আলোটা নিভিয়ে দাও

আলোটা নিভিয়ে দাও।
প্রগাঢ় অন্ধকার নেমে আসুক
পৃথিবীর বুকে।
যে অন্ধকারে মহানগরী ডুবে ছিল সেদিন,
নীরবে-নিভৃতে।
আমিও ঘুমিয়ে যেতে চাই
ধরনীর কোলে।
এই অন্তঃসার শূন্য কৃত্রিম আলো
আর ভালোলাগে না যে।
দিগন্তের সজীবতা, ধরিত্রীর ধূষরতায়
আবৃত হয়েছে।
বড় বড় অট্টালিকা আকাশ ছূঁয়েছে।
পশু-পাখী, নদী-নালা দীর্ঘশ্বাসে
বিলীন হতেছে।
মানুষের চাওয়া যেন বদলে গিয়েছে!
"
চাই" "চাই" বাই তারে অন্ধ করেছে।
"
আমার" "আমার" শব্দে আপামর
বাল-বৃদ্ধ-বনিতা নাচিছে।
কোথা বন্ধু! কোথা ভাই! মাতা-পিতা,
আত্মীয়-পরিজন!
সবই আজ তুচ্ছ হয়েছে।
ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজনীতি খেলিছে।
হি্ংস্রতা ছড়িয়ে পড়েছে,
যা ছিল প্রাগৈতিহাসিক যুগেতে।
চেয়ে দেখো, সেদিন যে কুকর্ম অন্ধকারে চলিত,
আজ প্রকাশ্য দিবালোকে ছুটিছে।
হায়নাদের চোখ যেন সর্বত্র জ্বলিছে।
ঐ দেখো,এখানে ওখানে লাখো লাখো
কুমারী সর্বস্র হারায়ে,
বিচারের প্রতীক্ষায় কাঁদিছে,
যেমন কেঁদেছিল দ্রৌপদী-মহাভারতে।
আলোটা নিভিয়ে দাও।
চির ঘুমে ঘুমিয়ে যেতে দাও আমারে।
ধরিত্রীর নিকষা অন্ধকারে।


0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

About