অন্য লাবণ্য ....

 প্রিয় অমিত,সেই মাহেন্দ্রক্ষণ টা,যখন আমি দীর্ণ শীর্ণ পোষাকে আমার শেষ সম্বল
ভিক্ষার পাত্রটা নিয়ে তোমার নীরব,অসীম অপেক্ষার চৌকাঠে দাঁড়িয়ে;
সেই পাত্রটা তোমার দিকেই বাড়িয়ে দিয়েছিলাম,একমাত্র তুমিই তা অস্বীকার করো নি।
আজও অবাক লাগে কেমন করে তুমি চিনতে পেরেছিলে এই অধম ভিখারীকে,
আমার পোষাক পরিচ্ছদ পেরিয়ে? আমিও যেন ঠিক বুঝতে পেরেছিলাম
এই আমার সেই মন্দির যেখানে আমি আরাধনা উপসানায় মগ্ন হতে পারি।
চোখের জলে মনের সাধে তোমায় স্মরণ,বরণ করতে পারি। সেই তুমিই
তখন থেকে আজ পর্যন্ত শুধুই সাধ্যমত দান করেছ আমার পাত্র ভরে।
আমার ভিক্ষার অভ্যাস ত্যাগ করিয়ে সেটাই কখন দাবীতে পরিবর্তিত হয়েছে
তোমারই হাত ধ'রে,তা জানতেও পারি নি। সেই রবীন্দ্র সংগীত----
 “আমার জীবন পাত্র উচ্ছ্বলিয়া মাধুরী করেছ দান,তুমি জান না তুমি জান না
তাহার মূল্যের ও পরিমান---। সত্যিই তুমি জান না তাহা র মূল্যের পরিমাণ।
আমিও না। আজ পর্যন্ত শুধু অনুভব করেই যাচ্ছি। জীবনে এভাবেও পাওয়া বাকি ছিল !
জীবনকে এভাবেও পেতে হয় ! সত্যিই ত!,দাতা বা গ্রহীতা'র ভিতর দেওয়া বা নেওয়া,
বা তার মুল্যের তুল্যমূল্য বিচার করা নেহাতই হীন মানসিকতা'র পরিচয়।
আজ পর্যন্ত তুমি অক্লান্ত ভাবে দিয়েছ,আমার নিতে ক্লান্তি আসলেও।
কি জানি কি দেখেছিলে? আমি হয়ত আমার অজান্তেই কিছু দেখিয়েছিলাম।
হয়ত অন্য অনেক বারের মত ছদ্মবেশও ছিল। কিন্তু একটু একটু ক'রে
আমার সামনে আমায় উন্মুক্ত করে দিলে তুমি। ছদ্মবেশ খসে গিয়ে
আসল মানুষটা বেরিয়ে এল। ছদ্মবেশ ছেড়ে তাকেও তুমি তোমার স্পর্শে
পবিত্র করে দিলে। তারপর আমার সেই ভিক্ষাপাত্রের আকার,আকৃতি, প্রকৃতি
সব ধীরে ধীরে পরিবর্তন হয়ে গেল। যেটা ছিল ভিক্ষার পাত্র,
তাই হয়ে গেলো প্রসাদের থালা। সেই ভিক্ষার ধন এখন আমার 'মহাপ্রসাদ'
তোমার দিকে প্রশস্ত ভিক্ষাপাত্র আজ আমার আর্তি আমার আবেদন।
আর তোমার ভিক্ষাদান যেন আমার পরম প্রাপ্তি। আমার জন্ম থেকে
জন্মান্তরের মহাপ্রসাদ।

ইতি তোমার লাবণ্য ।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About