এই সংখ্যায় ২৭টি কবিতার লেখকসূচি - অভয় বর্মন রায়, চন্দন ঘোষ, অমিত গোস্বামী, তৈমুর খান, পিনাকীপ্রসাদ চক্রবর্তী, সপ্তাশ্ব ভৌমিক, হরপ্রসাদ রায়, দেবাশিষ মুখোপাধ্যায়, দিশারী মুখোপাধ্যায়, মোহম্মদ আনওয়ারুল কবীর, পৃথা রায়চৌধুরো, প্রণব বসু রায়, অঞ্জন বর্মন, প্রবন পালন চট্টোপাধ্যায়, বিবেকানন্দ দাস, গোপেশ দে, হিরণ্য হারুন, জেনিস আকতার, বৈশালী মল্লিক, শমিতা চট্টোপাধ্যায়, শাঁওলি দে, সাগরিকা ঘোষ, চন্দনকৃষ্ণ পাল, পলাশ পাল ও সুকান্ত পাল ।

       সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করে পড়ুন
আবাহন

একসাথে আয় ,
চল তো দেখি , আকাশ থেকে
মেঘ সরিয়ে ,
ছিনিয়ে আনি
আঁধার ভাঙা , জ্বলন্ত ওই -
লাল টুক টুক
সূর্য্য খানা ।
সমাজ ঢাকা , ঘোর কুয়াশায় ,
আয়  , নিজেরাই হই  দধীচি !
শরীর থেকে  অস্থি খুলে ,
আচমকা দেই
বজ্র হানা ।
আয়তো দেখি , দুরন্ত সব
সজীব প্রাণের
ছেলের দল ,
ভেদাভেদের ভাঙ্গতে পাচিল ,
তোরা ই হবি
জাতির বল ।

আয়তো দেখি , হার না মানা ,
উষ্ণ  খুনের -
তরুণ দল ,
শির উচিয়ে , বক্ষেতে ধর
মত্ত হাতীর
অসীম বল ।

মায়ের দেহ খাচ্ছে ছিড়ে ,
রক্তলিপ্সু
পশুর দল ।
একসাথে আয় , সমাজ গড়ি ।
মোছাই মায়ের
অশ্রুজল ।

তোদের চোখেই জ্বলবে আগুন  ,
জয় করেছিস
মৃত্যুভয় ।
আঁধার মুছে আনবি তোরাই ,
নতুন দিনের

সূর্য্যোদয় ।।
আরশিনগর

আদর্শ সেলুনের আয়না বলে দিচ্ছে
কতটা ক্লান্ত তুমি,
কতখানি বুড়িয়ে গিয়েছ।
চারপাশে আলোর বুদবুদ, চারপাশে শব্দের মেহফিল;
উজ্জ্বল মুখের স্রোত পাক খাচ্ছে রাস্তায় রাস্তায়,
যুবক থাকার এই প্রাণান্ত কসরত
নিতান্তই ধ্বসে যাচ্ছে সেনসেক্সের মতো।

এবার নদীর কাছে চলো।
সে তোমার গুপ্তধন গচ্ছিত রেখেছে,
সে তোমার ক্ষতগুলি গচ্ছিত রেখেছে,
সে ক্ষতে কবিতা হয়ে ভোরের শিশির জমে আছে।

এবার গাছের কাছে চলো।
গহীন মায়ের মতো ছায়াময় কাঁঠালের গাছ,
সে ছায়ায় কতদিন অপেক্ষায় আছে
তোমার লাটাই, চাঁদিয়াল।
রঙীন মার্বেল হাতে তোমার অবাধ্য ছেলেবেলা।

আয়না তো শুধু অভিমানী  বলিরেখা ধরে,
আয়না তো শুধু চোখের কালির বৃত্ত ধরে,
সোনার কৌটোয় রাখা,
সে, তোমার প্রাণ ভোমরাটি,
কোনোদিন ধরতেই পারবে না।
সালাম ৩০ শে অগাস্ট
( ১৯৭১ এ ঢাকায় কিছু মুক্তিযোদ্ধাদের পাক সেনারা তুলে নিয়ে যায়। তাদের লাশ পাওয়া যায় নি। তাদের  স্মরণে কবিতাটি )


বাঁধ না মানা চিতার হাওয়া এমন দামাল
এক লহমায় রাঙা মশাল জ্বালায় দেশে,
হাওয়া থেকে ঘুমিয়ে থাকা প্রচন্ড ঝড়
উড়িয়ে দিল পুড়িয়ে বাধা এক নিমেষে।

রক্তনদী কানায় কানায় উথাল পাথাল
দেখে মানুষ - একটি মানুষ এগিয়ে ছিল,
আঁচল টানে সাজানো ঘর পিছন ফেলে
বারুদ মালায় শত্রু শিবির জ্বালিয়ে দিল।

উপোস থেকে ইচ্ছেসুখের লাল আগুনে
ঝাঁপ দিলে তো পুড়বে পালক বাতাস চিরে,
অগাস্ট মাসে শেষের আগের সায়ংকালে
হারিয়ে গেলেন স্বাধীনতার নিখাদ হীরে।

সূর্য থেকে সন্ধ্যা ঝরে বাঘের চোখে
কষ্ট লুটায় সব চলে যায় মানুষ জনা,
ক্র্যাকপ্লাটুনের বীর সেনানী অগাস্ট শোকে

নিজের চোখে জ্বালাই বাঘের অগ্নিকনা।
আরব্য রজনী

আমাকে সামান্য ভেবে
তুমি অসামান্য হয়ে গেছ
যেখানে কোনোদিন পড়ে নিকো আলো
সেইখানে আমাকে রেখেছ  ।
পেঁচারা উড়ছে চারিদিকে
ক্রতুভুক মহারব তোলে
ছিন্নসত্তার জাগরণ টের পাই
তুমি সমুদ্র পেরিয়ে কোথাও চলে গেছ...

পৃথিবীর বহু অন্যমনস্ক দরোজা দেখি
কোথাও আমার নিমন্ত্রণ নেই
অথচ এক একটি দীর্ঘ গল্পের রাত
যুবতীরা বলে যাচ্ছে এক একটি কাহিনি

আমি তবে কেন জন্মালাম  ?
আমার পুরুষইচ্ছাগুলি খোঁজে তরবারি  !

আশ্চর্য জাদুকর

জাদুকর ডাকছে
আর উড়ে উড়ে আসছে সব মনুষ্যপাখি
তাদের মসৃণ ঠোঁট রঙধনু ডানা
ঠোঁটে ঠোঁটে চুম্বনের মধু ডানায় রঙের আল্পনা

আমাদের বিস্ময়ের পাড়া
আমাদের অলৌকিক দেশ
বেদনায় বিহ্বল হতে হতে
অশ্রুজলে নৌকা ভাসাই

জাদুকর একহাতে আপেল ছুঁড়ে দেয়
একহাতে সোনার আংটি পরিয়ে দেয়
চুম্বনের ঘোর মেঘে ঢেকে দেয় সংসার



আঁশ

দাঁড়িয়ে রইলে কিছুই পাও না
ডোবানোর জল কই--

মৌসুমী বৃষ্টি
জীবনের মতোই--
পূর্বাভাসহীন

ডুবিয়ে দিলে আঁশ ছাড়া হই
আঁশেই যত মূল্য

দাঁড়িয়েই থাকি, এ দেশে মৌসুমী বৃষ্টি --


নীলকমল – লাল কমল

নীলকমল আর লালকমল তেপান্তরের মাঠে

গোলক-ধাঁধার অলীক পথে অলস পায়ে হাঁটে!

ব্যাঙ্গমা নেই ব্যাঙ্গমী নেই

উধাও ঘোড়া অন্ধকারেই

নটে গাছটি তলিয়ে গেছে ইচ্ছে নদীর ঘাটে


যাজক

এ সময়ে হাহুতাশ ছাড়া
দেবার কিচ্ছুটি নেই সত্যি সত্যিকারে;  
সে আমি যতই বলি 
নৈবেদ্যে ভরিয়ে দেব অষ্ট উপাচার ।
তুমি তো যাচক নও
তাই তুমি অনায়াসে বেছে নিতে পারো
ভ্রু কুঞ্চন অথবা উন্নতি,
উচ্ছ্বসিত আশীর্বাদী হাত, 
ইচ্ছে মত লিখে দিতে পারো সব ষোড়শ উপাঙ্গ ।       
এ কথা তুমিও জান   
যাজকের ফর্দমালা
শূন্যহীন শুভ-লাভে শুরু
ক্রমাঙ্কেও শূন্যতা বিহীন  ।   
 
সে সব উদ্বৃত্ত কথা তোলা থাক আজ; 
তার থেকে এই দেখ সাজিয়ে রেখেছি
সমস্ত দিনের প্রাপ্তি ফতুয়ায় দাগে
কপালে ভাগ্যের ভাঙা রৈখিক রহস্য  
সারাটা মেঝের বর্তে    
ছড়ানো ছেটানো কিছু কবিতার পাতা
কুলুঙের অধিকারে মধ্যবিত্ত আলো
মাকড়ীর জালে ঢাকা
সাবেকের জমে থাকা অলীক বিশ্বাস;    

আর সব শেষে নিঃশেষ ভাঁড়ারে কিছু মূষিক বিলাস। 

জানি তুমি পড়ে নেবে এর থেকে বেশী কিছু কথা অনায়াসে
স্পষ্ট করে বলে দেবে কোন দিকে ভাগ্য আর
কোন দিকে ভাগের নিকেশ ।

আচমন শুদ্ধতা ছোঁয়াবে  
সংকল্পে নিশ্চিত হব অস্তিত্বকে উচ্চারণ করে
তারপর অনিবার্য সাঁকোর সন্ধানে
অস্ফুট দুর্বোধ্য কথা অনুকার শেষ হলে  
তর্পণের নিবেদনে
নির্দ্বিধায় মেখে নেব অনন্ত নিঃশেষ ।
 
প্রণামে প্রমাণহীন রয়ে যাবে হয়তবা অনীহার লেশ

তুমিই শুনিয়ে দিও পুনর্ভব উপকথা 
যজ্ঞের বিশেষ। 



অক্ষর লিপি

ঈশ্বর । রঙহীন । নখদাঁতযুক্ত বিড়াল । লয় আর সৃষ্টি নিয়ে হাই তোলে 
আবার ঘুমিয়ে পড়ে

পড়ন্তবেলায় ।  বেলা নামের মেয়েটি ।
মেয়ে থাকে না । ঠেলা চালিয়ে পেট
শান্ত করে আর ফিরিয়ে আনে হাসি

সীমা আকাশ পায়না । নাক মুখ চোখ পুকুর পায় । পায়ের কাদা পা নি
ধুয়ে লিখে রাখে একটা অচেনা দ্বীপের হারিয়ে যাওয়া

আর বৃষ্টি না পড়লে নুইয়ে পড়ে গাছ । ছন্দ ভুল পাতা ছিঁড়ে পড়লে
মাটি তাকে নৌকা হতে দেয় না


নাইতে নাইতে দেখি কখন মেঘ তুলে নেয় জবাকুসুমসঙ্কাশং
আচার্যের আশ্বাস

আমার সব রকমের সংযোগ কেটে দেওয়া হচ্ছে 
কারণ আমি সংযোগগুলোকে আর একটু সংবেদনশীল করতে চেয়েছিলাম
 
আমি চাইনি একটা রাস্তা একজন পথিককে অন্য রাস্তায় পৌঁছে দিয়েই ঘরে ফিরে আসুক
 
আমি চেয়েছিলাম আলো অন্ধকারকে ভক্ষণ না করে তার ফিলামেন্ট গুলোর রিপেয়ার করুক
 
যে মানুষটা কষ্ট পেতে পেতে পচা কুমড়োর মত ফেলা যাচ্ছে তার বীজগুলো সংগ্রহ করা হোক
 
আমি চেয়েছিলাম
 
সমস্ত রস নিংড়ে নেওয়া খেজুর গাছগুলোর সাংবিধানিক মিউজিয়াম হোক
 
তাই কি আমার সব সংযোগ কেটে দেওয়া হচ্ছে
আচার্য জগদীশ চন্দ্র বসু 
আমার নীরব আর্তনাদ শুনতে পেয়েছেন
 
তিনি আবার গবেষণায় মগ্ন হয়েছেন
 
সংযোগ বিহীনতার একটি সংযোগ তিনি আবিষ্কার করবেন
 
এবং তাতে অ্যান্টিকর্পোরেট সিস্টেম অপশন রাখবেন অতি অবশ্যই
 
তিনি আমার মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ করেছেন
 
রাস্তা ,আলো এবং সংবিধান -- এ সবই তাদের আপন আপন ওয়্যারকে আপডেট করবে আর মিতালি অক্ষুণ্ণ রাখবে জলের সঙ্গে


 ছন্দহীন ছন্দ

ছন্দপতনেও ছন্দ পেয়ে যায় জীবনপ্রপাত।
অষ্টক পূরণের ধান্ধা -
নারীর বাঁকে আলো ফেলে দেখ
অক্ষরবৃত্ত, মাত্রাবৃত্ত, পয়ার কিংবা অন্যকিছু
অরবিটচ্যুত ইলেক্ট্রন নেচে নেচে চলে।
ছন্দহীন ছন্দই জীবনের ঘ্রাণ।


অপেক্ষা

লতাতে লতাতে অপেক্ষাপ্রহর ছুঁয়েছে আকাশ
গাছপাথর হয়ে আছি বসে -

ডাকবাক্সে ভুল করেও ফেলে না কেউ চিঠি
বুকের বোতাম খুলে কী যে নিয়ে গেলে তুমি
সেই থেকে অপেক্ষা আমার।






-ঘোরময়ীর পশ্চাৎমুখী বিবর্তন

পাতা খুলে খুলে আলগা হয়েছে বাঁধন
কিছু ছেঁড়া ঠিকানাহীন নিরুদ্দেশ...
খুঁজি না;

ঘুমোতে লাগে নেশা ধূপগন্ধী... ভুল হয় না
কুৎসিত মন চাই একবার, ঘোর কুচক্রী
ভণ্ডামির চরমে অট্টহাস করতে চাই...
এই গো মানুষেরা, তোমাদের মতো হয়েছি,
হয়েছি  এবার?

নাড়ির হাতছানি আসুক, ফিরে আয়...
আয় বেঁধে ফেলি ফিরে শেকড়, রক্তনালী জুড়ে  জুড়ে
বহু অন্ধকার পার হয়ে ফিরে যাই বয়েসের ফিরতি ছুটে
আলো  আলো ভেজা উৎসে

এগিয়ে আসুক অ-প্রাণ দিনরাত।
আমাদের কথা

আমাদের ঘর বাড়ি নেই, আছে শুধু
হাওয়ার মহল...
সে মহলে দেয়াল নেই, তাই নেই
পর্দা-বিভেদ।
আমাদের অবসরে দুটি পাখি
ঝগড়া থামায়,
আমাদের সম্ভোগে, খুশির টুকরোগুলি
রেণু রেণু ঝরে...
আমাদের আদিম কথা তো ছিল না কখনও
তাই দেখি অনায়াসে কীর্তনে মিশে যাই

ধর্মমঙ্গলের কথা মনেও পড়ে না

আমাদের চলাচল দীর্ঘ গভীরে ঢুকে যায়--
মেখলা বাতাস

এত কাঁটাতার বহুভুজ হয়ে আছে
কাকে যে খুলবো, কিভাবে কাটবো বোঝা দায়
পান্ডুলিপিরা ফ্যাকাসে স্বপ্নে ভাসে
তখনি বন্ধু গান গেয়ে গেল মজ্জায়
         
সেই অংকে কাঁটাতার হবে খুলতে
কালোরেখা আজ প্লাবন মাখলো দরিয়ায়
পরিযায়ী পাখী চাইছে বাসা বাঁধতে
সর্পিল ফেনা নীল তিমিদের দরজায় ।


অসফল সঙ্গমের ইতিকথা

আর তখন বুকের গভীরে- জমাট বাঁধা অন্ধকারে
জীর্ণ সাঁকোটি ভেঙে গেলে কুয়াশার ভারে
আমি দেখেছি, করুন মৃত্যুকে হাসতে কৌতুকে!
যা কিছু আলো ছিলো এই পৃথিবীর-
একদিন তাদের আমি ওইখানে দেখেছি,
যা কিছু সুগন্ধ জীবনের বোধকে শেখায়-
ওইখানে তার পাঠশালার দুয়ার দেখেছি আমি,
ওইখানে নদী বয়ে যায়, ঝর্নারা এসে সাগরে মেশে-
ওইখানে পাখিরা গান গায়, ওইখানে পাহাড়েরা হাসে,
ওইখানে রাত নেমে এলে চুপিসারে কান্নারা জমে-
ওইখানে ঘাসের ডগায় নিঃশব্দে মুগ্ধ শিশিরেরা নামে,
আহা্, কত জল-! জিওল কি বাঁচে তবু--!
তুলসীর মঞ্জরীতে প্রদীপের শিখার উত্তাপ
লাগে আচম্বিতে বুঝি কভু-!
কলমি, হেলেঞ্চার ডগায়- শিনশিনে হাওয়া বয়ে যায়,
ওইখানে তবু বুঝি ভালো-মন্দ, প্রেম-অপ্রেমের স্মৃতিরা লুকায়!

আমি ঘুম থেকে উঠে দেখি আজ
আমার মৃত্যুরা বসে- ঠিক ওইখানে,
অকাতর ঘৃণা নিয়ে - বিদ্রুপে, কৌতুকে !
অন্ধকারে হাতড়ে খুঁজি- তবু কার মুখ,
তবু কার হাতজোড়া ছোঁওয়ার আশায়
আমার হস্তেরা ক্ষমা মাগে-,
আর ছলছল চক্ষু গুঞ্জন তোলে-
নীরব বুকের যন্ত্রণায়-!
তিমির অতলে তলিয়ে যেতেযেতে
আমি বুঝি সে আকুল নির্বাক আর্তনাদ!
নিরাশার মুঠো খোলা হাতে দেখি বাঁধন ছিঁড়েছে হতাশ একতারাটি-
সম্পর্কগুলো অদৃশ্য হাতে কারা যেনো
মুছে দিয়ে যায় ক্রূর হাসিতে-!
আমার মৃত্যুর বেলায়- বুকের ভিতরে
আরেক মৃত্যু এসে- লিখে যায় আরেকটি
অসহায়, অসমাপ্ত, অসফল সঙ্গমের ইতিকথা-!!


নিয়ন আলোয় স্নান

আমি একগ্লাস নিয়নের আলো খেতে
চাই
এখানে প্রতিটি রাস্তার মলাট
নিয়নের ভালবাসায় মুগ্ধ।
ঝলসিত হয়ে যায় প্রতিটি
রাতবিরেতে হাঁটা-
অগুনতি পথিকগুলো আর স্থির
ঝাউগাছগুলো
বেশ ভাল অতি মনোরম এই দৃশ্যে সব
ঢাকা পড়ে।
নিজেকে বড়ই অচেনা লাগে এই নিয়ন
আলোয় স্নান করে।
সবার লাগে কি!
লাগে হয়তবা।
এখানে সুপ্ত মনগুলো
লুপ্ত হয়ে থাকে
এখানে সেখানে
কালিঝুলিমাখা কোনো
আস্তিন আদলে
ফুটপাতে
রাস্তাবাসী,পঙ্গপাল,বাউন্ডুলেদের।
রাত্রিবেলা নিয়নের ধোঁয়ার
নিকটে
হেঁটে গেলে
বেসুরো গলায় গীটারের গান আসে
জীবনমুখী মনোরম।
আর....
ঘরমুখো মানুষের পায়ের শব্দ নিতে
নিতে আমার ভেতরে
কত স্বপ্ন উঁকি দেয়!
স্বপ্ন দেখে যাই আমি একা একা
এই পথিক নীরবে
তিনশ বছরের ধূলি ধূসরিত এই
সিমেন্টের জঙ্গলে।


জাগ্রত মানব ও ঈশ্বরের শীতনিদ্রা 



শাশ্বত সত্যের উলুধ্বনিপুনর্জন্মে মুছে যায় কি বিশ্বাস?
কত উপমা,কত ছন্দ হারিয়ে যায় অনন্তের দিকেজলের মগ্নতায়।


অগ্রগামীর পথে উষ্ণ বাতাসে, যাদের নিশ্বাস ঝলমল করে
মহীতে কি নিভে গেছে ব্রুনোর জ্যামিতিক আভা?
ঈশ্বর কি ভুলে গেছে গত শীতনিদ্রায় দেখা হাইপাতিয়ার গাত্র।
অব্যয় সত্যের স্মরণকালে মিথ্যা আত্মশুদ্ধির উৎসবে,
হেরাক্লিতাসের নিবার্সিত হাসিতে কোপার্নিকাস দৌড়ে এসে
 দ্য রেভোলিউশনিবাস চেপে ধরে মুখে.....


দুঃখশিল্প

তোমাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে কেটেছে সারারাত
তোমার সমুদ্রে ডুব সাঁতার কেটে দেখেছি দুঃখের দিনে
মুষড়ে পড়লে শোকে , ভালোবেসে বাড়িয়ে দিয়েছো হাত
হেঁটেছি সে হাত ধরে আমি জীবনের আঁকাবাঁকা পথ চিনে চিনে
দুঃখের সকালে কতদিন নিঝুম তোমার হৃদয় গাংপাড়ে
কুমিরের মত কাঠ হয়ে পড়ে থেকে পোহায়েছি প্রেম রোদ
জীবনের মাঝরাতে কষ্টের ক্যান্সার ছড়িয়ে পড়ল হাড়ে হাড়ে
অব্যর্থ দাওয়ার মত দিয়েছো রতিতে ঢেলে
                                               তুমি রোদেলা দরদ
তবুও মেলেনি সুখ , তবুও মেলে না হায়
                                              কবির কষ্টের উপশম
এক ব্যথা সেরে গেলে অন্য ব্যথা করে উঠে
                                             বুকের ভেতর চিনচিন
এক মৃত্য পার হলে অন্য মৃত্যু হাতে নিয়ে পেছনে দাঁড়ায়
এক ক্ষুধা দূর হলে অন্য এক ক্ষুধা এসে
                                     করে রাখে জীবন সঙ্গীন
তোমাকে নিয়ে ভাবতে ভাবতে কেটেছে রাত
এক সুখে ঠান্ডা হলে অন্য এক দুঃখানলে

পুড়ে গেছে হাত ।
প্রতারক

মনের মধ্যে কিছু না বলা কথারা বাসা বাঁধে রোজ
দূর দূর করে তাড়িয়ে বলি যা
এমন বলিস না ,
অনেক পাপ নামক পুণ্য আমাকে নিয়ত ব্যাঙ্গ করে
অজস্র যন্ত্রণায় আমি শুধু ভালবাসার কথা বলি ,
লোকে বলে প্রতারক ।
আকাশের সীমানা মাপতে গিয়ে
প্রচণ্ড জ্বর আসে ,
জানলার কাঁচে জমে থাকে বিন্ধু বিন্দু া না পাওয়া ।
কেন জানিনা নিয়তি আমার দিকে একমনে তাকিয়ে থাকে
আমি প্রেমে পড়ি বার বার ।
ঐশ্বরিক প্রেম হয়ত বা !
যেমন কাল ওই সুন্দর নিষ্পাপ শিশু টির দিকে বার বার চেয়েছিলাম
ইচ্ছা করছিল ভালবাসি
কাছে টানি
অলীক চুম্বন করি
আমি শুধু ভালবাসার কথা বলি
লোকে বলে প্রতারক ।


আমার তুমি

তোমার হাত ধরে লিখেছিলাম
আমার প্রথম কবিতা----
তোমায় ভালবেসে সাজিয়েছিলাম,
আমার স্বপ্নের দেশ।
তোমায় কাছে পেয়ে বেঁধেছিলাম
কল্পনায় সাজানো আমাদের কুসুম-কুঞ্জ।
তোমার আমার মনের কথামালায় গেঁথেছিলাম
আমার পুজার অর্ঘ্য।
তোমার সঙ্গ , আনন্দের ভোরে আলপনা এঁকে ছিল
আমার জীবনের নতুন সূর্য ওঠা
আবীর রঙের আকাশে-----
আকাশ ভরা তারায় লেখাছিল
তোমার আমার কাব্য গ্রন্থ।

আজ এল শ্রাবণ -সন্ধ্যা---
আঁধার হল আকাশ,
অবিরত
  ঝরেছে বারিধারা
ভেসে গেছে স্বপ্নের সেই দেশ
অজানা সুদুরে।
প্রবল বর্ষণে তলিয়ে যাচ্ছে
কল্পনার মায়াজাল---
অবাধ্য স্রোতে হারিয়ে যাচ্ছে
শব্দের কথামালা------
নিস্তব্ধ রাত্রির  মাঝে।


About