এই সংখ্যার লেখকসূচি - সৈকত বন্দ্যোপাধ্যায়, অরিন্দম চন্দ, নাজনীন খলিল, মিলি মুখার্জী, তৈমুর খান, ফারহানা খানম, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, অনুপ দত্ত, বিদিশা সরকার, অমিত সরকার, শশাঙ্কশেখর পাল, নন্দিনী পাল, সুবীর সরকার, সতীশ বশ্বাস, বর্ণালী সেন ভট্টাচার্য, চৈতালী গোস্বামী, রাজীব ভট্টাচার্য, শাঁওলি দে, তপন মন্ডল, রূপক সান্যাল, সোমা দে, মৌ দাশগুপ্ত, নীহার চক্রবর্তী, নিবেদিতা পূণ্যি, হাসান মেহেদী, মামুদ নজির, জয় ভাদুড়ী ।

             সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করুন
ফিদেল

তর্জনী তুলেছ তুমি

মৃত্যুর সম্মুখে

বোবা ঈশ্বর ভয়ে দুরুদুরু

                   তোমার বিপরীতে

ফিদেল 'তুমি চলে গেলে

বলে

মোচড় বুকে বুকে

তবুও তুমি স্বপ্নে সামিল

নিশ্চুপ  রক্তপাতে !!
স্মরণসভা

সভা জুড়ে শুধু সাদা সাদা মাথা,
শোকসভাতেও বুঝি বুড়োদেরই আজ
একছত্র অধিকার।
একে একে নাম ডাকা,
রজনীগন্ধার মালা হাতে এক,
স্লোগানে আরও এক,
কাঁপা-কাঁপা হাত সব
সেলাম জানায়,সমকোণ ভাঙ্গে বারবার-
স্তুপীকৃত মালা হাত বদলে ফিরে ফিরে আসে।

কথা হয় শুরু,উঠে আসে একাল সেকাল,
মৃতের যা কিছু কাজ
এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে সবাই বলে,
কিন্তু কোথায়?
কথারা ফিরে ফিরে আসে,
অচল টাকার মত সময় গড়ায়
মাথা কমে,একে একে।

সবাই একদিন স্বপ্ন দেখেছিল,
রাস্তা ছিল,আশা ছিল,কথা ছিল।
সবকিছু মরে গিয়ে এখন
শুধু কথারাই বেঁচে আছে,
কথারাই ফিরে ফিরে আসে-
স্বপ্ন আসে না,রাস্তা আসে না,আশা আসে না।
আবার ফিরে আসবো, সাগর

সমুদ্র এমন গোঙায় কেন সারারাত
সেকি আরিথিউসার অপমানের কান্না?

প্রবল জলের ভেতর সূর্যাস্তের আকাশ
কেমন নি:শেষে ঢেলে দেয় তার সোনার থালা ;
সমুদ্রে।
নিস্তব্ধ দাঁড়িয়ে থাকি সৈকতে
সামুদ্রিক পাখি আর ঈগলের চিরায়ত প্রতিশোধ প্রতিশোধ খেলা দেখি।
সাগরের বুকের গহনে খুঁজি আরেক আকাশ।
অস্থির ঢেউগুলো দেখতে দিলোনা।
কতোবার!
কতোবার!
ফিরে গেছি।


জলধির কী যে টান ধীবরেরা জানে।
বড় বিপন্ন আজ হৃদয়

মাধবীলতার ঝোপ ভেঙে যায়
বেপরোয়া চাঁদ আকাশে গড়ায়
বুকের ভিতর গেরস্থালি
বৃথাই বুঝি আগুন জালি
বড় বিপন্ন আজ হৃদয়
বড় বিপন্ন আজ হৃদয়.....।

বোকা মানুষের ভালোবাসাহীন
জীবন নিয়ে স্বপ্ন দেখা
যেন চন্দ্রমানবী আঁচল পেতেছে স্বপ্ন
কুড়াবে,প্রাণের সখা ।
সোনার কাঠি,রুপোর কাঠি
হারিয়ে গিয়েছে ,নেই রূপ কথা ।
বড় বিপন্ন আজ হৃদয়
বড় বিপন্ন আজ হৃদয়......।


আমরা ভিক্ষুক হয়ে দাঁড়িয়ে আছি
  
নতুন রাস্তায় আলো জ্বলে গেছে
সভ্যতা এগিয়ে যাচ্ছে

আমরা ভিক্ষুক হয়ে দাঁড়িয়ে আছি
জল পান করার ইচ্ছা গড়িয়ে দিচ্ছি
আমরা স্যালুট জানাচ্ছি

সভ্যতা আলোর সামনেই সব পোশাক খুলে ফেলছে
সভ্যতা আলোর সামনেই সব অন্ধকারের কথা বলছে

আমরা লজ্জা গড়িয়ে দিচ্ছি
আমরা নীরবতা গড়িয়ে দিচ্ছি


মেঘ

কতকাল একফালি জেদী মেঘ ঠায়
দাঁড়িয়ে ছিল আমার কার্নিশে।
কতো রোদ এলো গেলো বৃষ্টি ঝরেনি তাতে;
বর্ষণে উন্মুখ নয় ছিলনা ঐশ্বর্য দীপ্তি।
চৈত্র -চৌচির মেঘের ফাঁকে
ঝকঝকে নীলাকাশ! অচেনা অবুঝ!!
জীবনের পুঞ্জীভূত কষ্টের আড়ালে
অজুত নক্ষত্র আলো।

মেঘের ছায়ায় দাঁড়িয়ে কতবার আমি
নিজেকে ভেবেছি ...
তার বুকে কান্না দেখেছি ,পড়েছি বর্ষার
কথকথা ।

আজ হঠাৎ
উত্তুরে হাওয়ায় সে চলে গেল...
শুন্য কার্নিশে ঝুলে মন-খারাপি উষ্ণতা
যেন বলে গেল ছিলাম কখনো তোমারও ?
চন্ডালনামা

শব্দের শব জ্বালাতে জ্বালাতে চন্ডাল
ফিরে আসি নিজস্ব চিড়িয়া ঘরে
দহনের পরে কান্না আনতে গিয়ে দেখি পড়ে আছে শুখা ভূমি আর মৃত ছাই
দূষণের ভিতরে কবে ঢুকে নিজেই নরক
নরকঙ্কালের পাশে সেই কবে থেকে শুয়ে
রাস্তা কখনোই সরল নয় ভেবে নিতে হয়
কিছু বাঁক ও বিপদ ক্ষুধার্ত বাঘ
পালালেও ধরা পড়ে যাই আর এরেনায় ছুঁড়ে দেওয়া হয় পাহারা বসিয়ে
জড়ভরতের উপাখ্যান এখানে সম্ভব নয়
লড়াই ছেড়ে দিলে শূন্য হাতের অপমান
ভস্মের ভিতর একটি আগুন পাখির
জন্ম শেলীর কলমে ফের উসকে দেয়
উড়ানের ইচ্ছেকুসুম
একুশ বসন্ত পেরিয়ে..বেলা পড়ে যায়

তুমি যদি আমায় না রাখো কাছে ৷ না রেখো !
দেখি মনে প্রানে তোমার ছায়া রেখে ঘরে
একা বেঁচে থাকতে পারি কী না ?

একা জীবনের দাম তো বেশী নয়
তুমি সাথে থাকলে দোসর হতাম
ভিন্ন কথা বলা বুলবুল,  জোড়া শালিকের মতো ৷
ছায়া তো নিলাম হয় না..আর
ছায়ার যে কি দাম তাও জানি না ৷

একুশ বছর কুয়াশা বিবাহ বাসরের কিছু নেই
কিছুই তো নেই!
অন্ধকার সমাস হয়ে জড়িয়েছে বেদনা ৷
বেদনাবিভাসশোকপাপীতাপী চেঁচিয়ে বলেছে
ও পৃথিবী তুমি কি একাই ধর্ষন দায়িত্ব নিয়েছো ?
কুয়াশা বিবাহ যে একবার রোজ ক্ষয়ে যাওয়া ধর্ষন
সে তুমি জানো!
না হলে একুশ বসন্ত কূয়াশা আবেগে নিঃশব্দ সহবাসে
সবেগ মিলনের একপেশী আকাঙ্খা কি পরিমিত ধর্ষণ নয় ?

কিছু নেই কিছুই তো নেই !
মন পড়ে আছেমন সেখানে নেই
উলঙ্গতা যেখানে সেজেছেমনের ভেতর
কাপড় প্রাচুর্য্য শরীর জড়িয়ে ফুলটুসি সাজে ৷

দ্যাখো এতো যে কথা বলা
সে তো তোমারই জন্যজেনে যাওজেনে যাও
একান্ত ভাবে জেনে যাও
তোমাকে ছায়া করে, ঘরে রেখে খিল দিলে
সংসার উন্মুক্ত খোলা বেদ হয়ে যায় ৷

কিছু নেই কিছুই তো নেই !
কিছু থাকে না কোথাও
একুশ কুয়াশা বসন্ত পেরিয়ে..বেলা পড়ে যায় ৷
পতিগৃহে যাত্রা

কাল ফিরে যাচ্ছি
অবশ্য রাত বারোটা'র পরেই তো আজ --
আজ আর কালে'র মাঝখানে
রাতের ভূমিকা বিষয়ে একটা স্পেস বার আঙুলের স্পর্শ বিষয়ে
খানিকটা উদাসীন

ফেরার হব না বলেই তো ফেরা
সব বুদবুদ বিষন্নতা নিয়েই অনিচ্ছাকৃত
ডানা ভারি হয়ে আসা পাখির বিছানায় কলতলা যেচে আসে
সাবানের ছিটে লাগা চোখে
লুকানো কান্নার না-কথারা
সঙ্গে নিয়ে যাবো

পরিমিত হতে হতে বারূদের সঙ্কুলানে.....
বাকিটুকু থাক
ফেরা থেকে ফিরে যাওয়ার ফারাক বা বুদবুদ
একলা ঘরে আয়নাকেই
কবিতা যেমন
নিষেধ রঙের নীরবতা


নিখিল,একটু দাঁড়াবে?যাচ্ছো কোথায় ?
তোমার  ঘড়িটা তো ধ্রুবতারার মতো 
থমকে আছে টের পাচ্ছো না?
অন্ধ সময় নিয়ে রাত চেনা যায় না, নিখিল
আরে ? কার সাথে কথা বলছি?
কেউ তো নেই ! ঐ তো সাদা ঘোড়া
বুঝেছি বুঝেছি
  বুঝেছি ঢের
নিষেধ রঙের নীরবতা
টানছে আমায় মাটির জঠর
আমি আসছি মা
তুমি আমায় আবার রাত পড়াবে?

কিন্তু মাঘোড়াকে কি লাগাম দিয়ে আসবো ?
না  না  না  মা
   সেই কবে তুমি সূর্য  শিখিয়েছিলে
রাত  শিখিয়েছে সাদা ঘোড়া আমরা দু'জনেই  আসছি মা
তোমার প্রবীন উষ্ণ অন্ধকারে
দশ  মাসের  বেশি রেখো না মা
সময়ের পায়ের শব্দ আর প্রতিধ্বনির কাছে 
যমজ 
আমরা আবার খড়ম পায়ে হাঁটবো
মিথ্যে মিথ্যেরা


প্যাসেঞ্জার ট্রেন চলে গেলে কি কষ্ট
এ প্ল্যাটফর্ম থেক হলদিবাড়ি যেতিস রোজ
স্টলে দাঁড়িয়ে কাগজ বা ম্যাগাজিন কিনেছিস হঠাৎ
কচিৎ কথায় জেনেছিলাম সেই নকলবাজ ছাত্রটির শাসানি
অভয়ের দিলেও সেই ভয়কাঁটা তোর বুকে আজও বিঁধে


সেদিন খুব সুন্দরী লাগছিল তোকে
শান্তিনিকেতনি ব্যাগ থেকে কটা ম্যাগাজিন তুলে দিলি
ক্লিপে ঝুলিয়ে রাখবেন যদি কেউ কেনে
ধুধু স্টেশনচত্তরে তোর কবিতা পড়তে পড়তে
ফিরে পাই ডাহুকবেলা


তোকে নিয়ে জলফড়িঙ মাঠে রোদ্দুর রোদ্দুর
অত আলোয় কী কিছু দেখা যায়
চারপাশে স্ফটিক-মেঘ
স্মৃতি ভেঙে টকরো টুকরো ছবি
কোজাগরী রাতে লক্ষ্মীপেঁচার ছায়া


এত বছর পর বেনেবৌ আসে-যায়
শুনসান দুপুরে  ডাকে জলপিপি
তুইও কী ডাকিস না


ডাকতে ডাকতে একদিন
ডানারা পাড়ি দেয় ভোঁকাট্টা ঘুড়ির দেশ
সঞ্চিত পালক ঝরে পড়ে
গন্ধ শুধু লেগে থাকে মাটির গভীরে
রঙ বদলায় জীবন না

রঙ বদলে যাচ্ছে সবকিছুর
আকাশ ,বাতাস,নদী পাহাড়
শীতের সন্ধা সবকিছু থেকে রঙ তুলে 
কুয়াশার ব্যাগে ভরে নিয়ে গেছে।
ঢালু রাস্তাটা যতদূর নীচে দেখা যায়
আবছা কালোকালো গাছের মাথা
সারি সারি লাইন দিয়ে দাঁড়িয়ে 
রাত শেষে আকাশের কোণা থেকে 
গোলাপী রঙ খুঁজে নেবার প্রতীক্ষায়।
পাখীগুলো চিৎকার করছে, রঙ হারাবার ভয়ে 
গাছের মাথায় বসে থাকা ময়ূরটা জানে
রঙ বদলালেও জীবন বদলায় না
পুরনো শরীরে নতুন রঙ
জীবনের চেনাছকে একইভাবে বেঁচে থাকা 
গাছের ডালে পাতার ফাঁকে একইভাবে খুঁটে খাওয়া
সব কোলাহল যাবে থেমে
গোলাপী রঙের আভায় সবকিছু আগের মত দেখাবে।
সবুজ শুধু সবুজ
সারি সারি পাইনবন 
লাইনে দাঁড়াবার অভ্যাস অনেকদিনের।
বাঁশি

সেতু পেরোই,তারপর তোমার কথা

                  ভাববো

অন্যমনস্কতা এসে যায়

চারপাশে হেউতি ধান

রসিয়া বসাইছে ফান

মোহনবাঁশি পড়ে থাকে


গাছ 

জীবন এমন এক গাছ
নিচে তার
ছায়া আর
রোদ করে খেলা।
যেন এক ভেলা
নদীর তরঙ্গে করে নাচ।

পথহাঁটা

দিন শুরু,বেলা বাড়ে আলো ও আশায়
পথ হাঁটা
কেঁদে হেসে
এ জীবন
দিন শেষে
পায়ে পায়ে মিশে যায় ঘন কুয়াশায়।


সোনালী ভোর

একটা সোনালি ভোর
একটু সে রোদ,
একটা গোলাপ ফুল
বড্ড সুবোধ।
একটা নতুন পাতা
হলদে সবুজ
সকলই বুঝেছে মন
তবু ও অবুঝ।
একটা পালক যেন
পড়েছিল নীড়ে
একটা না বলা কথা
অকথার ভীড়ে।
একটা মেঘলা মন
কাঙাল হৃদয়
এক জোড়া ভিজে চোখ
শুধু চেয়ে রয়।
একটা দীর্ঘ শ্বাস
বুক ঠেলে আসে
না বলেই কখন সে
গেছে পরবাসে।
কবিতারা হেসে ওঠে

ছাদে দড়িতে পাশাপাশি শুকোচ্ছে কাপড়
লাল নীল সবুজ রঙের কাপড়
একই জলে ভিজেছিল চুপচুপে
একই দড়িতে শুকোচ্ছে তারপর
তবু কেউ কারো রঙ ছাড়ে নি
কেউ কারো ভাগ করে নেয় নি আদ্রর্তা
ধর্ম বলবে
জানলা খুলে দিয়েছি
বেরিয়ে এসো গুহার ভিতর থেকে
বেরিয়ে এসো আর রোদের দিকে তাকাও
জ্ঞান বলবে
মর্মের গভীরে যাও
দেখো দরজা খুলে দাঁড়িয়ে হাসছেন ঈশ্বর

এইসব বাচালতাকে শিল্পরূপ দিতে বসে দেখি
কবিতারা শুধু হেসে ওঠে অনর্থক...
সিউডো সকাল 

পলিগেমি মঞ্চ সেজে উঠছে
উত্থান পতনের অঙ্কে
চতুরতা রপ্ত করেছে অহং-সময়
নিজের প্রয়োজনে গড়ে তোলা ছায়ানক
ব্যবহারে পটু হয়েছে অবৈধ সঙ্গম !
খেলা শেষে জাগিয়ে রাখা
নেতানো শিশ্নের আগামী মহড়া !

কাঙালপনার মুখে পা ঘষে
মাল খেয়ে পোঁদ খুলে পড়ে আছে 
ঋত্বিক সৃষ্টি, অস্বীকারের অন্য মুদ্রায়
এভাবেও নিজের কাছে রাখা যায় ।

মহৎ ও মানবিক ভ্রষ্টতার
আঁকনবাঁকন জুড়ে জটিল অলিগলি
জনপ্রিয় সাজানো সংসার
সংগ্রামী কেনা বেচা সাঙ্গ হলে
আয়ু ছুঁয়ে বসে থাকা পাখি
উড়ে যাবে একদিন
সেদিনও জেগে থাকবে মুক্তির সকাল
মুখোশ বদলে ইতিহাস
সময় ঠিক লিখে রাখে  ।
ফেরা

ছেলেটি বাড়ি ফেরে নি
ছেলেটির বাড়ি ফেরা হয় নি
চাঁদ সূর্যের সৌন্দর্য ওর জন্য নয়
 ফুল পাখি গান সে বোঝে না।
গুলির আওয়াজে ভাত কিনে আনা ছেলেটি
কতকাল ঘুমোয় নি!
       
মৃত্যুর বিনিময়ে কিনে নিয়েছে সে একটা আস্ত সংসার
ছেলেটি বাড়ি ফেরে নি

About