ইতি। তোমার ইন্দু

প্রিয় রজত,
এস এম এস আর মোবাইলের কথায় মন ভরে না।
ভাষা বদলাতে বদলাতে, এখন শুধু শব্দ গুলি পড়ে আছে এলোমেলো।
মনের ছোয়াচ নেই তাতে।
অনেক কাল লেখা হয়নি চিঠি, উঠে গেছে সে পাট।
গড়িমসি, তবু আজ বসলাম কাগজ কলম নিয়ে।
শনি-রোববার যেন চওড়া হতে হতে পূব-থেকে পশ্চিমে ঢলে পড়ে।
কাটতে চায় না কিছুতে।

ভাগ্যের কি পরিহাস।
আমি দিল্লীর মেয়ে, বিয়ে হয়ে এলাম কলকাতায় তোমার নতুন ফ্ল্যাটে।
চাকরি পেলাম।
আর তুমি,আরও ভাল চাকরি নিয়ে চলে গেলে দিল্লী। বাড়ল দায়িত্ব।
ঘরে ফেরা রাত গভীর হলে,পার্টি,ক্লাব,কতকিছু।

আমার বাবার অন্যায় রোজগারে উপচে পরেছে ঘর।
পাল্লা দিয়ে পাল্টেছে আচরণ,ঠাটবাট,বাবার-মায়ের।
আমার কোনদিনই ভাল লাগে নি সেসব।
তুমি জানো,তবু রাজার কথা না বললে চলে না।
কলেজের বন্ধু রাজা, রাজা মিত্র
আমার সহপাঠি ইংলিশে অনার্স,একেবারে অন্য রকম।
ইংরিজি সাহিত্য আর রবীন্দ্রনাথ তার ধ্যান জ্ঞান।
রাজা না থাকলে হয়ত জানতে পারতাম না রবীন্দ্রনাথকে।
দিল্লীবাসী জন জানে তাঁর কথা।
বাংলা শিখলাম,সেও তো রাজার কাছেই।
ক্রমশঃ আমি তলিয়ে যেতে লাগলুম গুরুদেবের সৃষ্টির অতলে।

কলেজের পাট চুকলে,রাজা গেল বিদেশে উচ্চ শিক্ষায়।
এম, পরীক্ষা দিয়ে বাবাকে বললাম পাত্র দেখ।
শুনে বাবা
কলকাতার পাত্র না হলে চলবে না। আড়ালে সেই রবীন্দ্রনাথ।

পেলাম তোমাকে।
কিন্তু তোমাকেও,আমার বাবার নেশা পেয়ে বসেছে।
চাকরিতে উন্নতি,টাকা,আরও টাকা।

আমি যেমন ছিলাম তেমনই পড়ে রইলাম একা।
বাংলা সাহিত্যে যে বিপুল সম্পদ ছড়িয়ে,জানতাম না।
বই এখন আমার আত্মার বন্ধু।
অফিসের কুন্তলের কথা বলেছি তোমাকে, মনে আছে?
তার বিয়ের ছমাস যেতে না যেতেই ছাড়াছাড়ি।
ভালবাসার বিয়ে। কেন যে হয় এমন।
ছেলেটিকে আমার ভালই লাগে। করুণা হয় ওর জন্য।
এত হাসিখুশি।
সে দিন,যখন অফিসের মধ্যে আমার জ্বর এল।
কুন্তল আমাকে ডাক্তার দেখিয়ে,ওষুধ কিনে,বাড়ি পৌছে দিয়ে গেল।
মনে হল আমি একা নয়,আছে কেউ একজন
মোবাইলে বারেবারে খবর নিত...
...জ্বর কমেছে? ওষুধ খেয়েছ তো ?
তুমি তো আর... এত দূরে...তোমার সময় কোথায়...
ইদানিং আমাদের মেলামেশা বেড়েছে।
কাজের মাঝে সুযোগ পেলেই চলে আসে আমার চেম্বারে।
কথা,সে কথা
একদিন,অফিস সাজানো একটি সূর্য্যমুখি ফুল এনে দিল আমাকে।
বলল,আসবে আমার বাড়ি।
আমি বারণ করি নি।
কাল রোববার,আসবে কুন্তল।
জেনে নিয়েছি, কি খেতে ভালবাসে।
কালকের মেনু ঠিক করেছি সেই ভাবে।
নিজের হাতে রাধব সে সব।
ঘর পরিস্কার করে নিয়েছি আজ।
কাল সাজানোর পালা,ফুল দিয়ে সাজাবো ঘর।
তুলে রাখা ফ্লাওয়ার ভাস্ট তিনটে বার করেছি।
বিকেলে যাব কুন্তলের জন্য একটা উপহার কিনতে।
কি যে কিনি? কিছুতেই ঠিক করে উঠতে পারছি না।
তবু মনে মনে ভেবে রেখেছি,একটা আংটি কিনব।
কাল সন্ধ্যে পর্যন্ত অপেক্ষা...জানাবো তোমায়।

ইতি। তোমার ইন্দু

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About