এই সংখ্যায় ২৫টি কবিতা । লিখেছেন - ইন্দ্রনীল সুমন চক্রবর্তী, চন্দন ঘোষ, পিনাকীপ্রসাদ চক্রবর্তী, অমিতাভ দাশ, তপন মন্ডল, সোনালী বেগম, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, আসমা চৌধুরী, সুবীর সরকার, রেজওয়ান তানিম, উদয় চক্রবর্তী, দেবাশিস সেনগুপ্ত, অরূপম মাইতি, অরুণ সেনগুপ্ত, চন্দনকৃষ্ণ পাল, কাজরী তিথি জামান, তাপসকিরণ রায়, বচন নকরেক, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, শাঁওলি দে, শিমুল হায়াৎ সৈকত, দীপঙ্কর বেরা , বৈশালী মল্লিক, সাগরিকা ঘোষ ও মৌসুমী মন্ডল ।

সব কবিতা পড়ুন । সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করুন


বিকেলের উপকথা  

ওইখানে সন্ধ্যা লেখা আছে
বিকেল কুড়িয়ে এনে ফুলের সাজিতে
উথলিয়ে সন্ধ্যা নামে, ধীরলয়ে,

এইভাবে শোক ভুলে যেতে যেতে
সভ্যতা বড় হয়, বুড়ো হয়,
মরে যায় আপন বিলাসে,

তেপান্তর পার কোনো রূপকথা দেশে
একদা মানুষ ছিল, মানুষের বেশে
কান্না ছিল, ক্রোধ ছিল, দ্রোহ আর ভালবাসাবাসি
এক হাঁড়ি সংসারী, যাপন-জীবন!

ওইখানে সন্ধ্যা লেখা আছে
বিকেল কুড়িয়ে এনে ফুলের সাঁজিতে
উথলিয়ে সন্ধ্যা নামে, ধীরলয়ে.....




হঠাৎ বৃষ্টির পর

হঠাৎ বৃষ্টির পর মনখারাপের টুং টাং।
অনেক জলের দেনা মাটির ফাটল খুঁজে নিলে
শিকড়ে শিকড়ে ওঠে তীব্র কলরব।
মাইকেল নগরে এক বেকার গীটার
বাসস্ট্যান্ডে, বন্ধুহীন, একাবোকা ভেজে ...

হঠাৎ বৃষ্টির গন্ধে তার স্বপ্নের স্টীমার ফেরে ঘাটে
বাতাসে শিমূল বীজ অক্ষর ছড়ায়
কবিতার জুড়িগাড়ি বিপুল শহরে
সমস্ত রাত্তির একা একা তার সাথে হাঁটে।



রিপোর্ট

প্রতিবেদন একটু একটু করে ভরে উঠছে

বিনিয়োগ কোথায় করেছি এই এ যাবৎ

আমানত যা ছিল,সম্পতির সাথে কি সমঞ্জস

কোনখানে কতটুকু ক্ষয়,অবচিতি দিয়ে ঢাকছি

কতটা প্রভিশন করেছি,উপস্থিত বেয়ারা দেনাদার--

এই সব ভাবি,সান্ধ্য আষাঢে মেঘ ঘন হতে দেখে

কি লাভ কি ক্ষতি, তোমাকে ধন্যবাদ জ্ঞাপনে ইতি টেনেছি



অকুন্ঠিত চাঁচাছোলা -- ভূভূজেলা

একটি আগ্নেয়গিরির তথ্যচিত্র তুলতে গেলে হয়তো দেখা যাবে
নিরক্ষর এক চাঁদের আলোতেই সে ছড়াচ্ছে তুমুল শব্দের অগ্ন্যুৎপাত ।

মানে, --সাবলীল সহজিয়া ঘাসের ঢাল ও একটা দুটো ঝরনাময়
স্নিগ্ধতাই আর
স্বল্প ধোঁয়া মাঝে মাঝে -- এমনইতো শুধু সে নয় --

গোলাবারুদময় আশ্চর্যদিনের ছাইও সচরাচর-নীল ঢাকে তো!
ঢাকে না তার ভাসমান দিনলিপি?

থাক, সেসব কথা নাহয় পরে হবে, -- স্টাফ রিপোর্টারের সুবিধার্থে
একটু মনকেমনি ভিজে স্টেশন -- একটু মেষপালকের শীস, --
হৃদয়অবাধ্য মেয়ে ওই তিসতার কথা -- এসব একটু বলি?

নাকি চিত্রসাংবাদিক ছবি তুলবেন জমাটি মেঘ ও নক্ষত্রপুঞ্জর?,

সেনশেনালিজম চাই একটু? পরোপকার?মথুরার বিধবাদের জন্য
হেমা মালিনীর ফিল্মস্কুল,অন্ধদের জন্য বিউটি পার্লার?

অঙ্কে শূন্য না পেয়েও মহাভারতের উপবাসপর্ব নিয়ে রিসারচ করছিলাম --
আপনিই তো বললেন তথ্যচিত্র তুলবেন আগ্নেয়গিরিটির।



বাবা

ঘরের কথা আর মনে পড়ে না তাই না
তোমার মাটির বাড়িতে আজ দারদালান
তোমার বিকলাঙ্গ পা আর বধির কান
যারা সমালোচনা করেছিল তারা আজ
এতদিন পর তোমার প্রশংসা করে গো
ঠিক যেন তোমার  ক্ষেতে কষ্টের ফসল
কিছুই কী জানতে ইচ্ছা করে না, দেখতে

মনে পড়ে না পাত থেকে খাবার তুলে দেওয়া
ছেলের কথা, তোমার কষ্টের সহধর্মিণীর কথা
তিলে তিলে গড়ে তোলা প্রাণের  সংসারের কথা
বিকলাঙ্গ পা নিয়ে দিনের পর দিন রাত একাকার
বড়ো করে তোলার স্বপ্ন নিজের স্বপ্ন ভেঙে ভেঙে
মনে পড়ে না তোমার ঘরের কথা

আজ অনেক কিছু বদলে গেছে, আমিও
সংসার পেতেছি,  বাবা হয়ে বুঝেছি বাবার কথা
তবে জানো তোমার নাতি এখন ওর পাত থেকে
আমায় খাবার তুলে দেয়, বাবা আমার মনে পড়ে
ঘরের কথা ।

About