এই সংখ্যায় ২৯টি কবিতা । লিখেছেন - বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়, সোনালি ভট্টাচার্য মুখার্জী, ইন্দিরা দাশ, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, জয়া চৌধুরী, দময়ন্তী দাশগুপ্ত, চন্দ্রশেখর ভট্টাচার্য, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, পিনাকী দত্তগুপ্ত, সাঈদা মিমি, অনুপ দত্ত, মৌ ঘোষ, চিরশ্রী দেবনাথ, চন্দনকৃষ্ণ পাল, অসিত চট্টোপাধ্যায়, দেবাশিস সেনগুপ্ত, দেবলীনা দে, দেবাশিস কোনার, আলপনা মিত্র, তন্ময় চক্রবর্তী, অনু ইসলাম, হারুন অর রশিদ, মনোজিৎ কুমার দাস, পলাশ কুমার পাল,  সুদীপ বিশ্বাস, চন্দন দাস ও সুদীপ দাস।

সব কবিতা পড়ুন । সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করুন  
স্বাক্ষর

সবজি ওয়ালার কাছ থেকে পটল ও ঝিঙে কিনতে কিনতে দেখি
তার গ্রাম, শস্যক্ষেত, হাতের আকল,
গামছায় মুছে ফেলা  ঘাম
-একদম টাটকা সবজি, এক পোয়া দশ টাকা বাবু
কেজিতে তিরিশ ।
লোকটি হাঁফায় খুব, সবজি  ছুঁই, হাত ছুঁয়ে  দেখি তার
জ্বর একশ তিন হবে
আমাকে জিজ্ঞেস করে - অনেকদিন  তোমার বাবাকে দেখিনি,
 মোহিনী দা  কেমন  আছেন ?
এরাও বাবাকে চেনে ?

কবিতা কি  সবজি ক্ষেত অবধি যেতে পারে ?
আমি বলি এখন তো খানিকটা ভালো ।
এত জ্বর নিয়ে কেউ  বাজারে কি আসে ধরে ধরে বাড়ি পৌঁছে দিই ।

শপিংমলের নীল আলো  তুমি কি  আমাকে দেবে, দিতে পারো

মাটির স্বাক্ষর ?
মৈত্রেয়ী

শরীর অমৃত পাক,
এমন অভিশাপ যেন ছোঁয় না আমায় ।
স্বপ্নকে অমৃত দাও ।
রঙ, গন্ধ, তাল, ছন্দ, দোলা –
সুরের সুতীব্র নেশা –
ঘিরে থাক । ডুবে যাক প্রাণ ।
আয়ুর প্রদীপ জ্বেলে আলো হোক ।
বাজাও হে জ্বলন্ত দীপক
বিভোর ইমনে কাঁদো ।
বুক ভেঙে জাগো মধুরাত ।
স্মৃতির সোনালি সুতো
জপমালা আঙুলকে ঘিরে
বেজে যাক ।
ফুরোয় না পদাবলী আলো ধারাপাত ।


পলাতক ভগবান

সোনার কৃষ্ণমূর্তি হ’ল প্রতিষ্ঠান
বড়, সেজ, মেজ বউ, সেবা ভার ভাগ করে দেওয়া
চৌধুরী মহাশয় ভক্ত মানুষ যে বড়
ধূপধুনো, চামর, সকাল বিকেল ভোগ
অজস্র উপাদান।

দ্বিতল প্রাসাদে বাস, দিনরাত বড় চিন্তা
বিষয় আশয়
বাড়িয়ে, বাঁচিয়ে চলা আজকের দিনে
পরিশ্রম বেজায়
তাই সেবাইত বামুনকে চমক-ধমক
কৃষ্ণ- মহারাজে যেন অযত্ন না হয়।

মালির ছেলেটা
বাড়েনাকো হাতেপায়ে খ্যে আধপেটা
একদিন কি ভেবে সে বৈকালী ভোগের থালায়
ছোট এক মুঠো ভরা ভোগ তুলে নেয়
আশায় আশায়।

এ মা, ছি ছি, অছ্যুৎ, একি অলক্ষণ
ধরা পড়ে বেদম প্রহার, উত্তম-মধ্যম
নতুন শিতলভোগ নৈবেদ্য শেষে
নারায়ণ নিদ্রা যায় মন্দিরেতে মৃদুমন্দ হেসে।

ভোরে হৈ-চৈ।
মূর্তি নেই মন্দিরেতে, কৃষ্ণমূর্তি কই?!
চৌধুরী মূর্ছা যায়
কেঁদে বলে, করলে পরিত্যাগ
কেন, কেন বল স্বামী?
স্বপ্ন মাঝে দেব হাসে
হাসে আর কয়
কোনদিন হৃদয়ে তোমার
ছিলাম কি আমি?
একটি প্রেমের কবিতা

সারারাত তোমাকে ভাবার পর
সকালে মেঘের ভেলা
সানগ্লাস নেই খোলা চোখ
সূর্যমুখী ক্ষেতে তুমি বাংলা সিনেমার অভিনেত্রী

স্কুল শেষ করে ফিরে যাচ্ছে
শনিবারের অটো
তোমার ভ্যানিটি আর স্বেদগন্ধ নিয়ে
পুরুষ সঙ্গীটি ঘুমচোখে

একটা শত্রু স্টেশন
 ট্রেন এনে কিছু বিচ্ছিন্নতাবাদ
প্রশ্রয় দিলে
প্ল্যাটফর্মের ছাতিমকে সাক্ষী রেখে
বসন্তকালীন বিদায়

দায় ঝেড়ে ফেললেও
সেই হতচ্ছাড়া কোকিল
আবার ফেরে জানালার গাছে .....
আধুনিক

কার কার কোন কোন কথা তাকে বলা
কার কার কোন কোন রূপ তার জন্য
কে কবে শব্দে খুলেছিল বসন
কে কেন বন্ধ দরজায় শরীরের নীচে রাখে আদিম গণিকা
এসব কিছুই জানা থাকে না। মেয়েটা
জন্ম নেয় একটা গোটা মানুষ হিসাবে।
তারপর ওরা আসে, ধীরে ধীরে বল্কল ছাড়ায়
স্কচের মত ওদের নেশাড়ু ধিকিধিকি
কম নয় রুচি কিছু জানা হয় ঢের লিপি
বিদ্যের ফাঁক দিয়ে মুখ বাড়ায় জানালায়
চেয়ে দেখে ওরা চাখে সিনা যোনি গর্দান স্রেফ
এর পরেও কবিতা লেখা হয় সুর গড়া হয় গান গাওয়া হয়
শিল্পীর।
এর পরেও ওরা থাকে গণের মাথার মণি

হে অভাগা আধুনিক মানুষ! 
কথোপকথন

আজকাল কথা বলিস না যে শুভঙ্কর?
তোর না বলা কথা দিয়ে একটা গাছ বানিয়ে দিবি?
-হুঁ, দেব।
বাদামী শব্দের গাছে সবুজ পাতার নাম হবে ইচ্ছে,
মনে থাকবে তো?
-বেশ তাই হবে।
লাল রঙের দু-একটা ভালোলাগা রেখে দিবি তাতে?
বেশি চাইব না, সত্যি বলছি।
-তথাস্তু, যেমন আপনার খুশি।
ওই দ্যাখ, খুশির কথায় মনে পড়ে গেল,
একটু হলুদ গুঁড়ো ছড়িয়ে দিস আনন্দের,
তবে বেশ ঝলমলে হবে।
-এত আলো কথা, উজ্জ্বলতা নিয়ে তুমি করবে কী নন্দিনী?
নাহয়, সব এনে দেব।

বা রে, ধূসর পৃথিবীতে বুঝি বাঁচতে ইচ্ছে করে না আমার প্রাণভরে?
জঙ্গলে মঙ্গল

জঙ্গলে থাকে ওরা মঙ্গলে খায়
বুধ-বেষ্পতি ওরা উপবাসে যায়।

অনাহার কভু নয়, মাংসের টুকরো
শুক্রতে জুটে যায় পায় যদি কুঁকড়ো।

ফোটে মাইলোর দানা, শাকটা আলুনি
নুন কোথা পাবে বল? বারটা তো শনি!

রবি-সোম ফের ঘুম দেয় ফাঁকা পেটে
সরকারি কাজ জোটে, বেতন নয়া জোটে।

মহুয়ার রস খায় আর লাথি-ঝাঁটা
জঙ্গলে এমনটা চলে রে জীবনটা

নেতা এসে বলে যায় তাঁর সাথে শুলে
সবই সে পেয়ে যাবে এই জঙ্গলে

এর পর যদি কেউ তুলে নেয় টাঙ্গি।
হয়ে যাবে মাওবাদী, সশস্ত্র জঙ্গী।

ভোলানাথ

লিঙ্গপুজোর পর নারীদিবস পার
শিব এখন গাছের নিচে পাথর
আজ কেউ দুধ দিচ্ছে না।
পরশু খুব খেয়েছে আঁজলা করে
মন্দিরের পিছনে নালায় গড়ানো দুধ

শিশু ভোলানাথের আজ পেট ফাঁকা
যতক্ষণ না মা ফেরে সেই রাতে
কাল মাসীরা লজেন্স দিচ্ছিল। নারীদিবস
আজ কোনো পুজো নেই? কোনও দিবস?
মা আসলে জেনে নেবে ঠিক
সখ্যতা ইত্যাদি

কিছু কথা ছিলো ভালো বাকীটুকু এলোমেলো
এলোমেলো কথাগুলো খুব দ্রুত উড়ে গেলো
ডানা মেলে সন্ধ্যের বাতাসে গ্রীষ্মাবকাশে

নিরাপদ আশ্রয় খুঁজেছিল যে সব ডানারা
রোঁয়াগুলো নামছে হাওয়া ভর করে
দূরের পাহাড়ের পাথরে এখনও ধাক্কা খায়
ব্লাস্টের আওয়াজ

বড় কোলাহল চারপাশে
কেউ কি নিঃশব্দে কিছু বলতে শেখেনি
ভালো ভালো কিছু কিছু কথা
গাছপালা নদীনালা
মানুষের সাথে পাখির সখ্যতা ইত্যাদি

 শ্রীনগরে

শহরের রানওয়ে ঢাকছে তুষার, কনকনে হাওয়ায় বেঁকে যাচ্ছে মানুষ,ছুটছে,
যাবতীয় কাস্টমস ইমিগ্রেশন ডিঙ্গিয়ে বেল্ট থেকে ছাড়িয়ে নিচ্ছে লাগেজ,
বাইরে প্রিপেড ক্যাবের লাইনের শেষে এক টুকরো সূর্য কি উঁকি মারে
এই শ্রীনগরে?

গাড়ির ধোঁয়া কার্বন কণা মিশে যাচ্ছে ঠান্ডায় পথের ধারের বরফে,
কার্বন ডায়োক্সাইড নিঃশ্বাস নেয় বৃক্ষরা- বাঁচিয়ে রাখে জীবনের ধারা,
মৃতদেহের, বর্জ্যেরও ভুমিকা থাকে জৈব সার,হাড়ের গুঁড়ো চর্বিও
কাজে লাগে জীবনদায়ী অথবা চকোলেট।
সার সার শেড দেখছি-খাদ্যগুদাম না আর্মি ব্যারাক?
জমেছে বরফ রাস্তাঘাটে, নদীর দুপাশে।

কল্পনা করি যুদ্ধ থেমে গেছে,সৈন্য নেইএপারে ওপারে,
এই ভূস্বর্গ বরফাবৃত; দ্রুত হেঁটে চলে যায় কাংরি ঝুলিয়ে
ফিরহান আবৃতা নারী, সরল দেবদূতের মত উজ্জ্বল শিশু।






নীল ফাগুনের চাঁদ


--


রাত্রি তখন একলা নদীর বাঁকে 
অশোক বনে পাতার ফাঁকে ফাঁকে,
খুঁজছিলো এক নীল ফাগুনের চাঁদ।

চাঁদটা তখন কোন্ সে মায়ার জালে
'লাল পলাশের ভিনদেশী এক ডালে
আটকে ছিলো' -
  এমনই সংবাদ

পৌঁছে দিলো
  সন্ধানী এক হাওয়া।
কী প্রয়োজন জানতে এসব চাওয়া?
ঝিম কুয়াশা তখন ঝোপে ঝাড়ে...

গর্ত্ত থেকে শিয়াল গুটি গুটি
চাঁদের লোভে বাড়িয়ে দিল মুঠি।
উপোষী রাত অন্ধকারের ভারে

জোছনা টাকে জাপটে ধ'রে ছিলো।
ঠান্ডা বাতাস গন্ধ ঢেলে দিলো।
আমার ঠোঁটে রাখলে
  তুমি ঠোঁট

আর কিছুটা সময় ব'য়ে গেলে
নীল আগুনের আঁচটা কমে এলে
রূপসী চাঁদ, এইবারে তুই ওঠ।

--


জানলা খুলে দাড়িয়ে আছি একা
তাকিয়ে আছি লাল মহুয়ার ঘোরে।
সাঁওতালি সুর, ধামসা-মাদল বাজে
রাত্রি আমায়
  দেখনা দুচোখ ভ'রে।
অনেক চাওয়া, অনেক পাওয়ার মাঝে
শাল সেগুনে হারিয়ে গেছি আমি,
এক ফালি ছাদ যাচ্ছে রোদে ফেটে
এবার না হয় তোর ছায়াতেই নামি!
তোর ছায়াতে একটু না হয় জিরোই,
তোর দাওয়াতে একটু না হয় বসি।
তোর হাওয়াতে ঝরিয়ে দিয়ে পাতা
তোর দুহাতে আমার দুহাত ঘষি!
 

--


রাত্রি, আমি মাটির ঘরে একা
রাত্রি, তোকে হয়নি আমার দেখা
শরীর যেন ঠান্ডা হ'য়ে আসে।

আবির মেখে রঙ বদলের রাতে
সোনালী ধান রেখেছি দুই হাতে
ছড়িয়ে দেবো, নিবিড় এ বিশ্বাসে।

নীল পরীরা তেপান্তরের মাঠে,
দস্যি ছেলে ঘুমিয়ে আছে খাটে,
রঙ-বেরঙের উড়ছে প্রজাপতি।

বেঙ্গমা আর বেঙ্গমী দুই-জনে
'আকাশ প্রদীপ' গুনছে আপন-মনে
ভাবনা-গুলো'য় নেইতো কোনো ক্ষতি।

লাল মহুয়ার গন্ধ চোখে, মুখে,
রঙীন হবার, অবিশ্বাসী বুকে
চাঁদের সাথে খেলবো লুকোচুরি?

লাল পলাশের ভিনদেশী এক ডালে
হঠাৎ দেখি প্রাচীন মায়ার জালে
চুল বিছিয়ে হাসছে চাঁদের বুড়ি।

--
ফাগুন কেন আগুন হবি ব'লে
জুড়িয়ে নিলি নীলচে চাঁদের আঁচ?
এবার তবে অশোক, পলাশ বনে,
গোপন কোণে অন্ধকারে বাঁচ।
উল্কি এঁকে সাজিয়ে দিতে পারিস
আঁকতে পারিস প্রেম--আলাপের কথা
আগুন হয়ে পুড়িয়ে দিতে পারিস
অবিশ্বাসী মনের বর্বরতা?
জানিস ফাগুন, কোনখানে তোর বাস?
কোন বাতাসে করিস চড়ুইভাতি?
বলনা ফাগুন বন্ধু হতে চাস?
শীতলপাটি এবার না হয় পাতি!
নিয়তির ভূত

উই পোকাদের ঢিবি পেরিয়ে 
মুন্সির গ্যারেজ- 
ফনিক্স সাইকেলটা রেখে আসি, 
দুইযুগের গল্প ওর শরীরে... 
একটু দলাইমলাই 
শেষে চাকাগুলি উড়বে--
সামনেই লাল সিরামিকের দালান, 
ফ্রেমবন্দী যিশু- 
অনেকবার ভেবেছি, তাঁর ক্রুশ বয়ে 
নেয়া নিষ্পাপ মুখটা থেকে 
ঘাম মুছে নিতে পারি? হয়ে ওঠেনি
গির্জা কিংবা ক্যালেণ্ডারে যিশু; 
আমিও ফ্রেমবন্দী নিয়তিরভূত


আরো নষ্ট করে দাও

স্বাতীদি, নষ্ট রাজাকে আরো
নষ্ট করে দাও
যেমন গদ্য লেখা, পদ্যর নষ্ট হয়ে যাওয়া৷
ঠিক তেমন সুরহীন নষ্ট করে দাও
আমি জানি এ মরণ সুনিশ্চিত
তবুও তো মরণ, স্বাতীদি৷
সমস্ত প্রান্তর ঘুরে নিজের কক্ষপথে 
আমরা উভয়ই সার্থক
তুমি নষ্ট করে
আমি নষ্ট হয়ে

মাঝখানে কিছু নেই
নিরক্ষর গান
জলহীন করোতয়ো
শব্দহীন বোবা নৌকা
পালটহীন নৌকা
যে দিকে টেনেছে মাঝি... সেদিকে
শাওন এগিয়ে চলেছে আধো আধো
ঘুম ঘুম মরণের দিকে৷

না না কোনো অমোঘ প্রশ্ন নেই
সত্যি কী,গদ্য লেখা পদ্যর নষ্ট হয়ে যাওয়া৷


কাটাকুটির দিনে

তখনই বেশ ভালো ছিলাম
তোর সাথে নিত্য দিনের আড়ি আর ভাবে,
কখনও সাপ লুডো
কখনও বা কাটা ঘুড়ির লম্বা সুতোর পিছনে।
কখনও স্কুলের পথে তোর ওই
ঝরঝরে জঙ ধরা সাইকেলে
ইচ্ছে করে আমায় উলটে ফেলে
তোর নাকি বেশ মজা লাগতো।
অঙ্ক স্যারের বাড়ীতে লোডসেডিং
ভুতের ভয় দেখিয়ে আমায়
লুকিয়ে জড়িয়ে ধরা,
এই সব নিয়েই তো বেশ কাটতো
ওই দিন গুলো...অনিমেষ!!!!
কখনও সরস্বতী পূজোয়
অনভ্যস্ত শাড়ীতে আমি জড়সর
কখনও তোর অপলক দৃষ্টিতে আমি থরথরও,
আমি তখন ক্লাস সিক্স
তুই দ্বাদশে,
তোদের ক্রিকেটের মাঠে
জোর করে ঢুকে
তোর ব্যাট কেড়ে নিয়ে হাতে
কখনও ছয় হাঁকাতাম কিনা জানিনা
তোরা চিৎকার করে হাততালি দিয়েই
ব্যাট নিয়ে নিতিস দারুণ দারুণ বলে
আমার মন রাখতে।
অনিমেষ মনে আছে তোর
ছাদের চিলেকোঠার সেই ঘরটা!!!
আমার উনত্রিশ টা মেয়ে পুতুলের সাথে
একটাই ছেলে পুতুলের উনত্রিশ বার বিয়ে.....
তুই মিটিমিটি হাসতিস.....
দিদির বন্ধু ছিলিস
কিন্ত আমিই যেন ছিলাম ছড়িয়ে ছিটিয়ে তোর জীবনে।
বেশ তো ছিল ওই দিন গুলো,
আজও বেশ লাগে ভাবতে
কাটাকুটি খেলার সুখ
আজ সব স্মৃতির পাতায়
ভাবনা গুলো ভাবায়

কখনও কি ভালোই বেসেছিলাম?
বেত্রবতী

বালিশ, বিছানা এবং কিছুটা
একান্ত মনখারাপ ছেড়ে
জানালা খুললো বেত্রবতী,
বসন্তকালীন রোদ ঢেকে দিল
তার ছোট স্তন,
  খড়খড়ে কালো গাল,
শুকনো ঠোঁট, আর ঝড়ো চোখকে।
ঘুম ভেঙে যাওয়ার আগে
বেত্রবতীর এই শারীরিক রাজ্যপাট
নিগূঢ় বসন্তে অভিমানী থাকে....
বেত্রবতীর সব ব্রণ দাগ রেখে গেছে অবেলায়,
কৈশোর আছড়ে পরে বারংবার
নিঃসার একান্ত অভিসারে তারা সমুদ্র শুশুক..
বেত্রবতীর দিন ভালো লাগে না
রাত কেবলি রাত কেন হয় না এ জীবনে..
দীর্ঘ এক সানাই কেন বেজে যায় না নহবতে
তার সব নিজস্ব প্রেমেদের স্বয়ম্বর হতেই থাক্..
গায়ে মাথায় মুখে বেত্রবতী মেখে নেয় অলীক সুখ
বিবাহিতা কেবলি বিবাহিতা তার এই অবৈধ বিলাস।
কারা যেন আঁশটে মুকুলগন্ধ লিখে যায়
ঋতুর ঘাটে ঘাটে পাত্র চাই বিজ্ঞাপনে,
  দিনশেষের রজঃস্বলা,  এই বসন্তযাপন
গা কুটকুটে অসহ্য ব্যথা, তাকেই কেন শুধু ?
কিছু শিমূল, কিছু আবির বেত্রবতীর ঠোঁটে
একটি কামড় রেখে যাবে,
কথা হয়ে উড়ে গেছে সাতজন্ম পরে..
তাই দীর্ঘ, দীর্ঘ এই সব রাত
বেত্রবতীকে জেগে থাকতে হয়,
রূপং দেহি, রূপং দেহি, রূপং দেহি...
বেত্রবতী মা হয়, তার সব সন্তানেরা অযোনিসম্ভূত ।
কুৎসিত ছোপ ছোপ দাঁতে, গিলে ফেলে মুকুল মদিরা
কষা স্বাদে চোখ বন্ধ হয়ে আসে
একান্ত একান্ত এই সুখবিলাস
তাম্রবরণা বসন্তে বেত্রবতী ফুটতে থাকে
নিখাদ কালো দহন হয়ে...
জানালা বন্ধ করে দেয় বেত্রবতী
জন্ম, জন্ম এবং আরো
সাতজন্ম পর সে প্রিয়া হবে....


কাঁদো তুমি কাঁদি আমি

কেমন করে ভুলি বলো?
সুরমা মেলের সেই জানালায়
রাত জাগা চোখ স্বপ্ন মাখা
কেমন করে ভুলি বলো
বুকের ভেতর অযুত প্রদীপ
জ্বলে ওঠে খুব সহজে
যখনই তোমায় ভাবি।
    
বুকের ভেতর লক্ষ ঢেউয়ের দাপাদাপি
কান্না করুন দৃষ্টি তোমার
দেয় ভুলিয়ে কাজের কথা
ভুল চুক হয় সব কিছুতে
আসি এবারএই কথাটির
 
দীর্ঘ ক্যাসেট বাজতে থাকে যখন তখন
কেমন করে কাজে বসি তুমিই বলো
কেমন করে ভুলি বলো?
দীর্ঘ চুলে ঢেউয়ের কাঁপন।

বুকের ভেতর তীব্র দোলা
ট্রেনের আওয়াজ, দুঃখের সুর
শুনলেই চোখ জলে ভরে
তোমার দেয়া সেই চিঠিটা
মানিব্যাগের মধ্যে আছে-
প্রনাম নিও, ভালো আছি
বুকের ভেতর কান্না জমায়
যায়না বলা, যায়না বলা কাউকেই না
এসব কথা তোমার আমার
বড় বেশী কাছের জিনিস
এই আজকে কেমন আছো
কোথায় আছো তা জানিনা।

শুধু জানি আমি যেমন কষ্টে আছি
তেমনি আছো তুমি মেয়ে
চোখের জলে মুছছো বুকের
জমাট বাধা কান্না বরফ
হালকা হোক বুকের ভেতর

ছিন্ন কবিতা

ছিন্ন কবিতায় লেখা ছিল
নগ্ন দুপুরের খেয়ালী বাঁশীর সুর
বাঁক নেওয়া নদীর মত।
জল ছুঁই ছুঁই বুনো ঘাসের উচ্ছাস
দিগন্তের স্বরলিপি সব ছিল
শ্রাবনী প্লাবনের মত।

হৃদয় মোচড়ানো কলমের ঝর্ণায়
লেখা ছিল দিগবালিকার ধুসর কান্না
লেখা ছিল জাগতিক কলঙ্ক
বিধবা রাত্রির দীর্ঘশ্বাসের মত।
তবু কেন জানিনা সে কবিতাও
ছিঁড়ে গেল ইচ্ছে হাওয়ায়
হয়ে গেল কালের ইতিহাস

মৃতপল্লবের মত।
বিচ্ছেদ

শব্দেরা নির্বাক চেয়ে আছে বোবা চোখে
রুদ্ধ কন্ঠনালী বেয়ে উঠে আসে দীর্ঘশ্বাস
পাতা ঝরানোর পালা শেষ করে এতদিনে
বসন্ত এসে গেছে, এসে গেছে বেয়াড়া পলাশ।

মিতভাষী মানুষও তুমুল বাচাল হয়
অতর্কিতে দুরন্ত ভালোবাসা পেলে
কথার ফোয়ারা হয়ে কিছু রূপকথা ফোটে
হৃদয় অহোরাত্র হৃদয়ের কথা বলে।

তারপর সব কথা চুপকথা হয়ে গেলে
নিস্পন্দ বুকের ভেতর টুপটাপ
অলক্ষ্যে রক্ত ঝরে শান্ত বিকেলে
আহত জোছনায় রাত নামে চুপচাপ।

স্মৃতি সেতো আটপৌরে মায়ের মতন,
যত্নে আগলে রাখে অতীতের টুকিটাকি
সুখটুকু অন্তরে ছায়াছবি হবে

বাকিটা আড়াল করে মুখে হাসি মাখি।
আলো-আঁধারির কোলাজ

পুবের আকাশ মেঘ বহুদূর
দু-চারটে কাক খেলছে হা-ডু-ডু ,
পশ্চিম কোণে কালো মেঘ
গর্জে উঠছে বজ্র-বিদ্যুত
আমার আকাশ মেলবন্ধন

আলো-আঁধারির ছোট্ট কোলাজ।

About