অন্নপূর্ণা

সে অন্য কেউ
অন্য চেহারার কেউ এসে প্রবেশ করে আমার ভেতরে
খুবলে নেয় কিছু মাংস, শুষে নেয় রক্ত-ঘাম
হৃৎপিণ্ড থেকে টেনে নামিয়ে আনে ক্লেদ
গায়ে কাঁটা দেয়
শিউরে ওঠে শব্দের পাষাণ প্রতিমা  
প্রাণ প্রতিষ্ঠার পরে সেই দেবী এসে বসেন আমার খাতায়
অমৃত অক্ষর বুনে দেন কিছু আমারই অগোচরে

তাকে চিনি নি কোনদিন
তার স্বর ভীষণ অচেনা
আমি এক সামান্য মানুষ, কী করে জানি তাকে!
তিনি সেই অমেয় কালি, তিনি সেই বিষাদ প্রতিমা
তিনি সেই সমুজ্জ্বল চন্দ্র, সূর্যের তেজ
তাঁর হাতেই সঁপে দেব ভেবেছি কতবার
তবুও এই নশ্বর দেহ, কী মোহে আটকে থেকেছি

দয়ার শরীর তাঁর, তবুও এসেছেন আমার কাছে
অন্নপূর্ণার ভান্ডার উপুড় করেছেন এই দীনের হাতে
আর লিখে গেছি সেই মহিমায়
তবুও হতে পারি নি তাঁর নিজের কেউ
তিনিও রয়েছেন দূরদৃষ্টি নিয়ে তাঁর
আমারই দিকে তাকিয়ে।

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About