• এই সংখ্যার লেখকসূচি - সরদার ফারুক, ঈশানী রায়চৌধুরী, জয়া চৌধুরী, সমরেন্দ্র বিশ্বাস, সৌমিত্র চক্রবর্তী, বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়, প্রণব বসুরায়, সুবীর সরকার, নন্দিনী সেনগুপ্ত, অদিতি চক্রবর্তী, দময়ন্তী দাশগুপ্ত, দোলনচাঁপা ধর, পম্পা রায়, রুখসানা কাজল, সাকিয়া রিপা, বচন নকরেক, দেবলীনা দে, জয় সেনগুপ্ত,  শ্রাবণী বসু, নীলদীপ চক্রবর্তী, শুক্লা মালাকার সাহা, গৌতম সেন, অনু ঘোষ, রাজীব সরকার ও সুদীপ দাস ।
                            সূচিপত্রে ক্লিক করুন
এই সংখ্যার পর অন্যনিষাদ’এর আর দুটি সংখ্যা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে ‘অন্যনিষাদ’ তার চার পছরের পথচলা শেষ করে পঞ্চম বর্ষে পা দেবে । ১৯শে অক্টোবর ২০১৫ ‘অন্যনিষাদ’এর পঞ্চম বর্ষ প্রথম সংখ্যা বিশেষ সংখ্যা রূপে প্রকাশিত হবে  । কেমন লাগছে ‘অন্যনিষাদ’ ? কোন বিষয়ে নজর দেওয়া দরকার ? জানান কোন দ্বিধা না রেখে । পাঠকের প্রতিক্রিয়াই তো এগিয়ে চলার রসদ ।

(২) অক্টোবর মাসে আর একটি বিশেষ সংখ্যা হবে । ৩০শে অক্টোবর সুকুমার রায়ের জন্মদিন । ঐদিন অন্যনিষাদ প্রকাশিত হবে ছড়া ও শিশুমনের উপযোগী  কবিতা নিয়ে । ছোটদের লেখা খেয়াল-খুশির কবিতাও থাকবে ।

(৩) অনেকেই তাঁদের প্রকাশিত কবিতা ফেসবুকে শেয়ার করেন , বন্ধুদের জন্য । ঠিকই করেন । আমার অনুরোধ কবিতা শেয়ার করার সময় অন্যনিষাদের লিঙ্কটাও শেয়ার করুন। বন্ধুরা তাহলে অন্য কবিতাগুলিও পড়তে পারেন । 

(৪) প্রতি সপ্তাহে অনেকগুলি কবিতা পাই । তা থেকে ২৫টির বেশি কবিতা একটি সংখ্যায় দিতে পারি না । চাইও না । লেখা পছন্দ না হলে জানিয়ে দিই । সুতরাং যাদের কবিতা এই সংখ্যায় নেই অথচ পছন্দ হয়নি এমন জানাইও নি । তাদের বলি,  লেখা ঠিকই প্রকাশিত হবে পরের সংখ্যা ।

ভালো থাকুন । সকলকে শুভেচ্ছা জানাই ।
ফেরা

ফিরে আসতেই হয়।আমিও ফিরেছি। গলির দেয়ালে
আগে কারা লিখে রেখেছিলোআসন্ন বিপ্লব’?
এখন সেখানে উপচানো যৌবন-মাধুরী

কোন্ দেশে ডোডোপাখি থাকে? গোলাপী-আভার ডিম
এনে ফিচেল লোকেরা আমাকেও গছাতে চেয়েছে
জামার পকেটে ছিলো ছেঁড়া তমসুক, তুচ্ছ সুপারিশ


আসমুদ্রহিমাচলজপতে জপতে এসেছি কোথায়?
বারোয়ারি কলে স্নান করে উলঙ্গ শিশুর দল
হলুদ গোলাপ

মূল কবিতা : ‘Gloire de Dijon’
ডি এইচ লরেন্স
ভাষান্তর : ঈশানী রায়চৌধুরী

ও যখন সেই কাকভোরে উঠে
স্নান করে
আমার চোখ দুটি উন্মুখ ওকে দেখবে বলে
 
জানলার ঠিক নীচে টানটান করে মেলে দেয় তোয়ালেটা
আর সূর্য কেমন দৌড়ে এসে আঁকড়ে ধরে ওকে

খোলা কাঁধে রোদ্দুর চিকচিক
আর শরীরের দু -পাশ বেয়ে গড়িয়ে যায়
সোনালি ছায়া ছায়া আলো ...

ও যখন

ও যখনই নীচু হয়ে তোয়ালে থেকে
জল নিংড়োয়
সামান্য নমিত স্তন দুটি
ঈষৎ দুলে ওঠে
ঠিক যেন হলুদরঙ
এক জোড়া ফুটন্ত গোলাপ

ওর দেহলী বেয়ে জল ঝরে টুপটাপ
এবং রুপোলি কাঁধ গুটিশুটি মেরে চুপ
ঝরে পড়া বিবর্ণ গোলাপ

সেই সব পাপড়িরা বৃষ্টিজলে এলোমেলো
ভেসে যায় জানলার সোনালি রোদ্দুরে
আমি শুধু সোনারং ছায়া দেখি
পরতে পরতে যেন
হলুদ গোলাপ হয়ে

সেজে ওঠে সূর্যভেজা ভোরে
আমার ভাই মিগেলকে
সেসার ভাইয়েখো
অনুবাদ- জয়া চৌধুরী

[পেরুর সর্ব কালের সর্ব শ্রেষ্ঠ সাহিত্যিক সেসার আব্রাহাম ভাইয়েখো ১৮৯২ সালে পেরুর সান্তিয়াগো দে চুকো তে জন্মগ্রহণ করেন। সাহিত্যের সবকটি শাখায় তাঁর অবাধ বিচরণ ছিল- কবিতা, ছোটগল্প, উপন্যাস, নাটক, চিত্রনাট্য,সাংবাদিক হিসাবে লেখা তাঁর কলাম ও প্রবন্ধ গুলিও উল্লেখযোগ্য। তাঁর কবিতাই অবশ্য সবচেয়ে সমাদৃত। ১৯৩৮ সালে প্যারিসে প্রয়াত হন এই মহান সাহিত্যিক।]

ভাই আজ আমি রান্নাঘরে পাথরের টুকরোটার ওপরে বসে আছি।
তুই যেখানে মজার ছলে কত দুষ্টুমি করেছিস !
মনে পড়ে এই সময় আমরা কত খেলতাম, আর মা
আমাদের আদর করতঃ... উঁহু... সোনামণিরা...”

এখন আমি লুকিয়ে পড়ি
লুকিয়ে পড়ি, সন্ধ্যাবেলার এইসব
কথাগুলো, আর ঘর থেকে, বসবার ঘর থেকে, বারান্দা থেকে
তুই যাতে একথাগুলো আমায় না বলিস সেকথাই ভাবি।
তারপর তুই লুকিয়ে পড়িস, আমি অবশ্য তোর সঙ্গে যাই না।
সেই খেলাতে, মনে পড়ে আমরা খুব কাঁদতাম।

মিগেল তুই লুকিয়েছিলি আগস্টের কোন রাতে, ভোর হবো হবো এমন সময়,
কিন্তু, তোকে হাসতে হাসতে লুকিয়ে
ফেলার সময়ে তুই দুঃখ পেয়েছিলি
আর ওইসব বিকেলগুলোতে তোর অবলুপ্তপ্রায়
যমজ হৃদয় তোকে না পেয়ে
বিষণ্ণ হয়ে যায়। আর বুকের ভেতর
আপনা আপনি ছায়া ঘনিয়ে আসে।

ভাই শুনছিস, বেরোতে
দেরী করিস না রে। ঠিক আছে? মা অস্থির হয়ে যেতে পারে।





আরোগ্যশালার কবিতা

শুশ্রূষার আর কত বাকী ?
জীবনের শঙ্খচিল উড়ে যাবে নাকি হাওয়ার উত্তরে ?
আমি শুয়ে থাকি স্মৃতির ভেতরে ।
তার গন্ধভরা চুল কাম্পোজের ঘুমে ঢালু হয়ে নামে ।
হৃদয়ের গভীরেতে কতকাল খোঁড়াখুড়ি হয়েছে অনেক,
তাই আজও ব্যথা, বড় ক্ষত । পিপাসায় জল খোঁজে ক্লান্ত শঙ্খচিল ।

নাগরিক দ্বিধা নিয়ে আমাকে দেখতে এসে
বেঞ্চে বসে থাকে আমার ময়ূরী ,
তাকে আমি ঢুলু ঢুলু দেখি ,
সে তার নীলাভ পেখমে ধরে বৈশাখের স্তব্ধ অনুরাগ ,
আমার হৃদয়ের যাবতীয় ক্ষত তারই দেয়া , নাকি আমারই মতো তারও
হৃৎপিণ্ড ফেটে গেছে পাখনারা ছিঁড়ে গেছে জীবনের বিপ্রতীপ টানে ?
সে কেনো আমাকে দেখতে আসে ?
কাম্পোজের ঘোরে
মৌন মেয়েটির মুখ ভাসমান মেঘ হয়ে ঝুলে থাকে বেডের কিনারে ।
#
ডাক্তার কি ভিজিটে আসে অপারেশন থিয়েটারে ফের যেতে হবে?
হৃৎপিণ্ডে , সমস্ত শরীরে বারবার কেন এত ছুরিকাঁচি , স্টীচ ?
আমার হৃদয়ের যাবতীয় ক্ষত নিজেই নিয়েছি ,
নিজেকেই নিজে ছিঁড়ে ফেলে শেষে কেন এত বিস্ফোরণ ? রক্তপাতে ভেসে যাওয়া ?
ডাক্তার, ডাক্তার ! তাহলে কি বাঁচবো আমি
তাহলে কি বনানীর জন্যে বেঁচে থাকা ভালো ?

জীবনের শঙ্খচিল উড়ে যাবে  বেলাশেষে হাওয়ার উত্তরে ।
তবু আমি শুয়ে থাকি স্মৃতির ভেতরে । 
তার গন্ধভরা চুল , নীলাভ পেখম 
অ্যানাস্থেসিয়ার ঘোরে ঢালু হয়ে নেমে আসে বেডের কিনারে !

অভিমান

নদী এলে মুছে দেবে
অভিমান শুয়ে আছে জলের কিনারে
জীবনের অহরহ ছায়া তার মুখে
নদী এলে মুছে দেবে দাগ, দুঃখ কথা ।


রাস্তা

নুড়িগুলো সরে গেলে
পড়ে থাকে লালরঙা
রাস্তার কঙ্কাল:
দুপাশের রোয়া ধান
আল বিভাজনের
সাম্প্রদায়িক মনোভাবে
অবসন্ন, ক্লান্ত:
একখান রুটি চেয়ে
চাষাভুষো ছেলে
ছুটে যায় ক্রমাগত
দেহবেচা রমনী ছায়ায়:
বাপ তার মরেছে
ঋণের দায়ে গতসনে:
কোনো ঘাস কুটিপাটি
অমল হাসিতে
কোনো ঘাস খড় হয়ে
অকাল স্বর্গবাসী:
রাস্তাটা ছুটে গেছে
শহরের কানা গলি খোঁজে
ছড়ানো অঢেল নাকি

ফুটপাতে আলোর পেছনে।
খেলাঘর

ঘুমন্ত শব্দের মধ্যে
           জাগরন চিহ্নগুলি দীর্ঘ অপ্রকট
স্থায়ী আঁচলের মধ্যে গিঁট বেঁধে
তুলে রাখছি মোরাম রাস্তার ছবি ফুচকাওয়ালা 
  সাইকেল ঘণ্টির শব্দ
                আরও যা যা ছিল......

বৃত্ত মিলিয়ে গেছে
পুকুরের তোলপাড় জলে
                      ক্ষত ও আরোগ্য দাগ
গোপনে পুষেছি , খেলাঘর ।











শাসন

কিছুই লিখি নি আজ, হাতে যেন
পাহাড়ের ভার...
বিষাদ বিন্দু থেকে টুপ টু্প ঝরা ফোঁটা
ভেজালো আমাকে
এ উপত্যকায় ভারি মেঘ মেঘ, আলো কম
টিলার গা বেয়ে তরতর উঠে যাচ্ছে কঠিন আঁধার

বোবা সময় ঠান্ডা হাতে ছুঁয়ে থাকছে
মৃতদের ঘর,
আমাদের সঞ্চয়টুকু নিয়ে নিলো চারণ-বালক

আলো জলে কোনদিন ফিরবো না আর

নিদারুণ শাসনে রাখি নিজেকে এখন
দৃশ্য


বাতাস বাওকুমটা হলে হাওয়ায় গুঞ্জন

সেই সব সিঁড়িগুলি অন্ধকার মেখে আজও



উড়িয়া যায় চকোয়ারে পঙ্খী’!
ফেরা

শরত এলে কি আজও ইচ্ছে করে,
ধরতে সে পথ, যে পথ ফিরেছে ঘরে!
কোন আগমনী- নতুন কি এক ঘ্রাণে,
শরত, তোমায় আজও কি তেমন টানে?

প্রবাসে দেখো কি সেই মেঘ পেঁজা-তুলো?
সেই দেশেতে কি নিঃশ্বাসে এলোমেলো-  
কাশবন ডাকে একান্ত নদী-চরে!
শরত এলে কি ফিরতে ইচ্ছে করে?

এখানে শহরে শরতের আনাগোনা-
কখন রৌদ্রে, কখনো বৃষ্টি আঙিনা-
পালাবার পথে চুপিচুপি দেখা করে,
শরত তোমাকে ফিরতে বলছে ঘরে।

এখানে শহরে কংক্রিটে পিষে যায়,
শিউলিবৃন্ত সকাল ধূসর ধোঁয়ায়-
শিশির-বিন্দু হাওয়ার বিষেতে মরে,
তবুও শরত ফিরতে বলছে ঘরে।

হারিয়েছো বুঝি ঢাকের পুরানো বোল,
সন্ধিক্ষণে হৃদিস্পন্দনে দোল-
যদি কান পাতো শরত-ছন্দ ধরে,
সে কথা বন্দী তোমারি বন্ধ ঘরে ।

যদি পারো ফিরে দরজাটা খুলে দিও-
যত কথা, সুর, আর যত কিছু প্রিয়,
জমা করে যেও শরতকালের খাতায়,
মিলবে হিসেব মুখের একটি কথায় ।

ঘরে ফেরা সুরে শরতের সঞ্চারী,
মনের মেঘেতে রোদ্দুররঙা শাড়ি-
জড়ানো সকাল মনেতে বসত করে।

তাই তো শরত ফিরতে বলেছে ঘরে ।
শালুকের স্নানঘাট

সম্পর্ক যাপন মানে ছায়া বদলের হাঁটুজলে নাচ
এইসব আকছার ভাবি আজকাল
তোর দীনতার দিকে যত পাড়ি গাল
শব্দেরা গায় গান মেঘ মোহানায়
ছাইচাপা ইচ্ছেরা সাবলীল খায়
গাঢ়তম রাত জানে বন্দরে কোনদিন
ডুবেছে জাহাজ !

কয়েদি চোখের মাঝে জালবোনে ঘোলাটে চোখের অসুখ

হৃদয় ঝরে ভেজায় চোখের পাতা
কিযেন লুকিয়ে তোর কৃশ নীরবতা
আমার আমিতে তোমার তুমিতে
পাখিরালয়ে ভাঙা ডানা ঝাপটাতে
আমাদের ক্ষয়ক্ষতি সময় মিলিয়ে নিয়ে গুনেছে চাবুক।

এক-দুই-তিন করে
বকুলের মালা পড়ে গুনে চলি দিন

জবাব আসে আজ হবেনা থাক
শেষ কবে যেন পাঠিয়েছিলিস্ ডাক
রাতশহরের নির্ঘুম কানা গলিতে
বাঁ'হাত পেঁচিয়ে ঘূণধরা কাঠখুঁটিতে
স্নানঘাটে শালুক ফুটেছি, মৃত্যুর ''

নিয়ে তুই উদাসীন।
আগামী

সমুদ্রের বালিতে মুখ গুঁজে

যে শিশুর দেহটি পড়ে থাকে

তার পা ধুয়ে দেয় সাগরের জল

আর মাথার কাছে সূর্য নাম লিখে দিয়ে যায় - 'ভবিষ্যত'

যে আগামী ছিল সে অতীত হয়ে গেছে,

যা ভবিষ্যত ছিল, পুরাতনের গর্ভে মৃত্যু হয়েছে তার।

বর্তমানেরা যুদ্ধ করে যাচ্ছে।

বর্তমানেরা খুঁজে যাচ্ছে গৃহ, দেশ, ভালোবাসা, বিশ্বাস।

সমুদ্র শুধু বালিতে রক্ত আর আশার দাগ ধুয়ে দিয়ে যায়।


আর সূর্য অস্ত যায় পশ্চিমাকাশে।
ইচ্ছে নদী

সাধ ছিল দেখব নদী, নদীর পাড়ে
এসে, ভুলেই গেছি দিন কেটেছে
অগঙ্গার দেশে। যত দেখি অবাক
হই তত,নদী কি হয় তবে মনের
মত? বয়ে যায় কেবল চিরদিন
পারাবারেই হতে বিলীন।কবে
যেন ছিলাম নদী আজকে নেই
মনে, তাকে দেখে আজকে হঠাৎ
ইচ্ছে অকারণে,জাগল কেন তাও
জানি না নাইতে হল সখ,জলের
মাঝে জল হয়েছি মন হয়েছে বক।
নজর তার বাঁধা আছে, জলের ভেতর
মাছ, মন ছুটেছে ভাসিয়ে গলা--
" ইচ্ছে মত বাঁচ।" তবুও কি আর
মেটে কিছু ইচ্ছে বাঁচার আশা?একটি
সখ মিটলে আরেকটিতে ভাসা।       


বোবা মানুষের দেশে

ক্রমশ ফিকে রং
মেঘের ভেতর মেঘ জমে
নৌকাবিলাসে জ্যোৎস্নাশিকারি
বৃষ্টিভেজা খুবসুরত চাঁদ

ক্রমশ শূণ্য গোধুলি
বিকেলপংক্তি প্রশ্নচিহ্ন খোঁজে
ধীরে ধীরে গড়িয়ে যায়
নীরব থেকে নীরব প্রসঙ্গ-

ক্রমশ প্রবেশ করছি

বোবা মানুষের দেশে।
জলপাই স্বপ্ন

জলপাই গাল পেতে বসে আছি ,
যে শৈশব হাত পেতে পেড়ে দিত চাঁদের চূর্ণ , 
কপিশ রঙ ধরেছে তাতে।
শিশু হাতে তুলে দিই শিমূলের বীজ, 
কতদূর সোঁদা মাটি নদীজল বুনো তাপ ? 
আবার অরণ্য হলে সবুজ ফার্ণ পুঁতে
লেপে দেব আদিম উঠোন, 
বিচালির আসনে বসে খুলে দেব নিতল বুক,

দুধ সমুদ্রে ঘেমে নেয়ে জন্ম নিক মৃন্ময় বালক , 
বালিকার চোখ ছুঁয়ে বলে উঠুক
আমি ভাঙি মাটি তুমি ঢালো জল।
                     


জোনাকিরা ভেসে যায় মেহগনি পালঙ্কে --

ভবিষ্যৎ সাজাবে যে স্বপ্ন
তেমন একটি নক্ষত্রময় আবেগি রাত
নির্ভেজাল চাঁদ ঢালে বিষহীন নীলাভতা -
ওরা হেঁটে চলে উত্তরী হাওয়ায়
কিছুটা দুরেই তো অপেক্ষমান নোনাজল
তারপর --
শুধু সুখ আর সুখ ।
খটমটে গ্রহে তখন কঙ্কালসার জীবিতেরা
ঘুরে বেড়ায় জাহাজের ডেকে ডেকে,
মেহগনি পালঙ্কে ভেসে যাওয়া জোনাকিরা -
তারা বিদীর্ণ হতে হতে 
রক্তাক্ত হতে হতে
শূন্য পাকস্থলীতে পুরে দেয়
পুরনো দড়ি, দুমড়ানো কাগজ
শরীর থেকে বেরিয়ে যাওয়া দুর্গন্ধ নির্যাস
অমৃত মনে হয়
স্বর্গকে খুব চেনা লাগে তখন !
বন্দরে নোঙর করা স্বপ্ন
নীলাম ডাকে উলঙ্গ লাশেদের
মুঠো মুঠো মানবতা বিকোবে বলে
এই রাতে সমুদ্র সাজে নীলাম্বরী ।
অতঃপর আসে ভোর,
ভাসা মাছদের নকশীবোনা ঢেউয়ে
ভালোবাসা কাতরায় নিরন্তর
রূপোলী রোদ পাখিটা
ঢেকে যায় চিলের ডানায়,
কেবল
কিছু সবুজ মানুষের দীর্ঘশ্বাস
বুকে বয়ে বেড়ায় সাদা ভাত আর

বাতাবী লেবুর ঘ্রাণ ।
ঘুমালেই মরে যাই

ঘুমালেই আমি মরে যাই
মরে গিয়ে মৃত আত্নীয়দের সাথে কথা
বলি
আর তোমাকেও খুঁজি ---
তুমি এখনো যাওনি ব'লে আবার
ফিরে আসি.....
এভাবে প্রতিদিন মরতে মরতে
যখন তোমাকে দেখে ফেলবো
সেখানে
তখন আমার আর ফিরে আসা হবে না
তখন সবাই বলবে ---আমি মরে গেছি
আমার মৃত্যু সংবাদ শেয়ার করবে কেউ

কেউ
রোদচশমা

তোমার জন্য এক আকাশ

ভাবতে বড় ইচ্ছে হয় ।

রোজ দুপুরে পানকৌড়ি

তোমায় জল সেচে দেয় ।

প্রতি স্পর্শে দিনাতি-পাত

চশমা খুলে চেয়ে দেখ একবার ।

ছলকে উঠবে চোখের তারা


রোদচশমায় নজর-কাড়া ।
পুতুল

মেয়ের জন্মের পর মায়ের কোলে আসতেই
ছোট হাত কচি মাথা আর বোকা চোখে
সে জানান দিল;
আমি তোমার মেয়ে।
মা আদর করে বললো -"পুতুল একটা।"
হাসপাতাল থেকে বাড়ি আসতেই
বাবা বলল, " গুড়িয়া ।"
দুর্বোধ্য ভাষায় জোড়ালো প্রতিবাদ করলো সে-
ভাষা কেউ বুঝলো না।
একে একে দাদু দিদান ঠাম্মি কাকু
সবাই তাকে নিয়ে মাতামাতি করলে-
কেউ বলছে ডলি, কেউ বা বার্বি।
আর রোজকার পুতুল খেলায় ঢাকা

পরে যায় মেয়েটার আত্মজা নামটা।।

About