এই সংখ্যায় ৩০টি কবিতা । লেখকসূচি - অলক বিশ্বাস, শঙ্কর দেবনাথ, শ্রী শুভ্র, বিজয় ঘোষ, সতীশ বিশ্বাস, চয়ন ভৌমিক, অসিত চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রশেখর ভট্টাচার্য, সাঈদা মিমি, অরূপম মাইতি, সুধাংশু চক্রবর্তী, শ্বাশ্বতী সরকার, আহমেদ মুনীর, জেনিস আক্তার, সৌমেন্দ্র লাহিড়ী, জয় ভাদুড়ী, সিয়ামুল হায়াৎ সৈকত, অনিন্দিতা ভৌমিক, মাহমুদ নজির, পলাশ কুমার পাল, নীলদীপ চক্রবর্তী, শুক্লা মালাকার সাহা, হাসান ইমতি, নীলরতন চক্রবর্তী, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, সংহতি মজুমদার ।

  সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করেও পড়তে পারেন
মুহূর্ত

যাত্রাগান শেষ হয়ে গেলে স্বর্ণলতা ছিঁড়ি

রাত্রি নিশীথে তরঙ্গমুখর লিখি বেদনার কথা

স্তূপাকৃত বইপত্র ঘুমে ঢোলে

জেগে উঠি আমি প্রত্যহ স্মৃতির ভিতর
সপ্তপদী কবিতাগুচ্ছ

এক

আমার বুকের মধ্যে মন্থক্ষত এঁকে
ঝরণার মত তুমি হেসে যাও ভেসে-

আমিও তোমার স্মৃতি-জলে জ্বলে জ্বলে
চেয়ে দেখি- কিশোরীর চোখ ক্রমাগত
নারী হচ্ছে - ভালবাসা বেগবতী নদী -
ছুটে যাচ্ছে মিয়েন্ডার - সঙ্গমের দিকে -

তোমার দু'চোখে আমি ফিকে হচ্ছি- ফিকে


দুই

প্রত্যাশার বাসা থেকে ভেসে আসা ভাষা
সর্বনাশা ধুলোঝড়ে বালিয়াড়ি ভাঙে

বেলোয়ারী ভালবাসা মধ্যরাতে নাচে
মদ্য হাতে পদ্যগন্ধী নর্তকীর মত
আমিও ডুবতে থাকি-চোরাবালি পাঁকে
দূরে দূরে সুরে সুরে কার বাঁশি হাসে---

প্রেম একা শুয়ে থাকে পরবাসী ঘাসে ---


তিন

নদী নদী মন সবেগ আবেগে ছোটে
সাগর সাগর প্রেমের নাগর হাসে

সূর্য সূর্য রঙে ফুলকলি চোখ খোলে
শিশির শিশির প্রেম খেলা করে ঘাসে
দিবস দিবস আলোর দু'চোখে ঘুম
লিখে দেয় রাত বিবশ সুখের ঘরে ---

আমাদের রাধা-মন ভোগে কালাজ্বরে---




কুহক

এই আমি ঠিক আমি নই!
অনেকটাই ভড়ং নিয়ে আছি!
সে কথা জেনে বুঝেও
দেখ,
 কেমন এসেছ কাছাকাছি!
ব্র্যাণ্ডেড সময় এখন!
সাতরঙা রামধনু নয়!
সবটাই রঙিন কারসাজি!
ভালোবাসা মিথ্যে কুহক!
তবুও ঠোঁটে ঠোঁট ভেজাতে
এক কথায়
 
হয়ে গেলে তুমি রাজি!
সতর্ক দুপুর থেকে রাতে,
দুচোখের সুনিপুন নাটকে
রেখে যাই মিথ্যা সংলাপ যত
----তাতেও পিছপা নও!
তুমিও শরীর নিয়ে ঠিক
তলে তলে
খেলে গেলে তো অবিরত!
তোমার আমার মাঝে
গুঁতোগুঁতি খুনসুটি আর
ভালোবাসার শরীরের ভাঁজে
যে মিথ্যা গল্পগুলো
ছবির মতো
 
একেঁ যাই রোজ!
আজ থেকে
 
হাজার বছর পর
 
প্রত্নতাত্বিক নেয় যদি
 
তার খোঁজ!

ঠিকানা

গন্তব্য পথের
হদিস পাব বলে
তোমাদের আঁচলে
গেড়েছি আস্তানা!
ঠিকানার এই খোঁজে সেই
নিওলিথ যুগের তানপুরায়
সুর বেঁধে দিয়েছিলেন
আমাদের কোনো এক
 পূর্বপুরুষ!
সেই থেকে চলেছি!
হয়ত আলোকবর্ষ পেড়িয়েও
আমাদের পথ এগিয়ে
চলেছে তোমাদের
মনের অলিতে গলিতে!
হয়ত ধ্রুবতারার মতো
স্থির প্রত্যয়ে নয়,
 তবু জানি
তোমাদের বুকের শীর্ষে
হয়ত স্বর্গের শেষ ধাপ রাখা আছে!
এই পৃথিবীও নয় সবখানি-
 সোনা! নয় মধ্যরাতের তৃপ্তির ঘুম শুধু!
তোমাদের ঠিকানায় দেখ
ছায়াপথের ইশারায়
নিহারিকাও নেচে চলেছে!
ঈশ্বরের জন্ম তো তারপরের
ঘটনা!
 মানস সরোবরের দুধে তোমাদের স্বাক্ষর দেখে
ঈশ্বরেরও লোভ হয়
প্রেমে পড়তে!
আদরের স্বাদে হৃদয়ের রামধনু এঁকে যেতে....




মহেঞ্জদাড়োর ঘোড়া

সিঁড়ি বেয়ে নামতে থাকি  সিঁড়িটাও নামতে থাকে
আমি নামছি ,সিঁড়িও।মাঝে মাঝে ভাবি আসলে
পতনটা কার, আমার নাকি সিঁড়ির ? এই কথা
ভাবতে ভাবতেই সিঁড়িটাও কোথায় হারিয়ে গেল।

এক কালো ঘোড়া পাখা ঝাপটাতে ঝাপটাতে
নেমে এসে বললো-----'গোলাম হাজির'
আমি ঘোড়ায় চড়ে বসার আগেই সে বলে
উঠলো---
'মহাশয় আমি অশ্ব নই।'

 হরপ্পা কিংবা মহেঞ্জাদাড়োয় অশ্ব ছিল না।
আমি অবাক হয়ে ভাবি এ নিশ্চয় ব্যঙ্গমা পাখি।
এভাবে ভাবতে ভাবতে হাজার বছর কেটে গেল।

স্লেট পেন্সিল নিয়ে অ আ লিখতে বসি। নামতা পড়ি।
আবার শুক্রাণু এসে নিষিক্ত করে  ডিম্বাণুকে।
আমি হেঁট মুন্ডু ঊর্ধ্বপদ হয়ে অপেক্ষায় থাকি।

ততক্ষণে মহেঞ্জাদাড়োর ঘোড়াটি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে

ঘুমিয়ে পড়ে।
রূপোলি দাঁত

তাঁর মাথাটা যেখানে ছিলআর নেই  
তাঁর চুল ছুঁতে হাত বাড়ালেপায়ের আঙুল  
ধাক্কা খেয়ে সাপলুডোর ঘুঁটির মতো চোখ নামালে-
সবুজে কালোয় মাখামাখি!
একি ম্যাজিসিয়ানের পর্দাযাদু না কি
ফাঁকতালে গোল দিয়ে ফিকরুর অ্যাক্রোব্যাটিক্স
যা-ই হোক,ব্যাপারটা টেম্পোরারি
সার্কাসের তাঁবু উঠে গেলেই ফিকরু আবার                                                                                  ডিগবাজি খাবে; তখন নজর বাড়ালে--
যথাস্থানেই দেখা যাবে দোপাটি দাঁতের  
চক্‌চকে রূপোলি হাসি 


ছন্দহীন শব্দেরা

এ এক অত্যাশ্চর্য পৃথিবী বানালে খোদা
মানুষ কাড়ে মানুষের রক্ত
ধর্ম পালের গোদা ।

এ এক অদ্ভুত চার্চ বানালে যিশু
মায়ের দেহে ধর্ষণ-স্মারক
দায়ী দুধের শিশু ।

এ এক অবাক মন্দির প্রভু
জাতের নামে বজ্জাতি সব
মানবতা নিভু নিভু ।

ও এক অন্য মাটির কথা কবি
কলমের নিবে শাণিত ছুরি
রক্তে আঁকা ছবি ।


 গণতন্ত্র মানে আলকাপ

গনতন্ত্র গনতন্ত্র সবাই চেঁচ্যাছে
ত হেঁ ঠাকুর, গনতন্ত্র মানেটো কি?
হামিত শুনিনছিলি
"হামদের দ্বারা, হামদের প্রতি, হামদের জন্যে,"
লে ভালা হইছে ত উল্টা।
গনতন্ত্র মানে
 
গরীবকে রগড়াঁই মারা
গরীবকে লেবেঞ্চুসের মত চুষা
গরীবের টাকায় ভুঁটি পুষা।
ভটের আগে উথলে উঠে দরদ
ইটা দিব উটা দিব আর
পাথর গাদিঁয়ে চল্যে যাব
কি ন হামরা বেড়ে মরদ।
গরীবের নামে ভট নিয়ে
রাজা হঁয়ে নিজের ভুঁটি বাগাঁই
মিছা কথা বলাটাই গনতন্ত্র।
উয়াদেরেই পেট ভরে নাইত
হামদের প্যাট ভরাবেক কি কর‍্যে?
ভিখারির মতন ভট লিবেক
আর ফিঁচা ঘুরায় চইলে যাবেক।
গাড়ী ফিরি,বাড়ী ফিরি ফোন ফিরি
পাঁচটা পুলিশ নিয়ে ঘুরবেক
আর দমতক মিছা কথা বলবেক
বহু বিটি বেটা সবাইকে চাকরী দিবেক
এমনকি ঘরের গরুটাও চাকরী পাবেক,
হামরা হা ফাইড়ে সব দেইখব
আর রিঝে রামঝিঙ্গা হঁয়ে
দমতক কুলকুলি দিব।
ঐটাই হামদের গনতন্ত্র।
উয়ার মাটির ঘরটা
তিনতলা গনতন্ত্র হবেক
আর হামদের ঝুপড়িটা ধসিন যাবেক
প্যাটে গামছা বাঁধিন হামরা
জুলুক জুলুক ভাইলব।
গনতন্ত্র ঐটাই বঠে ন ঠাকুর?
বাপরে বাপ রাজা হঁয়ে টেঁঢ়ি কত
পিয়াজের দাম বাড়ছে কেনে
বললেই জেহেল,
মাইয়াছেল্যার ইজ্জৎ লুঠ হছে কেনে
বল্ল্যেই বলবেক
 
'উয়ারা বাহিরে বেইরাঁয় কেনে'?
লে শালা উল্টা ফ্যাচাং।
কোনটা গনতন্ত্র রে বাপ
আইজো নাই বুঝতে পারলি।
মনে হছ্যে গনতন্ত্র মানে আলকাপ।


বারুদের গন্ধ মুছে কবিতা

"আমাদের নেকড়ে মুখে ফেলে দিলেন ?"
স-ক্ষোভে বলেছিলেন গান্ধীভক্ত সটান যুবক,
কবিতা না-লেখা যুবক তখন ষাট ছুঁই ছুঁই
তারপর অনেক জল বয়ে গেছে সোয়াতের খালে
সেখানে এখন দাপিয়ে বেড়ায় কালো রাত
কালাশনিকভ আর ড্রোন
সেখানে এখন শুধুই বন্দুকের গান
সেখানে এখন রক্তের ধারাপাত
রক্তকণিকায় কি কবিতা থাকে?
কবিতার শব্দে কি প্রতিরোধের ঘ্রাণ?
কাবিতার উচ্চারণে কেন তবে ভয়?
কেন কবিতা নিশানা করে কালাশনিকভ?
সন্ত্রাস এক দিন জেতে, মাত্র একদিন
তারপর ফের স্বাভাবিক হয় জীবন
জ্ঞানের আলোকে ভাস্বর ফের বাচা খান

বারুদের গন্ধ মুছে গর্জে ওঠে কবিতার গান।
আমার অসুখ আমি নিজে

সুখি হতে পারবো না, আমার অসুখ 
আমি নিজে-
খরায় ঝলসে যাওয়া গাছটির মূলে 
বসে আছে এক চতুর ইঁদুর! খুঁড়ে দেখো, 
আসলে সে নেই!! 
মন্ত্রশক্তি তার কাছে খেলনা 
ঘুঙরুর মত ছলনাচ; হয়তো শুনতে 
পাবে, ঝুম... ঝুম... ঝুমরু ঝলক...
পরিযায়ী আসে না আগের মতন-- 
গুলিবিদ্ধ পড়ে থাকা নিরক্ষর 
পাখিরাও বোঝে- 



টুকরো টুকরো

দিগন্তে হ্রেষা ধ্বনি, আর!
কৃষ্ণ কালের কর্কশ চাবুক
পাঁচ ফুট দশ ইঞ্চির ইস্পাত শ্রমিকের
অস্থি-মজ্জা আর শিরায় শিরায়
ঘোড়ার নালের ট্যাটু
পার হয়ে যায়
মাঠের পর মাঠ
       
এক দিন, সে
জীবাশ্ম হবে
অন্তরের খাদের মধ্যে
জীবনের টুকরো খুঁজতে
কালকের শিশু, ভিড় জমাবে
       
সেদিন যদি, আগের রাতের
তিন পশলা বৃষ্টির জলে
নীল আকাশের বাঁকা চাঁদ দেখতে
পরাণের হিয়া, মুখ নীচু করে
হাত বাড়িয়ে জল ঘাঁটলে
টুকরো টুকরো কান্না-হাসি
পেলেও, পেয়েও যেতে পারে


এখনো নির্জনতাকে ভয় করি               

মায়ের কথাতেই স্মরণ করি তাঁকে
যেই টাল খায় আমার পৃথিবী।

এখনো নির্জনতাকে কেন যে এতো ভয়......
মাশব্দটা বুকে ধরে আছি বলে ?

আঙ্গুলের সীমানা ছাড়িয়ে মমতা গেছে দূর থেকে
অনেক দূরে সরে, তবুও কেন যে মাগো
আকাশের নীল রঙ এসে ভাসিয়েছে আমাকে।

একবার, শুধু একবার বলে দিয়ে যাও
ও হাত ছাড়িয়ে এখনো কতটা এগোলে পথে
আগুনে জ্বলবে এই নাও। 
-
পুনর্জন্মের আশায়

ভয় হয়, বড় ভয় হয়
আমার স্বপ্ন স্বয়ম্বরে
একদিন আর কোন রাজা খুঁজে পাব না
চেনা চেনা মুখগুলো কেমন
অনুগত দাস হয়ে বসে আছে
হীনমন্য দাসেরা সব
ভিক্ষাপাত্র নিয়ে বসে আছে
অবিদ্যার পায়ের কাছে।
ভয় হয়, বড় ভয় হয়
আমার স্বপ্ন বাসরে একদিন থাকবে না
কোন ফুলের শোভা
বিষাক্ত কীটেদের দংশন বুঝিয়ে দেবে
পৃথিবীটা আর এখন ফুলেদের নয়
ফুলহীন, রাজাহীন, বাসরহীন হয়ে
আমি মৃত্যুর দিন গুণে চলেছি
অন্য কোন ফুলের দেশে

পুণর্জন্ম নেব বলে।
সমবন্টন

আমি তোমাকে চাই আমার
অস্তিত্বে সত্বাউ সত্যে
আমি তোমাকে বাস্তবে চাই ।

তুমি কি আমার সঙ্গে যাবে
দীর্ঘ পদব্রজে কিংবা লেজার তরঙ্গ হয়ে
ধবধবে রৌদ্রালোকে আবছা আধো আলোয়
অনন্ত অমাবস্যার অন্ধকারে
জ্যোৎস্নামাখা নরম আধানে
উদোম শরীরে লাগাঝড়ো বাতাসের
মায়াবী সুপ্রিয় স্পর্শে শিহরণ জাগরণে
বৈশাখী জলের ঝাপটায়
বোসন সুপারনোভার
বিস্ফোরিত তরঙ্গে
শীতল কৃষ্ণ সুড়ঙ্গে
মেঘপুঞ্জ আনন্দ নিলয়ে
আজীবন সঙ্গী হয়ে হাতে হাত রেখে
হৃদয়ে হৃদয়-জ্যোৎস্না মেখে
ধ্যানে জ্জানে অর্ধ চেতনায়
স্রোতোবহা তিস্তার ঘোলাটে জলে
ভালোবাসার বিশ্বস্ত প্লাজমা জগতে

যুগে মহাযুগে কালে মহাকালে ।।
তুমি তুমি তুমি

তোমার ক্লান্ত উদাস চোখের তারায় হারিয়েছি দিশা
উচাটন মনে ভেসে এসে হৃদয় দেয় দোলা
তুমি আমার
শীতের সকাল
তুমি নদীজলধারা
এক আকাশ পানে মুঠো করে নীল ছুড়ে দেই
অথৈ জলে
তুমি আমার কবিতার পঙতিমালা ।
ক্যামেরায় গ্রীষ্মের পড়ন্ত বিকেল
শীতের আবছা কুয়াশা
মেঘের আড়ালে লুকিয়ে থাকা
সূর্য
আপন স্বপ্নে অযথা অদৃশ্য দেয়াল
ঠোঁটের বেলকনিতে রঙ তুলিতে আঁকা
হালকা সর্ষে ফুলের অবসর বিকেল
স্বপ্ন আজো তোমায় আমায় স্পর্শ করে
সবটাই
তুমি তুমি তুমি
Jenis Akter
11:08am
Jenis Akter
শুধুই তোমার জন্য
সাইফুল বিন হানিফ
ধ্বজভঙ্গ শহরে
কার্বনডাইঅক্সাইডের অতল সাগর পাড়ি দিয়ে
শব্দ দূষণ , বায়ু দূষণে আক্রান্ত হয়ে
মৃত প্রায় হয়ে
তোমার সামনে দাঁড়াবো
সমান সমীকরণে ।
অপলক দৃষ্টিতে পড়বো একটি কবিতা
তোমার চোখে ।
আর তুমি আমার চোখের মনিতে
দেখবে আমায় তোমার ভেতর
আমি তখন সত্য হবো
মিথ্যা হবো
তোমার মতন।
জীবন যেখানে বাষ্প
বাস জ্যামে আটকে থাকে সময় ।
তোমার আঁখিতে বিষ
কামনার অতল অগ্নি ।
আমি হবো ভস্ম
ভেতর বাহির তোলপাড়ে
নিষিদ্ধ কামুকতায় আঁকড়ে
তোমার নয়নে পৃথিবী
রচনার বাসনায়

আকন্ঠ উদগ্রীবতা ।
নীলাভ্র চিঠি

ইচ্ছে লুকানো চাঁদ অক্ষর বিহীন অভিমানী অপেক্ষা রেখে চলে
গেছে।
জীবিত জীবনের প্রযোজনে অনন্ত প্রতীক্ষায় পথ চাওয়া...
ইচ্ছেমতির জলে অকরুণ ছায়াপথ চুপকথা দূরতর অজানার
কাছে।
নিরলস আকাঙ্ক্ষার লক্ষ্যভেদ বাঁচে থাক যুক্তির দাওয়া।
সম্পর্কের ধূসর কালো মুছে কাঙালের মতন স্বপ্ন আঁকা মেয়েবেলার
পথে,পথে।
অর্বাচীন বিচ্ছেদের বিষাদ চিহ্ন নির্জনতায় মুছে।
মনপুরে স্নিগ্ধতায় ভাসানো চাঁদ;পরিশ্রান্ত জোছনায় একবিংশ
শতাব্দীর যৌবনের দেনা রাখে।
যৌবন তবুও নিখোঁজ বন্ধন শ্বাশত খোঁজে, কৃষ্ণকলির নীলাভ্র
চিঠির গভীরে।


উপপাদ্য

ক্রমশ
আমার পৃথিবী চৌকো হয়ে যাচ্ছে ।

আমার চৌকো বিছানা
চৌকো বালিশ
চৌকো জানালার ওপাশে চৌকো আকাশ
প্রৌঢ় বটগাছটাও চৌকো ।

আমার চৌকো বোকাবাক্স
চৌকো দেখি বিশ্ব

যা কিছু দেখি
যা কিছু শুনি
চৌকা ক্যানভাসে বন্দী ।

আমি চৌকো হয়ে যাচ্ছি

বৃত্ত ছোট হয়ে বিন্দু
ক্রমশ

বিন্দুরা জায়গা করে নিচ্ছে চৌকো ফ্রেম বরাবর ।
তোমায় পাবো বলে

শুধু ভেজা আয়নায়
জমতে থাকে পারদ বিন্দু,
একটু একটু করে -
তারা কাছে আসতে থাকে l
অনুর্বর জমিতে তখন
চাষ করে চলেছে -
একটা কেঁচো l
জলবায়ু পরিবর্তনশীল,
তাই আগাম ডাকে
খড়ায় পরেছে পারদ বিন্দুগুলো l
যদিও অনেকের বোঝার
বাইরে হলেও-
আজো স্বপ্ন জমছে
সেই অনুর্বর জমিতে l
আর চাষ করে চলেছি
আগের মতই...

তোমায় পাব বলে ll

About