লেখকসূচি - বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়, শ্যামলী বন্দ্যোপাধ্যায়, রত্নদীপা দে ঘোষ, সপ্তাশ্ব ভৌমিক, ইন্দিরা দাস, তৈমুর খান, শর্মিষ্ঠা ঘোষ, সৌমিত্র চক্রবর্তী, সুবীর সরকার, মৌ দাশগুপ্ত, বিজয় ঘোষ, কচি রেজা, মৌ মধুবন্তী, রেজা রহমান, সুরঙ্গমা ভট্টাচার্য, হরপ্রসাদ রায়, অনুপম দাশশর্মা, সুমী সিকানদার, বিদিশা সরকার, শৌনক দত্ত, অমিতাভ দাশ, মৃন্ময় চক্রবর্তী শ্রীশুভ্র, জয়া চৌধুরী, চয়ন ভৌমিক, ঝর্ণা চট্টোপাধ্যায়, মৈনাক সেনগুপ্ত, শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, পিনাকীপ্রসাদ চক্রবর্তী, অদিতি চক্রবর্তী, জ্যোৎস্না রহমান, সেমিমা হাকিম, যাজ্ঞসেনী গুপ্ত, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, তপন মন্ডল, কৌশিক চক্রবর্তী, কাজরী তিথি জামান, ইমেল নঈম, শুভশ্রী সাহা, মৌসুমী রায় ঘোষ ও অসিতবরণ চট্টোপাধ্যায় ।

         সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করুন


    অন্যনিষাদ ছয় পেরিয়ে সাতে পা দিল । স্বভাবতই সপ্তম বর্ষের প্রথম সংখ্যাতে একটি সম্পাদকীয় প্রতিবেদন লিখতে হবে এটা জানা ছিল । কারণ সম্পাদকীয় পত্রিকার পাঠকমন্ডলীর সাথে আলাপের একমাত্র সুযোগ । কিন্তু লিখতে বসে দেখলাম, আমার যে দুএকটা কথা বলার  ছিল তার সবটুকুই বলে দিয়েছেন অন্যনিষাদের চার পরিচিত সাথী বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়, সুবীর সরকার  অনুপম দাশশর্মা ও শৌনক দত্ত তাদের গদ্যে । আমি নিশ্চিত অন্যনিষাদকে যারা চিনেছেন এই ছয় বছরে, তাদের অনুভব ভিন্ন কিছু নয় ।

    প্রসঙ্গত,দুটি পরিসংখ্যান পেশ করি । (১) এই ছয় বছরে অন্যনিষাদ নানা স্বাদের ছয় হাজারেরও বেশি বাংলা কবিতা অন্তর্জালে ছড়িয়ে দিতে পেরেছে এবং (২) গত সংখ্যা পর্যন্ত অন্যনিষাদের পৃষ্ঠা দর্শন ছিল কিছু কম সাড়ে তিন লক্ষ । এ কথা মেনে নিতে দ্বিধা থাকার কথা নয় যে প্রতি সংখ্যায় সব কবিতার গুণগত সমান হয় না, হতে পারে না । কিছু অপটু লেখা থেকে যায়, থাকতে দিই । দিই, কারণ প্রতিষ্ঠিত কবিদের কবিতার পাশে নবাগত কারো লেখা স্থান করে নেওয়ার পর সেই নবাগতের সাফল্যখচিত উজ্বল মুখ আমি যেন দেখতে পাই । একটা নিশ্চিত বিশ্বাস জন্ম নেয় যে এরাও একদিন প্রতিষ্ঠিত হবে ।

    একালের এক খ্যাতিমান স্কটিশ কবি উইলিয়াম হারবার্ট তাঁর বিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন যে, “কবিতা একটি মূলগত মানব আচরণ । জগৎকে দেখার এক ভঙ্গিমা ...যে কবি আর যে কবি নয়, তাদের মধ্যে ফারাক কেবল এইটুকু যে প্রত্যেকেই জগৎ অনুভব করেন, কবি শুধু লিখে রাখেন। কবি কিভাবে জগৎকে দেখছেন- লিখে রাখছেন তা একটা বিষয় বটে । পাঠকের সতর্ক আগ্রহ সেদিকে থাকে । অন্যনিষাদ শুধু যোগসূত্রের কাজটুকু করে চলেছে ।

    

 একটি শোক সংবাদ বোধকরি অন্যনিষাদের পাঠকরা জেনেছেন । কবি পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত প্রয়াত হয়েছেন গত ১৫ই অক্টোবর রাত্রি ৮টায়, ৬৭ বছর বয়সে । অন্যনিষাদ’এ তাঁর বেশ কয়েকটি কবিতা প্রকাশিত হয়েছে ।  প্রয়াত পুণ্যশ্লোক দাশগুপ্ত কাব্যচর্চার সাথে সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের প্রসারেও অগ্রণী ভুমিকা নিতেন । নিজ শহর ধুপগুড়িতে বইমেলা সংগঠিত করার কাজে তার গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা ছিল । প্রয়াত কবির প্রতি অন্যনিষাদ গভীর শোকশ্রদ্ধা নিবেদন করছে ।


আলোর উৎসব দীপাবলী আসন্ন । জীবন আলোকময় হোক । সকলকে দীপাবলীর শুভেচ্ছা জানাই । ভালো থাকুন , অন্যনিষাদের সঙ্গে থাকুন ।






অন্যনিষাদ-  স্বপ্নের ভিন্ন এক নাম
 

অন্যনিষাদ ছয় পেরিয়ে সাতে পা দিচ্ছে । এই  মুহুর্তের সাক্ষী থাকতে পেরে  খুব গর্বিত বোধ করছি  । গর্বিত শুধু ছ বছর পূর্তির জন্য নয় । সে তো অনেকেই করে । জন্ম হলে কালের নিয়মে বয়স বাড়তে থাকে । কবিতাপ্রেমী মানুষ হিসেবে আমাদের গর্ব করার জায়গা হচ্ছে পত্রিকাটির নিজস্ব চরিত্র । অন্যনিষাদ কখনোই একটি গোষ্ঠীর মুখপত্র হয়ে ওঠে নি । সম্পাদকের ইচ্ছে বা অনিচ্ছা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত তৃতীয় শ্রেণির সাহিত্যিকদের আড্ডাঘরে পরিণত হয়নি । কখনও সম্পাদকীয় প্রতিবেদনে অন্যনিষাদ সদম্ভে এ কথাও ঘোষণা  করেনি  যে  সাপ্তাহিক কবিতাপত্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বাংলা সাহিত্যে কাজ করে যাওয়ার নজির একমাত্র তারই । সে বিশ্বাস করে নিঃশব্দে এবং নিরুচ্চার ভাবে নিজের কাজে মনোনিবেশ করতে    নিজেকে নিংড়ে  কীভাবে আরও সুন্দর করা যায় সামনের পথ ।   তার চরিত্রের এই বিশেষত্বের কারণে  ওয়েব দুনিয়ায় সকলের কাছেই পরিচিত এবং আদৃত হয়ে উঠেছে তার প্রতিটি পদক্ষেপ । 
  
 কিন্তু এ কথা তো অস্বীকার করার কোন জায়গা নেই । যে বাংলায় যে বাংলা কবিতার ভূখণ্ডে একসময় কবিতা নিয়ে তীব্র উন্মাদনা তৈরি হয়েছিল ।  কবিতা মাসিক,  কবিতা পাক্ষিক , কবিতা সাপ্তাহিক থেকে কবিতা ঘন্টিকী অবধি প্রকাশিত হয়েছিল এক সময় ।  কবিতা নিয়ে ছয়ের দশকের সেই নিরীক্ষা এবং উন্মাদনা থিতিয়ে আসার পর  দীর্ঘ সময়  কবিতার  কোন সাপ্তাহিকপত্র প্রকাশিত হয়নি । অন্যনিষাদ সেই শূন্যস্থান পূরণ করার চেষ্টা করে গেছে মনেপ্রাণে । এই দীর্ঘ ছ বছর ধরে নিরলস  এবং নিরবচ্ছিন্নভাবে প্রতি সপ্তাহে  প্রকাশিত হয়েছে তার প্রতিটি সংখ্যা । তা বাংলা কবিতাকে কোন অভিমুখে নিয়ে গেছে । বাংলা কবিতার  ক্ষেত্রে কোন নতুন দিগন্তের সন্ধান দিয়েছে কীনা তা ইতিহাস বলবে । 
অন্যনিষাদ ব্লগজিনের  সূচনাবিন্দু  আমার অভিজ্ঞতার বাইরে । আমি যখন ফেসবুকে আসি তার অনেক আগেই এর জন্ম ।   কিন্তু সুগন্ধ যেমন চাপা থাকে না । ভালো কাজও সেরকমভাবে  যতই চেপে দেওয়ার চেষ্টা হোক তা অপ্রকাশ্য থাকেনা । একদিন তার ইতিবাচক কর্মকান্ড সবাই জেনে যায় ।  ফলে একদিন আরও সবাই যেমন এই ব্লগের খবর জেনেছে আমিও জেনে যাই । ব্লগটি নতুন লেখকদের উৎসাহিত করে । তাদের লেখা প্রকাশ করে ।আমিও অত্যন্ত উৎসাহে  পাঁচ ছটি কবিতা দিই  অন্যনিষাদের জন্য । দুটো প্রকাশিত হয় । সেই প্রথম । তারপর ধীরে ধীরে এই পরিবারেরই একজন হয়ে গেলাম । অন্যনিষাদের   সাথে গড়ে উঠল আত্মিক বন্ধন । 
     
      আজকের তরুণ কবি  যে সদ্য কলম তুলে নিয়েছে হাতে। যার নাম এখনও পাঠকের কাছে পৌছায় নি । অথচ কলমে রয়েছে আগামীর প্রতিশ্রুতি রয়েছে নতুন কৌণিক বাঁক । তাকে কোন জাদুমন্ত্রে সম্পাদক আবিষ্কার করেন তা আজও আমার কাছে রহস্য । প্রতিটি সংখ্যায় নতুন নতুন মুখের ভিড় । উজ্জ্বল শব্দের আভায় তাদের চোখে মুখে স্বপ্ন । অন্যনিষাদ আমার কাছে তাই দিগন্তপ্রসারী  স্বপ্নের অন্য এক নাম ।      


 কবিতা

যোগ বিয়োগ

আকাশ লিখতেই
একটা পাখি উড়ে গেল এইমাত্র
আমার হাত থেকে ফসকে যাচ্ছে এক একটি  সংখ্যা
মায়াবী উষ্ণতা নিয়ে  ছাতার আড়াল চায় অসীমের অনুসন্ধানী চোখ

গাছ  লিখতে লিখতে সবুজ হয়ে যাচ্ছে হাত
শস্য আর সন্তানের মায়া ফিরে আসছে
অভিকর্ষ টান
অন্নজলে বেড়ে ওঠা গেরস্থালি।
     


অন্য নিষাদ

প্রস্তাবনা
তমসার  তীর  ঘেঁষে
ছিল  তারা  ভারি সুখে  ক্রৌঞ্চমিথুন,
ছুটে  আসা  তির  বিঁধে  একটি  নিথর,
অপরটি  কেঁদে যায় বিরহ-বিধুর,
ঋষিমনে  সঞ্চারিত  বেদনার  অঙ্কুরে
জন্ম নেয়  শোকজাত  আদি  শ্লোক ।

অঙ্ক  অনি:শেষ

শোকজাত  আদি  শ্লোক
জন্মসূত্রে  বীতশোক  নয়,
ছড়িয়ে  যায়  সপ্তকাণ্ডের  ডালপালায়।
নবরসের  উষ্ণতায়  উর্বর  মৃত্তিকা
আজও  নির্মাণ করে চলে
কবিতার  অন্তঃপুরখানি!
বাল্মীকির  চোখের  জলে তার অভিষেক,
তমসায়  কুম্ভস্নান ,
অনুষ্টুপের  শ্লোকছন্দে  অক্ষরদীক্ষা।
আদিকবির  মনোভূমিতে  জন্ম  নেয়
শাপপূত  কবি  দলে দল ।



ভোরসংগ্রহ

ভোর আসছে
আবহাওয়ার ভোর যাতায়াতের জলবায়ু
ভোর ভেসে যাচ্ছে ভোরের নির্ঝরে
ভোরপুস্তিকা খুলে পড়লে যেমন
মনে হয় ভোরের চড়ুই
একটা ভোর সেলাই দিচ্ছে রোদের
বিনুনিবেড়া


ভোরের অরূপে রত্নে আশ্রয় চাইছি। আমি এক দীনভিখারি। ভিক্ষের ছলে
আসলে চাইছি ভোরের আয়তনে সাজানো অমিত-লাবণ্য। বারো দুয়ারের
পুনর্বাসন। ডাকছি তোমাকেও। তুমি ছাড়া এমন সজল-বন্ধু আর কেউ
আছে কি? এসো আমার সাথে।

তোমাকে নিয়ে ভোরবাড়িতে যাই।


রেখে আসি। নিজেকেও রেখে আসি। ভোরগম্বুজের ফুসফুসে। সেখাঙ্কার
গহনা অতি আলোকিত।  সেখাঙ্কার মরুভূমিও ছলছল অলঙ্কারের তাপ।
বুদবুদের চাঁদ লাগামছাড়া। সেখানে পূর্ণজন্ম। পুরনো পিয়াসা। পিপাসার
মিনারে চার-হাত জড়ো। কাঠকুটোর শিয়র। নিশীথ-বৈরাগী। বসুধার
শূন্যে গর্ভে যে পথডানা। ভোর ডাকছে। চলো।

যাই। চলো বাতাসের করতলে। ঝাঁকঝাঁক হেঁটেআসাকে রেখে আসি।

কী অপূর্ব আবিষ্কারের তীর।
শাখায়-শাঁখায় ভোর।

অবাকঅশ্রু। ক্রন্দনভস্ম। চক্রবালশিখা।

তোমাকেই দিই মোহের তুরপুন
তোমাকে চূর্ণজল , সেগুনপাখি
তোমাকে গাছপ্রচ্ছদ , লতাপাতামজনুরিকা
ভোরের তারকা-সমাবেশ তোমাকে দিলুম
মুগ্ধ পাঠক অচিন যুবকের গায়ে হেলান
দেওয়া চকচকে তরুণী তবক


আগুনসহ অই কাচপোকা। ভোরের আতসকে রেখেছি বাজি।
নুটো করে বাঁধা রাজারাখালের ভেলা। সদ্যস্নানের পর ভিজে বাঁশি।
ভালবাসি। তোমার স্বর আর লিপি। সুপ্রভাতের মুরতি। মূর্তিনদীর
দানধ্যান। শাপ্লায় ফুটে ওঠা তোর্সাফুলের রীতিনীতি

কাহারবার ভোর-সংস্করণ।
আন্তর্জাল জাগা মানচিত্র
ভোরখেলা ...ভোরমেলা ... ভোরের মেখলা।  
ছিন্নপত্রের পুস্প-প্রতিযোগিতা। সাহিত্যিক ভোরপাখির নামঘোষণায়।
ভোরে উঠছে বিদ্যুতের দ্যুতি।বিকেলদল উথলে।
শুরু হচ্ছে ভোরশুরু।

খুব ভোর নয় অথচ ভোরময় সিঁড়ি।
তখন অনেক রাত। নাকি রাতের চাইতেও বেশি ভোররঙ
তখন কবিতা ঘনগানের চাইতেও সুস্বাদু ভোরগদ্যের সাক্ষাৎকার
  
ভোরতম সংখ্যায় পা রাখিছি এখন
দুজনেই খুলে দিচ্ছি ভোরের পৃষ্ঠা
সন্তুরে শোনা যাচ্ছে দোদুল
পাথরে-কাটা পুরুষ্টু গীতের তপস্যা
সাহিত্যের ইতিহাসে তো ভোরের সম্পাদক নেই
তাই অপ্রকাশিত গ্রন্থকারে তীব্র নামছে
ভোরগ্রহণের স্বমেঘ গলানো অলকানন্দা





About