তুমি কেমন করে গান করো

বালিকা বয়সের বিদ্যালয়,মায়ের হাত ধরে
পেরিয়ে গেলে গানের ক্লাস,দিগন্তে ছড়ালে মায়ামন্ত্র সুর।
বনাঞ্চল,মালভূমি কিংবা টিলার ঢিবি পেরিয়ে, ধারা
যেভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ে শুষ্ক মৃত্তিকার উপর,
ঝর্ণার ধোঁয়া-জল যেভাবে বাতাসের ডানা চড়ে
উড়ে গিয়ে,সভ্যতার বধ্যভূমিতে ছুঁড়ে দেয় শান্তির জল,
ঠিক সেভাবেই এখানে বেজে ওঠে তোমার অমৃতবাণী।
পাখিদের ডানা ভাঙা হাড়,শিশুদের ছেঁড়া মোজা
আর ক্লান্ত সৈনিকদের বন্দুকের পাশে
যেন সহজ,ঝলমলে অমলতাস ফুল সেই গান।
এহেন শ্রবণে,ম্যাজিকের মত সিম্ফনি তুলে আনে তীব্র রোদ্দুর,
বেহালার ঘাড় ছোঁয়া বিষণ্ণ মেঘ
গম্ভীর আকাশে এঁকে দেয় ভিজে মল্লার।
শহরের আর্ত চিৎকার সহসা স্তব্ধ হয় তোমার শান্ত স্বরক্ষেপে।
সবুজ গ্রাম জুড়ে ভেসে ওঠে হারমোনিয়ামের কড়ি মা।
আর তুমি সেই প্রাচীন ছাতিম বৃক্ষ,সেই পলাশ বর্ণ খোয়াই
পিয়ানোর রিডে ঝড় তোলা রয়্যাল ফিল হার্মোনিক অর্কেস্ট্রা-
মুছিয়ে দাও অঝোর বৃষ্টি আর চুয়ে পড়া প্রাত্যহিক রক্ত
আমাদের জীবনের অন্ধিকার স্বরলিপি থেকে,


মলম হয়ে লেগে থাকো যন্ত্রণাময় ক্ষত নিরাময়ে।।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About