এই সংখ্যায় ২৭টি কবিতা । লেখকসূচি - রত্নদীপা দে ঘোষ, শর্মিষ্ঠা ঘোষ, সৌমিত্র চক্রবর্তী, রেজা রহমান, মৌ মধুবন্তী, বিদিশা সরকার, শাশ্বতী সরকার, চিরশ্রী দেবনাথ, সুধাংশু চক্রবর্তী, নাজনীন খলিল, কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, পিনাকীপ্রসাদ চক্রবর্তী, পিয়ালী বসু, অরূপম মাইতি, বিজয় ঘোষ, রেজওয়ান তানিম, সোনালি ভট্টাচার্য মুখার্জী। কোয়েলী ঘোষ, রূপক সান্যাল, শিমুল হায়াৎ সৈকত, মৌসুমী মন্ডল, ইন্দ্রাণী সরকার, অর্পিতা রায় । 
              সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করে পড়ুন 



গত চার বছরের মত এবারও অন্যনিষাদ কবি-প্রণাম বিশেষ সংখ্যাপ্রকাশিত হবে ২২শে শ্রাবণ (৭ই অগষ্ট ) । যাদের কবিতায় অন্যনিষাদ সমৃদ্ধ হচ্ছে, যারা নিয়মিত কবিতা দিয়ে অন্যনিষাদের পথচলার সহযোগী, সেই সব শুভানুধ্যায়ীর কাছ থেকে কবিতা চাইছি কবিপ্রণাম সংখ্যার জন্য । অনুরোধ করি, কবিতা পাঠাবেন ৩রা অগষ্টের মধ্যে anyonishadgalpo@gmail.com এই ঠিকানায় । 
শুভেচ্ছা জানাই সকলকে ।


বিরহ

শূন্যতা এমন একটি অসুখ
কোনো পূর্ণই তাকে কলস করে না ,
কলসটি বাজে না
যেমন যে কোনো রম্ভাই
অপ্সরার লাল-হলুদ নয়
থোকা থোকা অহংকারী
ফুল শুধু ভুলের

যেমন বিরহীর চোখ
গানদেবীর অমৃতলোক
পিপাসার প্রদীপ জ্বলে ওঠে
তেষ্টাপানির গভীর থেকে
উঠে আসে বিষাদের জল

শুন্যতা এমন একটি অসুখ

যেমন অনন্ত দাহ
আগুনের আলো আর খাদ্য খুঁজেপেতে
বড় হয় আকারে আবদারে
কিন্তু কলসটি বাজে না

শুধু প্রবাহিত হয়ে যায় শিকড়ে ...


সেই লোকটা

আকৃতিবিহীন ঝুপড়ির তেলচিটে কালো বেঞ্চিতে বসে লোকটা
ভাত খাচ্ছিল।
আলুসেদ্ধ, ডাল আর চালকুমড়োর আধসেদ্ধ তরকারি
আবেগবর্জিত হয়ে চালান হয়ে যাচ্ছিল আগ্নেয়গহ্বরে।
শস্তা জিনসের শার্ট তেলকালি ময়লার কোলাজে অপরূপ
অয়েলপেন্টিং।
প্যান্টের অবস্থা তার চেয়েও খারাপ সময়ের চিহ্ন বয়ে নিয়ে হেঁটে
যাচ্ছে বছরের পর বছর।
ওপর আর নীচের দুই আব্রুতেই কুটিল ছেঁড়া উঁকি মেরে যাচ্ছে
ক্রমাগত ।
ভয়ংকর ময়লা সস্তার কোল্ডড্রিঙ্কের প্লাস্টিকের যে বোতলে জল
আছে সেই ছোট্ট থলি নিম্নাঙ্গ ছাড়াই দিব্যি বইছে জলভার।
লোকটা জল আনে কেন? সে তো পয়সার বিনিময়ে নির্মল জলের
সংজ্ঞা শোনেনি কখনো!
লোকটা জল আনে কেন? জলীয় বিবাদ তার চব্বিশ ঘন্টাই ছুঁয়ে
থাকে অপরা বিষাদে।
এক কামরার আট বাই দশের অ্যাসবেস্টসের ছাউনি আর অপুষ্ট
বউ খান দুই কর্পোরেশনের স্কুলের নাবাল বেড়ালিবাচ্চা
ছাড়াও এক তোরঙ্গ বিস্তর হাবিজাবি তিস্তাপাড়ের বৃত্তান্ত পেরিয়ে
রোজই নরম ভোরে উঠে শেয়ারিং পায়খানায় উবু হয়ে বসে সে।
ফুটপাতের সাড়ে পাঁচ দামী কালো দন্তমঞ্জন রগড়ে
দাঁতের ছাল চামড়া উঠে গেলে
সালফার মেশানো কমদামী গুঁড়ো চিনির শরবৎ চা খেয়েই দে দৌড়
দে দৌড় ...
একদিন রাস্তায় এক টিভি চ্যানেলিয়ান তাকে পাকড়াও করে
জিজ্ঞেস করেছিল, "আপকা রিলিজিয়ন কেয়া?"
লোকটা ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়েছিল।
বিরক্ত প্রশ্ন আবার ছিটকে এসেছিল, "আরে আপনি কি?"
লোকটা ফ্যালফ্যাল করে দেখেছিল।
লোকটা ঠাস্ করে মেরেছিল গালে বসা মশার বাচ্চা।
লোকটা গুটখার পিক পিচ করে ছিটিয়ে বলেছিল,
"ঠিকাদারী লেবার বাবু!"
ঝুপড়ির পার্লারী ত্বকবিহীন অন্ধ গর্তের ভেতরে তখন বেঞ্চিতে
নামগোত্রহীন জলের ময়লা বোতল।
হাপুস হুপুস শব্দে পরম তৃপ্তিতে একমনে আলুভাতে ডাল
চালকুমড়ো ভাত খেয়ে চলেছিল অচ্ছে অনাগরিক ভারতবর্ষ।


মাঝে মাঝে তব দেখা পাই

অচেনা মৃত্যুর পাশ দিয়ে দু একটা খইএর দানা মাড়িয়ে কর্মস্থলে
চলে যাই । অজান্তে একবুক অগ্রুগন্ধ নিয়ে ঢুকে পড়ি পল্যুশান
ধূলো আর জীবিত শব্দের পাওনাগন্ডায় । সামান্য দৃশ্যমান মাথা
তুলসীঢাকা চোখ তুলোগোঁজা নাককান আলতাপরা পা যতটুকু
বিচলন আনে অচিরেই ঢাকা পড়ে ফুল তালবাদ্য আর শোকের
মুখোশে । রুদালির দল পেরিয়ে যেতেই আকাশের দিকে তাকিয়ে
 হাঁফ ছাড়ি । নিজের জামাকাপড় পারফিউম প্রসাধন সব ঠিকঠাক
আছে দেখে চুপচাপ ভিড়ে যাই বাজারের ভিড়ে । প্রাণভরে নিঃশ্বাস
নিই বেঁচে থাকার । অনেকদিন বাদে হাপুশ হুপুশ ফুচকা খাই ।
ইলিশমাছ কিনি , দামে ঠকছি জেনেও । ফুল কিনে আনি
গুরুদেবের ছবির সামনে রাখবো বলে । বাচ্চারা কি কি বায়না
করছিল , অনেকদিন ধরে দিইনি যা , মনে করে করে কিনে আনি ।
বাড়ি ফিরে অনাবশ্যক সবঘরের আলো জ্বালিয়ে দি । স্নান করে
এক কাপ চা নিয়ে আয়েশ করে বসে গুনগুন করি "এত প্রেম আমি
কোথা পাবো নাথ , তোমারে হৃদয়ে রাখিতে / মাঝে মাঝে তব দেখা
পাই / চিরদিন কেন পাই না' ...

About