সম্ভাবনা

বার্নস অ্যান্ড নোবলের বইয়ের দোকানে
হে গুরুদেব, আবার দেখা হল তোমার সঙ্গে।
তেমনিই আছো দেখছি,
১৫১বছর পরেও তেমনি দিব্যকান্তি,
ব্রহ্ম প্রেমে মগ্ন দুচোখ,
কারুণ্যে ভরা ঋষিসুলভ মুখচ্ছবি ।

অনেক বছর পরে জানো
তোমাকে দেখার সাথে সাথে
এতো বৃষ্টির ভেতরেও যেন
উজ্জ্বল হয়ে ভেসে উঠল দিনটা ।
উতসাহী ফ্র্যাপেচিনো, কাফেমোকা, আর
মাকিওডার সুগন্ধে ভরে গেল বাতাস ।

তোমাকে দেখেই এত বছর পরে
আজো ফুল ফুটে উঠল মনের শক্ত মাটিতে,
আর দইওয়ালার হাত ধরে সুস্থঅমল
তাদের গ্রাম দেখতে গেল ।
শ্যামা ফিরে পেল তার প্রেমাস্পদ,
যখন আমাদের গ্রাম জুড়ে থাকা
শুকনো ছোটো নদীগুলি
ভরে উঠল আদর বন্যায় ।

তুমি কি ভাবতে পারবে যে তোমার গানগুলি
আজো আমারসঞ্জীবনী মন্ত্র, হে কবিগুরু।
আমি যখন বাগানের নরম ঘাসে হাঁটতে হাঁটতে
আবৃত্তি করে উঠি, “আজি এ প্রভাতে রবির কর
আর মাটি সরিয়ে উঠে আসে তোমার স্বর্ণচাঁপার গাছ,
কাল যে ডাল খালি ছিল আজ তা ভরে যায় ফুলে,
আর আমি ঊর্মিলার মত বিরহে পুড়ে যেতে যেতে
প্রেমের উপেক্ষিতা হয়েও থাকি অপেক্ষায়,
তোমার রচনার মত আরও এক
মহাকাব্যের অপেক্ষায়,ভেসে যাবো বলে
তোমার জাতীয় সংগীতের মত আরো এক
মহাসংগীতের সুরে । 

আজ তোমার হাতে কফির কাপ, হে প্রিয় কবি,
মুখে স্মিত হাসি, পাশে নেরুদা, কাফকা, হিউস
আর এলিয়টকে দেখে কি ভালো যে লাগছে,
মনে হচ্ছে যদি কোনোদিন,
অনেক জন্মের পুন্যের জোরে
যদি আজ জাগিয়া উঠেছে প্রান
বলতে বলতে আমি তোমাদের কাছে
পৌঁছে যেতে পারি ।

একটা সফল কবিতাকে সঙ্গে নিয়ে,
গভীর ভালোবাসার স্রোতকে বুকে ভরে
যেভাবে তুমিআলোয়ভরে দিয়েছ একটা সংস্কৃতি
আরদুলিয়ে দিয়েছআরেকযুগেরনৌকো
আমিও হয়তো পারবো শুধু তোমারসেই কিরনে
আলোকিত করে নিতে জীবনের আনন্দ শিখাটুকু...




0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About