এই সংখ্যায় ২৭টি কবিতা । লিখেছেন - দময়ন্তী দাশগুপ্ত, রত্নদীপা দে ঘোষ, বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়, সৌমিত্র চক্রবর্তী, শর্মিষ্ঠা ঘোষ, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, মধুছন্দা মিত্র ঘোষ, ব্রতীন বসু, অনিন্দ্য রায়, তপন মন্ডল, জয়দীপ চক্রবর্তী, বনানী ভট্টাচার্য, হিমাদ্রি মুখোপাধ্যায়, গৌতম সেন, জয়দেব বিশ্বাস, অসিত চট্টোপাধ্যায়, বচন নকরেক, বিজয় দেব, সাথী সেনগুপ্ত, অর্ণব বসু, আয়েত হোসেন উজ্বল, নীলরতন চক্রবর্তী, শুক্লা মালাকার সাহা, বিলকিস আরা ক্ষমা ও জাহিরুল ইসলাম ।

          পড়ুন সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করে

[“একদা কলকাতা নামের এই শহরে শুভঙ্কর নামে ৪৫ বছর বয়সী এক সদ্যজাত যুবক ভালোবেসে ফেলেছিল নন্দিনী নামের এক বিদ্যুৎ-শিখাকে। গেরিলা-যুদ্ধের মতন তাদের গোপন ভালোবাসাবাসির নিত্য সঙ্গী ছিলাম আমি। আর নিজের খাতায় রোজ টুকে রাখতুম তাদের আবীর-মাখানো কথোপকথনগুলো।”

ওপরের অংশটা একদা পড়েছিলাম পূর্ণেন্দু পত্রীর ‘কথোপকথন’-এর ভূমিকায়। সেই প্রথম নন্দিনী আর শুভঙ্করের সঙ্গে আলাপ। ইদানীং আবার কলকাতার পথেঘাটে মাঝে মধ্যেই নীরার মতো নন্দিনীর সঙ্গেও দেখা হয় আমার। কখনও সে রক্তকরবীর পাতা থেকে নেমে আসে, কখনও বা কথোপকথনের স্কেচ সত্যি করে জেগে ওঠে পথে এলোচুলে। কথায় কথায় বলল, শুভঙ্করের সঙ্গে আবার দেখা হয়েছে। হঠাৎ করেই কিছুদিন আগে যোগাযোগ হয়েছে ওদের। শুভঙ্করের বয়স এখন সাতাত্তর। নন্দিনীর বয়স? জানিনা। কেউ তো কোথাও লেখেনি যে দুইয়ে দুইয়ে চার করে তার বয়স বুঝব, আর বিদ্যুৎ-শিখার আবার বয়স হয় নাকি?

নন্দিনী বলল, শুভঙ্কর লেখালেখি করে, ছবিও আঁকে। তবে ইদানীং কানে একটু কম শোনে, তাই মেসেজেই যোগাযোগ করতে হয়। জীবনের নানা ঝড়ঝাপটায় যেন অনেকটাই আত্মকেন্দ্রিক হয়ে গেছে। নাতি-নাতনী নিয়ে নন্দিনীর ভরভরন্ত সংসারের ওপর ভারী রাগ একা শুভঙ্করের। জিজ্ঞাসা করলাম, আর তোমার? হেসে, ওর স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গীতে হাত-পা নেড়ে বলল, ভারী মায়া হয় জানো? এখনও ওই সদ্যজাতই রয়ে গেছে। তেমনই ভালোবাসতে ভালোলাগে ওকে আজও।

কৌতূহলী হয়ে জানতে চাইলাম, কেমন করে আবার দেখা হল তোমাদের? হেসে উঠে বলল, কেন, যেমন করে বিদ্যুৎ-শিখার সঙ্গে আকাশের দেখা হয়, হঠাৎ করে চমকে যাওয়ার মতো। কলকাতার পথে ওকে তো আমি মাঝেমধ্যেই দেখতে পাই। যেমন করে ছায়া দেখে তার অবয়বকে। বললাম, সে আবার কী, ছায়া দেখতে পায় নাকি, মানুষই তো তার ছায়াকে দেখে! মাথা দুলিয়ে খিলখিল করে হেসে বলল, আর যে মানুষ তার ছায়াকে দেখতে পায় না, তার ছায়াকেই দেখতে হয় মানু্ষটাকে। তখনও ভালো করে সকাল হয়নি। বললাম, এই শেষরাত্তিরে চললে কোথায়? বলল, শুভঙ্করকে খুঁজতে। এই বলে আমার হাতে একটা কাগজ গুঁজে দিয়ে টুক করে কোথায় হারিয়ে গেল। কাগজটা খুলতেই বৃষ্টিভেজা জুঁইফুলের গন্ধ পেলাম। ভোরের অমল আলো এসে পড়ল নন্দিনীর কলমের রেখায় -]

কথোপকথন

শুভঙ্কর, কলকাতার রাস্তায় আজকাল
মাঝে মাঝেই তোকে দেখতে পাই -
মেট্রোয় হয়তো ব্যস্ত কথোপকথনে;
কখনো বা ট্যাক্সির পিছনের সিটে
খেয়াল করতে না করতেই ক্রসিং পেরিয়ে গেছিস।
কখনো দেখেছি পাশের বাসের জানলাটা
আমার জানলার পাশ দিয়ে ডানা মেলে চলে গেছে যখন -
হাতে বই,অথচ চোখে অন্যমনস্ক দৃষ্টি।
মনে মনে ভেবেছি, ঠিক স্টপেজে নামলে হয়!

ইদানীং কলকাতার রাস্তায় প্রায়ই দেখি তোকে -
চৈত্রের বিকেলে যখন লাল পলাশ বা কৃষ্ণচূড়ার আগুন
চোখে পড়ে যায় কংক্রিটের এই শহরের পথে।
বৃষ্টিতে দেখেছি লাল-নীল ছাতাদের ভীড়ে,
অথবা মনকেমন করা জুঁইয়ের সুবাসে।
শরতে-হেমন্তে-শীতে-বসন্তে ঋতুর মতোই
বদলাতে থাকিস তুই কলকাতার পথে পথে।
আর আমি তোকে দেখতে দেখতে
কেমন একলাই পেরিয়ে যাই ক্রসিংগুলো।

শেষ যেদিন চোখে পড়ল, ঠিক
আমার আগে আগেই হাঁটছিলি তুই -
একা, মাথাটা ঝুঁকিয়ে, পাটা যেন টেনে টেনে -
যেন কী একটা অসহনীয় ভার চেপে বসেছে শরীরে,
যেন গভীর এক বেদনা গলা টিপে ধরেছে তোর;
শেষ বিকেলের রাঙা আলো পড়ছিল
ক্লান্ত কপালে, চোখের পাতায়, চিবুকে।
কোনোদিনই পিছু ডাকিনি তোকে,
সেদিনও ডাকলাম না।
সব মানুষকেই নিজের ক্রুশ তো
নিজেকেই বয়ে নিয়ে যেতে হয়।
সকলেরই কষ্ট হয়।তবু যে সামনে থাকে
তার ব্যথা বুঝতে পারে অন্যে।

আসলে পিছন ফিরে তো কেউ তাকায় না।
তবু ছায়া তার অবয়বের ঠিক পিছনেই থাকে।
প্রেম 

প্রেম নির্মাণে থাকে
নির্বাণে থাকে
চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকে ঘুমজেব্রায়
ক্রন্সিং ফিফটিনে


কবিতা লেখার জন্যে প্রেম দরকার
ছবি আঁকার জন্যে প্রেম দরকার
এমনকি স্থানীয় আবহাওয়ার জন্যেও


প্রেম যাদুবিদ্যায় থাকে  বিশদ
প্রেম মনোটনাস ষোলোকলায়
চুপচাপ বসে থাকে ড্রামবিট
আর ফার্নেসহিটের অফবিট হল্কায়


গান শোনাবার জন্যে প্রেম দরকার
গল্প গাইতে  গেলে প্রেম দরকার
ডাউনফল থেকে কাউন্টদাউন
এমনকি ডেসিবেলের শর্টস্টোরিতেও


প্রেম মরমিয়া যন্ত্রে থাকে
প্রেম লাল সাদা আর সবুজ পরমাণুতে
প্রেম জটিল ভাইরাসে আবার
পেনড্রাইভের নিজস্ব পোশাকেও  


প্রেম একটি ধারাবাহিক রোগ
মাথুর থেকে বিরহ কন্সট্যান্ট
একটি ম্যালিগন্যান্ট অপেরা


প্রেম পুড়তে থাকে শ্রীহরিকোটায়
পুড়তেই থাকে মোমেনটামশিলায়
পোড়াতেও থাকে প্রেমনাগিন
তবু ভায়াগ্রা থেকে ভায়োলিন

হিম হিম গ্লোবিনের শ্রেণীদ্বন্দ্বকে
জীবিত রাখার জন্যে
প্রেমের দরকার হয়


স্বপ্ন

গভীর রাত্রে স্বপ্নেরা খেলা করে,
কবে একদিন বলেছিলে যেন তুমি,
মিথ্যে কখনো বলো না সেটাই জেনে
খুঁজতে গেলুম স্বপ্ন-চারণভূমি।

গিয়ে দেখি এক তেপান্তরের মাঠ,
সেখানে শুধুই ইচ্ছেরা বাস করে,
ইচ্ছে বললো বিপ্লব হবে জেনো,
মরুভূমিগুলো ফসলে উঠবে ভরে।

ইচ্ছে বললো সন্ত্রাস হবে চুপ
ধর্ষণ জেনো কখনো হবে না আর,
ইচ্ছে বললো আকাশপ্রদীপ জ্বালো,
ইচ্ছে বললো গণতন্ত্রই সার।

এইসব শুনে আশ্বাস নিয়ে আমি,
ফিরেছি আবার বিজন তোমার ঘরে,
বিশ্বাস হলো?বলেছিলে তুমি হেসে

গভীর রাত্রে স্বপ্নেরা খেলা করে॥
রাস্তা  অথবা  উদ্ধারপর্ব

একটি লোকের সাথে দেখা হয় প্রতিদিন,
আকাশ আচ্ছন্ন থাকে যখন সন্ধ্যায়
চিনতে পারি না তাকে ,
রহস্য রাস্তায় তার
সাময়িক চলাচল , ছায়া পড়ে ,
কাঁপতে কাঁপতে সেই অগভীর ছায়া
কেমন তলিয়ে যায়
রুদ্ধ হয়ে আসে।

এই ভুল সময়ের গায়ে
অস্থিরতা, আলোহীন ,নিরুত্তাপ গন্তব্য সন্ধান

কেবল রক্তের দাগ, কসাইখানার এক লম্বা শুঁড়
মুক্ত ভাবনা ধাক্কা খায় আগ্রাসী আঁধারে ।

একজন মানুষের সাথে
দেখা হয় প্রতি সন্ধ্যেবেলা
হায়নার পায়ের বিক্ষোভ থেকে সারাই করে বিপর্যস্ত রাত

রাস্তা যারা খুলে নিয়ে গেছে অসীম শূন্যের পেটে
দেখে, আর

হাততালি দিয়ে বলে -আবার নতুন পথ তৈরি হবে আজ।
ঘুম
  
কানে আসছে সবই । উত্তরও তো দিচ্ছিলাম । বুঝতে পারছিলাম না,
কেন রেগে উঠছ তাও । ফোন কাটতে বলছিলে বারবার । আমিও
স্যোয়াইপ করছিলাম কাটবো বলে । তুমি ‘গুড নাইট’ বলে দিয়েছ
কখন , আর ধরে থাকার কোনো মানে হয় না । বুঝতে পারছিলাম
আমার বেয়াদবীতে তুমি ক্রমশ রেগে উঠছ । কেন কথা বন্ধ হচ্ছে না ?
ফোনটা কি তবে খারাপ হয়ে গেল ? তারপর বুঝলাম আমার
হাত নড়ছে না আদতে । আমিও কথা বলছি না । শুধু শুনতে পাচ্ছি
সব । আমার কথা কেউ শুনতে পারছে না । আমার ঠোঁট নড়ছে না ।
সর্বাঙ্গ স্থির । আমার ইচ্ছে গুলো দিব্যি নড়েচড়ে বেড়াচ্ছে । কেউ
ধরতে পারছে না । ওরাও ছুঁতে পারছে না তোমাকে । একে কি মৃত্যু
বলে ? না ঘুম ?

ঘুম নাকি একান্ত দরকারী জিনিস । মানসিক সুস্থতার জন্য ।
বিঘ্নিত হয় উদ্বেগ । ঘুমের আড়ালে কেটে যায় কি কোনো
যোগাযোগ ? নাকি তারা তখন অবচেতনে জাগে ? নাকি তুমি সত্য
হয়ে ঘুচিয়ে দাও দূর ? নাকি আমায় ছুঁয়ে যায় আকাঙ্খিত কারুর
আদর ? নাকি আমার কোলের কাছে তখন একদা পরিত্যক্ত ভ্রূণ ?
আমার চোখের কোলে তখন তার নীরব কান্না ? আমার বুকের
ভেতর তখন কিলবিলে পাপ ? আমার মাথার ভেতর তখন অযুত
কোটি আগের গুহাবাসী পুনর্জন্ম ? কুলকুল নদী আমার শরীরের
ওপর দিয়ে বয়ে যায় । গর্ভে টেনে নেয় মাটি । আমার চোখের ওপর
মাছের মত পর্দা । পলক নেই । কিছু অদেখা নেই । কোনো
পালানো নেই । আমার শরীর কোনো অকাম্য থেকেও সরে থাকতে
পারে না । কোনো ভয়ে কাঁপাতে পারে না পলক । আমার মন
আমার থাকে না । একমাত্র সুখ , তুমি তখন আমার একার হয়ে
যাও । চুমু খাও কপালে । আমি জড়িয়ে ধরতে যাই । হাওয়া কেটে
বেরিয়ে যায় হাত । এর নাম পাওয়া না অসুখ ? এর নাম জীবন
না মৃত্যু ?

তুমি বল , ‘ঘুম ই আমায় খাবে’। আমার খালি ঘুম পায় । তুমি
আদর করতে করতে ঠোঁটের ভেতর ঠোঁট রেখে আমি ঘূমিয়ে পড়ি ।
তোমার কথা শুনতে শুনতে দেয়ালা করতে করতে বুকে মুখ ঘষতে
ঘষতে আমি ঘুমিয়ে পড়ি । তুমি রেগে যাও । কথা বন্ধ করে দাও ।
তুমি আমার কাছে পুরোনো হয়ে গেছ ভেবে অভিমান কর । আমি আর
আগের মত নেই ভেবে কষ্ট পাও । আমি প্রমিজ করি , আর
ঘুমোবো না । আমি আদরে আদরে বোঝাতে চাই , তুমি আমার
একান্র দরকারী । আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারি না । পরদিন
আবার ঘুম পায় আমার । আমি না ঘুমিয়ে থাকতে পারি না । আমি
তোমাদের দুজনকেই ভালোবাসি খুব । তোমরা দুজন কেন
একসাথে থাকতে পারো না ? তাহলে এই কি আমার ভবিতব্য ?
তুমি খালি স্বপ্নে আমার ঘুমে থেকে যাবে ? আমি ঘুমোতে পারলেই
তখন বিশ্বের সবচেয়ে সুখী মানুষ হয়ে যাব ? আর যেদিন খিদের
জ্বালায় ঘুম ভেঙ্গে যবে ? যেদিন রেতঃ স্খলনের পর আমার জেগে
উঠবে আগুনের বিছানা ? আমি ক্যাম্পোজ গিলে ঘুমিয়ে পড়বো
আবার ? পরদিন কি জেগে উঠতে চাইবো আবার ? নাকি , আরো
আরো ঘুমের প্রেমে ডুবতে থাকবো ? আরো আরো ঘুমের খিদে
নিয়ে চলে যাবো অন্য কোনো শীতঘুম জন্মে ? তোমারও সমজন্ম
চাইতে চাইতে ?


এক্সপ্রেসওয়ের কোলাজ

যেমনটি দেখছি তেমনটিই বকমবকম এ সাজাবো
সেরকম মাথার দিব্যি ছিলনা সাতসকালে,
চলো ইয়ার যে যার ফূর্তিতে।

মাঠ আহা ধূধূ মাঠ প্রাচীন খড়ের কাটা পা বিস্তর
আগাছগাছালি বক টক বেশ সুখী সংসারে বেশ ছিলো,
রেশ ছিলো, টকটক দৃশ্যরা নোরিস্ক জোনে।

তাহলে সে হুশহুশ হাওয়া বওয়া শনশন প্রান্তরে সূক্ষ্ম নকশি
দুধসাদা মসজিদ কে বসালো ঠিকঠাক
জিম করা আলাদীনি জিন?

একমনে পড়ে থাকা লম্বা খালের জল ছলছল
করেনি কোনোদিন যৌনতা হারানো
বাচ্যসম্বল ম্রিয়মান পুরুষের মতো।

সবুজের রকমফেরে সবুজে সবুজ, অবুঝ
সেখানেই গুনেগেঁথে পাক্কা দুখান গাছের ঘাড়ে পিঠে
থোকা থোকা গোলাপী বেগনি কম্বিনেশন লেপে দিলো কে?

হাওয়া কেটে ছচাকার গড়াগড়ি,
ভুস করে উঠে আসে
মস্ত কোল্ডস্টোর ত্রাহি ত্রাহি দৃশ্য বিনাশী।

আর কিছু অনুপ্রাস সিগ্রেট চা মৌ,
খানিক ইতিউতি
চাউনিতে সকাল মন্দ নয়,

হাইওয়ে সাবওয়ে দেবদারু ফাঁক ও ফোকরে অসৎ
ছোঁয়া ড্রিবলিং এ এপাশ ওপাশ,
চলুক না বস, এভাবেই শনশন। 
                        



কবি

একা প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে
যখন কোনো ট্রেন তার জন্য নয়

অনেক দূরের একলা গাছ আর তার নজরের দূরত্ব বুঝতে দিচ্ছে না
কতটা প্রেমে ছড়িয়ে আছে পরিযায়ী ডানা

শীতের শুরুতে সমস্ত নিস্তদ্ধ সময় ভেঙে কারা ছুঁড়ে দিচ্ছে
শব্দমালা এখানে

মেঘেদের কান্নার কারণ রহস্যই
আঁকড়ে
আর তার কবিতা আত্মহননের
দিকে খুঁজে যাচ্ছে একটা দুপুর
আর নির্জনতা

বিকেল পর্যন্ত অপেক্ষার সময় নেই এই লম্বা সফরের ..


হার

হেরো ভুত আহ্লাদগুলো
হাউইবাজির মত উড়ছে
     ফেটে পড়ছে আকাশ জুড়ে

বেমক্কা হাততালি
ফেটে পড়ছে আহ্লাদে আটখানা
হেরে চুরমার চিড় খাওয়া দাগ
লাট খাওয়া হতোদ্দম

হার নিয়ে চক্রব্যুহের জালে
যেন একা অভিমন্যু – আমরা ।



এসেছে এমন কেউ

সমুদ্র সুখে বুক ভরে যায়
ঘড়ির কাঁটায় ঢেউ শুধু ঢেউ
আমি হারিয়ে যেতে চাই সিঁদুরের বনে
এসেছে এমন কেউ।
আমি সবুজ আদরে অবুঝ শিশির
তোমার প্রতিক্ষা
তোমার আঙুল আমার রাত

চির নির্বাসিতা।

About