ালি মুগ্ধতা,
ওটাই আমার প্যারেড গ্রাউন্ড, ওটাই বালিগঙ্গার শিশির ভেজা
শুদ্ধতা।
ওই যে তোমার কানের গায়ে - কানের দুলের বাহার,নাকের নথ-
ওটাই আমার ছেলেবেলার হারিয়ে যাওয়া নিশ্চিন্দার চিত্রপট।
ওই যে তোমার কালি পড়া - ব্যাকুল চোখের বালির সোনাঝরা
কিনার,
ওটাই আমার হপ্তা-বাজার, ঘোষপাড়া-বাজারের স্মৃতিকথা শোনার।
কপাল ছড়ে সেইসব আলোলাগা বেলার - গভীর ব্যথার স্মৃতি সুধার
দাগ,
ওটাই আমার নিশ্চিন্দার মোড়,খেতেবসে বড়মামার এঁটোহাতেই

ধরতে শেখানো জলের গ্লাস।

About