এই সংখ্যায় ৩০টি কবিতা । লিখেছেন - পল্লববরন পাল, স্বরাজ দত্ত, অলক বিশ্বাস, পিনাকীপ্রসাদ চক্রবর্তী, শ্যামল বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবাশিস সেনগুপ্ত, বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়, চন্দন ঘোষ, চয়ন ভৌমিক, ফারহানা খানম, সোনালি মিত্র, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, মধুছন্দা মিত্র ঘোষ, সোনালি ভট্টাচার্য মুখার্জী, সাগরিকা ঘোষ, জয়া চৌধুরী, সতীশ বিশ্বাস, মৌ দাশগুপ্ত, অনুপম দাশশর্মা, বলাকা দত্ত, রাজীব ভট্টাচার্য, রিয়া চক্রবর্তী, কোয়েলী ঘোষ, দেবাশিস লাহা, শ্রেয়সী দত্ত, বর্ণশ্রী বকসী, জাকিয়া এস আরা, তপন মুখার্জী ও রামকুমার ঘোষ ।

সব কবিতা পড়ুন, সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করুন
উৎসব

ইস্কুলবাড়ির ভোটবুথের সামনে
সকালসকাল যিনি লাশ হলেন
মাফ করবেন,
তিনি অমুকের স্বামী বা তমুকের পিতা নন
তিনি বিরুদ্ধপক্ষ
মাথার পিছনে রাস্তার ধুলোয় মিশে
কালচে লাল রঙের যে তরল
ক্রমাগত বড়ো করে মানচিত্র আঁকছে
মাফ করবেন,
সেটা তাঁর স্পর্ধা
সাজানো রক্ত-টক্ত নয়,

চারদিকে উৎসবের শ্মশানস্তব্ধতা
ইতিমধ্যে লাশের ছবি নিয়ে গেলো কোলাব্যাঙে
আর লাশ নিয়ে গেলো চিলে

সারিবদ্ধ সরীসৃপ এবং তৎসহ
আঙুলটিপের সেলফি পোস্ট করার তাগিদ
চলেছে ঢিকিয়েঢিকিয়ে,
ইতিউতি দাপিয়ে বেড়াচ্ছে
বাঁশ লাঠি অস্ত্র হাতে মানুষেরা
ওদের জন্যেই তো এই পঞ্চবার্ষিকী উৎসব

বেলা বাড়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে
মানচিত্র ক্রমে বড়ো হতে হতে
এলাকা শহর জেলা হয়ে
সূর্য যখন মাথার ওপর
সেই বিশাল মানচিত্র
একটা আস্ত রাজ্য হয়ে
উঠে দাঁড়ালো শিরদাঁড়া খাড়া করে
আর ঢেকে দিলো উৎসবে মেতে ওঠা গোটা স্কুলবাড়িটাকে
পরবর্তী সংস্করণের অপেক্ষায়

বসে আছি পরবর্তী সংস্করণের অপেক্ষায়,
যেখানে ভূমিকায় লেখা হবে
নতুন রোদের গল্প।

পাতায় পাতায় উঠবে গরম ভাতের গন্ধ
গোগ্রাসে গিলব একের পর এক পরিচ্ছেদ
ডুবতে থাকব নীল থেকে গাঢ় নীল,
গাঢ় নীল থেকে কালো
কালো থেকে অালোর সূচীমুখে।

সেই কলঘরটা - থাকবে অাগের মতই
তবে, পরিমার্জনে হারাবে অাসেপাশের শ্যাওলা
পিছলে পড়া শব্দগুলো জমাট বাঁধবে কঙ্ক্রিটের মতো
অাগল দেবে অনুচ্ছেদের সীমানায়।

মাননীয় সম্পাদক,
বিবেককে কম্পোজের আদেশ দিলেন কি ??

                  
মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছি

মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছি ঠিক ঠিক মানুষের মত
নোটপ্যাডে লিখে মৃত্যুর কথা কান্না জমেছে যত।
অনন্তকাল অপেক্ষার কোন অর্থ নেই, খোয়া গেছে
সম্পর্ক, আনাড়ির মত এসে সম্পদ গেছে সব বেচে।
খুঁটিনাটি বিশ্লেষণ শেষে ঘোষণায় নেই আর রাখঢাক

অশান্ত রোদ্দুর বলছি শোন দুর্নীতির সরকারটা যাক।
একটা ভোটের নাম লাশ

একটা ভোটের নাম লাশ রাখতেই
দেখি সে আমার কাঁধে উঠে পড়েছে
তারপর পঞ্চবিংশতি গল্প যেমন হয়--
বে-রোজগারি,দাদাপার্টি,টাকা আসে
টাকা কোন পথে যায়,দেশ মানে পুঁজি
বা পুঁজির ইজারাদারি -ক্ষমতায় না থাকলে
একেবার ফিনিস --এই সব শুনি
একটা ভোটের নাম লাশ রাখতেই
এই সব অনবরত ঘটে যাচ্ছে দেখে
দেশের পায়ের কাছেই রেখে আসছি
বাড়ি ফেরার পথে রক্তদাগ ধোয়ার নদী
যত দিন দেখছি বিরল থেকে বিরলতর হচ্ছে
জয় পরাজয়ের নেপথ্যে

জিতেও পরাজিতের মন নিয়ে থাকে মানুষ
ভেতরে ভেতরে দুর্নীতির ঘুণপোকা বাসা বাঁধলে
একদিন ঝুরঝুর করে ভেঙে পড়বেই
মানুষ দল তত্ত্বের বোলবোলাও
সব সবকিছুই ।
এই অসুখে কত পতন দেখলাম
কত মহাপতন চুরমার করে দিয়েছে দম্ভ আস্ফালন ।
সারা পৃথিবী জানে ,
দেখেছে এই গঙ্গা তীরবর্তী বাংলাও
সামান্য ভোট

কত ভারিক্কি লড়াই আছে তোমার আমার
বকেয়া ডিএ, কানহাইয়া বা অনাবৃষ্টি,
ভাঙা সেতুর ফোঁকর গলে বেড়িয়ে আসা
পিষ্ট হাতের তর্জনীতে মৃত চোখের বরফদৃষ্টি।

কিংবা ধরো গোপন চোখে কব্জা হওয়া
চোরের পিসীর বড় গলায় প্রলাপগাঁথা
তোমার আমার পকেট কাটা টাকায় মোড়া
দুষ্টুছেলের চোখেমুখে নারদ নারদ মিষ্টি কথা।

পড়ে পাওয়া ছুটির দিনে এই গরমে কোত্থাও না
দুপুরের মাংসপাতে আর দুহাতা ভাতের দাবী
ভোট দিয়ে কি ছেঁড়া যায়, তার চেয়ে চল
বিকেলবেলায় শীতল শীতল বিয়ার খাবি।

এইসব বাহারি দিন, ধর্মতলার মোমের মিছিল
আমাদের বিপ্লব আর দুশ্চিন্তার তপ্ত দুপুর
তার বাইরে অন্যজগৎ অপুষ্টি আর অনিদ্রাতে
দুচারটে গ্রাম, অনাবৃষ্টি, শুকনো পুকুর।

সেখানে সবার চোখের অলক্ষ্যতে বোকা মানুষ
পারদের দাপাদাপি মাথায় নিয়ে সকালবিকেল
শাসকের রক্তচোখকে ঝাঁটা মেরে উড়িয়ে দিয়ে
দেখিয়েছে অসম্ভব এক বিদঘুটে খেল।

চোখেমুখে যুদ্ধজয়ের অপার খুশি
বলে নাকি পরিণাম সে যা হয় হোক
সামান্য এক ভোট দিয়েছে বুক চিতিয়ে
সে আনন্দে ঝিলিক দিচ্ছে রমণীর সস্তা নোলক।

এ সবে তোমার আমার কি যায় আসে
আমাদের দিব্যচক্ষু খোলাই আছে
আর আছে চালাক চতুর মগজখানা
ভোট দিয়ে হবেটা কি? একটা ভোটের কি দাম আছে?
সম্ভাবনা

প্রতিটি দরজার গায়ে সম্ভাবনা
আমি ভাবছি
কোন পথে যাব ?

দূর রাস্তার পাশে  কেউ ছড়িয়ে রেখেছে বীজ,স্মৃতি পথ

উড়ালবর্তী দীর্ঘ নীরবতা
ছিন্নমূল বাঁচার অভ্যাস
ব্যর্থ অভিলিপ্সা  এই ত্রস্ত সময়ের পায়ে ।

একটি দীর্ঘশ্বাস ধুয়ে ফেলে  বন্ধ দরজার পাশে  পা
সি-সি-টু-র ক্লিওপ্যাট্রা

বড় সেই চত্বর ঘিরে করছে যে যার মতন খেলাধুলো
খানিকটা আদেখলা প্রেম।
মোমোখোর যৌবনের আবছা উড়ো-চুমু।

এরই মাঝে ময়ুরকণ্ঠী রঙ মিনিস্কার্ট পরে
যেমনি দাঁড়ালে তুমি দু-পা ফাঁক করে
স্যান্ড ক্লকের মতো উলটে গ্যালো আস্ত সি-সি-টু
অমনি ঝুরঝুর করে খানিকটা ক্লিওপ্যাট্রা পল
ছড়িয়ে গড়িয়ে গেল গ্রীস দেশমুখী

আলুনি জীবন জুড়ে ভূমিকম্প হলে
যেরকম নীলনদে ফুলে ওঠে ঢেউ
সে রকম দুলে ওঠে মিনিস্কার্ট ছুঁয়ে
ডিহাইড্রেটেড সব কলকাতা-মরুর হৃদয়

আজ এই সংক্রান্তি-দুপুরে ওরকম দাঁড়িও না তুমি
নতুন বছর খুব ভয় পাচ্ছে আবীর মাখাতে।
যাবজ্জীবনের পরেও

আর চঞ্চলতা নেই গলিপথ জুড়ে।

কী উত্তেজনা ছিল বলোতো,
সেইসব মোমবাতি জ্বলা গলিত সন্ধ্যার রাজপথে।

যতগুলো হাতবোমা রাখা ছিল
গোপন পকেটে -
নিষ্ক্রিয় করে দিলে তুমুল দক্ষতায় হে বম্ব স্কোয়াড।

এখন আর ঘোড়া নেই কোনো জানো,
নেই কোনো দামাল সহিস।
একবার যে গুহাচিত্র ছুঁয়ে, এসেছি বেরিয়ে-
তার আশ্রয়ে  আবার কেন এই উন্মত্ত ডাকাডাকি!
এই যে পাখির মত দায়হীন উড়াল,
এই যে এ ডাল সে ডালে বসার পরিযায়ী ভাবনা।
বিধাতা ঠাকুরেরই আলোকিত উপহার সব।

ধুলোকনা মাখা জ্বরজ্বালাগুলো নিয়েই শুধু -
কিছু দলছুট ছুটকো চিন্তা আমার।

ফুরিয়ে যাওয়ার আগে আমরা-
বড়জোর দুতিনবার স্নান,
দু একটা অনন্ত সিগারেট,
গিঁট পড়ে যাওয়া পায়জামার দড়ি।


আহা স্মৃতির আদর, তুমি বড়ো আসকারা দাও। ভালো থেকো।।
প্রসব কলঙ্কময়

নয়মাস ডুবিয়ে রেখেছিলাম ক্লান্তি
অতঃপর শাপলার বোঁটায় মরা নদীর গল্প
আমি কান্না শুনতে চেয়েছিলাম আনন্দে
একটা স্রোত দু-চার ফোঁটা বৃষ্টির ছুটোছুটি।

এটারও হলোনা
দরজায় অকল্যাণ গ্রহরাজের হামাগুড়ি
জানইতো জগতের চোখ এতটা উদার নয়
বিবর্ণ অপয়া চাঁদ কে আর ছোঁবে
ঘোমটার আড়াল থেকে ঝামটা দেয় যুক্তি
ওরে অচল উক্তি বিদায় কর
পথ যে তার কম নয়।
সারোগেট মাদার

শেষ ট্রেনটা ছেড়ে যাওয়ার পর প্লাটফর্মের মতো নিঃস্ব
সময় টুঁটি টিপে ধরেছে আর জাহান্নম থেকে
বেহেস্তের দিকে তিলে তিলে বেড়ে উঠছে একটা অস্তিত্ব ।
সে যে আমার কেউ নয় , আমি ফার্টিলাইজ মাধ্যম .
এরপরে পড়ে রইবে পিশাচমন ও
নাগাসাকির ধ্বংসাত্মক জীবন
অসুখ থেকে সুখের দিকে হেঁটে যাচ্ছে বৈদিক মানুষ ।
আর ,আর অল্প কিছুকাল বাকি -
আমার জঠরে বেড়ে ওঠা প্রাণ'টাকে ডাক্তার দিদির হাতে দিলেই
মিলে যাবে পর্যাপ্ত স্বর্গের সিঁড়ি , সিঁড়ির উপরে থাকে
বস্তির চিরবসন্তকাল ।
শুধুই কি তোর সঙ্গে আমার কিছু কাগুজে নোটের বিনিময় ?
নাড়ি থেকে নাড়িতে লেগে থাকা আর
শুষে নেওয়া রক্ত-জল , প্রাণ তবে তুই আমার কেউ নোস ?
আর তো কদিন , তোর আসল মা বুকে চেপে নিয়ে চলে যাবে
হয়ত আমেরিকা ,কিংবা অস্ট্রেলিয়া ।
তবু ,তবু আমি কেন নেমে যাচ্ছি নদী খাদের দিকে
দ্বন্দ্বে কেন ভরে উঠছে মায়ের সত্ত্বা ?
কেন ছুঁড়ে ফেলে দিতে ইচ্ছে করছে সমস্ত বাস্তব সরণী!
কেন তোকে বুকে চেপে বলতে ইচ্ছে
তুই বড় বেশি আমার, তুই যে শুধুই আমার
তোর তুলতুলে গাল ,ছোট্ট হাত পা , সব , সবটুকু জুড়ে আমার
কতপ্রকার ঘর ভাড়া দেয় , চাহিদায় উড়ে আসে জন্ম
কোনদিন কি জানবি তুই
কে ছিল তোর জন্মদাত্রী মা ? কে হেসে উঠেছিল
তোর আগমনের সময় ! আমি ও কি তবে সেই
তোর কাছে গর্ভ ভাড়া দেওয়া মা ?
শুধু বাঁচবার জন্য ,লক্ষ টাকার বিনিময়ে সুখটুকু কিনে থাকি
আমাকে বাঁচিয়ে রাখার জন্যই
সাইনবোর্ড ঝোলাই
এসো পিতা , আমি সারোগেট মাদার

এই প্রান্তরে তিন হিমশৈলচোখে পড়ে,
অদূরে বনানীতে তৃণরাজির আড়ালে তিনটি বৃক্ষ আন্দোলিত,
দিগন্ত দর্শন শেষে দৃষ্টি ফিরে আসে শুরুর বিন্দুতে।

আবারও দেখি তিনটে পাহাড়, তিনটে গাছ;
পর্বতের ওপারে জানি আছে সমুদ্র,
সমুদ্রে তিন ছোট ছোট দ্বীপ,
বালুকাবেলা আর নারকেলগাছের সারি।
স্তব্ধ প্রকৃতির মাঝে আকাশ ভাঙ্গার শব্দভেসে আসে,
আর কানে কানে কীসব বলে যায়,
অজানা হাওয়া এক।
কিছুটা শীতল সে,
হয়ত বা উষ্ণ কখনও।

আকাশ ভেঙে যায় আর
ঘড়ির শব্দের মত বাজে
মহাকালের ছন্দ।

কে আমাকে রেখেছে বেঁধে,
কেন কে জানে,
স্পর্শ করি অনুভব করি সেই সব অদৃশ্য
অনন্ত চিরকালীন যা কিছু।

সেই তিন
অতীত বর্তমান আগামী
স্বর্গ মর্ত পাতাল


ভ্রম শিবির থেকে
            
এ নদীর ঘাট নেই কোনও
নাও  নেই
পারাপারের  নৌকা  লাগেনা  কখনও

থই থই  নদী  জলে
ভেসে  ওঠে  জ্যোৎস্নালগ্ন
অসংখ্য  তারার  আবেদন

রাত এসে জড়ো  হয়  নদীজলে
ডুবতে  চায়
ওই  চাঁদ ও নক্ষত্র  দ্যূতি
শুষে  নেয়  নদীর  গোপন

উছল  নদী  নিবিড়  হয়  আরও
মায়াবী  রাত  তখন
মধুমতী  খুব



বরাভয়

তোমাদের লেখালিখির জগত থেকে
সিডাকশনের হিসেবটা আমি ইচ্ছে করেই বাইরে রাখি
কত ডিগ্রী ঘাড় ঘোরালে লোকে কতটা ঘায়েল
বা ক ফোঁটা হিরের ঝিলিকে ক্লিভেজ পাশুপত অস্ত্র হয়ে লাশ ফেলে দেবে
সে খাতাটা বন্ধ করে রাখি।
যাও কবি।
ছিলা খুলে রেখেছি গাণ্ডীবে
কোন অস্ত্রে কোন পশু বধ হয়
উমা থেকে জগদ্ধাত্রী হয়ে উঠতে উঠতে
সব দুর্গা জেনে যায়।
লাইন চ্যুত

বেড়াতে যেতে আমার খুব ভালো লাগে। হঠাত করে ট্রেনে চেপে বসা,আর তারপর যেদিক দুচোখ যায়...
হ্যাঁ।  অচেনায় আমার কোন ভয় করে নি।  তাকে চেনার আনন্দেই তো এই বেড়ানো। আমাদের এই জার্নি টাও এভাবেই শুরু হয়েছিল। তারপর এক এক করে সিঁড়ি চড়া। মাউন্টেন টপে উঠে চারপাশের ভিউ দেখা...
এই দৃশ্যের হাতছানি তে আবার গড়িয়ে পড়লাম পাহাড় শীর্ষ থেকে। সে কি দৃশ্যের দোষ না কি পর্যটকের।
পালানোর একটাও রেল লাইন পাচ্ছি না সোনামন


চৈত্রদিনের কবিতা

চৈত্রদিন বুকের ভিতর
চোখের তলায়  সেফটিপিন
মনকেমনের গল্প নেই তাই
ভীষন ভালো কাটছে দিন
কুড়িয়ে নিচ্ছি পাতাপ্রেমমন
শেষের শীতের গা থেকে
ওড়নাছাড়া ছবি পাঠিয়ে
ঘর পোড়াচ্ছি বন্ধুদের

ঝিকমিকিয়ে উঠছে বিষাদ,
প্রেমিক-রং শাড়ির পাড়
পেরিয়ে বুকের নীচে
এগোচ্ছে সাপ, স্বয়ংবর।

কফির কাপ আর ঠোঁটের গোড়ায়
লাগামছাড়া আদর রাখ
হাতের ছোঁয়ার উষ্ণতায় আজকে
বাতিল হোক নিম্নচাপ।
 তিন টুকরো

চখাচখি                                                                                                          
একা চখা
চরে
চড়ে।
চখী
আজ                                                                      
পলাতকা।                                                                      

ছায়া 

শরীর নিজের ছায়া আঁকে
কেমন শরীর তার
ছায়া দেখে চেনা যায়
যেমন বিম্ব ফোটে
ধুলোহীন আয়নায়
ছায়ার দেহেও রক্ত থাকে।

ফুল হয়ে ফুটে আছ

ফুল হয়ে ফুটে আছ একা
অন্তর্গত মনে।
আমি ঘন বনে
কখনো পাথরে
কখনো সাগরে
খুঁজি ; তাই দূরে থাকে দেখা



একটি মেয়ে ও মৃত্যু

আমি তাকে দেখেছি আলতাগোলা ভোরে, অলস দুপুরে, শঙ্খলাগা সাঁঝবেলায় ...
রাতের রহস্য হয়ে দীর্ঘ উপন্যাসেও মোনালিসা হাসিতে তাকে পেয়েছি,
কখনো  সে আলতামিরার গুহাচিত্র থেকে কলকাতার রাজপথে নেমে এসেছে,
রবিঠাকুরের সঞ্চয়িতা থেকে সিঙ্গুর নন্দীগ্রামের পথে হেঁটে গেছে সাবলীল গতিতে...
বনফুলের গন্ধ চুলে মেখে নার্সিসাস প্রেমে নিজেই যেন কবে কবিতা হয়ে গেছে...
এলোচূল ..আদুর গা বেয়ে গড়ানো ঘাম..হাতে ভাতের থালায় অন্নপূর্ণা সাজেও তাকে দেখেছে পথশিশুর দল...
খাজুরাহো থেকে তার  তীব্র শীৎকার ভেসে গেছে পরিপাটি নগর সংকীর্তনে...
কোন পুরুষকে সে আপন করেনি তবু তাকে কামনা করেছে ধর্ষকের অনুতাপ,
অনেক স্মৃতি রোমন্থণ করে সাগরমেলা ভাঙ্গা মানুষের ভীড়ে মিশে গেছে, এটুকুই খবর,
আরো শুনেছি, পায়ের জলছাপ আলপনা রোদ্দুর নাকি মুছে দিয়েছে বালুতট থেকে...
স্তাবকতা ফুরিয়ে গেলেও কেউ দেখেনি সে পায়েরছাপ ঘরছাড়া ছিল নাকি ঘরমুখী..

অভিমানে তার নামখসা অক্ষরগুলো একটা একটা করে মরে গেছে নিঃসঙ্গ ধারাবাহিকতায়...
খুঁজে নিতেও জানতে হয়

কোথায় সৃষ্টিসুখ, কোথায় বা উদাস মনের সুপ্ত রং
যখন শিমুল ওড়ে বেয়ারা বাতাসে,
নিংড়ে নেওয়া পাঁজর এক ফোঁটা স্বেদবিন্দু
আশা করে নত চিবুকে..
হে পান্থ! তুমি তো খোঁজো স্বেচ্ছায় ধ্বংস
ডাহুকের কাছে জমা থাকে ভূমিষ্ঠ শিল্প।

উঠে আসে ইজারা নেওয়া অযুত সন্ধ্যারা
সমঝোতা অভ্যাসে হয় ভীষণ খুশি,
পরীক্ষায় বসে আহত শব্দেরা কখন যেন
পেয়ে যায় অবিমিশ্র অনুভূতি।

শুধু সোজা হেঁটে যায় অভ্যেসের পরম্পরা
প্রতিটি প্রদোষের কাছে রাখা থাকে

সৃষ্টির নিষ্কর সম্মতি।
 নব...

একের পর এক জানলা খুলে
হুড়মুড় করে ঢুকে পড়ল ঝরনারা
গুমোট ঘরের কোণে ধূলো জমা ওই হারমোনিয়ামে
বেজে উঠেছে মুখরা আর দাদরার বোল
মৃত ঢেউয়ের শবে লাস্যময়ী  আলো
তোলপাড় করা অানন্দে জেগে উঠেছে সমুদ্র
প্রবল আলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেল শেষ জানলাগুলোও
তুবড়ির মত ছড়িয়ে পড়ছে জীবন আর বেঁচে থাকার লোভ।


মন চেয়েছে

সাঁকোর ছায়া পড়েছে লেকের জলে
সাদা কালো পরপর অনেকগুলি ঘোড়া
মরা হলুদ অালোয় অারোই রক্তশূন্য
পর্যটকদের দরকষাকষি চলছে
চোখ ফিরিয়ে ভোর ভোর কমলা খেতে
রোদ পড়ে রঙ খুলতে শুরু করেছে
বাহারি পালকে মোরগের দেমাকি ডাক
সস্তার উজ্জ্বল পোশাকে সার বেঁধে
ফাটা অাপেলের মত গাল নিয়ে
চেখে নিতে অাসে শহুরে মন্তাজ
অার পাহাড়ের কোলে কুমারী গ্রামকে
চেটেপুটে খায় মরসুমী মানুষের ঢল।




আত্মকথন

ছাদের কার্নিশে দুটো শালিকের খুনসুটি।
ভোরের সুর্যস্নান সেরে নিচ্ছে একটি চড়ুই।
ফুটপাথে সাজানো একটি ইটের উনোন
খুব যত্ন করে ভাত রাঁধছে একটি মেয়ে।
এই কাঠফাটা গরমে নিজেও সেদ্ধ হচ্ছে বোধহয়।
ভোট উৎসব ছড়িয়ে পড়ছে শহরময়।

দীর্ঘ বিকেল ফুরালে, লাফিয়ে পড়ে
শহুরে  সান্ধ্য বিষণ্ণতা।
বাতাসে কিসের যেন ডাক।
কে যেন ডাকছে আমায়!
আমার ঘরে ফেরার কোনো তাড়া নেই,
বরং সুযোগ পেলেই কোনো  শিশুর হাত ধরে
সোজা চলে যাবো কোন অচীনপুরে।
ধুলো বালি মেখে হবো একাকার।
না ঘরে ফেরা হবে না আমার।
কোরাস্  
  
একদিন এসে নিয়ে যাবে বলেছিলে
সেই থেকে গাছেদের কাছে কান পেতে
জানতে চেয়েছি 'কোথায় '?
পাখিদের ভাষা বোঝার চেষ্টা করে গেছি আপ্রাণ
মেঘেদের উড়ে যাওয়া দেখেছি  
আর নিজেকে ভাসিয়েছি কল্পনায়
নাটকে ,কবিতায় ,মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রামে ...  
নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কাছে  
প্রশ্ন থেকে গেছে  'কোথায়'' ?
আসলে তুমি আসনি এখনো তাই  
গাছ কেটে বিক্রি হয়ে যাচ্ছে লরি বোঝাই
পাখিদের ভাষা ক্রমেই হারিয়ে যাচ্ছে সময়ের ব্যস্ততায়
উড়ে যাওয়ার কল্পনা  বৃষ্টি হয়ে গড়িয়ে গেছে এঁদো নালায়
নাটক থেকে বেরিয়ে এসেছি
মানসিক জটিলতায়
মুক্তির জন্য সংগ্রামে কে কতটা  
দাঁড়িয়েছে  পাশে ঠিক ঠিক মুক্তির আশায়  ?
আত্মদহনের পথ এখনো উন্মুক্ত
শুধু বেহায়া কবিতায়
আসলে তুমি কথা দিয়ে কথা রাখনি তাই
প্রশ্ন থেকে যাবে 'কোথায় '... ?

About