এই সংখ্যায় ২৭টি কবিতার লেখকসূচি - বর্ণশ্রী বকসী, শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, বিপ্লব গঙ্গোপাধ্যায়, জয়ব্রত বিশ্বাস, ব্রতীন বসু, দেবাশিস মুখোপাধ্যায়, জয়াশিস ঘোষ, সোনালি বেগম, আসমা চৌধুরী, রাজর্ষি ঘোষ, প্রণব বসু রায়, পিনাকীপ্রসাদ চক্রবর্তী, মিলি মুখার্জী, রিয়া রিয়া, শুভ্র সরকার, রঞ্জন চট্টোপাধ্যায়, লিপিকা বিশ্বাস সাহা, ওয়াহিদা খন্দকার, শেখর দেবনাথ, তাপসকিরণ রায়, মলয় সরকার, সোমা দে
      
         সব কবিতা পড়ুন,পরের পৃষ্ঠায় গিয়ে অথবা 
             সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করে
দেশ

তুমি বলেছিলে মেয়েরা মাটিই হয়
তাই মাটিকে জেনেছি মা বলে
যেখানে সবুজ নীড়ে জুড়ে থাকে
অতল বিশ্বাস আর দৃঢ় প্রতিজ্ঞা !
দেশ ডাকে দুহাতের অসীম উচ্ছ্বাসে
যে পাগলি দুমড়ে পড়ে আছে
তার গায়ে গড়িয়ে নামে এক বুক উষ্ণ
চাঁদনি , অনন্ত দিনের শেষে রাত আসে
নতুন ভোরের গান গায় অখন্ড সত্য ।
আমার বুকের ওমে দিবসের গণতন্ত্র
জন্মের আগের জন্মদিন জানে
ভারত আমার আত্মা ভারত মহান!
ভাল আছি

এখন আমি অবাক রকম ভাল আছি
যেমন থাকলে ভাল বলে পঞ্চজনে
হাত বাড়ালেই পাচ্ছি বটে অনেক কিছুই
স্বপ্নগুলো পাঠিয়ে দিয়ে নির্বাসনে ।

স্বপ্ন মানে দিগ্‌বলাকায় রঙের খেলা
স্বপ্ন মানে গল্পগাথা ভিত্তি ছাড়া
স্বপ্ন মানে, নাম রেখেছি – ‘ইচ্ছে আমার
স্বপ্ন মানে রাত্রে দিনে দেয় সাহারা ।

ইচ্ছেডানা স্তব্ধ এখন পাখির নিড়ে
স্বপ্ন ছাড়া ভাল থাকার জীবনযাপন
ভালই আছি, বলছে সবাই চতুর্দিকে
ভাল বৈকি ভাল থাকার এ সাতকাহন ।


পথে  প্রান্তরে

দৃশ্য বদলে যায় 
রঙ রূপ  রেখা এবং  আস্তে আস্তে  যে দেখছে
 সেও 
পোশাক পাল্টায় চোখের আদলে কিছু ভিন্নতার দাগ

এই বদলে যাওয়া চারপাশ
পর্ব থেকে পর্বত
পর্বত থেকে পাথর 
পাথর থেকে প্রাসাদ ।

মানুষের সভ্যতার শুরু হয়েছিল অরণ্যে গুহায়

তারপর  আস্তে আস্তে  নদীতীর  খুঁজে নেওয়া  পায়ে পায়ে
পথ ও  প্রান্তর   ধরে হাঁটতে হাঁটতে  হাইওয়ে ।
অ্যানাটমি

উড়ছে উড়ুক মিথ্যেগুলো ভাবসাগরে ডুবসাঁতারে
ছুটছে ছুটুক আলোর ঝলক এই সুযোগেই গগনবিহার
এই তো মজার কেটে যাওয়া হাওয়ায় হাওয়ায় একনাগাড়ে
খুঁজেই চলো অষ্টপ্রহর অলংকারের পাতাবাহার

ছাড়ছি এত তীরের মালা কেটে দিতে রাতের নিশান
বলছে যে যা বলুক কেন জানছি আমিই আমার সওয়ার
জমছে দ্যাখো কথার খেলা খাচ্ছে যত তৃণভোজী
মিথ্যেগুলো উড়ছে এত নিত্যদিনে সুখের জোয়ার ।
আমাকে জুড়তে পারত একটা কবিতাই

আমি কাদঁলে যে আমার পাশে এসে দাঁড়ায়
দূরে সরে থেকে সে কিন্তু
একটা কবিতা হতে পারত।

যার কাছে এই জীবনে আর কোনদিন
ক্ষমা চাওয়া হবে না,
অবুঝের মত হামা দিয়েছে যে আমার দেহে
বাসে বা লোকাল ট্রেনে দেখা হলে যাকে
বসার সিটটা ছাড়া আর কিছুই উপহার দেওয়া যাবে না
সেও সহজ কেমন,
চাইলে অভিমান করে
একটা কবিতা হতে পারত।

আমাকে আধমরা হয়ে থাকতে হয়েছে গোটা জীবন
অথচ একটা কবিতা আমাকে মেরে ফেলতে পারত
বাঁচিয়ে তুলতে পারত।

আকাশটা অতটা আকাশ না হয়ে
কিছুটা তো
একটা কবিতা হতে পারত।
আস্বাদ
দেবাশিস মুখোপাধ্যায়
চোখের দিকে চেয়ে আছে মাঠ
শুকনো ঘাস আর পোকা খাওয়া বক
রাস্তায় তৈরি হয়ে যাচ্ছে ডানা
আকাশ পাখি আর মধু খোঁজা
 প্রজাপতির
দুপুর আঁকছে দুপুরের ছায়া
ছবির এ মুগ্ধবোধ পড়ি
অস্বাভাবিক সরে যায়
আস্বাদন করি সেই অরূপ
বাতাসে বাতাসে বাঁচার আশ্বাস
অক্ষরে আখর বাজে

আলোকিত যাত্রা

তুমি আমার দিকে তাকিয়ে আছো
হয়তো ধরে নিচ্ছো
আমি আর থাকবো না
পড়ে নিচ্ছো আমার ভিতর
সেখানে এক মিশে যাবার ইঙ্গিত
এটাই অনিবার্য
এটাই খেলা
তোমার আমার ভিতরে এক
লুকোচুরি চলছে
অবিরাম
ঠিক জানো ধরা সম্ভব নয়
পাখি একবার উড়ে গেলে
আকাশ নিয়ে নেয়
আসক্তি ভেঙে

এ অবসান নয়
এই আরম্ভ
এই আলোক
অন্ধকার থেকে বেরিয়ে আসা
হত্যা

সারি সারি লাশ চাপা পড়ে আছে ধর্মের ট্যাঙ্কারে
ঈশ্বর তুমি আসর সাজাও ব্যস্ত নাইটবারে।

যারা বেঁচে আছে, প্রাণভয়ে থাক। গর্বিত ইসলাম
মানুষ পুড়লে হাততালি দাও খ্রীষ্ট এবং রাম

কাবাব সাজানো দেশ থেকে দেশে। পোড়া মাংসের ভিত
ইরাকি মহিলা, সিরিয়ান শিশু, হিন্দু বা পুরোহিত

কাউকে ছাড়োনি। নিরীহ বালক। তাকেও দিয়েছ বোমা
শুধু জেনে রাখো সেই আসলে হত্যাকারী তোমার!


বিকেলের পরের স্টেশন

গল্পের ট্রেন থামে। স্টেশনে আদর রেখে আসি
বুনো রোদ কোমরে জড়িয়ে তুমিও আগুনবিলাসী
বাইরে শিরশিরে হাওয়া। দূরে স্কুলের ঘন্টা বাজে
সুতোয় বাঁধা মাঠ ঘাট আমাদের দেখছে নিলাজে
তোমার চুল বেয়ে রোদ, নাভিতে ফুটেছে পলাশ
আমাদের মাঝে উড়ে যায় সাদা পালকের বুনোহাঁস
আমরাও উড়ি ঠোঁটে। জন্ম গোপন রেখে আসি
পাখিরা ফিরতে জানেনা। বসে আছে তারে পাশাপাশি
গল্পের চেন টানে। ছেঁড়াখোঁড়া সংলাপ, মন ভার
এইসব আশ্চর্য স্টেশনে, আমাদের লুকনো সংসার!








এনভেলাপ

তালাবন্ধ ঘর
কিছুই তো পাল্টায়নি তবুও দীর্ঘশ্বাস
মখমলি টুপি ঝলমল শৈশব
বাতাসে বুদবুদ টমেটো খেত কুয়াশা
খেজুরগাছ কাঠঠোকরা পুরু ধুলোর আস্তরণ ।
উদ্বাস্তু চাপ ভ্রমণ ডিঙিয়ে অপেক্ষা
ঘরে বাইরে ফিরে আসছি বেলজিয়াম কাচের আয়নায় ।
জ্যামিতিক গঠনবিন্যাস ঘরের আকৃতি-প্রকৃতি
খোলা দরজায় তির্যক আলোর নকশা
              রাতের বিদ্যুৎ-বৃষ্টি ।
জাগ্রত এনভেলাপ
সবুজ জলাভূমি ফুসফুস-ক্যানসার-সঙ্গ
আলোকরেখায় কেঁপে উঠছে তীব্র হ্রেষা-মুক্তি 
পাতাগুলি

পাতাদের সবুজ মেলতে গিয়ে
গাছ হয়ে ওঠে
শিশির জানে তার আশ্রয়
ভেজা সকাল জানে  গন্ধ
বাতাস বের হয় নতুন গল্পে
মাঠে মনে শীত
জানালায় মৃত সম্পর্ক
চেনা পায়ের দাগ
মেয়েটির পিঠে সময়ের সিঁড়ি
ভেঙে যায়
পাতাগুলো জানে হলুদ বিকেল
পাতাগুলো জানে ভূমির হিসেব
পাতাগুলো জানে ক্ষয়
শিশর ঝরেছে কার উঠোনে শিশির ঝরেছে
মন কাঙালের ঘর

পাতাগুলো ঝরে,হলুদ বিকেল
মেয়েটির কান্নায়
পাতা ঝরে যায়,হিম!




অলকানন্দা একটি নদীর নাম

জলগন্ধা নদীটির নাম অলকানন্দা।
ধরে নাও তার বুকে এক চড় বালু, একটিমাত্র বটগাছ আর
    কাকচোখা দীঘিটির কোলে একটিই শালুক ফুল।
বাসা বাঁধবে সেইখানে?

ধরে নাও নক্ষত্রবীথির কোন তারার আলোয় ভেসে গেছে চরাচর
    একটি শাম্পান পাল তুলে দাঁড়িয়ে সন্ধ্যার আগমনে
আর তখনই বেহাগে তানধরেছেবিনম্র রাতের অচেনা বিসমিল্লা।
প্রণয়যোগ্য প্রজাপতিটির বাসরসভায় আমন্ত্রিত তুমিও।

ধরে নাও পাতার আগুন।
বহতা দ্রাঘিমাংশইটেনে এনেছে মেঘ আর বৃষ্টি নেমেছে অঝোরে।
তার অক্ষরেখাও পরিত্যক্ত।
দুটি আধভেজা শালিখ আশ্রয় নিলে তোমার উঠোনে
এনে কি দেবে একান্নবর্তী রোদ?

আরোও ধর– আমি, তুমি, অলকানন্দা
মুখোমুখি বৃদ্ধাবাসে কানাকানি করি আর উপচে পরে আমার কবিতারা
না দেখা, না ছাপা কোন ডায়েরির ছলে। ধর আমি আমিই
তুমি তুমিই
    সংসার করছি গোপনে।
    আর আমার অশীতিপর নীল হাতের শিরাটা,
         তুমি ভালবেসে নাম দিয়েছ তার অলকানন্দা।

শূণ্য পথের পথিক

আমাদের ফুরিয়ে গেলেই ঈশ্বর –যেখানে নেই জন্ম নেই মৃত্যু
    ট্রেন বেঁকে গেছে বাতাসিয়া লুপে
    অনন্তের পরেইযেখানেএক ঝাঁক আদিম জিজ্ঞাসা
         শূণ্যের পরেইখোঁজ হয় সেই নীরব মহাশূণ্যের।

ফিরিয়ে দাও আর্যভট্ট, যেখানে শূণ্য যেখানে শ্মশান
    চিতার আগুনে দিনরাত চলেছে সিঁড়িভাঙা। অনন্ত শয্যার পরে ক্লান্ত বিষ্ণু
    যেখানে আড়ভাঙা আঙুলের ইশারায়
         বলেছেন বন্ধ্যা নদীটিকে, চল।
আর চলা শুরু হল তার নিজস্ব ধারাপাতে।

এখানেইতো আদি। এখানেই অতীত ও ভবিষ্যৎ ছবি আঁকে নগ্নতার ও কিছুটা হেমন্তের।
একলা আকাশ চুঁয়ে উথলে ওঠে তারাদের আলো
    আর মণিহারা বিষণ্ণতারা কেবলবোবাকথাবলে নিতান্ত অক্লেশে।


আমার জানলার বাইরে বৃদ্ধ ল্যাম্পপোস্ট। আজকাল হাতছানি দেয় অকারণ, ডাকে–
    সভ্যতার জারজ সন্তান। আগুন দে তুই কলকেতার মুখে।



অদরকারী কথা

এই যে রাত্রি খরচ করি তার জন্যে
কোন গূঢ় অভিসন্ধির কথা ভাবি নি কখনও
এখন এটাই রুটিন... কল্পনায় তীর ছুঁড়ে
জ্বালিয়ে দিই রোমের সভ্যতা, কিন্তু কেন--
জানা নেই। চ্যারিয়ট রেসের প্রথম ঘোড়ার
আগে আগে ছুটিশুধুমাত্র জেতার কারণে।
দুই বাংলা জুড়ে দিই ফেভিকুইক দিয়ে,
উপবীত অনুষ্ঠানে
আপ্যায়ণ জানাই কুমিল্লার ভাইজানকে।
প্রতিটি দিনের গায়ে লিখে দিই সূর্য বন্দনা...
আরও কত প্রস্তাবনা জেগে ওঠে মাটির কলস থেকে
বর্ষা, শস্য উৎপাদন ও বিলি ব্যবস্থায়
জারি করে দিই ফৌজি কানুন।
তিন পাত্তি খেলায় জিততে জিততে একে একে কিনে নিই
হোয়াইট হাউস, দশ ডাউনিং স্ট্রীট।
একাই হাজার রান ও দশ উইকেট নিতে পারি
নিই না, অন্যেও খেলুক

সব পারি, কিন্তু তুমি না চাইলে
একটাও অক্ষর লিখতে পারি না...
ছবি নিয়ে যা বলতে পারি

নদীর তীরে বসে আমার যে ছবি
তুমি দেখছ বা দেখতে পেতে পারো
জল সে ঘোলা বা অনেকটাই স্বচ্ছ--
এ অনুসন্ধান কিছু আছে আমারও

ক্রমশই দেখি লাল হয়ে উঠেছে জল
ক্রমশই দেখি রূপের সাগরে মনমানুষ
পাতার মতো নুয়ে ,বিবশ ও নিশ্চুপ
ছবি বিষয়ে এর অধিক আর কি বলব



দাবি-বাজির মাঝখানে

বন্ধুত্বের দাবি রাখি
ঝলসে যাওয়া হৃদয়ের যে মানুষগুলো
রাজপথে উলংগ জীবন যাপন করে
তাদের কাছে আমি , বন্ধুত্বের দাবী রাখি ।

দুটো দাঁড়ির মাঝে, ঝুলছে যাদের জীবন
বর্ণমালারা মেরুদন্ডে লাথি মারে তাদের ।
মঞ্চের খুব কাছাকাছি ব্যরিকেড করে ওরা
কাগুজে বাঘ দেখছে বিস্ময়ে ।

সকাল বিকাল আসা-যাওয়া ওদের বুকে পেতে
ছলাকলার হাজার ছেনালিপনা
মৃত মানুষের মুখের ওপোর মুখোশ চাপিয়ে দিয়ে
জিবনের সাথে করছে প্রতারনা  ।

চাঁদবনিকের মত কবে যে ফুঁসে উঠবে,
বড্ড লোভী ওরা এক থালা ভাত খাবার
জন্য ব্যরিকেড করে ঘিরে রাখে
নিজের জীবন বাজি  রেখে ।

     
অন্ন ব্রহ্ম

অর্ধেক আলো ,আর আধ খানা
কালো নিয়ে আমি বৃত্ত ।
ফটিক জলের গভীরে আঁধার
আলোছায়া সম্পৃক্ত ।

খোঁজাখুঁজি আর ভুল বোঝাবুঝি
শক্তি ফুলকি ; ওড়ে ছাই
কেউ ডুব দেয়গেম’-এর গভীরে
কেউ ঘটিবাটি খেলে যাই।

ভুলভুলাইয়া টোপরের টোপ ,
আলতা রক্তে মাখা দাগ ।
কেউ খোঁজে তার ঘরের ঠিকানা ;
কারো মনে ওড়ে রাঙা ফাগ।

সাদা কালো ছবি, সুখী গৃহ কোন
ছোট বেলা ডাকেআয় রে”—
আরও ছোট কেউ হাত ধরে টানে
বড় হওয়া ভেসে যায় রে ।

ফুটপাতে শুয়ে ধুলোর গোপাল
ছেঁড়া ন্যাকড়ায়ে বাঁধা ঘর।
পাশে মোটরের ছোট্ট আয়না
মুখ দ্যাখে তাতে কচি বর।

থামেনা জীবন ।মায়াবী হরিণ
সোনার স্বপ্নে মায়াজাল।
হাসপাতালের গালি খাওয়া শিশু
বাবা-মার কাছে জঞ্জাল।

সেও তো জীবনদামি নয় কেন ?
কারন সে উদ্বৃত্ত ।
ভাতের হাঁড়িতে উনুনের ধোঁয়া
তা্রই চারপাশে বৃত্ত।
সহজতম সত্য

নিকটবর্তিনী, শরীর ছুঁয়ে তুমি নির্ভার হও
আমি মেঘ ভালোবাসি 
প্রিয় যুঁই আর সন্ধ্যামালতির সাথে আমার শত্রুঘোর।

তোমার পূর্ববর্তী প্রেমিকাকে আমি ভালোবেসেছিলাম বলে
পুরো আকাশটা ছেড়ে দিলেও তোমার কম পরবে 
ঠিক সামনে গিয়ে দাঁড়ালেও হাত ছুঁইয়ে বলে দিতে হবে 
এটা চোখ
নাক মুখ ঠোঁট। 

প্রতিবারেই একটা প্রশ্ন রাখি
অনিচ্ছের সহবাসে তুমি এতো আগ্রহী কেন!
নিজের শরীর দেখিয়ে বললে
এই বয়সী পৃথিবীকে ঘৃণা করি, আমি তোমায় ঘৃণা করি। 






জন্ম ইতিহাস

একেবারে নির্ভুলভাবে, নিশ্চিত হয়েই,
আমি বলতে চেয়েছি ইতিহাস।
পুরুষদের পাশাপাশি নারীদের এবং
অপরদিকে ঠিকানাবিহীন গণিকাদের কথা।

বন্ধুবান্ধব,শত্রুমিত্র, যে যেখানেই থাকো,
জন্মসুত্রেই রয়েছে জীবনের জটিল রহস্য।
তোমরা যেখানেই থাকো, খুঁজো জীবনের অর্থ,
নাহলে বাড়বে প্রতারণা, বলাৎকার, নারীপাচার।
ক্রমশ স্পন্দনের আয়ু ক্ষয়।

তারপর ..
আমরা ড্রইংরুমে গল্প করতে করতে বলবো -
কই, তেমন কিছু তো ঘটেনি!

আগুন নদী

সময়ের আলিঙ্গনে
মুহুর্মুহু শিহরিত।
আমিই ভরা বর্ষা
অভিমানে ছলকে ওঠা নদী ।
হাতের মুঠোয় নেচে ওঠে
আমার  নগ্ন কৃপাণ।
আলোও নই, অন্ধকারও নই
আমি সেই আগুন নদী
ছুঁয়ে এসেছি সুদুর দক্ষিনে
আরোরা অস্ট্রালিস।


About