প্রার্থনা

শতাধিক বর্ষ আগে
বৈশাখ দাবদাহে
পদ্মদীঘি শুষ্ক করে অট্টালিকা লোভে
তখনও কি তছনছ করেছে মানুষ রাজত্ব গাছেদের!
তখনও কি কেঁপেছে মেদিনী তাই
মৃত্যু যন্ত্রণায়,তাপে অসহ্য আগুনের?
তা তো নয়, তা নয়।
সে গ্রীষ্মের উত্তাপে শোনা যায়
আম্রকুঞ্জে,বকুলে,গন্ধরাজে গন্ধ বিকিরণে,ছাতিম ছায়ায়
হে মৌনী তাপস
তুমিই কি? তুমিই তো
রেখেছিলে কাব্যে গানে সুধা সুমধুর ,
আজকের এই শুভ জন্মক্ষণে 
আসবে না ফিরে আমাদের আহ্বানে ?
বৈশাখী বাঁশির  সুরে আকুল বিধুর?

পরাব না মালা,সাজাব না চন্দনে কবি আজ
এতো উতলা,এতো পরাজয়, এতো লাজ
একালের দ্বিধাদ্বন্দ্ব অশান্তির মাঝে
জন্মতিথি পালন হোক
তাপসনিঃশ্বাসবায়ে’,রণসাজে
তোমার ফুতকারে উড়ে যাক, পুড়ে যাক
মানুষে মানুষে হানাহানি,জটিলতা কদর্য মনন
অম্বরপ্রান্তে ডম্বরু ছন্দ তুলে আজ এসো রবিকবি
আসন্ন বৈশাখীর  মতন
অবশেষ করে দিক
তোমার রুদ্রবাণী নির্ভীক
যত অন্যায়,ক্লেশ।
হে দুখজাগানিয়া’,তারপর বেশ
সামান্য কবি একালের এক 
সীমিত ক্ষমতায় কয়টি শব্দ বেঁধে মন্দাক্রান্তা মুক্তকে
আত্মমাঝে পূজা উপচার নিয়ে সমুখে রেখে তোমাকে
বসবে একটি দীপ জ্বেলে,ধরবে একেলার গান
চিরসখা’ 
আবার ফিরাও কুলায়ে,নির্ভয় নির্ভরে  
এ বিবাগী প্রাণ।


0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About