এবং বটবৃক্ষ....

 (১)

গাঢ রোদরঙ দুপুরে পিচগলা রাস্তায় নিঝুম অপেক্ষায় বুড়ো বটের ছায়া
বটের ঝুড়ি, দোলনা, স্তম্ভ নাকি সিঁড়ি... 
এই নিয়ে মতান্তরে ফাঁকা পড়ে আছে সাবেকি চার দেওয়ালের আস্তানা
ছায়াও বড় একাকী, বিশ্রাম নিতে আজ আর কেউ আসেনা।

()

বটের শাখায় যারা দোল খেত, কোটর ঘেঁটে তুলে নিত পাখীর ছানা,
তারাই আজ গাছের শাখাপ্রশাখা কেটে নিয়েছে ঘর বাঁধবে বলে,
পাখীকে খাঁচায় পুরে শিখিয়েছে কৃষ্ণের শতনাম।
বৃদ্ধবটের ছানিপড়া চোখে ইঁট কাঠ পাথরে তবু সবুজের হ্যালুশিনেশন।

()

বটের ছায়ায় ছিল এক চালাঘর, এক সংসার, এক শান্তির আশ্রয়
ভরা বসন্তে একটুকরো চকমকিপাথরেই কিন্তু সে বটগাছ
অরণি না হয়েও দাউদাউ করে জ্বলে উঠেছিল,
খবরে প্রকাশ, আজ সে অঙ্গার না হয়ে হীরে হয়ে গেছে।

()

অজ্ঞাতবাসে পান্ডবরা বটের ছত্রছায়ায় কোনদিন অস্ত্র লুকান নি, 
কৃষ্ণও পরকীয়া, অভিসার বা রাসলীলায় বটকেন্দ্রিক রহস্য রাখেননি।
একা সীতাই তাকে সাক্ষী মেনেছিলেন, সত্যসাক্ষী,
বট আসলে বুড়ো বিবেকের মত,ভালো করতে না পারুক,ক্ষতি করেনা কক্ষনো।

()

চেনা লোক অপরিচিত হতেই কথার অসুখ ছড়িয়ে পড়ে
লাভক্ষতির ছুরিকাঁচিতে সম্পর্কের ব্যবচ্ছেদে...
বিবর্ণ জীবনে অনেক আবিল স্পর্শ...
অথচ বটগাছ কিন্তু জানে,
সময়ের জতুগৃহে আমরা সবাই তো বহুগামী

()

আমার জীবনের বটগাছ,
আমার বাবার নাভিডিঙা বিসর্জনে সাক্ষী ছিল সেই বুড়ো বট,
আজও মনখারাপ হলে রতনবাবু ঘাটের বটগাছের তলায় বসি,
বটের ছায়া নড়েচড়ে আসন পাতে, দুটি বটফল ছুঁয়ে দেয় স্পর্শসুখ,
টের পাই, যতই আকাশ ছুঁয়ে থাকিনা না কেন,
আমার শিকড়ও এই মাটিতেই গাঁথা ।।








1 মন্তব্য(গুলি):

Kaushik Dasgupta বলেছেন...

খুব সুন্দর। বটকে অনেক ভাবে পেলাম। প্রৌঢ় বটের ক্লান্তি, একাকীত্ব, স্নেহ, রোমান্স থেকে সম্বিৎ ফেরানো বিবেক হয়ে ওঠা...ভালো লাগলো।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About