এই সংখ্যায় ২৮টি কবিতা । লিখেছেন - অলক বিশ্বাস, বিজয় ঘোষ, চয়ন ভৌমিক, শেখর কর, তৈমুর খান, শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, পিয়াল রায়, আনওয়ারুল কবীর, সুবীর সরকার, সঞ্জয় সোম, সোনালি ভট্টাচার্য মুখার্জী, মধুছন্দা মিত্র ঘোষ, সুমিত্রা পাল, সুরজিৎ চক্রবর্তী, শাঁওলি দে, তাপসকিরণ রায়, ভাস্কর গুপ্ত, অরুণ সেনগুপ্ত, রুখসানা কাজল, বচন নকরেক, পল্লব সেনগুপ্ত, মলয় সরকার, দীপ রায়, মৌসুমী মন্ডল ও জয় ভাদুড়ী ।

    সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করুন


নি:শর্ত দলিল ও প্রেম

হৃৎপিণ্ডে যদি কোনদিন বেজে ওঠে
অনন্ত রাত্রির অন্তহীন সুর
উদ্দীপ্ত প্রবাহে নাচাবো সূর্যতেজ
তোমার মুখের কোলাজে দৃষ্টি রেখে
লিখবো অসংখ্য প্রেমের কবিতা।

হে আমার স্মৃতিসুখ, বিষন্নতা ওড়াও
পোড়াও অবিন্যস্ত ভাবনার অসুখ।

মৃত্যুহীন জীবন চাই
নক্ষত্র ও নারী স্নায়ুতে নকশা কাটে রাত্রিভর
সমুদ্র ঢেউয়ে হাত পেতে চেয়েছি সুর
নি:শর্ত দলিলে প্রেম অতপর।

এই পথ, ছায়া ছায়া ভাষায়
ফুটে ওঠো অন্ধকার
তার জন্য কবিতা লিখি সমস্ত প্রহর।



দিগ্বিজয়ী
        
 নিজেকে নিঃশব্দের কাছে রাখি
তবুও প্রপাত আসে উন্মাদ শিখরে
তবুও প্রলাপ বয়ে যায় জনান্তিকে

হিংস্র সাম্রাজ্য জুড়ে নিঃস্ব জাগরণ
কোথাও ঘুমের দরোজা নেই
তবু সারারাত নিঃসঙ্গ যাতায়াত করে

বয়স কেঁপে যায়, কোন্ অজাগর  ?
জ্বেলে রাখে দুর্ভর সান্ধ্যজীবন  ?
চিনি নাকো তাকে

অথচ দুর্যোগ আসে
অদ্ভুত বিশ্বাসের সিঁড়ি দিয়ে
উপলব্ধির ঈশ্বর নামেন

অশ্রু মুছে নির্বিবাদে
দিগ্বিজয়ী বলে নিজেকে ঘোষণা করি
আর বাগানে ফোটাই যত অলীক কুসুম

বিলাসী সন্ধ্যা
 
এক নীলবর্ণ বিলাসী সন্ধ্যা চরতে এসেছে এই ধ্বংস মাঠে
চারিপাশে মানুষের লাশ
কাটা মুণ্ডু  , ছেঁড়া যোনি , মৃত আর্তনাদ
কান্না রক্ত আর ভাঙা বিদ্রোহের তাঁবু
পড়ে আছে  

এখানে নিঃশ্বাস নিতে পারছি না আর
স্বপ্নবর্ণ আলোরা ভাষাহীন
কী আশ্বাস পাবে এখানে  ?

সন্ধ্যা তবু জন্মপদ্ধতির ক্রিয়ায় উত্তেজিত হতে থাকে
আর উত্তেজনাগুলি সভ্যতার তরঙ্গ হয়ে অভিঘাত তোলে
দুঃখের জ্বর গায়ে কাঁপি
কাঁপতে কাঁপতে ঘোর বিস্ময়ের দিকে এগিয়ে যাই
নিজেকে বিমূর্ত মনে হয়
এক ছায়াময় অন্ধকারে ডুবে যেতে থাকি

আমার মনুষ্য চেতনার উপর
নেচে ওঠে যেন এক দুর্জয় ময়ূর....






সময় কিংবা পরবাস্তব

শনিবার এরপর রবিবার কি দ্রুত চলে যায়।সোম বুধ শুক্র কিংবা মাস বছর। যে ছিল কিশোরী একদিন তরুণী হলো ডাক দিয়েছিল ভ্রু পল্লবে সেও আজ বিগত কথা।ঝুলে পরা স্তন কেবলই অতীতের কথা কয়।দিন মাস বছর যায় আমি বসে আছি একটানা কতদিন। ঐ দেখ কে যায়? ছাতা মাথায় ঈষৎ কুঁজো হয়ে শুভাশিস অলক নাকি প্রদীপ।ওরা সব আমার সহপাঠী।বন্ধু।তবে এতো ভাঙাচূরা কেন। ঐ তো মনে হয় অলক।যে এক বলে তিনটি স্টাম্প উড়িয়ে দিয়েছিল।পাখির পালকের মতো নির্ভার।সে কেন কুঁজো হয়ে হেঁটে যাবে? না অন্য কেউ?সেই সব কিশোরী তরুণী তারাও তবে মনোপোজ শেষে হারিয়েছে ভ্রু পল্লবের অন্তিম মায়া কাজল।আমিই শুধু একা একা কালো ঘোড়ার পিঠে।কে জেন বলেছিল এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ নয়।আমি ইতরের দেশে থাকি।নবারুণ? নবারুণ আমার বন্ধু নয়।কবি। বন্ধু হওয়ার কথাও নয়।তবুও কত সহজে আমার কথাগুলি বলে গেছে।আমার কত আগে। ছাতা মাথায় কে যায়?মলয়দা? নাকি শুভাশিস? কিংবা জয়? টাক মাথা মুখে দাড়ি।নাকি অনিন্দ্য? রত্নদীপার স্বামী।এরা তো কেউ আমার বন্ধু নয়। তবে কী অলক? কেন আমি বসে আছি? একা একা ঘোড়ার পিঠে?হাজার বছর।

About