বিশেষ সংখ্যা - সুকুমার রায়ের ১২৯তম জন্মদিনে অন্যনিষাদের শ্রদ্ধার্ঘ্য । এই সংখ্যায় ৪২টি ছড়া ও ১টি গদ্য । লিখেছেন - জয়িতা বিশ্বাস, পিঙ্কি সরকার, রত্না মন্ডল, শাশ্বত দেবনাথ, সৌমিত্র চক্রবর্তী, কাকলি ভট্টাচার্য, রবীন বন্দ্যোপাধ্যায়, সপ্তাশ্ব ভৌমিক, ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়, শঙ্কর দেবনাথ, কেয়া মুখোপাধ্যায়, শুভ জোয়ারদার, অমিতাভ দাশ,শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, জয়া চৌধুরী, অনুপম দাশশর্মা, বিপ্লব দে, জুলফিকার শাহাদাত, চন্দনকৃষ্ণ পাল, নীলকন্ঠ শিব, শিখা কর্মকার, মধু ভট্টাচার্য, সমীরণ রায়, হাসানুজ্জামান আনসারি, অরুণিমা চৌধুরী, আদিত্য শূর,মানসী কোলে সাঁতরা ও ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়। 

                সব লেখা পড়ুন । সূচিপত্রে ক্লিক করুন
সুকুমার রায়ের ১২৯তম জন্মদিনে প্রকাশ করলাম বিশেষ  ছড়া সংখ্যা কবিতার পত্রিকায় ছড়ার ছড়াছড়ি । অনেকেই হয়তো ভ্রুকুঞ্চন করবেন, কারণ তারা ছড়াকে সাহিত্যের মূল ধারায় স্থান দিতে চান না । 

আধুনিক কবিযশ প্রার্থী আমরা, শিশুমনের চিরন্তন খোরাক এই সব ছেলেভোলানো ছড়াকে সাহিত্য পদবাচ্য বলে মেনে নিতে কুন্ঠিত হই, কিন্ত ভাষাচার্য সুকুমার সেন যুগ যুগান্তের ধারাবিকতায় প্রবহমান ছড়া গান- রূপকথার গল্পকে চিহ্নিত করেছেন শিশু-বেদবলে । মুণি ঋষিদের মুখে মুখে সৃষ্ট চার খন্ডের বেদ যেমন কোনো এক মানব গোষ্ঠীকে আদি-অনন্তকাল থেকে নিয়ন্ত্রিত করছে , সে ধ্রুব সত্য বলে মেনেছে , তেমনই রচয়িতার নাম না জানা অথচ সময়ের আদীমতম কালখন্ড থেকে মানুষের মুখে মুখে সৃষ্ট প্রবহমান শিশুতোষ ছড়া-গান-গল্প তো আরো এক বেদ শিশু-বেদ । সমস্ত মানব গোষ্ঠির ই এই শিশুবেদআছে, এমনকি যে মানব-গোষ্ঠীর কোনো স্থায়ী সাহিত্য নেই তাদেরও । সর্বদেশে সর্বকালে এই ছেলেমি ছড়া শুনে শুনেই আমরা বড় হয়েছি, জীবনকে জেনেছি, চিনেছি, আমাদের সাহিত্যেরও বীজ হয়ে গেছে এইসব অজস্র লৌকিক ছড়া, রূপকথার গল্প, গান । আর তাই-তো শিশুসাহিত্যের চিরকালিন উপাদান লোক পরম্পরায় প্রচলিত ছেলে ভুলানো ছড়ার আলোচনায় রবীন্দ্রনাথ লিখেছেন ভালো করিয়া দেখিতে গেলে শিশুর মতো পুরাতন আর কিছুই নাই । দেশ-কাল-শিক্ষা-প্রথা অনুসারে বয়স্ক মানবের কত নতুন পরিবর্তন হইয়াছে, কিন্তু শিশু শত সহস্র বৎসর পূর্বে যেমন ছিল আজও তেমনি আছে; সেই অপরিবর্তনীয় পুরাতন বারম্বার মানবের ঘরে শিশুমূর্তি ধরিয়া জন্মগ্রহণ করিতেছে অথচ সর্বপ্রথম দিন সে যেমন নবীন, যেমন সুকুমার, যেমন মূঢ়, যেমন মধুর ছিল আজও ঠিক তেমনই আছে । এই নবীন চিরত্বের কারণ এই যে শিশু প্রকৃতির সৃজন। 

এই বিশেষ সংখ্যায় তেমনই কয়েকজনের আত্মপ্রকাশ ঘটলো যারা এখনও বালকত্বের সীমাও পেরোয়নি । জয়িতা, পিঙ্কি, রত্না,শাশ্বতরা নিশ্চিতভাবেই আগামী দিনে সাহিত্যের মূল স্রোতে আসবেন। আমরা এই প্রত্যাশা ।

আর একটা কথা বলি । ছড়া সংখ্যার জন্য অভাবিত সাড়া পেয়েছি, প্রকাশিত লেখার সংখ্যা থেকেই তা বোঝা যায় । বিয়াল্লিশটি লেখা দেওয়ার পরেও কয়েকটি লেখা থেকে গেল । আগামী সংখ্যাগুলিতে সেগুলি স্থান করে নেবে ।

সকলে ভালো থাকুন, অন্যনিষাদএর সঙ্গে থাকুন ।
অন্যনিষাদের নতুন অতিথিরা

জয়িতা বিশ্বাস (বয়স-১৩)
ফুল

ফুলটির নাম জুঁই
দেখতে ভারি সুন্দর,
ইচ্ছে করে ছুঁই
পাপড়িগুলো ওর।




পিঙ্কি সরকার (বয়স-১৩)
বৃষ্টি  

রিমঝিমিয়ে
বৃষ্টি আসে
নদীতে মাছ খেলে-
বৃষ্টি এলে
মনটা যেন
ময়ূর পেখম মেলে।






রত্না মণ্ডল (বয়স-১৪)
বই পড়া

সবাই বলে - পড়,
আমার
বুক করে ধড়পড়।

ভাল্লাগে না
ভাল্লাগে না
পড়ার ঝামেলা,
পড়ার নামে
কড়া সবাই
করবো কখন খেলা?




শাশ্বত দেবনাথ (বয়স )
প্রশ্ন

হাত হলে দুইটা
মাথা হয় একটা।
রাবণের দশ মাথা,
হাত তাই কুড়িটা।

দুর্গার এক মাথা
হাত কেন দশটা?
মনে জাগে বারবার
শুধু এই প্রশ্নটা।







সুকুমার রায় -  ১২৯

তাঁর লেখা পড়ে বড় হয়নি এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া যাবেনা । জীবনকাল মাত্র মাত্র ৩৫ বছর ১০মাস ১০দিন, দেখে যেতে পারেননি নিজের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থটিও । তিনি বাংলা শিশু-সাহিত্যের প্রবাদ পুরুষ সুকুমার রায় । উনিশ শতকের বাংলায় বুদ্ধির জাগরণকালের এক আশ্চর্য ব্রাহ্ম পরিবারে জন্ম সুকুমারের, যেখান থেকে পেয়েছিলেন জ্ঞান-বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শিল্পকলা চর্চার অনন্য উত্তরাধিকার । পিতা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, বাংলা শিশুসাহিত্যের পিতৃপুরুষ । জেঠামশাই সারদারঞ্জন ছিলেন সে যুগের বাংলায় প্রথম ক্রীড়া সংগঠক , বাংলায় ক্রিকেট খেলার জনক ।

পারিবারিক উত্তরাধিকারে সমৃদ্ধ সুকুমার যেমন তাঁর স্বল্পায়ু জীবনেই শিশসাহিত্যের প্রবাদপুরুষ হয়ে আছেন, তেমনই দিদি সুখলতা, ছোট বোন পূণ্যলতা,শান্তিলতা, ভাই সুবিনয় এবং খুড়তুতো বোন  লীলা (মজুমদার) শিশুসাহিত্যেই কৃতবিদ্য ।

১৮৮৭ অক্টোবর ৩০, কলকাতা - জন্ম
১৮৯৬ ... প্রথম কবিতা নদীপ্রকাশ মুকুলপত্রিকা জ্যৈষ্ঠ সংখ্যায়
১৯০২ ... সিটি কলেজিয়েট স্কুল থেকে প্রবেশিকা পাশ ও প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি
১৯০৫ ... বঙ্গভঙ্গ আন্দোলন উপলক্ষ্যে নাটক রামধন বধরচনা ও অভিনয়
১৯০৬ ... পদার্থ ও রসায়ন বিদ্যায় অনার্স সহ স্নাতক। প্রথম গদ্যরচনা সূর্যের    
রাজাপ্রকাশ, ‘ননসেন্স ক্লাবএর সূচনা ।
১৯১০ ... প্রবাসী পত্রিকার লেখেন প্রবন্ধ ভারতীয় চিত্র শিল্প’ , নাটক লক্ষণের শক্তিশেল’ ‘ঝালাপালারচনা ।
১৮১১, অক্টোবর ... প্রবাসীতে ফোটোগ্রাফিপ্রবন্ধ প্রকাশ । গুরুপ্রসন্ন স্কলারশিপ নিয়ে বিলাত যাত্রা ।
১৯১৩ ... সেপ্টেম্বরে মুদ্রন পযুক্তির উচ্চতর শিক্ষান্তে ভারতের প্রথম এফ আর পি এস হয়ে দেশে ফিরে আসা, ‘সন্দেশপত্রিকায় যোগদান । এই বছর ১৩ই ডিসেম্বর সুপ্রভা দাসের সঙ্গে বিবাহ ।
১৯১৫ ... পিতা উপেন্দ্র কিশোরের মৃত্যু, ‘সন্দেশপত্রিকার সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ ।
১৯২১ ... ২রা মে একমাত্র পুত্র সত্যজিতের জন্ম । এই মাসের শেষের দিকে, তখনকার দিনে দূরারোগ্য কালাজ্বরের সংক্রমণ হয় ,স্বাস্থোদ্ধারের জন্য দার্জিলিং গমন ।
১৯২৩ ... ২৯শে আগষ্ট রবীন্দ্রনাথ অসুস্থ সুকুমারকে দেখতে এলেন, মাথায় স্নেহের হাত বুলিয়ে দিলেন এবং নয়টি গান শোনালেন ।
১০ই সেপ্টেম্বর সকাল ৮-১৫ মিনিটে ৩৫ বছর ১০ মাস ১০দিন বয়সে মৃত্যু ;

প্রথম গ্রন্থ আবোল তাবোলএর প্রকাশ দেখে যেতে পারেন নি । মৃত্যু শয্যায় শায়িত হয়ে বইটির প্রুফ দেখে দিয়েছিলেন । মৃত্যুর ৯দিন পরে তাঁর প্রথম পুস্তক আবোল তাবোলপ্রকাশিত হয় । আবোল তাবোলএর শেষ কবিতাই সুকুমারের শেষ রচনা লিখেছিলেন রোগ শয্যায়, মৃত্যুর মুখোমুখি হয়ে পিতার মৃত্যুর পর সুকুমার সন্দেশএর সম্পাদকের দায়িত্ব গ্রহণ করেন । এই নয় বছরে (শেষ আড়াই বছরের শয্যাশায়ী অবস্থা সহ) সুকুমার লিখেছিলেন ১০৩টি কবিতা, ৮৮টি নানা ধরণের ছোট গল্প, ১২২টি প্রবন্ধ, ৩৭টি জীব-জন্তু বিষয়ক লেখা, ১৬টি জীবনীমূলক কাহিনী ৮টি নাটক ও ২টি বড় গল্প আর এঁকে ছিলেন পত্রিকার সমস্ত ছবি ।
     এছাড়া, বড়দের জন্য একমাত্র গ্রন্থ বর্ণমালা তত্ব’, ‘প্রবাসীতে প্রকাশিত ফোটোগ্রাফি বিষয়ক প্রবন্ধ, লন্ডনের জার্নাল অফ ফোটগ্রাফিতে ছাপা একটি প্রবন্ধ, ‘কোয়েস্টপত্রিকায় দি স্পিরিট অফ রবীন্দ্রনাথপ্রবন্ধ ও দুটি ধর্ম সংগীত ।

শিশুমনকে যেমন বুঝেছিলেন সুকুমার

সাগর যেথা লুটিয়ে পড়ে নতুন মেঘের দেশে
আকাশ-ধোয়া নীল যেখানে সাগর জলে মেশে।
মেঘের শিশু ঘুমায় সেথা আকাশ-দোলায় শুয়ে-
ভোরের রবি জাগায় তারে সোনার কাঠি ছুঁয়ে।
শিশুমনকে স্পর্শ করা, তাদের এমন আপনজন আর কি কাউকে পাবো ?
লীলা মজুমদার আক্ষেপ প্রকাশ করেছিলেন যে সুকুমার রায় ভুল সময়ে জন্ম গ্রহণ করেছিলেন । তাঁর মনে হয়েছিল ঐ সময়ে সুকুমারের জন্য দেশটা প্রস্তুত ছিলনা
ছোটদের জন্য যে সাহিত্য রচনা বিগত দেড়শবছর ধরে হয়ে আসছে তাকে আমাদের সাহিত্য আলোচকরা কেন সাহিত্যের মর্যাদা দিতে কুন্ঠা বোধ করেন সে এক রহস্য । কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় স্তরের পাঠ্য বাংলা সাহিত্যের ইতিহাসে শিশু সাহিত্যের কোন উল্লেখ নেই । সেই পাঠ্য ইতিহাস তন্ন তন্ন করে খুজলেও সার্থক শিশু-সাহিত্যিকদের সম্পর্কে একটা অক্ষরও খুজে পাওয়া যাবেনা ।
আমাদের পারিবারিক ও সামাজিক বিন্যাশ বদলে গেছে নিয়ত বদলে যাচ্ছে এবং সেই বদলের প্রক্রিয়াতেই চুরি হয়ে গেছে আমাদের সন্তানদের শৈশব । এখন আর বাঁশ বাগানের মাথার ওপর চাঁদওঠেনা , ‘শোলক বলা কাজলা দিদিরাও আর নেই । সে আর ঘুমাতে যায়না ঘুম পাড়ানি মাসি-পিসিরগল্প শুনে । শৈশব নেই , সুতরাং শিশুসাহিত্যও নেই ।
তবুও সুকুমার রায় আছেন, থাকবেন তাঁর রচনার মধ্যে, থাকবেন শিশু মনে ।  চিরন্তন হয়ে থাকবে এই ডাক
আয়রে ভোলা খেয়াল-খোলা
    স্বপনদোলা নাচিয়ে আয়,
আয়রে পাগল আবোল তাবোল
    মত্ত মাদল বাজিয়ে আয়।

কী চোখে জীবনকে দেখতেন সুকুমার ? তাঁর খেয়ালরসের কাব্যের উৎস ছিল তাঁর গভীর জীবনবোধ । একজন শিল্পী কোন জাদুতে জীবনের সঙ্গে নিজের শিল্পবোধকে একাত্ম করে দিতে পারেন তার পরিচয় পাওয়া যায় সুকুমারের অন্তিম রচনা আবোলতাবোলএর শেষ কবিতায়আসন্ন মৃত্যুর পদধ্বনি শুনতে পেয়েও লিখেছিলেন পরমাশ্চর্য জীবনরস সিক্ত প্রত্যয়ের কবিতা আবোলতাবোল’ –
আজকে দাদা যাবার আগে
বলব যা মোর চিত্তে লাগে
নাইবা তাহার অর্থ হোক
নাইবা বুঝুক বেবাক লোক ।
আপনাকে আজ আপন হাতে
ভাসিয়ে দিলাম খেয়াল স্রোতে ।
ছুটলে কথা থামায় কে ?
আজকে ঠেকায় আমায় কে ?
আজকে আমার মনের মাঝে
ধাঁই ধপাধপ তলা বাজে
রাম-খটাখট ঘ্যাঁচ
কথায় কাটে কথার প্যাঁচ ।
আলোয় ঢাকা অন্ধকার,
ঘন্টা বাজে গন্ধে তার ।
গোপন প্রাণে স্বপন দূত
মঞ্চে নাচেন পঞ্চভূত !

হ্যাংলা হাতি চ্যাং-দোলা,
শূন্যে তাদের ঠ্যাং তোলা ।
মক্ষিরাণী পক্ষিরাজ
দস্যি ছেলে লক্ষি আজ
আদিমকালের চাঁদির হিম
তোড়ায় বাঁধা ঘোড়ার ডিম ।
ঘনিয়ে এল ঘুমের ঘোর
গানের পালা সাঙ্গ মোর

মৃত্যুর প্রায় একশবছর পরেও সুকুমার রায় আপন প্রতিভা ও বৈশিষ্ট্যে পাঠকে হৃদয়ে উজ্বলতর হয়ে আছেন । শুধুমাত্র শিশুতোষ পদ্যের লেখক হলে তা সম্ভব হত না কিছুতেই । শিশু তাঁর কবিতার উপলক্ষ্য, বস্তুত সুকুমার রায় সাবালক সাহিত্যের স্রষ্টা  ।



সুকুমার রায়

আজকে তোমার জম্মোদিনে
ও সুকুমার পেনাম নিও
তোমার ছড়ার মগজখানার
একটুখানি দখল দিও।

ও সুকুমার তুমি বেজায়
ফ্যান্টাসি তো বাসতে ভালো
আজকে দেখি দিনদুনিয়া
সাদা ছেড়ে ক্রমেই কালো।

মানুষ দেখি গোমড়া মুখো
ছুটছে কেবল টাকার খোঁজে
ও সুকুমার হাসি আমার
ভয়ের কোলে মাথা গোঁজে।

তোমার লেখা একুশে আইন
সত্যি হয়ে চাবুক চালায়
ও সুকুমার সত্যি বলছি
মিথ্যেরা আজ সত্যি জ্বালায়।

এই তো গেল দুগ্গা পুজো
আমার খালি গায়ের পাশে
ও সুকুমার ওদের ঠাকুর
কোটি টাকার সগ্গে ভাসে।

আদিম কালের চাঁদিম হিম
সত্যিকারের ঘোড়ার ডিম
ও সুকুমার চারপাশে সব
কুমড়োপটাশ আসল থিম।

এমন করে চললে যে সব
মানুষ ছেড়ে জন্তু হব
বল কিভাবে ও সুকুমার
হাসির ঝোরা ফিরিয়ে দেব!

শব্দ কম্প

মাঝরাতে থরথর
ঘুম ভাঙে শব্দে
কি হলো? গেলাম ফিরে
পনেরোশো অব্দে!

হুড়মুড় দুদ্দাড়
বাড়ি খালি রাস্তায়
ঝুরঝুর বাস ধ্বসে
শুতে হবে বস্তায়!

নাগবাবু সেনবাবু
জোড়া টাক চুলকায়
কোত্থেকে মহামারী
শব্দটা ঝুল খায়?

পুঁচকে পুঁচকি দল
চুপিচুপি ফিসফিস
নির্ঘাৎ ড্রাকুলার

কবরের হিসহিস।
বিখ্যাত হাতুড়ে
গুপ্ত কবিরাজ

বিরসবদনে ক'
পৃথিবীর শেষ আজ।
জাঁহাতাঁহা কারখানা
ড্রেনে বাড়ে ডেঙ্গি

দূষিত মাটির নীচে
বোমা ছোঁড়ে জঙ্গী।

নজরুল মিস্তিরি
বলে জগঝম্প
নেপালের থেকে এল
তেড়ে ভূমিকম্প।

জল্পনা কল্পনা
যত করে জব্দ
পাল্লায় বেড়ে যায়
বিভীষণ শব্দ।

হঠাৎই শ্যামচাচা
হাঁকে, "চুপ বৎস!
পশ্চিমি বাড়িটাই
আওয়াজের উৎস!"

'ঠিক ঠিক' বলে সব
থামিয়ে তর্জন
ধেয়ে দেখে মিত্তির
নাকে করে গর্জন।

নাসিকার ধমকে
হাইস্কেল হুমকি
পাড়াজুড়ে ব্ল্যাকআউট
আর আসে ঘুম কি!


About