এই সংখ্যায় ২৫ট কবিতা । লিখেছেন ঃ সৌমিত্র চক্রবর্তী,শর্মিষ্ঠা ঘোষ, জয়াশিস ঘোষ, জয়ব্রত বিশ্বাস, ঋকপর্ণা ভট্টাচার্য, মৌ মধুবন্তী, অনুপম দাশশর্মা, অমিতাভ দাশ, অর্ঘ্য দত্ত, চয়ন ভৌমিক, শাশ্বতী ভট্টাচার্য, কৌশিক চক্রবর্তী, ইন্দ্রনীল সেনগুপ্ত, শঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়, মৃন্ময় চক্রবর্তী, রোশনি ইসলাম, সুধাংশু চক্রবর্তী, অরুণ সেনগুপ্ত, রাজর্ষি ঘোষ, দীপঙ্কর বেরা, শ্রী সেনগুপ্ত, নিবেদিতা পুণ্যি, মৌসুমী মন্ডল দেবনাথ ও রূপম দে ।

       সূচিপত্রে লেখকের নামে ক্লিক করে পড়ুন
রক্তপাতের কথা কাহিনী

মেয়েটা বলছিল
আমি শুনছিলাম

ফোনের ওপারে সামুদ্রিক জলোচ্ছ্বাসের ভয়ঙ্কর তান্ডব
বলতে বলতেই মেয়েটার গলা বুজে আসছিল
বলতে বলতেই মেয়েটা কাঁদছিল অনর্গল

মাত্র দশে বাবার কথা শোনেনি বলে দুটো ছোট্ট ছোট্ট পা
বেঁধে তাকে হেটমুন্ড ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল পাক্কা এক ঘন্টা
তাকে ঝুলিয়ে রেখেছিল তারই ব্যক্তিত্ববান মধ্যযুগীয় বাবা

না, তার বাবা কোনোদিনই পুলিশ ছিল না

তার বাবা এক ডাক্তার
তার বাবা এক উকিল
তার বাবা এক শিক্ষক

মেয়েটা সেদিন একটুও কাঁদেনি

একবার সার্বজনীন খেতে বসে রোগাভোগা মেয়েটার
জামায় পড়েছিল এক টুকরো ভাত, তারস্বরে চিৎকার করে
পাড়ার সব্বাইকে জানিয়ে এই ম্লেচ্ছ মেয়ের বিচার চেয়েছিল
সেই ছোট্ট ফরসা রোগা মেয়েটার আশিবছরিয়া ঠাকুমা

খাবার থালায় লাথি মেরে বেড়ালছানার মতো ঘাড় ধরে
তুলে নিয়ে ছড়ানো অপর্যাপ্ত উঠোনে তাকে চোরের দাওয়াই
দিয়ে সিধে করতে চেয়েছিল বিদ্বজ্জন বাবা, তার বাবা উচ্চশিক্ষিত

সমাজকল্যাণ হয়েছিল সেদিন
সমাজ বেঁচেছিল অবক্ষয় থেকে
আশ্চর্য মেয়েটা, সেই ছোট্ট মেয়েটা
সেদিনও একটুও কাঁদেনি

আর সেই যে দুপুরে চোর পুলিশ খেলায় সামান্য আওয়াজে
দিবানিদ্রার চটকা ভেঙে গেছিল বলে তেরর সদ্য মেয়ে থেকে
মেয়েমানুষ হয়ে ওঠার সন্ধিক্ষণের দ্বিতীয় দিনে সদ্য কেটে আনা
কঞ্চির দাগ পিঠ কেটে পা কেটে কচি দুটো হাত কেটে ঝরঝর
রক্ত ঝরিয়েছিল তবুও ক্ষান্তি দেয়নি যে শিরোমণি, সে তারই বাবা

হতবুদ্ধি মেয়েটা
বোকা মেয়েটা
সেদিনও একটুও কাঁদেনি, অবেলায়

আজ ফোনের ওপারে থমকে থাকা প্লাবনে ভেসে যাচ্ছে
একমাত্র জীবন্ত গ্রহ, মাথার ওপরে মেঘ জমছে গাঢ়
বৃষ্টি নামবে অনেকদিন হাপিত্যেশ বসে থাকা গৃহস্থালীর শেষ উঠোনে

আজ মেয়েটা কাঁদছে তার বরের নির্বিকল্প মারে

ফোনের ওপারে মেয়েটা কাঁদছে
ফোনের এপারে কাঁদছে পৃথিবী
হতভাগা গ্রহটার বুক থেকে ঝরছে রক্ত


মেয়েটা এখন অ্যাসাইলামে আছে
কবির ডায়েটিং

মাইরি ,এইসব ভুলভালে ডুবে অদ্যবধি কবিতা মারানো হোলনা
প্রতিদিন হারামি উলঙ্গ লাশ আর লাশ চোখে এসে বসে থাকে
চামড়া ছিঁড়ে দেয়, মুখ থেকে দলা দলা থুঃ ওয়াক্ ওয়াক্
উর্দির আবডাল থেকে নপুংসক প্রজাতি কারা সব চুষে চেটে খায়
পাঁচ কুড়ি পঞ্চান্ন শরীরের কুড়ি পাতা ফুল টেনে নেয় বেঞ্চে মেঝেতে
আমি শালা নুলো কানা বোবা হাবা কবি হব ভেবে যাই এসব ডিঙিয়ে
সুবেশ সুশীতল মঞ্চে গদিতে কুটকুটে চেয়ারের হাতলে পাছাতে
মোবাইলে খ্যাচ খ্যাচ সেলফি ছড়াবো প্রোফাইলে লেখা হবে
আহা কী মেধাবী !
তো আমার সেই গুড়ে বালি । চেয়ারের পদতলে ভুলেও ডাকেনি কেউ
আরো আরো রাগী হতে হতে আরো আরো কাছাখোলা মানুষ ছায়াতে
ভাঁড়ুদাস শ্রীনিবাস উদোম খিস্তি লিখি আত্মহত্যাকারী
কপি হলে হতে পারি,দলিত কিষানের ফলিডলে 
সেঁকো বিষে মরে যেতে পারি
কবি হব প্রেম প্রেম শরীরী খেলাতে বসন্ত এলে গেলে লিখবো ফাটিয়ে
এইসব সুখচিন্তা বুকের ভেতরে পুষে পুষে হরদম রোগা হয়ে যাবো,ডায়েটিং ছাড়া
ধর্ষণ

উল্লাসে মাত পৃথিবী শ্যাম্পেন উড়িয়ে

প্রতিটা হাইওয়ের ধারে তোমার সন্তান পড়ে আছে

রেলস্টেশনে কুকুরের দল ছিঁড়ে খাচ্ছে স্তন

ব্রিজের ধারে, বাসস্ট্যান্ডে, ধবধবে বিছানায়

ভাতের ফ্যানের মত বীর্যের দাগ লেগে আছে


যোনি খুলে বসে আছে পৃথিবী

আমরা মোমবাতি গুঁজে দিচ্ছি সাদা পাঞ্জাবি পরে!


গণতন্ত্র

ঘাম ঝরিয়ে বের 'রে আনি ক্যালরি
রক্ত ভাঙে চর্বি সুগার সব ভাঙে

ঘাম ঝরিয়ে ছুটি সৃজনেষু ধারায়
পাথর কেটে পাহাড়ের গায়ে বানাই পথ
উত্তরপুরুষ শিখে নেয় মূলমন্ত্র

গ্রীনরুমের পর্দা সরিয়ে দ্যাখো কারা
ভিতরে মহোৎসব কর্মহীন স্ফীতির
দুরন্ত ড্রাইভিংয়ে উত্তরপুরুষ জিতে নেয়
আমাদের উপদ্রুত জ্যামিতি

আগুন জ্বালাও পর্দার খুঁটে
পুড়ে কয়লা হোক সাধের ডিশ রোশনাই
মাটিতে ছেটাও বাজেয়াপ্ত বস্তুসার
কবিতার যে অধ্যায়ে রূপকথা থাকে

কবিকে আসলে কেউ ভালোবাসেনা।
শুধু বৃষ্টিভেজারাতে,নিজের কান্না আর বৃষ্টির জল
একাকার হয়ে উপচে দিলে বাঁধানো চৌকাঠ--
 কয়েকটা শব্দ পানকৌড়ি ডিঙির মতো
ভেসে আসে অচেনা অন্ধকার থেকে।
উৎস অচেনা বটে,শব্দগুলো  নিতান্তই পরিচিত বলে,--
ঠাকুমার কোলে বসে  শেখা ভাষার দিন থেকেই
চেনাজানা হয়ে থাকে বলে--
ভেসে আসে রঙ জলে আকাশী অধরা এক ঠোঁট
এক হাত,কল্পিত সেই বক্ষপট--
একমাত্র সেই ,সে ছাড়া আর কেইই বা পারে এসব লিখে দিতে
এমন অনায়াসে !
এইভাবে ধীরে ধীরে শব্দ চেহারা নেয়।
পাঠকটি  পেয়ে যায় হারানো নিজেকে।
"আমি ছাড়া আর কে,কেই বা হতে পারে এসবের শ্রোতা,
এমন আধার,অথবা আয়না-''
এসব আমিই এবং আমার--"
এইভাবে শব্দরা প্রেমিক হয়ে ওঠে।
কবি যায় দোকানে,বাজারে।
থলিভরা অভিযোগ মিউসকে উপহার দিতে।
প্রেমিকটি "আপদ" হয়ে ওঠে
মিউসকেও কেউ ভালোবাসে না,আসলে।
ছোট্ট থেকে কিছু পক্ষীরাজ ,সিন্দারেলা রাত
এঁকে রাখে ধোঁয়ামাখা অস্ফুট চোখ,অধরা নগরী।
 সোঁদা সোঁদা সেই গন্ধ জমে জমে গান্ধর্বী হয়ে ওঠে কল্পনালতা।
এইভাবে অতি দ্রুত, গন্ধগুলি চেহারা নিয়ে,
রঙিন মিথ্যা নিয়ে বাসরসজ্জা ছেড়ে
আঁতুড়ঘরে এলে--
কবি ভাবে নদীতে জোয়ার কোথায়!
সাবধানে কিছু কিছু লকগেট আঁটে!

কবি মিউস কেউ জানেনা যদিও--
সমান্তরালে দুই শব্দহীন ,গন্ধহীন প্রেম--
ভালোবাসার সংজ্ঞা পেতে,কবিতার  রাজপথে
ডুবতে ডুবাতে ,ভাসতে ভাসাতে
প্রেম নয় ,ঘৃণা নয়, শব্দ নয় ,গন্ধ নয়--
একমুঠো একাকীত্ব  হয়ে বাঁচে।

এভাবেই ভুল জমে শতাব্দী জুড়ে--
পাতা পত্তরে।


About