পাঁচ নারী...উদ্যত তরবারি
 [রবিঠাকুরের উপন্যাসের পাঁচ নারী..
 বিনোদিনী, বিমলা, দামিনী, লাবণ্য, মৃণাল ]


"তুমি জান না এ তোমারই আঘাত"
আহত তীরের ছিলায় জন্ম আমার,
বেদনার আলতা ছোপানো পা রেখেছি
মহেন্দ্র নামক সমাজের লোমশ বুকে,
ঈর্ষা-আগুনে নীল হয়ে পুড়ছে
আশালতার সংসার ...
তবুও ,

মহেন্দ্র,তোমার আঘাত আমাকে
কুহকিনী করেছে...
বিহারী,তোমার আঘাত আমাকে
বিনোদিনী...


জলের মত স্বচ্ছ আর
"আগুনের মত নগ্ন"
একটা জীবন দেখেছো?
নিখিলেশের সিগারেট আজও পুড়ছে
ভালোবাসার বোবা গভীরতায়...
সন্দীপেরা যে খনিতে কয়লা
নিখিলেশ সেই খনির আকরিক হীরে,

নিজে পুড়েও সে পুড়তে দেয় না আমাকে...
বিমলাকে...


আমি পদ্মপাতায় জল নই,
রূপ দিয়ে আমি তোমার আকাশ
পুড়িয়ে দিতে পারি...

আবার আঁচলে চাবি হাতে হলুদছাপ
মায়ের মত আত্মা ছুঁয়ে পথ দেখাতেও পারি...
শুধু তোমার দামিনী ...


বুদ্ধিতে তীক্ষ্ণ মেধায় ধারালো অমিত
এখন সকালে চালের দোকানে লাইন দেয়
ওভারটাইমেও ধাওয়া করে টার্গেট,
আর রাতের গভীরে মনের মুখোশ খসে গেলে
কবিতার আঁধারিতে চেনা শরীরের মধ্যে
খুঁজে বেড়ায় আমাকে...

আমি সেই মেয়ে
নিজস্ব আলোতে যে কখনও বাঁচতে চায়নি,
চেয়েছিল বুকভরে একটা এলোমেলো
কবির সংসার...মুক্তির আলোয়৷
দিনে এখন মুখোশযুদ্ধ
"অনন্ত রাত্রির বাসরঘরে"একলা জাগে
তোমার লাবণ্য ...


তোমাদের চিরাচরিত ঘরকন্নার জন্য
ঠিক যতটুকু বুদ্ধির দরকার ছিল,
আমার চিরকাল তার থেকে একটু বেশীই ছিল৷
বিন্দুরা আজও অসহায় দড়িতে ঝোলে...
পুড়ে যায় আকাশ ঘৃণার আগুনে...
আমরা ফুটপাথে বসে ভিখিরির সাথে গান গাই
ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে আনি শিশুর তাপ...
দুম করে উড়াই আকাশে ফাইটার পাইলট
গেঁথেছি পতাকা এভারেস্টের চূড়ায়,
মহাকাশের বাতাসগন্ধ টেনেছি তিনমাস...
তাই,
"অনাবশ্যক মেয়েমানুষের আস্তাকুঁড়েও
জায়গা নেই",
ঘোষণা করেও তোমরা চেয়ে থাক
ধ্বংশ না করতে পারার বেগুনী ক্রোধে,

আমরা পদ্মের ডাঁটি
তোমাদের মৃণাল ...


0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About