ক্ষুধা


কিছু কিছু ক্ষুধা আছে পাহাড়ের অন্দরে জ্বলে শুধু
কিছু ক্ষুধা আছে পেটের ভেতরে শ্মশান জ্বালে
অমাবস্যা রাতে হোম জ্বলে স্বপ্ন পুড়ে
মাংস পোড়া আঁশটে গন্ধে পাহাড়ের কোণা খামচি করে
এদেরই সন্তান সন্ততি একহাতে পেট খামচে
আর হাতে মুখ চেপে বমি সামলায়
মাত্র কদিন আগে এবাড়ি ওবাড়ি
চার বৃদ্ধ বৃদ্ধা চোখ ওপরে তোলে
বিরাট আকাশটার সবটুকু বাতাস
গিলতে চেয়ে সেই যে হাঁ করলো
আর বন্ধ করলো না
ওদের বাড়ির বৌ ঝিদের বুক চাপড়ে
সে কী রোদন বর্তমানের চেয়ে
নিজের ভবিষ্যৎ ভেবে বেশি
ওসব নিত্যকালের অনাদি ইতিহাস
ভোর থেকে সন্ধ্যে কাজ আর কাজ
অনন্ত অসীম কাজের জীবন সংসার
ভোরের আলোয় পাখপাখালি নয়
এক দঙ্গল মানব শিশুর খাই খাই খাই
হাঁড়ি ঝেড়ে সবটুকু ভাত মরদ জোয়ান
শিশুদের পাতে দিয়ে ঠংঠং হাঁড়িতে একমুঠো থাকে
চোখের নোনতা জলে তাই গিলে জলকে চল
চল চল জলকে চল এবাড়ি ওবাড়ির বৌ ঝিরা
পাহাড় তলিতে চল ঝোরার অঝোর জল তুলি
কলসী হাঁড়ি যা আছে খালি নিয়ে চল
ছাই দিয়ে মেজে ঝকঝকে জল ভরে তোল
হেঁইয়ো হো পায়ে পায়ে ব্যালেন্সের খেলা
চল উপরে উঠি চল পাহাড়ে উঠি জলকে চল
ঝকঝকে টাক্কল এবার চালাই মাটি খুঁড়ে সোনা তুলতে
জুমের মাটি সোনাঝরা জানি চালাও টাক্কল চালাও
সন্ধ্যে হয়ে এলো লাদ্রিমবাইর পশ্চিম দিগন্তে গোধূলির রঙে
লাজুক সন্ধ্যা খোলা চুল ছড়ায় একেলা আনমনে
মরদ এলো বলে 'কেজি চালও আসবে রেশন থেকে নিশ্চয়
হে রেশন ঠাকুর বিরূপ হয়োনা ক্ষুধায় যে জ্বলে মরি
হুমড়ি খেয়ে মরদ পড়লো উঠোনে ভক ভক ওঠে গন্ধ
সাজানো সব্জির ডালা ফাঁকা শুধু দেশি মদের গন্ধ
নিত্য দিনের ইতিহাস পুনরাবৃত্ত ক্ষুধার ইতিহাস সত্য


0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About